Seerat Corner

Seerat Corner শিশুর বেড়ে ওঠা, দারুণ সব অভ্যাস গঠন আর পজিটিভ প্যারেন্টিং—সবকিছুই একটু বেশি ভালোবাসার ছোঁয়ায়।

সোনামণি সিরিজের মাধ্যমে।!
11/06/2026

সোনামণি সিরিজের মাধ্যমে।!

সবশেষে তাঁর পরিকল্পনাই শিরোধার্য!
11/06/2026

সবশেষে তাঁর পরিকল্পনাই শিরোধার্য!

আমাদের প্রতিদিনের কাজে যেনো একমাত্র আল্লাহর আনুগত্যই প্রকাশ পায়, আল্লাহর নাফরমানি করে কারো আনুগত্যই বৈধ নয়। নিজেরা শিখি ...
11/06/2026

আমাদের প্রতিদিনের কাজে যেনো একমাত্র আল্লাহর আনুগত্যই প্রকাশ পায়, আল্লাহর নাফরমানি করে কারো আনুগত্যই বৈধ নয়।

নিজেরা শিখি এবং সন্তানদের সেভাবে শিক্ষিত করে তুলি!

শিশুরা স্পঞ্জের মতো—তারা চারপাশের জগত থেকে অবিরত শুষে নেয় প্রতিটি অনুভূতি, প্রতিটি আচরণ। রিকশায় চড়ার সময় রিকশাওয়ালার সাথ...
11/06/2026

শিশুরা স্পঞ্জের মতো—তারা চারপাশের জগত থেকে অবিরত শুষে নেয় প্রতিটি অনুভূতি, প্রতিটি আচরণ। রিকশায় চড়ার সময় রিকশাওয়ালার সাথে আপনার করা একটি ছোট খারাপ ব্যবহারও বাচ্চার কোমল মনে দীর্ঘস্থায়ী 'ভুল সফটওয়্যার' হিসেবে গেঁথে যেতে পারে। বিষয়টি একটু গভীরে ভেবে দেখা যাক:

১. মানুষের মূল্যায়নে ভুল দৃষ্টিভঙ্গি
আপনি যখন কারো পেশা দেখে তাকে ছোট করেন, আপনার সন্তান শিখছে যে—'মানুষের চেয়ে তার পেশাই বড়'। সে তখন মানুষকে মানুষ হিসেবে নয়, বরং তার সামাজিক পদমর্যাদা বা 'স্ট্যাটাস' দিয়ে মাপতে শেখে। এই শিক্ষাটি তাকে বড় হয়ে আপনার সাথে হয়তো ভদ্র রাখবে, কিন্তু বাসার সাহায্যকারী বা ড্রাইভারের প্রতি চরম অভদ্র করে তুলবে।

২. প্রতিবাদের ভাষা: চিৎকার বনাম যুক্তি
রিকশাওয়ালার কোনো ভুল থাকতে পারে, কিন্তু আপনার ক্ষোভ প্রকাশের ভাষা যদি হয় চিৎকার বা গালিগালাজ, তবে বাচ্চার মনে এই ধারণাই স্থায়ী হবে যে—যেকোনো তর্কে জেতার একমাত্র হাতিয়ার হলো গলার জোর বা 'পাওয়ার ডমিন্যান্স'। ফলে স্কুলের মাঠ হোক বা কর্মক্ষেত্র, সে কখনোই আলোচনার টেবিলে বসতে শিখবে না।

৩. সহমর্মিতার মরুভূমি
প্রখর রোদে বা প্রচণ্ড বৃষ্টিতে যে মানুষটি ঘাম ঝরিয়ে আপনাকে গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছে, তার পরিশ্রমের প্রতি যে ন্যূনতম কৃতজ্ঞতা থাকা উচিত, তা আপনার আচরণে অনুপস্থিত থাকলে—শিশুর অন্তরেও সহমর্মিতার বা 'এমপ্যাথি'র জায়গাটি শুকিয়ে যায়। সে ধীরে ধীরে আবেগহীন এক রোবটে পরিণত হতে থাকে।

স্মার্ট প্যারেন্টিং: ইতিবাচকতার বীজ বপন
রিকশার ছোট আসনটিই হতে পারে আপনার সন্তানের জন্য নৈতিকতার বড় পাঠশালা। একজন অভিভাবক হিসেবে আপনি যা করতে পারেন:

