19/05/2026
বছরের শ্রেষ্ঠ ১০ দিনে আমলের একটি তালিকা তৈরী করেছি নিজের জন্যে আপনাদের জন্যেও।
▪️শুরুতেই বলে নেই হাদীস অনুযায়ী 'আল্লাহ তা‘আলার নিকট জিলহজের (প্রথম) দশ দিনের আমলের চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ ও প্রিয় অন্য কোনো আমল নেই।’ (সহিহ বুখারী)
এই ১০ দিনের ফরজ ইবাদত অন্যান্য মাসের ফরজ ইবাদতের তুলনায় অধিক মর্যাদার। এই ১০ দিনের নফল ইবাদত অন্যান্য মাসের নফল ইবাদতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। [ইমাম ইবনু রজব, ফাতহুল বারি: ৯/১৫] [Collected from Nusus]
▪️প্রথমেই এ ব্যাপারে সতর্ক করতে চাই যে, যদি অনলাইনে এক্টিভ থাকেন তাইলে এই তালিকা অনুযায়ী আমল করতে না পারার সম্ভাবনাই বেশি।
বিশেষ করে যাদের অন্যান্য দায়িত্ব বা সন্তান আছে তাদের জন্য জরুরী হলো এই দিনগুলায় অনলাইন থেকে বিরতি নিয়ে আমলের চেষ্টা করা।
টাচ মোবাইল ও ইন্টারনেট আমাদের আমল কমানোর পিছে সবচেয়ে বেশি দায়ী অধিকাংশ ক্ষেত্রেই। তাই অনুরোধ থাকবে হয় ফেসবুক ইউটিউব ইত্যাদি চালানো পুরো অফ করেন না হয় টাইম ফিক্সড করে অল্প সময় চালান।
🌱 পুরোটা একবার অন্তত পড়ে নিজের অবস্থা সুযোগ অনুযায়ী করনীয় আমলের একটি তালিকা লিখার অনুরোধ থাকবে। যদি গুরুত্ব দিয়ে আমল করার চেষ্টা করতে পারি তাইলে ইনশাআল্লাহ পারব।
▪️প্রতিদিন সকালে এই নিয়ত করার চেষ্টা করবেন যে, 'হে আল্লাহ! আজকে যত ভালো কাজ করব যত ভালো আমল করব সবটা আপনার সন্তুষ্টির জন্য করতে চাই। প্রতিটা ভালো কাজ সাওয়াবের আশায় করতে চাই। আপনি তাওফীক্ক দান করুন।
কবুল করে নিন।
প্রতিটা বৈধ কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়বেন এবং নিজ নিজ দায়িত্বে থাকা প্রতিটা কাজেই ভালো নিয়ত করে সাওয়াবের আশায় করার চেষ্টা করবেন।
▪️৫ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ যত্নসহকারে ধীরেসুস্থে আওয়াল ওয়াক্তে বা অন্তত মাকরুহ ওয়াক্তের আগেই আদায় করবেন।
নামাজে মন বসুক না বসুক মোটেও তাড়াহুড়ো করে পড়বেন না। প্রতিটা সূরা তাসবিহ শুদ্ধভাবে খেয়াল করে উচ্চারণের চেষ্টা করতে হবে।
নামাজে কি কি পড়ছেন সেটাই শুধু খেয়াল করবেন।
▪️গুনাহ থেকে বেচেঁ থাকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফরজ আদায় সবচেয়ে বড় আমল।
নিজের আচার ব্যবহার উত্তম করা এবং গীবত, বাজে কথা, ঝগড়াঝাটি থেকে বিরত থাকার চেষ্টা অনেক জরুরী।
গুনাহ থেকে বাঁচা ও ফরজ নামাজ যত্নসহকারে মন দিয়ে আদায়ের চেষ্টা সবচেয়ে বেশি করুন প্লিজ। আর কিছু করতে পারেন বা না পারেন।
