04/05/2026
আজকে রামপুরা থেকে কোনো লেগুনা না পেয়ে রিকশা নিলাম।
রিকশাওয়ালা মামা রিকশা চালাচ্ছিলেন, হঠাৎ একটা ফোন আসলো। চলন্ত রিকশাতেই ফোন ধরলেন। আমি বললাম,
“মামা, মেইন রোডে এভাবে ফোনে কথা বলতে বলতে চালালে তো অ্যাক্সিডেন্ট হতে পারে!”
মামা তখন রিকশা সাইডে থামিয়ে কথা বলতে গেলেন। প্রায় পাঁচ মিনিট পর ফিরে আসলেন। এর মধ্যে আমার বেশ রাগ উঠে গেছে। বললাম,
“মামা, আপনাকে তো বললাম তাড়াতাড়ি যেতে, আমার টিউশন আছে। আপনি আবার রিকশা থামিয়ে ফোনে কথা বলছেন!”
মামা একটা প্রাপ্তির হাসি দিয়ে বললেন,
“মামা, আমার বউ ফোন দিছিল। হেইডা রাগ করছে আমার লগে। হেইডা রাগ করলে আমার কিছুই ভালো লাগে না। তাই যত ঝামেলাতেই থাকি, বউয়ের ফোন আগে ধরি।”
কথাটা শুনে আমি হাসি দিয়ে ফেললাম। রাগ আর ধরে রাখতে পারলাম না।
একবার ভাবুন তো, মামির মতো মানুষ কতটা লাকি! মানুষটা মেইন রোডে রিকশা চালানোর সময়ও তার ফোন রিসিভ করে। কতটা প্রাধান্য দিলে এমনটা করা যায়!
আমাদের জীবনে এমন কয়টা মানুষ আসে, যারা সত্যিই আমাদের এতটা গুরুত্ব দেয়?
তারপর মামাকে জিজ্ঞেস করলাম,
“মামা, আপনার মতে ভালোবাসা কী?”
মামা খুব সুন্দর একটা কথা বললেন,
“মামা, ভালোবাসা মানে বেহায়া।”
আমি অবাক হয়ে বললাম,
“বেহায়া মানে?”
মামা বললেন,
“আপনি যারে ভালোবাসবেন, তার কাছে অহংকার রাখতে নাই। বারবার গিয়ে বুঝাইতে হবে আপনি তারে ভালোবাসেন। দুনিয়ায় থাকবেন কয়দিন? আর যারে ভালোবাসবেন, নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসবেন। নিজের স্বার্থে আঘাত লাগলে যদি ভালোবাসা শেষ হয়ে যায়, তাইলে ওইটা কোনোদিন ভালোবাসা ছিল না। আর যারে ভালোবাসবেন, তারে পেতেই হবে—এমন কোনো কথা নাই। থাক না কিছু মানুষ হৃদয়ের মাঝেই।”
মামার কথাগুলো শুনে আমি ভাবতে লাগলাম—
সত্যিই তো, আমরা ভালোবাসাকে পাওয়ার জিনিস বানিয়ে ফেলেছি। অথচ সব ভালোবাসার শেষটা “পাওয়া” হতে হবে কেন? কিছু না পাওয়ার মাঝেও তো এক ধরনের সুন্দর শান্তি থাকে।
শেষে মামা আরেকটা কথা বললেন,
“মামা, দুনিয়ার সবচেয়ে বড় কষ্ট জানেন? আপনি যারে নিজের মানুষ ভাবেন, সেই মানুষটাই যখন আপনাকে ইগনোর করে। কাছের মানুষের অবহেলা সহ্য করা যায় না।”
কথাগুলো মাথায় ঘুরতেই থাকলো।
আর আমার হঠাৎ করেই মামির প্রতি একটু হিংসা হলো…
আহারে জীবন! 🌸