Onamika Afrin

Onamika Afrin Welcome to my official page ✅

25/06/2026

😭💔

25/06/2026

গর্ব করে বলতে পারি দু তিন জনকে নয় একজনকে মনে থেকে ভীষণ ভালোবাসি আর সেটা হলো তুমি.! 🤗💗🕊️i love YOU Pakhi

🫶🫶🫶
25/06/2026

🫶🫶🫶

25/06/2026
🥰🥰
25/06/2026

🥰🥰

🥰🥰🥰
17/06/2026

🥰🥰🥰

আমাকে পছন্দ হয়
17/06/2026

আমাকে পছন্দ হয়

বিয়ে করবা
16/06/2026

বিয়ে করবা

আপনি কোনটা নিবেন
16/06/2026

আপনি কোনটা নিবেন

||হারিয়ে_গেলে_খুঁজবে_নাতো||||লেখিকা_মিঠাই||||পর্বঃ০৮||[ অতিরিক্ত রোমান্টিক এলার্ট। যারা অতিরিক্ত রোমান্টিক গল্প পছন্দ কর...
15/06/2026

||হারিয়ে_গেলে_খুঁজবে_নাতো||
||লেখিকা_মিঠাই||
||পর্বঃ০৮||
[ অতিরিক্ত রোমান্টিক এলার্ট। যারা অতিরিক্ত রোমান্টিক গল্প পছন্দ করেন শুধু তারাই পড়বেন 🔞 ]
ভোরের দিকে ঘুম হালকা হয়ে গেলো নূরা'র। শরীরে কারো ঠান্ডা হাতের এলোমেলো স্পর্শে পেয়ে ঘুম একবারেই ছুটে গেলো।
নূরা পিটপিট করে চোখ মেলে তাকিয়ে দেখে তার পেটের দিকের কাপড় সরিয়ে সেখানে ভেজা চুমু খাচ্ছে কাইফ। কাইফের পড়নে শুধু ট্রাওজার। ঢোক গিললো নূরা। মনেমনে সাহস জুগিয়ে নিচু স্বরে বললো,
' কি করছেন আপনি '?
কাইফ মুখে তুললো। তার চোখেমুখে এক অদ্ভুত নেশা। সে কোনো উত্তর না দিয়ে নূরা'র পেটের কেন্দ্রবিন্দু তে আলতো ঠোঁট স্পর্শ করলো। শরীর মুচড়িয়ে কেঁপে উঠলো নূরা৷
কাইফ সোজা হয়ে বসে নূরা জামা খুলতে চাইলে নূরা বাঁধা দিয়ে বলে,
' আপনি না রাতে বললেন আমার দু'দিনের ছুটি '
কাইফ শুনলো। তবে থামলো নাহ৷ সে অস্থিরতায় বড় বড় স্বাস ফেলতে ফেলতে একটানে নূরার জামা খুলে তার উপর শুয়ে গলায় কিস করতে করতে নেশাক্ত কন্ঠে বললো,
' ছুটি আগামীকাল থেকে মঞ্জুর হবে '
নূরা দীর্ঘস্বাস ফেলে কাইফের পিঠ আঁকড়ে ধরলো। কাইফ চুমু দিতে দিতে গলা থেকে বুকে এসে নামলো। সেখানে নাক ডুবিয়ে বড় করে স্বাস টানলো কাইফ। তারপর বুক থেকে পেট পর্যন্ত উম্মাদের ন্যায় লেহন করলো।
নূরা'র অবস্থা বেশ শোচনীয়। কাইফের বেসামাল স্পর্শে বারবার হিমসিম খাচ্ছে সে কিন্তু এসবের মাঝেও সে ভাবছে কাইফ আজ তাকে খুব নরম আদর করছে। দুপুরেও তার স্পর্শে কোনো রুক্ষতা ছিলো নাহ আর এখনো নাহ৷
' আহহহহ '!
নূরা'র ভাবনার মাঝেই হঠাৎ তীব্র ব্যথা অনুভব করায় চেচিয়ে উঠে সে৷ কাইফ সাথেসাথে নূরা'র মুখে হাত চেপে বলে,
' আসতে! তোমার নানু আছে পাশের রুমে '
কাইফ হাত সরালে নূরা' আবারো নিচু কন্ঠে আর্তনাদ করে উঠে।
কাইফ নূরা'র মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে নিজেকে আরো কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। একটুপর নূরা স্বাভাবিক হয়ে এলে কাইফ ফিসফিসে নূরা কে জিজ্ঞেস করে,