কোনভাবেই ইচ্ছাকৃত নামাজ ছুটে যেন না যায় সেই চেষ্টা জরুরী।
▪️জিলহজ্জ মাসের প্রথম ৯ দিন রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোজা রাখতেন।
যে যতদিন পারেন রোজা রাখতে পারেন। বিশেষ করে আরাফার রোজার ফজিলত পেতে ৯ জিলহজ্জ এর রোজা সবাই রাখবেন।
আমাদের দেশে ৯ জিলহজ্জ ২৭ মে তাই সেদিন সুযোগ থাকলে অবশ্য ই রোজা রাখার অনুরোধ থাকবে। যদি সৌদির আরাফার দিনেও রোজা রাখেন তাইলে নফল রোজার নিয়তে রাখবেন।
এ ব্যাপারে আলিমদের মাঝে মতভেদ আছে বটে তবে আমাদের আলিমদের মতানুযায়ী ই লিখেছি
▪️কুরআন পড়ার ক্ষেত্রে আমি টার্গেট দিচ্ছি ১৫ পারা। যাদের সময় সুযোগ কম তাদের জন্য ১০ পারা। এক্ষেত্রে আজ জিলহজ্জ মাসের প্রথম দিন ১৯ মে থেকে শুরু করে ঈদের দিন মাগরীবের আগেই পড়ে শেষ করবেন।
যাদের ই সুস্থতা ও নামাজ পড়ার মত অবস্থা আছে তাদের এই ১০ দিনে কুরআন পড়ার একটা টার্গেট নেয়ার খুব খুব অনুরোধ থাকবে।
যে যার সময় সুযোগ অনুযায়ী পারা নির্ধারণ করে পাক্কা নিয়ত করে পড়া শেষ করার চেষ্টা করবেন।
একদিন পড়া কম হলেও আরেকদিন বেশি পড়ে নিলেই পারবেন ইনশাআল্লাহ।
গুরুত্ব দিয়ে কুরআন পড়ার নির্দিষ্ট টার্গেট নিলে কি হয় জানেন?
আর কোন নফল আমল হোক না হোক কুরআন পড়া হয় এবং কুরআন এর এক হরফের জন্য ১০ নেকি ফলে অনেক অনেক সাওয়াব পাবেন ইনশাআল্লাহ এবং কুরআন তিলাওয়াত অন্যতম জিকির তো বটেই।
এছাড়া কুরআন পড়ার প্রভাব সুকুন দিলে টের পাবেন ই ইনশাআল্লাহ।
ব্যস্ততা বা এভাবে পড়া হবেইনা মনে হলে
অন্তত প্রতিদিন সকালে সূরা ইয়াসীন
ও রাতে সূরা মুলক পড়ার চেষ্টা করবেন।
[বোনেরা অনুগ্রহ করে পিরিয়ড/নেফাসের টাইমে কুরআন পড়বেন না। অধিকাংশ আলেম সাহাবী তাবেয়ী তথা সালাফদের মতে দলীল প্রমানের ভিত্তিতেই পড়া যাবেনা এটা অধিক গ্রহণযোগ্য মত। এই সময় গুলায় দুয়া ও বেশি বেশি জিকির করা দরুদ পড়ার টার্গেট রাখুন]
🌱 কুরআন পড়া বাদে আমি একদম সহজ কিছু আমলের কথাই বলব যেগুলো করতে বেশি সময় লাগেনা কিন্তু অনেক ফজিলত সাওয়াবের আমল। যতটুকু পারেন করবেন প্লিজ।
▪️জেগে থাকলে ফজরের ওয়াক্ত শেষ হবার পর নিষিদ্ধ টাইম পার হলে দুই রাকাত ইশরাকের নামাজ পড়বেন। যদি ঘুমিয়ে যান তাইলে সকালে যোহরের আগের নিষিদ্ধ টাইমের আগেই উঠলে দুই বা চার রাকাত চাশতের নামাজ পড়ার চেষ্টা করবেন।
▪️প্রতিদিন অজুর সময় মিসওয়াক করা এবং ঘুম হতে উঠেও করার চেষ্টা করবেন
মিসওয়াক একটা গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত
এবং আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার মত আমল। এর ফায়দা ফজিলত অনেক।
