19/10/2025
অনেক শিক্ষার্থী পড়া জানে, বোঝে, এমনকি আগের রাতে ঠিকই রিভিশন করে, কিন্তু পরীক্ষার হলে গিয়ে সব ভুলে যায়। এটা মস্তিষ্কের এক ধরনের কগনিটিভ ওভারলোড।
যখন কোনো শিক্ষার্থী মানসিকভাবে অতিরিক্ত চাপ অনুভব করে, তখন তার working memory অতিরিক্ত লোড নিতে পারে না। এর ফলে retrieval failure ঘটে। অর্থাৎ, তথ্য আছে, কিন্তু নির্দিষ্ট মুহুর্তে মনে পড়ে না।
আমাদের শেখার কার্যকারিতা মূলত নির্ভর করে কোনো বিষয়ের জটিলতা, পরিবেশগত চাপ ও মিনিংফুল লার্নিং এর যৌথ কম্বিনেশনের ওপর।
শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ বৃদ্ধি পেলে, শিক্ষার্থীর মনোযোগ goal-driven না হয়ে threat-driven হয়ে যায়। তাই পড়া পড়ে আসা সত্ত্বেও এক্সাম হলে মনে পড়ে না।
আবার অনেক শিক্ষার্থী বুঝতে পারে না কীভাবে বিষয়টা শেখা যায়। তাই ভুল পদ্ধতিতে পড়তে গিয়ে আত্মবিশ্বাস হারায়।
এ সকল ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা সাধারণত বলে থাকে –
১. আমি অনেক চেষ্টা করি কিন্তু কিছুই মনে থাকে না।
২. পড়ার সময় মন বসে না।
৩. পড়ি, কিন্তু পরীক্ষায় লিখতে পারি না ইত্যাদি।
এই কথাগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে executive dysfunction এবং performance anxiety এর প্রকাশ মূলত।
শিক্ষার্থীরা প্রতিটা পড়ার শেষে "কী শিখলো, কীভাবে শিখলো, কীভাবে মনে রাখবে?" এই বিষয়গুলোর প্র্যাক্টিস করতে পারে।
খেয়াল রাখতে হবে যে, শিক্ষার্থী যদি অতিরিক্ত স্ট্রেস, এংজাইটি এর মধ্যে থাকে, তাহলে কোনো cognitive functionই ঠিকমতো কাজ করবে না। তাই তাদের প্রথমে এসব আয়ত্ত করা জানতে হবে। একজন সাইকোলজিস্ট এর সাহায্য নেয়া এক্ষেত্রে ভালো ভূমিকা রাখে।
আর শিক্ষার্থীর মস্তিষ্ক কোনো বাক্স নয়। এখানে তার ভাবনা, অনুভূতি, চাপ, আত্মবিশ্বাস সবকিছু মিলে একটি বিষয় শেখার মান নির্ধারণ হয়ে থাকে।
তাই কোনোকিছু শেখার আগে — শেখাটা কীভাবে কাজ করে শিক্ষার্থীদেরকে তা শেখা/শেখানো উচিত।
আবির হোসেন আকাশ
এম এস ইন স্কুল সাইকোলজি
বিএসসি ইন সাইকোলজি
পিজিডি ইন স্পোর্টস সাইকোলজি
এক্সপেরিমেন্টাল ট্রেইনিং ইন কাউন্সেলিং সাইকোলজি