কৃতজ্ঞতার চর্চা: রিকশা থেকে নামার সময় একটি সহজ "ধন্যবাদ" বলুন। আপনার সন্তানের অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকাটা আপনার শিক্ষার প্রথম জয়। সে শিখবে, ভদ্রতায় খরচ নেই, কিন্তু এটিই মানুষের মন জয় করার শ্রেষ্ঠ চাবিকাঠি।

ধৈর্যের পাঠ: জ্যামে দেরি হলে বিরক্ত না হয়ে বাচ্চার সাথে সহজ কথোপকথন করুন। বলুন, "বাবা, দেখো তো রিকশাওয়ালা চাচা রোদে কত কষ্ট করছেন, চলো আমরা ধৈর্য ধরি।" এটি বাচ্চার মনে ধৈর্য এবং সহনশীলতা তৈরি করবে।

ভাষার মার্জিত প্রয়োগ: "এই রিকশা!" না বলে বলুন, "ভাই, যাবেন?"। আপনার সম্বোধনের এই সামান্য মাধুর্য বাচ্চার শব্দভাণ্ডারে ভদ্রতার নতুন মাত্রা যোগ করবে।

আপনার সন্তান ভবিষ্যতে বিসিএস ক্যাডার বা নামী প্রকৌশলী হতে পারে—সেটি আপনার সাফল্যের মুকুটে পালক যোগাবে। কিন্তু সে একজন 'ভালো মানুষ' হয়ে উঠবে কি না, তা নির্ভর করছে আপনি রাস্তার সাধারণ মানুষের সাথে কেমন আচরণ করছেন, তার ওপর।

মনে রাখবেন, শিশুরা আপনার উপদেশ শোনে না; তারা আপনার আচরণ দেখে শেখে। পরের বার যখন রিকশায় উঠবেন, ভাববেন আপনার পাশে একটি ছোট 'সিসিটিভি ক্যামেরা' বসে আছে—যে আপনার প্রতিটি কথা, প্রতিটি ভঙ্গি অতি যত্নসহকারে রেকর্ড করে নিচ্ছে।

আপনার আচরণের আয়নাতেই তো বড় হবে আপনার সন্তান!

প্যারেন্টিং গ্রোথ ট্র্যাকার ব্যবহারের নিয়মাবলীআপনার প্যারেন্টিং যাত্রাকে আরও সচেতন ও আনন্দময় করতে এই ট্র্যাকারটি অত্যন্ত...
10/06/2026

প্যারেন্টিং গ্রোথ ট্র্যাকার ব্যবহারের নিয়মাবলী

আপনার প্যারেন্টিং যাত্রাকে আরও সচেতন ও আনন্দময় করতে এই ট্র্যাকারটি অত্যন্ত কার্যকর। এটি সঠিকভাবে ব্যবহারের ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. সঠিক স্থানে স্থাপন:
ট্র্যাকারটি আপনার বাসার এমন একটি দৃশ্যমান স্থানে (যেমন: ফ্রিজ বা পড়ার টেবিলের সামনে) রাখুন, যাতে প্রতিদিন আপনার ও পরিবারের সদস্যদের চোখে পড়ে।

২. প্রতিদিনের অভ্যাস:

প্রতিদিন রাতে ১০ মিনিট সময় নিয়ে দিনের কাজগুলো পর্যালোচনা করুন।

তালিকায় থাকা 'প্রতিদিন করণীয়' কাজগুলো সম্পন্ন করলে এবং 'প্রতিদিন বর্জনীয়' বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতে পারলে পাশের সাদা ঘরে টিক (✔️) দিন।

৩. সাপ্তাহিক ও মাসিক পর্যালোচনা:

সাপ্তাহিক: সপ্তাহ শেষে বসে 'সাপ্তাহিক করণীয়' ও 'সাপ্তাহিক বর্জনীয়' কাজগুলোর হিসাব দেখুন এবং নির্ধারিত ঘরে টিক দিন।

মাসিক: মাস শেষে 'মাসিক করণীয়' ও 'মাসিক বর্জনীয়' তালিকা চেক করুন এবং মাসের সামগ্রিক অগ্রগতির একটি সামারি বা সারসংক্ষেপ তৈরি করুন।

৪. অগ্রগতি পরিমাপ:
আপনার সাফল্যের স্তর যাচাই করতে নিচের সূচকটি অনুসরণ করুন:

২০ দিন সফল হলে: ব্রোঞ্জ
২৫ দিন সফল হলে: সিলভার
৩০ দিন সফল হলে: গোল্ড

এই নিয়মগুলো অনুসরণ করলে আপনি আপনার প্যারেন্টিং অভ্যাসের উন্নতি সহজেই ট্র্যাক করতে পারবেন। গোল্ড প্যারেন্টদের জন্য সীরাত একাডেমির পক্ষ থেকে থাকছে আকর্ষণীয় উপহার!

