20/05/2026
বাংলাদেশে ধর্ষ*ণের ঘটনাগুলো পড়ার সময় মেয়েরা কিভাবে নিজের সাইকোলজির সাথে ডিল করে আমি জানি না ।
কিন্তু ছোট্ট শিশু রামিসার ঘটনা পড়ার সময় একজন শক্ত মানসিকতার পুরুষ হয়েও আমার রীতিমত আতঙ্কে শরীর কাঁপছিলো ।
বড় বোনের সাথে একসাথে স্কুলে যায় রামিসা ।
যে সময়ে রামিসার স্কুলে যাওয়ার কথা , সে সময়ে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না ।
মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে হঠাৎ পাশের ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার একটা জুতো পড়ে থাকতে দেখে তার মায়ের সন্দেহ হয় ।
ফ্ল্যাটের দরজায় নক করলেন । ভেতর থেকে কোনো রেসপন্স নেই । তিনি দরজায় ধাক্কা দিতে শুরু করলে বরং ভেতর থেকে দরজা আরও শক্ত করে লক করে দেওয়া হয় ।
তখন রামিসার মা'র সন্দেহ হয় । তিনি চিৎকার করে লোকজন জড়ো করেন । দরজা ভাঙার চেষ্টা করেন । ভাঙতে পারেন নি ।
পরে ৯৯৯ এ কল দিলে পুলিশ আসে । দরজার ভাঙার পর যে দৃশ্য দেখা যায় তাতে সবারই গা শিউরে উঠে ।
পুরো রুমে রক্তের দাগ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে । রক্তের উৎস খুঁজতে গিয়ে দেখা গেলো আলাদা করে খাটের নিচে ছোপ ছোপ রক্ত জমে আছে ।
তখন খাটের নিচ থেকেই ছোট্ট শিশু রামিসার পা ধরে টেনে তার রক্তাক্ত দেহ বের করে আনা হয় ।
কিন্তু আস্ত দেহ পড়ে আছে মাথা ছাড়া!
Can you imagine how horrific this picture is?
তাজা রক্ত রামিসার যে দেহ থেকে গড়িয়ে পড়ছে ফ্লোরে - সে দেহে রামিসার মাথা ছিলো না ।
পৃথিবীর এমন কোনো শক্ত মানসিকতার মা রয়েছে যে এই দৃশ্য সহ্য করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে?
রামিসার মা ও পারে নি । তিনি জ্ঞান হারালেন ।
পুলিশ খুঁজতে খুঁজতে রামিসার মাথা খুঁজে পেলেন বাথরুমে।
ধর্ষ*কের পরিকল্পনা ছিলো মাথা থেকে শরীর আলাদা করে ফেলে শরীর এক জায়গায় ফেলবে , মাথা আরেক জায়গায় ফেলবে । যাতে ধ*র্ষণের আলামত খুঁজে না পাওয়া যায়।
এই ধর্ষ*কের নাম সোহেল রানা ।
একজন রিকশা মেকানিক । মাত্র দুই মাস আগে এই ফ্ল্যাটে উঠেছে ।
আশ্চর্যের বিষয় হইলো - যখন সে রামিসাকে ধ*র্ষণ করে তখন তার স্ত্রী সাথেই ছিলো । সে সোহেল রানাকে সাহায্য করেছে।
এমনকি ধ*র্ষণ থেকে শুরু করে শেষ অবধি রামিসার দেহ থেকে মাথা আলাদা করার সময় পর্যন্ত ।
এখানেই শেষ না।
রামিসার মা যখন বন্ধ দরজায় ধাক্কা দিচ্ছিলো , ধর্ষ*কের স্ত্রী স্বপ্না তখন গ্রিল কেটে সোহেল রানাকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করছিলো ।
রামিসাকে হ*ত্যা করা হয় মূলত যৌন বিকৃত মানসিকতা থেকে।
আতঙ্কের বিষয় হইলো রামিসাকে ধর্ষ*ণ করার সময় যৌনাঙ্গে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিলো , তখন লোক জানাজানির ভয়ে ধ*র্ষক সোহেল রানা তাকে মুখ চেপে ধরে হ*ত্যা করে।
ছোট্ট একটা শিশু , মাত্র সাত বছরের । সবেমাত্র ক্লাস টু তে পড়ে । সে জানেই না যৌনতা কি!
অথচ তাকে জীবন দিতে হইলো একজন নরপশুর যৌন লালসার কারণে ।
যে সময়ে তার মাথায় সুন্দর চুলগুলো পরিপাটি থাকার কথা - তার সে চুলগুলোতে লেগে আছে ছোপ ছোপ রক্ত।
যে চোখে তাকিয়ে সে মায়ের দিকে হাসতো - সে চোখ বিস্ফোরিত হয়ে আছে আতঙ্কে ।
শুনেছি রামিসার মা পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে বসে আছেন। কোনো শব্দ নেই । তার বাবা হাউমাউ করে কাঁদছেন ।
এতোদিন সযত্নে বড় করা ফুল পড়ে আছে রক্তা*ক্ত দেহে মাথা ছাড়া , এমন দৃশ্য মা বাবার মন থেকে মুছে দেওয়ার মতো শক্তিশালী কোনো রাবার পৃথিবীতে রয়েছে?
কিন্তু এইসব দৃশ্য আমাদের অপরিচিত নয় । বাংলাদেশের মানচিত্রে এমন বহু লাশ জমে আছে।
ধর্ষণের পর শিশুদের, মেয়েদের রক্তা*ক্ত লাশ পড়ে থাকে ধানক্ষেতে, ভেসে থাকে পুকুরে, পড়ে থাকে বাসে অথবা ফ্ল্যাটে ।
প্রতিবার ধর্ষ*ণের পর আওয়াজ উঠে , দ্রুত বিচার চাই । কিন্তু দ্রুত বিচার হয় না । আমরা ক্লান্ত হই ।
যাকে ধ*র্ষণ করা হয় - সে মারা যায় । খুব দ্রুত তাকে হ*ত্যা করা হয় । কিন্তু দেশের বিচার ব্যবস্থা ধর্ষকের আয়ু বাড়িয়ে দেয় ।
আছিয়াকে ধর্ষণের পর আছিয়া কতদিন বেঁচেছিলো ? তনুকে ধর্ষনের পর কতক্ষণ তনু বেঁচে ছিলো ?
কিন্তু তাদের ধর্ষকরা আজও জীবিত ।
উইলিয়াম গ্লাডস্টোনের একটা কথা আছে ।
"Justice delayed means justice denied