15/03/2026
স্কুলে পড়ার সময় বিভিন্ন কালার পেন দিয়ে সবসময় হাতে ডিজাইন করে রাখতাম। গাছের মেহেদি দিয়ে বিভিন্ন ডিজাইন করতাম যদিও খুব প্যারাদায়ক ছিলো।
এরপর চাপাতি ভাপে দিয়ে একটা কালার বানানো শিখলাম যেটা দিয়ে হাতে মেহেদির মতো কালার হতো বিভিন্ন ডিজাইন করতাম।
মানে হাতে ডিজাইন না থাকলে ভালো লাগতোনা । এরপর আসলো শাহজাদী মেহেদি । শুরু হলো মনমতো ডিজাইন করা। সবাই আসতো মেহেদি দিয়ে দিতাম। বিয়ে হলো চাদ রাত মানেই সন্ধা থেকে সবার ভীর লেগে থাকতো হাতে মেহেদি দেয়ার জন্য। সবাইকে মেহেদি দিয়ে পরদিন ঈদের প্রস্তুতি নিতে নিতে শেষ রাত হয়ে গেলেও নিজের মেহেদি দেয়া হতোনা। তবুও ভালো লাগতো সবাইকে খুশি রাখতে পেরে।
রাইসার প্রথম ঈদে রাইসার হাত পায়ে ভর্তি করে মেহেদি দিয়েছিলাম। কতো যত্নে যে সেগুলো শুকাইছি। পরে যেই দেখছে জিজ্ঞাসা করতো এইটুকু বাচ্চাকে কিভাবে দিলাম!
ব্যস্ত জীবনে নিজের আর মেহেদি দেয়া হয়ে ওঠেনি । আর সামনে থেকেও কেউ বলেনি তুমি একটু মেহেদি দিতা! এরপর আসলো নতুন যুদ্ধ মেয়েকে স্কুলে দিলাম। এই সময় নিজের প্রয়োজনে আঙুল ভরা মেহেদি দিয়ে রাখতাম সবসময়। রান্না বাসার কাজ সব মিলে বাচ্চাকে নিজে পড়িয়ে সবসময় হাতের নখ ফ্রেশ করে বাইরে যাওয়ার সুযোগ হতোনা। রান্না ঘর থেকেও মাঝে মাঝে স্কুলে চলে যেতে হতো। এজন্য যাতে নখ বা হাত দেখতে খারাপ না লাগে পাকিস্তানি আন্মুল মেহেদি টা রাইসাকে পড়াতে বসিয়ে বা সুযোগ পেলেই দিতাম।
এটা একান্ত নিজের জন্য। আমার তখন পরিক্ষা চলছে। মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে বাসার সব কাজ শেষ করে ডাইনিং এ নিজের বই নিয়ে পড়ছিলাম আর হাতে মেহেদি দিচ্ছিলাম । বাসাতে এমন কোনো কাজ বাকি ছিলোনা যেটার জন্য আমাকে প্রয়োজন হবে।
উনি বিছানা থেকে নেমে ওয়াশরুমে গিয়েছিলেন আমাকে মেহেদি দিতে দেখে হঠাৎ করে আমার সাথে এতো খারাপ আচরন করলেন আমি বোকা হয়ে গেলাম !!
এরপর কেটে গেছে বহু বছর । ছোটো কাকার মেয়ের বিয়েতে সবাই সেম মেহেদি দেয়া নিয়ে হাতে মেহেদি দিয়ে দিয়েছিলো ফুপাতো বোন । হয়তো এটাই শেষ মেহেদি দেয়া।
কিছু শখ টিকিয়ে রাখতে জীবনে একটা মানুষের প্রয়োজন হয়।