04/05/2026
“আর একটু জোর দিন মা…
বেবির মাথা চলে এসেছে…”
ডেলিভারি রুমে তখন ১৬ ঘণ্টার অসহ্য ব্যথা পেরিয়ে ক্লান্ত মা।
ঘামে ভেজা শরীর, শুকিয়ে যাওয়া ঠোঁট
“আমার সন্তানটা কবে আসবে?”
তিনি আর দেরি করতে চাননি।
প্রতিটি push-এ নিজের সব শক্তি দিয়ে চাপ দিতে থাকলেন।
কয়েক মিনিটের মধ্যেই পৃথিবীর আলো দেখল তাঁর সন্তান।
কিন্তু পরক্ষনেই খেয়াল হলো তাঁর
দুই চোখ র*ক্তে লা'ল।
চোখের ভেতরের র'ক্ত'নালী ফে'টে গেছে।
মুখজুড়ে ছোট ছোট লা'ল দাগ।
গাল, ঘাড়, কাঁধ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে র'ক্তক্ষ'রণের চিহ্ন।
অনেকেই ভাবেন, “নিশ্চয় বড় কোনো সমস্যা হয়েছে!”
আসলে অতিরিক্ত জোরে ও দীর্ঘক্ষণ চাপ দেওয়ার ফলে শরীরের ভেতরের চাপ হঠাৎ অনেক বেড়ে যায়।
ফলে মুখ ও চোখের সূক্ষ্ম র'ক্তনালীগুলো ফে'টে যেতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটাকে বলা হয় subconjunctival hemorrhage এবং petechiae।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি কিছু সপ্তাহের মধ্যে ঠিক হয়ে যায়।
প্রসব মানে নিজের শরীরের সাথে তাল মিলিয়ে চলা।
সঠিক সময়ে, সঠিকভাবে push করা।
শ্বাস নেওয়ার নিয়ম মানা।
এবং পাশে থাকা চিকিৎসক ও নার্সদের নির্দেশনা অনুসরণ করা।
অনেক মা ব্যথার তীব্রতায় আ'তঙ্কিত হয়ে একটানা সর্বশক্তি দিয়ে চাপ দিতে থাকেন।
প্রিয় গর্ভবতী মায়েরা
আপনার শরীর একটা নতুন প্রাণ পৃথিবীতে আনার জন্যই তৈরি।
নিজেকে দোষ দেবেন না, ভয়ও পাবেন না।
ডেলিভারির সময় নিয়ন্ত্রিত শ্বাস, ধৈর্য আর guided pushing অনেক জটিলতা কমাতে সাহায্য করে।
একজন মা যখন সন্তান জন্ম দেন, তিনি শুধু ব্যথা সহ্য করেন না,
নিজের শরীরের সীমা পর্যন্ত লড়ে যান।
তাই প্রতিটি মায়ের প্রতি সহানুভূতি, একটু সম্মান, আর যত্ন রাখুন।
একজন মা দ্বিতীয়বার জন্ম নেন তাঁর সন্তানের জন্মের দিন।
আর ডেলিভারির পেইন পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি তীব্র সবচেয়ে বেশি কষ্টের..
চলুন নিজের স্ত্রীর প্রতি যত্নবান হই,চলুন হই সুপুরুষ, শুধু গায়ের জোরে না, মানসিকতায়,
ব্যবহারে ও যত্ন নেওয়ার মাধ্যমে...
ডা.আব্দুর রহমান