' তোমার নেক্সট পিরিয়ড ডেট কবে '?
ব্যাথায় লাল হয়ে যাওয়া নূরা'র মুখ কাইফের এমন প্রশ্নে শুনে আরো লাল হয়ে যায়। লজ্জায় ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরে সে৷ কাইফ আবারো তারা দিয়ে বলে,
' বলো '
' দু'দিন পর '!
কাইফ একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে। কিছুক্ষণ পর ক্লান্ত হয়ে নূরা'র উপরই গা এলিয়ে শুয়ে পড়ে।
___________________
সকালের তীব্র আলোয় ঘুম ভাঙ্গে নূরা'র। আড়মোড়া দিয়ে উঠে বসে চুলগুলো খোঁপা করতে নেয় কিন্তু চুল হাতে নিয়ে দেখে সেগুলো এখনো ভেজা। ভোরের দিকে গোসল করায় চুল এখনো শুঁকেনি তার।
রাতের কথা মনে পড়তেই নূরা পাশ ফিরে তাকায়। কাইফ গভীর ঘুমে মগ্ন। নূরা মুচকি হেসে কাইফের চুলে হাত রাখে।
' দেখো তো কি ইনোসেন্ট ভাবে ঘুমাচ্ছে। যেনো কতো সহজ সরল পোলা অথচ রাতে কি পাগলামি টাই নাহ করলো '
মনেমনে কথাটা বলে আবারো হেসে ফেললো নূরা।
সকালের নাস্তা করে নানু আর নাতনি বসে গল্প করছিলো। কাইফ তখন তার রুমে অফিসের কাজ করছে। আজ শুক্রবার তাই অফিসে যায়নি সে। দুপুরের দিকে নূরা'র মামা-মামীর বাসায় যাবে দাওয়াতে তাই রান্না'র ঝামেলা ও নেই৷
' নানু তুমি এখন গোসল করে নাও। চাচিমা তোমার জন্য নতুন কাপড় দিয়ে গেছে এটাই পড়বে গোসল করে '
' তোর চাচা শশুর আর চাচি শাশুড়ী টা ভালোই। তাগো ব্যবহার কি সুন্দর। কিন্তু মাইয়া টা কার মতো হইছে '?
' তুমি আবার রিয়া আপু কে কখন দেখলা '?
' তোরা আসার আগে দেহি কইতে জানি আইলো আবার আমগো দেইখা ঢেং ঢেং কইরা বের হয়া গেলো। ছোসরা মুখী '
নানুর কথায় হেসে ফেললো নূরা৷ সে হাসতে হাসতে বললো,
' কি বলো নানু ? আপু কতো সুন্দর। উনি তো মডেলিং করে জানো '?
ফরিদা বেগম মুখ বাঁকিয়ে বললেন,
' ইশশ ওমন দু একটা মডেলিং ফডেলিং জোয়ান কালে আমিও বহুত করসি৷ এই ফরিদার কাছে ওইসব ছোসরা মুখীর দাম নাই৷ কেমনে ঢং কইরা যে বের হয়া গেছে তুই যদি দেখতি বইন। আদব কায়দা তো নাই এক্কেবারেই তার উপর যে সুরত '
নূরা হাসি থামিয়ে নানু'র হাত চেপে বললো,
' থাক বাদ দাও নানু৷ সবাই তো আর এক নাহ৷ আপু একটু এরকমই। তুমি কষ্ট নিয়ো নাহ। আসার পর থেকে আমার সাথেও তেমন কথা হয়নি তার৷ কিন্তু রিয়া আপু আর রায়ান কে নাকি উনি অনেক আদর করেন '
নূরা'র কথা শেষ হওয়ার আগেই কাইফের গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এলো৷ সে নিজের রুম থেকে গলা ছেড়ে ডাকছে,
' নূর '
