28/10/2026
নিজেকে নিয়ে ভাবতে সবাই পারে । এই পৃথিবীতে এরকম নিঃস্বার্থ মানুষ আমি অন্তত খুব কম দেখেছি যার কাছে নিজের চেয়েও নিজের পরিবার অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ । সারাজীবন মাথা উঁচু করে বেঁচেছে । চুপচাপ । নিজের কাজে ব্যস্ত । তবুও এই মানুষটা সম্ভবত সবার খবর রাখতে পারতো ।
আমার এখন শরীর খারাপ হলে বুটিক বন্ধ থাকে । বাবা থাকতে আমার শরীর খারাপ হোক বা জিষ্ণুর পরীক্ষা। দিন রাত দুবেলা বুটিক খোলা থাকতো । আমি স্কুল ফেরত বুটিকে যেতাম । একদিন মুশলধারায় বৃষ্টি হচ্ছে । ব্যারাকপুর থেকে ট্রেন এ উঠেছি । বেলঘরিয়া তে নেমেছি তখনও বৃষ্টি । একটু কমলে আমি বুটিকে যাওয়ার অটো ধরলাম । এদিকে বিরাটি তে তখনও বৃষ্টি । আমি বাবা কে বললাম , বৃষ্টি কমলে বেড়িও । বুটিকে পৌঁছে দেখি বাবা চলে এসেছে । আমি ভীষণ রাগ করলাম । আমাকে বললো, তুমি দাড়িয়ে দাড়িয়ে ভিজবে ? আমি তাই চলে এলাম । এখন জানো বাবা সব মনে পড়ে । কত স্মৃতি তোমার সাথে । মা চা বানিয়ে দিতো । তুমি নিয়ে আসতে । কিছু বললেই জোরে জোরে হাসতে । কত কথা । সব মনে পরে যায় ।
ছেলে বড় হচ্ছে । স্বভাবতই আমি একটু চিন্তা করতাম । হয়ত কখনও বকাও দিতাম । আমাকে বলেছিল শোনো, ও যা চাইবে আমি ওকে দেবো , তোমরা বাধা দেবে না । এই কথাটা বলার পরদিন কি যে হলো, বেশ তো নাতির সাথেই খেলা করছিলে , কেনো এভাবে পাহাড়ের ধারে চলে গেলে ? কতবার জিষ্ণু তোমাকে দাদান দাদান বলে ডাকলো, আমি ডাকলাম বাবা চলে এসো । তুমি ঘুরে বললে , “ তেরা দাদান কেয়া গির জায়েগা ?” সেই টাই হলো । কিভাবে পড়ে গেলে বাবা ? যে মানুষটা সারাজীবন শুধু ছেলে মেয়ের কথা ভেবে এসেছে , একবার ও ভাবলে না , তোমাকে ছাড়া কিভাবে বুটিক চলবে ?
২০২৩ এ আমরা আমাদের সম্পদ হারিয়ে ফেললাম ।
বাবা আপ্রাণ চেষ্টা করছি , ইচ্ছে বুটিক এর কাজ সবাইকে জানাতে । জানি তুমি আমার পাশে আছো । 🙏🏻