07/04/2026
হাম (Measles) একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শ্বাসতন্ত্রকে আক্রমণ করে। এটি শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্ক—উভয়কেই আক্রান্ত করতে পারে, তবে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা যায়। সঠিক সময়ে ব্যবস্থা না নিলে এটি গুরুতর জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।
নিচে হাম সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো তুলে ধরা হলো:
১. প্রধান লক্ষণসমূহ
হামের লক্ষণগুলো সাধারণত ভাইরাস সংক্রমণের ১০ থেকে ১৪ দিন পর প্রকাশ পায়:
তীব্র জ্বর: যা ১০৪° ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে।
কাশি ও সর্দি: সাধারণ ফ্লুর মতো উপসর্গ।
চোখ লাল হওয়া: চোখ দিয়ে পানি পড়া বা আলোতে অস্বস্তি বোধ করা।
কোপ্লিক স্পট: মুখের ভেতরের দিকে (গালের ভেতরে) ছোট ছোট সাদাটে দাগ।
র্যাশ বা ফুসকুড়ি: জ্বরের ৩-৫ দিন পর লালচে দানা বা র্যাশ দেখা দেয়। এটি সাধারণত মুখমণ্ডল ও ঘাড় থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
২. এটি কীভাবে ছড়ায়?
হাম একটি বায়ুবাহিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি যখন কাশি দেয় বা হাঁচি দেয়, তখন ভাইরাসের ড্রপলেটগুলো বাতাসে মিশে যায়। এই ভাইরাস বাতাসে বা কোনো পৃষ্ঠে প্রায় ২ ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে যে কেউ সহজেই এতে আক্রান্ত হতে পারেন।
৩. সম্ভাব্য জটিলতা
হাম সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে কিছু গুরুতর সমস্যা হতে পারে:
ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতা।
কানে ইনফেকশন (যা থেকে শ্রবণশক্তি কমতে পারে)।
নিউমোনিয়া (হামে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ)।
এনসেফালাইটিস বা মস্তিষ্কের প্রদাহ।
৪. প্রতিরোধ ও প্রতিকার
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো টিকা গ্রহণ।
এমএমআর (MMR) টিকা: শিশুদের সাধারণত ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ হামের টিকা দেওয়া হয়।
পরিচ্ছন্নতা: সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে দূরে থাকা।
পুষ্টি: আক্রান্ত শিশুকে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার দেওয়া জরুরি, কারণ ভিটামিন-এ হামের জটিলতা কমাতে সাহায্য করে।
সতর্কতা: হামের কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। মূলত লক্ষণগুলো উপশম করার মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা হয় (যেমন জ্বর কমানোর ওষুধ এবং প্রচুর তরল খাবার)। যদি শিশুর শ্বাসকষ্ট হয় বা জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।