কথা বলার মাঝেই নূরা চমকে উঠে। বিয়ের পর এই প্রথম কাইফ তাকে নাম ধরে ডাকছে। তাও কি সুন্দর করে 'নূর' বলছে। নূরা'র লোভ হলো এই মিষ্টি মধু'র ডাক আবার শোনার৷ সে ইচ্ছে করেই জবাব নিলো না যেনো কাইফ আবার তাকে ডাকে। হলো ও তাই। কাইফ আবারো ডাকলো৷ নূরা'র মুখে হাসি ফুটলো। সে মিটমিটিয়ে হাসছে। কিন্তু তার এই হাসি দেখে ফরিদা বেগম দিলো তার পিঠে এক কিল।
' আহহ নানু '
' কিরে বদমাশ মাইয়া... জামাই কহন থেকা তোরে ডাকতাসে আর তুই শুইনা ও জবাব না নিয়া মিটমিটায়া হাসতাসোস '
নূরা পেছনে হাত দিয়ে পিঠ ডলতে ডলতে কাঁদো কাঁদো মুখ করে বললো,
' তাই বলে এতো জোড়ে কিল দিবে '?
' স্বামীর লগে বেয়াদবি করতে দেখলে দিমুই '
এরই মাঝে কাইফ আবারো ডেকে উঠলো। এবার নূরা কিল খাওয়ার ভয়ে সাথেসাথে জবাব নিলো,
' আ আসছি'.....
নূরা রুমে এসে দেখে কাইফ এখনো খাটের ওপর লেপটপ নিয়ে বসে আছে সে বেডের কাছে গিয়ে মৃদু কন্ঠে জিজ্ঞেস করে,
' আমাকে ডেকে ছিলেন '?
কাইফ লেপটপ থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নূরা'র দিকে তাকিয়ে বলে,
' হুমম৷ কি করছিলে '
কাইফের ভাড়ি কন্ঠে থতমত খেয়ে যায় নূরা৷ সে ভাবে হয়তো দেরি করে জবাব নেওয়ায় কাইফ রাগ করেছে। নূরা তরিগরি করে বলে,
' আমি আসলে ওই রুমে ছিলাম নানুর সাথে। দরজা লাগানো ছিলো তো তাই শুনতে পারিনি আপনার ডাক। সরি '
নূরা মাথা নিচু করে ফেলে। কাইফ শীতল দৃষ্টিতে তাকে পরোক্ষ করে বলে,
' রিলেক্স এতো হাইপার হওয়ার কিছু নেই... আমি তো একবারই ডেকেছি '
চোখ তুলে তাকালো নূরা। কাইফ মিথ্যা কেন বলছে। সে-তো নিজের কানে শুনেছে কাইফ তাকে তিনবারের বেশি ডেকেছে। আর সেই ডাকে সারা না দেওয়ার জন্য সে কিল ও খেয়েছে তাহলে কাইফ মিথ্যা বললো কেনো।!
নূরা মনেমনে এতো কিছু ভাবলেও মুখে কিছু বললো নাহ। কাইফ পুনরায় বললো,
' এনিওয়ে, যার জন্য তোমাকে ডেকেছিলাম। আজ বাসা থেকে তোমার বার্থ সাটিফিকেট থেকে শুরু করে মার্কশীট সহ যাবতীয় সব কাগজপত্র নিয়ে আসবে। কলেজ এডমিশন নিতে হলে তো কাগজপত্র লাগবে। তাই মনে যেনো থাকে। ওকে '?
নূরা মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিলো। কাইফ আবারো বললো,
' কালকের শপিং ব্যাগ গুলো চেক করেছিলে সব ঠিকঠাক এসেছে কিনা '?
নূরা তরিৎ মাথা নাড়িয়ে বলে,
' নাহ! কাল তো সময়ই পাইনি চেক করার '
' তাহলে এখন করে নাও। আর সেগুলা থেকেই একটা জামা পড়ে নিও আজ। চাচি শাড়ি পড়তে বললে, বলবে আমি মানা করেছি। ওকে '?
নূরা এবার ও মাথা নাড়িয়ে সায় দেয়। কাইফ আবারো লেপটপে মনোযোগ দিলে নূরা হেঁটে হেঁটে আলমিরা'র কাছে যায়। সেখানে আড়চোখে তাকিয়ে কাইফ বাঁকা হাসে৷
নূরা শপিংব্যাগ গুলো নামাতে নামাতে ভাবে,
