30/04/2025
**গভীর জঙ্গলের ভয়ানক বাড়ি**
ছুটির দিনে শহর থেকে কিছুটা দূরে এক ঘন জঙ্গলে ঘুরতে গিয়েছিল পাঁচজন কিশোর—রাফি, তন্ময়, সাদ, রিজভী ও মেহেদী। তারা খুব কৌতূহলী ছিল প্রকৃতি আর অ্যাডভেঞ্চারের প্রতি। কিন্তু তারা জানত না, এই ভ্রমণ তাদের জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতায় রূপ নেবে।
প্রথমে সব কিছু স্বাভাবিকই ছিল—পাখির ডাক, ঝিঁঝিঁ পোকার সুর, আর সবুজে ঢাকা শান্ত পরিবেশ। তবে দুপুর গড়াতে না গড়াতে আকাশ কালো হতে শুরু করল। হঠাৎ ঘন কুয়াশা নেমে এলো, আর তারা বুঝল—জঙ্গলের মধ্যে তারা পথ হারিয়ে ফেলেছে।
তারা সাহায্য খুঁজে বেড়াতে থাকল, কিন্তু চারদিকে শুধু গাছ আর অজানা শব্দ। সন্ধ্যার পর হঠাৎ চোখে পড়ল একটি পুরনো, ধ্বংসপ্রায় বাড়ি। জানালাগুলো ভাঙা, দেয়ালে আগাছা জড়িয়ে আছে, আর চারদিকে কাকের ডাক। তবুও থাকার জায়গা না পেয়ে তারা সাহস করে ঢুকে গেল বাড়িটার ভেতর।
বাড়িতে পা দিতেই শীতল এক হাওয়া তাদের গায়ে লেগে গেল। ঘরের ভেতরে অদ্ভুত সব শব্দ—ছাদের ওপর পায়ের আওয়াজ, দেয়ালে আঁচড়ের চিহ্ন, আর মাঝে মাঝে হাসির মতো শব্দ শুনতে পেল তারা। রাত গভীর হতেই সাদ হঠাৎ চিৎকার করে উঠল—সে বলল, এক ছায়ামূর্তি তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল।
রাফি আর তন্ময় তাকে শান্ত করার চেষ্টা করল, কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই মেহেদী অজ্ঞান হয়ে গেল—তার গায়ে ছিল আচড়ের দাগ, যেন কেউ তাকে আঘাত করেছে। তখনই তারা বুঝল, এ বাড়ি সাধারণ কোনো বাড়ি নয়। এটা অভিশপ্ত!
তারা বের হওয়ার পথ খুঁজে পায় না, কারণ দরজাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে যেন অদৃশ্য শক্তির বলে। সেই রাতে তারা যে ঘরে ঘুমাতে গিয়েছিল, সেখানে দেয়ালের ছবি থেকে এক বৃদ্ধার মুখ বের হয়ে বলে, "তোমরা এই বাড়ি থেকে কোনোদিন বের হতে পারবে না…"
ভোরবেলা রিজভী জানালা ভেঙে বাইরে বের হয় এবং কোনোভাবে বাকি সবাইকে বের করে আনে। তারা ছুটে ছুটে জঙ্গল পেরিয়ে কোনোভাবে লোকালয়ে পৌঁছায়। তারপর যখন স্থানীয় লোকজনকে বাড়িটার কথা বলে, তারা ভয় পেয়ে যায় এবং জানায়—সেই বাড়ি বহু বছর আগেই বন্ধ, আর যারা সেখানে গিয়েছে, কেউ আর ফিরে আসেনি…