13/01/2026
📌একদিন একটি অসুস্থ গর্ভবতী বাঘিনী বাচ্চা প্রসবের সময় মারা গেল। তার সদ্য জন্ম নেওয়া ছানাটি একা পড়ে রইল। পাশ দিয়ে যাচ্ছিল একটি ভেড়ার পাল। বাঘের ছানাটি সেই ভেড়ার পালের সঙ্গে চলতে শুরু করল।
ভেড়ারা যা করে, সেও তাই করে — ভ্যা ভ্যা করে ডাকে, ঘাস পাতা খায়, আর ভয় পেলে পালায়। সে তার বাঘ জীবনের অস্তিত্ব সম্পর্কে কিছুই জানে না।
বছর দুয়েক পর ছানাটি বেশ বড়সড় হলেও সে ভেড়ার মতোই আচরণ করতে থাকল। একদিন এক বাঘ ভেড়ার পালের ওপর আক্রমণ করল। ভেড়ারা যখন ভয় পেয়ে পালাতে শুরু করল, বাঘের ছানাটিও তাদের সঙ্গে পালাল।
শিকারী বাঘ লক্ষ্য করল, পালের মধ্যে একটি ছোট বাঘও দৌড়াচ্ছে। কৌতূহলবশত সে সেই বাঘ ছানার পেছনে ছুটল। ভয় পেয়ে ছানাটি আরও দ্রুতবেগে পালাতে লাগল, আর ভ্যা ভ্যা করে চিৎকার করতে লাগল।
শিকারী বাঘ নিমেষেই তাকে ধরে ফেলল এবং বলল, “তুই এটা কি করছিস? তুই তো একটা বাঘ! তুই কেন পালাচ্ছিস?”
ছানাটি ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলল, “না, আমি একটা নিরীহ ভেড়া, আমাকে ছেড়ে দিন!”
বাঘ ধমক দিয়ে বলল, “তুই বাঘ, ভেড়া নোস!”
যতই বোঝানো হোক, ভেড়ার দলের সাথে বড় হওয়া ছানাটি তা মানতে রাজি নয়।
বাঘ তখন ছানাটিকে নদীর পাড়ে নিয়ে গেল এবং নদীর জলে তার প্রতিবিম্ব দেখাল। ছানাটি তখন একবার জলের দিকে, আরেকবার বাঘের দিকে তাকাচ্ছে। সে বুঝতে পারল, তার চেহারা মোটেই ভেড়াদের মতো নয়, সে আসলে একটা বাঘ!
এরপর, জীবনে প্রথমবার তার গলা দিয়ে বাঘের গর্জন বেরিয়ে এলো। সে বুঝতে পারল, সে আর ভেড়া নয় — সে একটি শক্তিশালী বাঘের বাচ্চা।
কে জানে আপনিও হয়তোবা ভেড়ার মতোই জীবন কাটাচ্ছেন! নিজের শক্তি, সামর্থ্য এবং সম্ভাবনাকে না চিনে ভেড়ার পালের সাথে দিন পার করছেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হেরে যাওয়া জাপান এবং জার্মানি কীভাবে তাদের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আবারও অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়েছে?
রুয়ান্ডা কীভাবে জেনোসাইডের পর দারুণভাবে নিজেকে গড়ে তুলেছে?
এগুলো আমাদের জন্য বড় উদাহরণ। আমরা কি আমাদের শক্তি আর সম্ভাবনাকে কখনো চিনতে পারব? আমরা কি কখনো বাঘের মতো গর্জন দিতে পারব?