' এগুলা চেক করার জন্য কতো সময় পড়ে আছে। এখুনি করতে হবে এটা কেমন কথা। উনার সামনে এতক্ষণ কিভাবে থাকবো আমি আল্লাহ '
কাজের ফাঁকে ফাঁকে কাইফ নূরা'র নাজেহাল অবস্থায় দেখে নিঃশব্দে হাসে।
' কি সুন্দর আমার বউ ছুটির দিনে বর কে সময় না দিয়ে নানুর কাছে গিয়ে ঘাপটি মেরে বসে ছিলো। হুহ! এখন আলা ঠ্যালা সামলাও মিসেস। আমার সামনে বসে থেকে অস্বস্তি ঘাট হও। আমি নাহয় তোমাকে দেখে দেখেই চোখ জুড়াই '!
___________________
কাইফ বেড ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। দুপুর একটা বাজে। নূরা তার হাতের কাজ শেষ করে আরো আধঘন্টা আগেই চলে গেছে। রুমে এখন কাইফ একাই। সে আলমিরা থেকে আজকে পড়ার জন্য শার্ট-প্যান্ট বের করে রেখে সাওয়ার নিতে ওয়াসরুমে যায়।
পাঁচ মিনিট পর নূরা রুমে এসে দেখে কাইফ নেই৷ ওয়াসরুমে থেকে পানির শব্দ আসছে। তার মানে কাইফ গোসল করছে। নূরা'র চোখ যায় খাটে। সেখানে ব্ল্যাক কালারের শার্ট-প্যান্ট রাখা। নূরা ভ্রু কুঁচকে নেয়,
' উনি কি তাহলে আজকে কালো পড়বে '?
কিছু একটা ভেবে নূরা আলমিরা খুলে জামা নিয়ে গেস্টরুমে ছুটে রেডি হওয়ার জন্য।
কাইফ শার্ট-প্যান্ট পড়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল সেট করছিলো। তার সম্পূর্ণ ফোকাস তখন চুলে কিন্তু হুট করেই তার হাত থেমে যায় এক অপরুপ নারীর সৌন্দর্য্য দেখে।
আলমিরা'র সামনে দাঁড়িয়ে কি যেনো করছে নূরা৷ তার গায়ে কালো কালের সারারা সেট। নূরা'র ফর্সা মোলায়েম শরীরে ড্রেসটা খুব মানিয়েছে। কালো ড্রেসে নূরা'র ফর্সা হাত-পা গুলা একদম মাখন লাগছে৷ চুলগুলো উঁচু করে খোঁপা করায় গলা-ঘারের উম্মুক্ত যায়গা গুলাও বেশ লোভনীয় দেখাচ্ছে।
ঢোক গিলে চোখ সরিয়ে নিলো কাইফ।
' এই মেয়ে আমাকে নির্লজ্জ্য বানিয়ে ছাড়বে ' -মনেমনে!
কাইফ ঘরি নিয়ে খাটে বসে আড়চোখে তাকায় নূরা'র দিকে। নূরা আলমিরা থেকে স্বর্নের জিনিস গুলো নিয়ে একে একে পড়ে নিলো। তারপর আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুলের খোঁপাটা খুলে দিয়ে চিরুনি হাতে নিলো।
খোঁপা খুলে দিতেই নূরা'র ঘন কালো কেশ গুলো ঘার, পিঠ, কোমড় ছাড়িয়ে হাঁটু বরাবর গিয়ে থামলো।
কাইফের মুখ অটোমেটিকলি হা হয়ে গেলো। সে অপলক তাকিয়ে আছে নূরা'র চুলের দিকে৷ বিয়ের পর এই প্রথম সে নূরা'র চুল দেখলো এতো ভালোভাবে। নাহলে নূরা তো চুল খোঁপা করেই রাখতো সারাক্ষণ ৷ তাছাড়া রোমান্সের সময় কি আর চুলের দিকে কারো খেয়াল থাকে।
