18/06/2025
গল্প: "ভ্রমণ শুধু ট্রেনের নয়"
অধ্যায় ১: সকালটা একটু আলাদা
গফরগাঁও স্টেশনে আজ একটু ব্যস্ততা। প্ল্যাটফর্মে ছোট ছোট চায়ের দোকানে ভিড়, ট্রেন আসার অপেক্ষায় ক্লান্ত মুখগুলো, আর তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে জাহিদ আর নাবিলা—হাতধরে, একটু চুপচাপ।
নাবিলা কিছুটা অসুস্থ। বেশ কিছুদিন ধরেই শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। আজ তারা যাচ্ছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (সিএমএস) একবার ভালোভাবে পরীক্ষা করাতে।
জাহিদ, শান্ত স্বভাবের মানুষ। সে যতটা না কথায় ভালোবাসা প্রকাশ করে, তার চেয়ে বেশি ভালোবাসে দেখিয়ে—নাবিলার হাত ধরে রাখা, ব্যাগটা কাঁধে নেওয়া, আর ট্রেন আসার আগে ওকে জিজ্ঞেস করা, “তোমার মাথা ঘুরছে না তো?”
অধ্যায় ২: ট্রেনে ওঠা, ট্রেনে ভাবনা
ট্রেনটা এসে থামল। তারা উঠল, পাশাপাশি জানালার পাশে জায়গা পেল। ট্রেন ছাড়ল ধীরে ধীরে—গফরগাঁওয়ের চেনা দৃশ্যগুলো পেছনে ফেলে।
নাবিলা জানালার দিকে তাকিয়ে বলল, “জানো জাহিদ, এই রকম ট্রেনে তোমার সাথে আগেও এসেছিলাম, মনে আছে? বিয়ের কয়েকদিন পর…”
জাহিদ হেসে বলল, “মনে না থাকার প্রশ্নই আসে না। তখন তুমি আমার পাশে বসে বলেছিলে—‘তুমি কি সারাজীবন এভাবেই পাশে থাকবে?’”
নাবিলা একটু হেসে বলল, “আর তুমি বলেছিলে—‘যতদিন ট্রেন চলবে, আর আমি থাকব, ততদিন।’”
এই কথাগুলো বলার সময় জানালার বাইরে হঠাৎ ঝিরঝিরে বৃষ্টি নামল। ট্রেনের কাঁচে টুপটাপ শব্দ হতে লাগল। নাবিলা মাথা হেলিয়ে দিল জাহিদের কাঁধে।
অধ্যায় ৩: নিঃশব্দে বলা ভালোবাসা
ট্রেনের ভেতরে থাকা যাত্রীদের কোলাহলের মধ্যেও, তাদের মাঝখানে একটা নিঃশব্দ শান্তি। জাহিদ নাবিলার কপালে একটা হালকা চুমু দিল।
নাবিলা বলল, “আমার ভয় করছিল, যদি কিছু খারাপ হয় রিপোর্টে…”
জাহিদ জবাব দিল না। শুধু ওর হাতটা শক্ত করে ধরল। তারপর মৃদু স্বরে বলল,
“তুমি জানো, আমি চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছি না শুধু তোমার অসুস্থতা সারাতে। আমি যাচ্ছি এই প্রমাণ দিতে—তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান কিছু। আমি চাই না তুমি কখনো ব্যথা পাও।”
অধ্যায় ৪: নতুন করে শুরু
ট্রেন যখন ময়মনসিংহ পৌঁছাল, তখন বৃষ্টি থেমে গেছে। আকাশে রোদ উঠছে, যেন আশার আলো।
স্টেশন থেকে নামার সময় নাবিলা হেসে বলল, “এই ট্রিপটা আসলে আমার শরীরের চিকিৎসা নয়, আমার মনের জন্য দরকার ছিল।”
জাহিদ জিজ্ঞেস করল, “কেন?”
নাবিলা উত্তর দিল, “কারণ আমি আবারও টের পেলাম—তুমি আছো, সবসময় আমার পাশে। আর সেটাই আমার সবচেয়ে বড় ওষুধ।”