10/06/2026

৭ দিনের ডিডক্স চ্যালেঞ্জ

উস্তাদ তাওসীফ মুসান্না
প্যারেন্টিং কনসালটেন্ট : সীরাত একাডেমি

“অতিন খালেদ আল-মাসরি”। মাত্র ৮ বছর বয়সে সে পুরো সিরিয়ার ‘পাঠ চ্যালেঞ্জ’-এ দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। আরও বিস্ময়কর বিষয় হ...
10/06/2026

“অতিন খালেদ আল-মাসরি”। মাত্র ৮ বছর বয়সে সে পুরো সিরিয়ার ‘পাঠ চ্যালেঞ্জ’-এ দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই অল্প বয়সেই সে প্রায় ২০০টি কিতাব পাঠ করে শেষ করেছে। তার এই অসাধারণ অর্জনের জন্য সিরিয়া সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে তাকে সম্মাননা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।
একটু গভীরভাবে চিন্তা করুন...!

একটি রাষ্ট্র কেমন প্রজন্ম চায়, তা বোঝা যায় সেই রাষ্ট্র কাদের সামনে তুলে ধরে, সম্মানিত করে এবং কাদেরকে অনুসরণীয় হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করে।
একটি রাষ্ট্র যখন ছোটবেলা থেকেই শিশুদের বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট করতে চায়, তাদের জ্ঞানচর্চাকে উৎসাহিত করে, পাঠাভ্যাসকে সম্মানিত করে এবং মেধাকে পুরস্কৃত করে তখন সেই রাষ্ট্র ধীরে ধীরে একটি চিন্তাশীল, মননশীল ও সভ্য প্রজন্ম গড়ে তোলে।
সিরিয়ায় একটি ৮ বছরের শিশুকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করা হচ্ছে কারণ সে বই পড়েছে, জ্ঞান অর্জন করেছে, চিন্তা করতে শিখেছে। রাষ্ট্র তার শিশুদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে যে বই পড়া গৌরবের, জ্ঞান অর্জন সম্মানের, চিন্তাশীল হওয়া সফলতার প্রতীক। ফলে সেখানে ছোটবেলা থেকেই বইয়ের সঙ্গে শিশুদের গভীর সখ্যতা গড়ে উঠছে। তারা শুধু তথ্য মুখস্থ করছে না; তারা ভাবতে শিখছে, বিশ্লেষণ করতে শিখছে, প্রশ্ন করতে শিখছে। এর ফলাফল দেখা যায় তাদের চিন্তার গভীরতায়, কথাবার্তায়, মূল্যবোধে এবং সামাজিক আচরণে।
অন্যদিকে আমাদের দেশের বাস্তবতা অনেক ক্ষেত্রেই উদ্বেগজনক।
আমাদের সমাজে বইপড়া, গবেষণা, জ্ঞানচর্চা কিংবা মননশীলতাকে যতটা গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন, বাস্তবে ততটা দেওয়া হয় না। বরং অনেক সময় এমন সব কনটেন্ট ও ব্যক্তিত্বকে সামনে আনা হয়, যাদের মূল শক্তি জ্ঞান নয়, বরং সাময়িক বিনোদন, চটকদার উপস্থাপনা কিংবা ভাইরাল হওয়ার প্রবণতা।
আজকের শিশু-কিশোরদের বড় একটি অংশ বইয়ের পাতার চেয়ে মোবাইলের স্ক্রিনে বেশি সময় কাটাচ্ছে। রিলস, শর্ট ভিডিও, ভাইরাল ট্রেন্ড এবং তাত্ক্ষণিক জনপ্রিয়তার সংস্কৃতি তাদের মনোজগৎকে ক্রমশ গ্রাস করছে। তারা গভীর মনোযোগ দিয়ে একটি বই পড়তে পারছে না, কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রল করতে পারছে।
এর প্রভাব শুধু শিক্ষাক্ষেত্রে নয়, সামাজিক আচরণেও পড়ছে।
আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যের ঘরগুলো একবার চোখ রাখলেই বোঝা যায়, আমরা মানসিকতা ও মূল্যবোধের দিক থেকে কোন পথে এগোচ্ছি। আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশের
চিন্তাধারা ও রুচির প্রতিফলন যেন সেখানে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একটি মেয়ের ছবি, কোনো নারীর সাফল্যের খবর, কিংবা একটি একেবারেই সাধারণ ভিডিওর নিচেও প্রায়ই এমন নোংরা, অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য দেখা যায়, যা একটি সভ্য ও সুস্থ সমাজে কল্পনা করাও কঠিন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অনেকেই এসব ভাষা ও আচরণকে হাস্যরসের নামে স্বাভাবিক করে তুলছে, আবার কেউ কেউ এগুলোকে আধুনিকতা, স্মার্টনেস বা জনপ্রিয়তা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে উপস্থাপন করছে। ফলে শালীনতা, সম্মানবোধ ও সামাজিক দায়িত্বশীলতার জায়গাগুলো দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
প্রশ্ন হলো, এই মানসিকতা কোথা থেকে তৈরি হচ্ছে?
যে প্রজন্ম বইয়ের সঙ্গে বেড়ে ওঠে, সে সাধারণত ভাষার সৌন্দর্য শেখে, মানবিকতা শেখে, অন্যকে সম্মান করতে শেখে। আর যে প্রজন্ম সারাক্ষণ নিম্নমানের বিনোদন, কুরুচিপূর্ণ কনটেন্ট ও অগভীর চিন্তার মধ্যে বড় হয়, তার চিন্তার জগতও তেমনই হয়ে ওঠে। আর এমন হওয়াটাই স্বাভাবিক।
এ কারণেই আজ আমরা প্রতিনিয়ত সামাজিক অবক্ষয়ের বিভিন্ন চিত্র দেখছি। পারিবারিক ভাঙন, সহিংসতা, অশ্লীলতা, মাদক, নৈতিক অবক্ষয় এসব সমস্যার পেছনে বহু কারণ থাকলেও চিন্তার দারিদ্র্য এবং জ্ঞানচর্চা থেকে দূরে সরে যাওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
এখানেই সিরিয়ার সঙ্গে আমাদের পার্থক্য।
সিরিয়া তাদের শিশুদের হাতে বই তুলে দিচ্ছে, পাঠ প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে, জ্ঞানীদের সম্মানিত করছে, চিন্তাশীল প্রজন্ম তৈরির চেষ্টা করছে।
আর আমরা বইপড়া শিশুদের নয়, বরং শুধুমাত্র ভাইরাল হওয়া মানুষদের সামনে এনে বারবার পুরস্কৃত করি, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও সেই পথকেই সাফল্যের পথ মনে করবে। কারণ শিশুরা শুনে কম শেখে, দেখে বেশি শেখে।
তবে অতিনের অর্জনের চেয়েও আমাকে বেশি মুগ্ধ করেছে তার একটি সাক্ষাৎকার।