যদি ভুলেও যান বা ব্যস্ততায় না হয় তবু প্রতিদিন একবার হলেও করার চেষ্টা করবেন।
মিসওয়াক ভিজিয়ে রাখবেন না।
করা হলে ঘরে এনে রাখবেন যাতে শুকিয়ে যায়। আর মিসওয়াকের নিয়ম ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে দেখে নিতে পারেন আগেই।
▪️প্রতি ফরজ নামাজের পর পড়বেন
১০ বার سُبْحَانَ اللهِ
১০ বার اَلْحَمْدُ لِـلّٰـه
১০ বার اَللهُ أَكْبَرُ
(এটাও হাদীসে আছে এবং ৩৩ বার করে পড়ার আমল যারা করেন সেটাও হাদীসে বর্নিত)
▪️ সকাল সন্ধ্যায় ৩ বার সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস পড়া।
(সকাল সন্ধ্যার অন্যান্য মাসনুন আমল হেফাজতের দুয়া যা আগে পড়তেন সেসব তো পড়বেন ই। সবকিছু লিখছিনা আমি)
▪️সকালে ফজরের পর বা তখন ভুলে গেলে দিনেই ৩ বার পড়বেন-
سُبْحَانَ اللّٰهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ، وَرِضَا نَفْسِهِ، وَزِنَةَ عَرْشِهِ، وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ
উচ্চারণ : ছুবহানাল্ল-হি ওয়া বিহামদিহি
আদাদা খলক্কিহি ওয়া রিদ্ব- নাফছিহি ওয়া যিনাতা আরশিহি ওয়া মিদা-দা কালিমাত্বিহ।
সারা সকাল যিকিরের সাওয়াব পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ ৩ বার পড়াতেই ভাবা যায়?
এত সহজে এত বেশি সাওয়াবের আমল নিয়মিত করার চেষ্টা করবেন অবশ্য ই।
▪️সকালে ও সন্ধ্যায় ১০ বার পড়বেন-
لا إِلٰهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
(লা ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা শারিইকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইইং ক্বদিইর)
(ফজরের নামাজের সালাম ফিরানোর পরেই ঘাড় ঘুরানো ও কথাবার্তা বলার আগেই ১০ বার পড়বেন)
[যার সময় সুযোগ আছে দিনে ১০০ বার পড়ার অনুরোধ থাকবে। এটা অনেক অনেক বেশি সাওয়াবের আমল]
▪️সকাল এবং সন্ধ্যায় ১০০ বার পড়বেন-
سُبْحَانَ اللّهِ وَ بِحَمْدِهِ
(ছুবহানাল্ল-হি ওয়া বিহামদিহী)
[এটা সারাবছর ই মনে করে আমল করবেন অবশ্য ই। হাতেগুণে পড়লে অতি সহজ কিন্তু অনেক বেশি সাওয়াবের আমল তাই কখনোই বাদ দিবেন না।]
▪️সকালে এবং সন্ধ্যায় ১০০ বার করে পড়বেন বা একবার হলেও পড়বেন।
১০০ বার سُبْحَانَ اللهِ পড়া।
১০০ বার الْحَمْدُ لِـلّٰـهِ পড়া
১০০ বার اللهُ أَكْبَرُ পড়া।
১০০ বার لَا إِلٰهَ إِلَّا الله পড়া।
যদি হাতেগুনে পড়া হয় তাইলে দিনে অন্তত একবার এগুলা পড়তে মোটেও অত টাইম লাগেনা কিন্তু গুরুত্ব দিয়ে সময়কে কাজে না লাগানোর জন্যেই আমাদের পড়া হয়না।