কাইফ খেয়াল করলো নূরা'র চুল গুলো কুচকুচে কালো। যেমন লম্বা তেমন ঘন আবার সিল্কি। কিন্তু অদ্ভুত ভাবে নূরা'র চুল গুলো পেছন থেকে চার ধাপ করে কাঁটা। এইটা সম্ভাবত কোনো হেয়ার কাট কিন্তু এর নাম কাইফের জানা নেই। তবে এমন হেয়ার কাঁটে পেছন দিকটা বেশ আকর্ষনীয় লাগছে।
কাইফের দেখার মাঝেই নূরা আবারো খোঁপা করে নেয়। এরপর পেছন ফিরতেই কাইফ দ্রুত চোখ নামিয়ে ঘরি পড়ায় মন দেয়৷ নূরা নিঃশব্দে হেঁটে কাইফের কাছে আসে। কাইফের তো হৃদপিণ্ড লাফালাফি করছে নূরা কাছে আসায়। সে চোখ তুলে তাকাতেই নূরা নিচু কন্ঠে বলে,
' আমি কি বোরকা পড়ে নিবো '?
কাইফ নূরা'র পা থেকে মাথা পর্যন্ত ভাল মতো স্ক্যান করে বলে,
' না থাক! এটাই ঠিক আছে। শুধু ওড়না টা শালের মতো নাও আর হিজাব করো মাস্ট '
নূরা 'ঠিক আছে' বলে কাইফের কথা মতো হিজাব করে নেয়৷
একটুপর রেডি হয়ে চাচা-চাচির থেকে বিদায় নিয়ে তারা বের হয়। তাদের সাথে রায়ান ও যাচ্ছে। সবাই কে দাঁড় করিয়ে কাইফ গাড়ি আনতে যায়।
নূরা দাঁড়িয়ে তার নানু'র সাথে কথা বলছিলো হঠাৎ রায়ানের কন্ঠে সে পাশ ফিরে তাকায়৷
' রিয়া আপু '
রিয়া কোনো দিক না তাকিয়েই বাসায় যাচ্ছিলো কিন্তু আকস্মিক গ্রাউন্ডফ্লোরে তার ভাইয়ের কন্ঠে থেমে যায়৷ পাশ ফিরতেই দেখে রায়ান হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছে তার একটু পেছনে নূরা সাথে এক মুরব্বি।
রিয়া ভ্রু-কুঁচকে রায়ানের সামনে গিয়ে জিজ্ঞেস করে,
' কিরে এখানে কি করছিস '?
' আমরা ভাবি'র বাসায় যাচ্ছি আপু। তুমিও চলো না। মজা হবে '
রিয়া নূরা'র দিকে তাকায়। চোখেচোখ মিললে নূরা মিষ্টি করে হাসে। কিন্তু রিয়া মুখ কালো করে বলে,
' নট ইন্টারেস্টেড '
নূরা'র মুখটা মলিন যায় নিমিষেই। রিয়া সেদিক পাত্তা না দিয়ে হাঁটা ধরে কিন্তু তখনই সেখানে গাড়ি নিয়ে উপস্থিত হয় কাইফ।
গাড়ি থেকে নেমে ব্যাকসীটের দরজা খুলে নূরা'র উদ্দেশ্যে বলে,
' নানু কে নিয়ে আসো '
নূরা ফরিদা বেগম কে ধরে ধরে গাড়ির কাছে নিয়ে যায়৷ রিয়া এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে কাইফের দিকে যে তাকে দেখেও না দেখার ভান করছে। কষ্ট হচ্ছে রিয়া'র। সে ভালো করে লক্ষ্য করে দেখে কাইফ তার স্ত্রীর সাথে কালার ম্যাচ করে ড্রেস পড়েছে। তাচ্ছিল্যে মনেমনে হেসে উঠে রিয়া৷
নানু কে গাড়িতে বসিয়ে নূরা উনার সাথে বসতে নিলে কাইফ তার হাত ধরে বলে,
' এখানে নাহ! তুমি সামনে বসো আমার সাথে। নানু'র সাথে রায়ান বসুক '
নূরা আর কি বলবে কাইফের কথা মতো রায়ান কেই নানু'র সাথে বসতে দেয়। কাইফ সামনে দরজা খুলে দিলে নূরা নিঃশব্দে গাড়িতে উঠে বসে। কাইফ নিজেও রিয়া কে পুরোপুরি ইগ্নোর করে গাড়িতে উঠে বসে।