সাংবাদিকরা তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন,

“তুমি যদি বিজয়ী না হতে, তাহলে কেমন লাগত?”

অতিন উত্তর দিয়েছিল,
“যা কিছু হয়েছে সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে। আমার কাজ চেষ্টা করা, আর ফলাফল আল্লাহ তাআলার হাতে। তবে আমি যদি এবার বিজয়ী না হতাম, তাহলে অবশ্যই আগের চেয়ে তিনগুণ বেশি মেহনত করতাম।”
সুবহানাল্লাহ!
মাত্র ৮ বছরের একটি শিশুর মুখে এমন কথা!
সে জিতেছে বলে খুশি নয়; সে আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট। সে ফলাফলের চেয়ে প্রচেষ্টাকে বড় মনে করছে। সে পরাজয়কে ব্যর্থতা নয়, আরও বেশি চেষ্টা করার সুযোগ হিসেবে দেখছে।
এটাই প্রকৃত শিক্ষা।
এবং এটাই সুন্দর প্যারেন্টিংয়ের ফল।
আমাদের সমাজে অনেক মা-বাবা সন্তানের ওপর এমন প্রত্যাশার বোঝা চাপিয়ে দেন যে সন্তান ধীরে ধীরে নিজের স্বাভাবিক আনন্দ হারিয়ে ফেলে। ভালো নম্বর না পেলে, পছন্দের বিষয়ে পড়ার সুযোগ না পেলে কিংবা কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পারলে অনেক সন্তান নিজেকে ব্যর্থ মনে করতে শুরু করে।
অতিরিক্ত প্রত্যাশা, তুলনা এবং মানসিক চাপের ফলে অনেক তরুণ হতাশায় ভোগে। কেউ আত্মবিশ্বাস হারায়, কেউ আল্লাহর তাকদীর নিয়ে অভিযোগ করতে শুরু করে, কেউ আবার নতুন করে চেষ্টা করার শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলে।
কিন্তু অতিনের শিক্ষা ভিন্ন।
সে শিখেছে চেষ্টা আমার দায়িত্ব, ফলাফল আল্লাহর হাতে।