[জিলহজ্জের প্রথম দশকে এই তাসবিহ গুলো বেশি বেশি পড়ার ব্যাপারে হাদীস আছে তাই গুরুত্ব দিয়ে পড়ার অনুরোধ থাকবে]
▪️রাতে সুরা মুলক পড়া।
কারো সুযোগ থাকলে সূরা সাজদাও পড়তে পারেন সাথে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুই সূরা না পড়ে ঘুমাতেন না।
▪️ঘুমের আগে তাসবীহে ফাতেমি পড়া অর্থাৎ ৩৩ বার سُبْحَانَ اللهِ
৩৩ বার اَلْحَمْدُ لِـلّٰـه
৩৪ বার اَللهُ أَكْبَرُ
(নামাজের পর ১০ বার করে আর ঘুমের আগে এভাবে পড়াটা অনেক ফায়দা ও সাওয়াবের আমল তাই সব সময় ই গুরুত্ব দিবেন প্লিজ)
▪️তাকবীরে তাশরীক পড়া
اَللهُ أَكْبَرْ اَللهُ أَكْبَرْ . لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ . وَللهُ أَكْبَرْ اَللهُ أَكْبَرْ. وَ لِلّٰهِ الْحَمْدُ
(আল্ল-হু আকবার, আল্ল-হু আকবার,
লা ইলাহা ইল্লাল্ল-হু, ওয়াল্ল-হু আকবার আল্ল-হু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ)
🌱 জিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখ অর্থাৎ বাংলাদেশে ২৭ মে ফজর থেকে ১৩ তারিখ (৩১ মে) আসর পর্যন্ত প্রতি নামাজের পর একবার তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা ওয়াজিব।
নারী পুরুষ সবার জন্যেই তবে পুরুষ উচ্চ আওয়াজে বলবে নারীরা আস্তেই পড়বে।
🔹 যে সব দুয়া জিকিরের আরবি এবং উচ্চারণ লিখা এগুলো মূলত আরবিতে শুদ্ধ উচ্চারণ জেনেই পড়তে হবে।
বাংলায় উচ্চারণ পুরো সঠিক হয়না।
আর এই তালিকায় উল্লেখিত প্রতিটা জিকির তাসবীহের সংখ্যা হাদীস থেকেই জানিয়েছি।
▪️কাজের মাঝে যা যা পড়তে পারেন -
-বারবার তাকবীরে তাশরীক বা তাকবীর অর্থাৎ আল্ল-হু আকবার পড়তে পারেন।
-তিনবার সূরা ইখলাস পড়তে পারেন
(যাদের নামাজ আছে তারা পড়বেন)
-কাজ করার সময় দরুদ পড়তে পারেন। এতে ইনশাআল্লাহ কাজ ও সহজ হবে।
- ঘরে চলতে ফিরতে এবং রাস্তাঘাটে টানা আস্তাগফিরুল্ল-হ বা তাকবীর
পড়তে পারেন।
▪️শেষে দুয়ার ব্যাপারে বলি।
এইসব দিনে দুয়ায় আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন ছাড়া ও সুস্থতা, নিরাপত্তা, শান্তি, ক্ষমা এবং পূর্ন হেদায়াত বেশি বেশি চাইবেন।
দুনিয়া আখেরাতের কল্যান চাইবেন।
নিজের ও আপনজনদের হেদায়াত প্রাপ্তি তাতে আজীবন অটল থাকা এবং ঈমানের সাথে ইজ্জতের সাথে উত্তম সহজ শহীদি মৃত্যু চাইবেন।
বারবার আল্লাহর কাছে খুব করে মাফ চাইবেন। আকুলতা নিয়ে গুনাহ থেকে হেফাজত ও ভালো হবার জন্য সাহায্য তাওফিক চাইবেন।
এবং বিশেষভাবে আল্লাহ ও তাঁর কালাম কুরআনের প্রতি আল্লাহ যেন অনেক মুহাব্বত বাড়িয়ে দেন ও মজবুত সম্পর্ক জুড়ে দেন এই দুয়া কইরেন প্লিজ।
#সংগৃহিত
▪️ কপি/ শেয়ার করতে পারেন।