10/08/2026
একটা দেশের অর্থনীতি কতটা ভালো বা খারাপ অবস্থায় আছে, সেটা বোঝার একটা সহজ লিটমাস টেস্ট হলো—মানুষের আয়,
চাকরির Salary Offering আর ব্যবসার Profit Margin।
২০১৯–২০ সালের দিকে ভালো কোম্পানিগুলোতে MTO কিংবা Entry-level Executive পদে ৪৫–৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন অফার করা হতো।
মজার বিষয় হলো, এত বছর পরেও অনেক কোম্পানি একই ধরনের পজিশনে ৪০–৪৫ হাজার টাকার মতো অফার করছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর চেয়েও কম।
শুধু Entry-level নয়, Senior-level পজিশনেও অনেক ক্ষেত্রে বেতন সেই অনুপাতে বাড়েনি।
অর্থাৎ, নামমাত্র বেতন হয়তো কিছুটা বেড়েছে, কিন্তু মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষের প্রকৃত আয় বাড়েনি।
এবার অন্যদিকে তাকান—ব্যবসার দিকে।
একজন ব্যবসায়ীও কিন্তু খুব ভালো অবস্থায় নেই।
আগে যে পণ্য ১০০ টাকায় কিনে ১২০ টাকায় বিক্রি করতেন, এখন হয়তো সেই পণ্য কিনতেই ১৩০ টাকা লাগে। কিন্তু ক্রেতার হাতে টাকা কম থাকায় ১৫০ টাকা দাম বললে সে কিনতে চায় না।
ফলে ব্যবসায়ীর সামনে দুইটা সমস্যা—
খরচ বেড়েছে, কিন্তু বিক্রয়মূল্য সেই হারে বাড়ানো যাচ্ছে না।
কারণ দাম বাড়ালে কাস্টমার কমে যায়।
আর দাম না বাড়ালে লাভ কমে যায়।
এখানেই শুরু হয় ব্যবসার চাপ।
কাঁচামালের দাম বেড়েছে।
পরিবহন খরচ বেড়েছে।
দোকান/অফিসের ভাড়া বেড়েছে।
বিদ্যুৎ ও অন্যান্য পরিচালন খরচ বেড়েছে।
কর্মচারীর বেতন বাড়ানোর চাপ আছে।
কিন্তু একই সময়ে—
কাস্টমারের Purchasing Power কমে গেছে।
ফলে মানুষ আগে যে পরিমাণ কিনত, এখন তার চেয়ে কম কিনছে।
যে পরিবার আগে মাসে দুইবার রেস্টুরেন্টে যেত, এখন হয়তো একবারও যায় না।
যে মানুষ আগে বছরে কয়েকবার পোশাক কিনত, এখন প্রয়োজন ছাড়া কিনছে না।
যে ব্যবসায়ী আগে ১০০ ইউনিট পণ্য বিক্রি করতেন, এখন হয়তো ৬০–৭০ ইউনিট বিক্রি করছেন।
অর্থাৎ সমস্যা শুধু “মানুষের বেতন কম” নয়।
সমস্যা হলো—
মানুষ কম কিনছে, আর ব্যবসারও কম বিক্রি হচ্ছে।
আর ব্যবসার বিক্রি কমলে কী হয়?
Sales কম → Profit কম → Investment কম → Expansion কম → নতুন চাকরি কম → Salary Growth কম।
আবার চাকরিজীবীর বেতন না বাড়লে—
Purchasing Power কম → Consumption কম → Business Sales কম → Company Profit কম।
তারপর আবার কোম্পানি বলে—
“ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না, Salary বাড়ানোর সুযোগ নেই।”
এভাবেই একটা Vicious Cycle তৈরি হয়।
এখন মূল্যস্ফীতির দিকে তাকান।
২০২০ সালের দিকে চালের দাম ছিল প্রায় ৩১ টাকা কেজি, এখন প্রায় ৫৫ টাকা।
ব্রয়লার মুরগি ১৩০ টাকা থেকে প্রায় ২০০ টাকা।
ডলারের দাম ৮৬ টাকা থেকে ১২৪ টাকার আশেপাশে।
অর্থাৎ আপনার বেতন যদি ২০২০ সালের ৪০ হাজার টাকা থেকে আজও ৪০ হাজার থাকে, তাহলে কাগজে আপনার আয় একই থাকলেও বাস্তবে আপনার জীবনযাত্রার সক্ষমতা অনেক কমে গেছে।
এ কারণেই এখন ১,০০০ টাকা হাতে নিয়ে মনে হয়—
“টাকাটা গেল কোথায়?”
১০০ টাকা দিয়ে খুব বেশি কিছু কেনা যায় না।
২০ টাকার নিচে অনেক কিছুই এখন আর তেমন চলে না।
আর মানুষের এই অনুভূতিটা শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা নয়।
এটা পুরো অর্থনীতির সমস্যা।
কারণ একজন মানুষ যখন কম খরচ করে, তখন কোনো না কোনো ব্যবসার বিক্রি কমে।
ব্যবসার বিক্রি কমলে মালিকের লাভ কমে।
লাভ কমলে নতুন বিনিয়োগ কমে।
বিনিয়োগ কমলে নতুন চাকরি কমে।
চাকরি ও বেতন বাড়ার গতি কমে গেলে মানুষের Purchasing Power আরও কমে।
তারপর আবার মানুষ কম খরচ করে।
চক্রটা ঘুরতেই থাকে।
তাই আজকের অর্থনৈতিক বাস্তবতা শুধু চাকরিজীবীর জন্য কঠিন নয়।
চাকরিজীবী চাপের মধ্যে।
ব্যবসায়ী চাপের মধ্যে।
কনজিউমার চাপের মধ্যে।
একজন কর্মচারী বলছে—
“বেতন বাড়ছে না।”
একজন ব্যবসায়ী বলছে—
“বিক্রি হচ্ছে না।”
একজন কাস্টমার বলছে—
“সবকিছুর দাম এত বেশি কেন?”
তিনজনের কথাই আসলে একই অর্থনৈতিক সমস্যার তিনটি আলাদা দিক।
এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
অর্থনীতি শুধু GDP কত হলো—সেটার নাম নয়।
অর্থনীতি হলো—
একজন চাকরিজীবী তার বেতন দিয়ে কতটা জীবন চালাতে পারছে।
একজন ব্যবসায়ী তার ব্যবসা থেকে কতটা লাভ করতে পারছে।
আর একজন সাধারণ মানুষ তার আয় দিয়ে কতটা পণ্য ও সেবা কিনতে পারছে।
এই তিনটার মধ্যে যদি ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে অর্থনীতির চাপ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেই দেখা যায়।
তাই প্রশ্নটা শুধু—
“আপনার বেতন কত?”
বা—
“আপনার ব্যবসার বিক্রি কত?”
প্রশ্নটা হওয়া উচিত—
“আপনার আয় ও ব্যবসার লাভ—দুটোই কি জীবনযাত্রার বাড়তি খরচের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে?”
যদি উত্তর হয় না, তাহলে সমস্যাটা শুধু আপনার নয়।
সমস্যাটা পুরো অর্থনীতির।
আর আশেপাশে তাকালে সেই অর্থনৈতিক চাপটা এখন মানুষের বাজার, ব্যবসা, চাকরি, সঞ্চয়—সব জায়গাতেই দেখা যায়।
Maha's Clothing collection