রিয়া এসব দেখে জ্বলেপুড়ে শেষ। সে মনেমনে কিছু একটা ভেবে নূরা'র উদ্দেশ্য বলে,
' আরে নূরা! রায়ান কে নিজের সাথে নিয়ে যাচ্ছো আমাকে নিয়ে যাবে না ' ?
রিয়া'র কথায় নূরা অবাক হয়ে তাকায়। কাইফ ভ্রু কুঁচকে নেয়। রিয়া আবারো বলে,
' রায়ান তোমার দেবর। আর আমি কি তোমার কিছুই নাহ ?একবার ও তো আমাকে বললা নাহ সাথে যেতে '?
নূরা'র প্রচুর অস্বস্তি লাগছে। রায়ান যখন বললো তখন তো মুখের উপর 'নট ইন্টারেস্টেড ' বলে মুখ বন্ধ করে দিলো রিয়া। তাহলে সে আর কিভাবে, কোন মুখেই বা যাওয়ার কথা বলবে। কিন্তু এখন রিয়া'র এভাবে বলায় বেশ লজ্জা লাগছে নূরা'র। কি ভাববে কাইফ তাকে... সে তার আদরের চাচাতো বোন কে একটা বার যাওয়ার কথা বললো নাহ। ছি ছি!
লজ্জায় অস্বস্তিতে নূরা জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো,
' আপু আসলে.. সরি আপু! প্লিজ আসুন না আমাদের সাথে আপনি '
নূরা কি বলবে বুঝতে পারছে নাহ। কাইফ চোখ বন্ধ করে তপ্ত স্বাস ফেলে নূরা'র দিকে ফিরে বলে,
' সরি বলতে হবে না। ও ব্যস্ত মানুষ। তুমি বললেও আমাদের সাথে যেতে পারতো নাহ '
কাইফের কথা কেড়ে নিয়ে রিয়া বলে,
' কে বলেছে পারতাম নাহ? অবশ্যই পারতাম আর এখনো পারবো। আমিও যাচ্ছি তোমাদের সাথে '
রিয়া পেছনের দরজা খুলে রায়ান কে ঠেলে গাড়িতে উঠে বসলো। কাইফ রাগে দাঁতে দাঁত পিষে গাড়ির স্টেয়ারিং শক্ত হাতে চেপে ধরলো।
___________________
নূরা'র মামী হাসিমুখে সবাইকে বসতে বলে সবার হাতে সরবতের গ্লাস ধরিয়ে দিলো। রিয়া আপনমনে সরবত খাচ্ছে তার দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে আছে কাইফ।
' এর পেটে নিশ্চয়ই শয়তানি বুদ্ধি কিলবিল করছে। চোখ-কান খোলা রেখে চলতে হবে '
কাইফের ভাবনার মাঝেই রিয়া তার দিকে তাকিয়ে সবার আড়ালে চোখ মেরে শয়তানি হাসে। কাইফ চোখমুখ কুঁচকে অন্যদিকে তাকায়।
নূরা কোলে করে তার মামতো বোন কে নিয়ে কাইফের পাশে বসে। কাইফ বাচ্চাটার গাল টেনে বলে,
' কি কিউট মাশাআল্লাহ! আমার শালি নাকি '?
নূরা হাসিমুখে উত্তর দেয়,
' জ্বি! মামি'র ছোট মেয়ে '
তাদের কথার মাঝেই হঠাৎ এক পুরুষালী কন্ঠ নূরা'র নাম ধরে ডেকে ওঠে। উপস্থিত সবাই সদর দরজার দিকে তাকায়। সেখানে দাঁড়িয়ে আছে মাত্রাতিরিক্ত সুদর্শন একজন পুরুষ যাকে দেখে নূরা'র মুখে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠে কিন্তু কাইফের চোখেমুখে কৌতুহল,
' কে এই আগুন্তক '?
চলবে..

Address

Dhaka
Uttar Mirpur
1230

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Onamika Afrin posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share