আমি জিতলে আলহামদুলিল্লাহ।

না জিতলে আরও বেশি চেষ্টা করব।
এই শিক্ষা শুধু একটি শিশুর শিক্ষা নয়; এটি হাজারো মা-বাবার জন্যও শিক্ষা।
সন্তানকে শুধু জিততে শেখাবেন না, হার মেনে আবার উঠে দাঁড়াতে শেখান। শুধু নম্বর শেখাবেন না, তাকদীরের প্রতি সন্তুষ্ট থাকতে শেখান। শুধু প্রতিযোগিতা শেখাবেন না, কৃতজ্ঞতা শেখান। শুধু সাফল্য শেখাবেন না, ধৈর্য শেখান। যেন সে নিজের প্রাপ্তিকে আল্লাহর নেয়ামত মনে করে, অন্যের প্রাপ্তিকে হিংসা না করে এবং জীবনের প্রতিটি অবস্থায় কৃতজ্ঞ থাকতে শেখে।
মনে রাখবেন, আপনার সন্তান কোনো প্রোডাক্ট নয় যে তাকে নির্দিষ্ট ফলাফল উৎপাদন করতেই হবে। সে মহান রবের দেওয়া একটি আমানত, একটি নেয়ামত। আর নেয়ামতের যথাযথ হক আদায় করার অন্যতম উপায় হলো তাকে সুন্দর চরিত্র, বিশুদ্ধ আকীদা, জ্ঞানচর্চা ও সঠিক মূল্যবোধের মাধ্যমে গড়ে তোলা।
তাই তাকে চাপ দিয়ে নয়, ভালোবাসা দিয়ে গড়ে তুলুন। মুখস্থ করিয়ে নয়, ভাবতে শেখান। তুলনা করে নয়, আত্মবিশ্বাস দিন। তাকে এমন মানুষ বানান যে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে, মানুষের উপকার করবে, জ্ঞানকে ভালোবাসবে এবং প্রতিটি ব্যর্থতাকে নতুন সূচনার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করবে।
যেদিন আমরা আমাদের শিশুদের হাতে মোবাইলের চেয়ে বেশি বই তুলে দিতে পারব, যেদিন জ্ঞানী মানুষদের তারকার মর্যাদা দিতে পারব, যেদিন চিন্তাশীল ও চরিত্রবান মানুষদের সমাজের আদর্শ বানাতে পারব, সেদিনই আমরা একটি সত্যিকার অর্থে উন্নত, সভ্য ও মননশীল জাতি গঠনের পথে এগোতে পারব ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ আমাদের সঠিক উপলব্ধি দান করুন, সন্তানদের সঠিকভাবে গড়ে তোলার তাওফিক দান করুন এবং আমাদের সমাজকে জ্ঞান, চরিত্র ও মূল্যবোধের আলোয় আলোকিত করুন। আমিন।

কুরআনের অর্থ পড়তে আমাদের বেশ ভালোই লাগে। কিন্তু যখন সেটাকে কেনো আলেম সমকালীন ব্যখ্যা করেন তখন হয়তো আমাদের খুব একটা ভালো ...
10/06/2026

কুরআনের অর্থ পড়তে আমাদের বেশ ভালোই লাগে। কিন্তু যখন সেটাকে কেনো আলেম সমকালীন ব্যখ্যা করেন তখন হয়তো আমাদের খুব একটা ভালো লাগে না। এবার না হয় আপনি নিজেই চিন্তা করে দেখেন! বিশ্বকাপ নিয়ে মাতামাতি করা কীসের লক্ষণ?

সোনামণি সিরিজ!
09/06/2026

সোনামণি সিরিজ!

বাবা-মা যদি অন্যায়ভাবে সন্তানের বিরুদ্ধে বদদু'আ করে, তাহলে সে গুনাহগার হবে। অন্যদিকে এই বদদু'আ সন্তানের জন্য কাফ্‌ফারা হ...
09/06/2026

বাবা-মা যদি অন্যায়ভাবে সন্তানের বিরুদ্ধে বদদু'আ করে, তাহলে সে গুনাহগার হবে। অন্যদিকে এই বদদু'আ সন্তানের জন্য কাফ্‌ফারা হবে এবং ধৈর্যধারণের জন্য সেই সন্তান নেকী পাবে।

— ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহি.)

Address

Sadar
Mymensingh
2200

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Seerat Corner posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share