10/07/2025
ধানমন্ডি লেইক বা রমনা পার্ক দিয়ে যাওয়ার সময় প্রচুর বোরকা পরা, হিজাব পরা মেয়েদের ডেইটে আসতে দেখা যায়। একদম শরয়ী বোরকা পরা মেয়েও আমি দেখেছি। নিকাব টেনে হাত-মোজা পরেই বয়ফ্রেন্ডের সাথে সেলফি তুলছে।
অনেকে চোখ বন্ধ করে দোষ দেবেন সহশিক্ষার/শিক্ষার/উচ্চশিক্ষার। আমি সবার আগে দোষ দেবো তাদের বাবা মার। বাচ্চার মাথার উপর হিজাব চাপানোর আগে বাচ্চাকে শেখানো উচিৎ ছিলো পর্দা অর্থ শুধু চুল আর শরীরই ঢেকে রাখা নয়।
কম বেশী সব ইসলাম প্র্যাক্টিস করা শিশু মনে প্রশ্ন জাগে সবাই একরকম ওরা "কেনো" অন্য রকম। এরকম অনেক "কেনো"র আন্সার বেশিরভাগ বাবা মা দেয় না! কারণ তাদের কাছেও বিষয়টা ক্লিয়ার না।
বাচ্চাকে তাকওয়া না শিখিয়ে, ঈমান না বুঝিয়ে, আল্লাহ তা'লা কে না চিনিয়ে, দুনিয়ায় আমাদের পারপাস কি না জানিয়ে, বাচ্চার মনে জাগা কোনো "কেনো"-র আন্সার না দিয়ে চোখ রাঙিয়ে যখন বোরকার ভেতর তাকে ঢুকিয়ে দেয়া হয়, লাথি মেরে ভোর বেলা ঘুম থেকে তুলে কুরয়ানের টিচারের কাছে বসিয়ে দেয়া হয়, তারা সূযোগের সন্ধানে থাকে কখন মুক্তি পাবো এই বন্দীদশা থেকে।
শাইতনের ওয়াস ওয়াসায় বাইরে এসে তাই করে তাদের নফস যা চায়। কারণ তারা মাথা ঢাকে বাবা মার ভয়ে, আল্লাহর ভয়ে না। বাবা মার আড়াল হলেই তারা নফসের গোলাম হয়ে যায়।
ভয় দেখিয়ে বা জোড় করে ইসলাম কায়েম হয় না। হোক সেটা নিজের ঘর বা রাস্ট্র। ১৩ বছর ধরে সেই শিক্ষাই আল্লাহর রাসূল দিয়েছেন। অথচ রাসূল সা. কে ভালোবাসার দাবীদার আমরা সেই শিক্ষা নেইনি।
এলাকা ছেড়ে বেরিয়ে গেলে টান দিয়ে হিজাব খুলে ফেলা মেয়েরা আমাদের যুগেও ছিলো। এখন যা করার হিজাব পরেই করে। আর কিছু মানুষ এই সূযোগে এদের নাম ভাঙিয়ে নিজেদের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করে।
ইসলাম শুরু হয় ঘর থেকে। যার মনের ভেতর আল্লাহর ভয় নাই, গুনাহের ভয় নাই, আখিরাতের ভয় নাই, হালাল হারামের তোয়াক্কা নাই, তাকে আটকে রেখে কোন ফায়দা হাসিল হয়?
প্রত্যেক বাবা মার দায়িত্ব তাদের বাচ্চারা হারাম কাজ, খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকবে আল্লাহ তা'লার ভয়ে সেভাবে গ্রুমিং করা। কারণ এটা তাদের দায়িত্ব। এর জন্য তারা আন্সারেবল অন্যরা না।
"তুমি সর্বক্ষন আল্লাহ তা'লার সিসি ক্যামেরার আওতায় আছ, আমল তো দূর তোমার চিন্তাতেও হারাম আনা যাবে না, তোমাকে সময়ের হিসাব দিতে হবে, প্রডাক্টিভ হতে হবে, সময়ের সর্বোচ্চ সৎব্যাবহার করতে হবে, ফাহেশা কাজ সবাই করলে করুক, সবাই জান্নাতে যাবে না। তোমার হাতে সময় খুব কম, যেকোনো মূহুর্তে মালাকুল মওত এলে দুনিয়ার গেইম ওভার। কাজেই নষ্ট করার মত সময় নাই"
এই কথাগুলো টেপরেকর্ডারের মত তাদের কানের সামনে বাজাতে থাকার কথা ২ বছর বয়স থেকে শুরু করে ১৮/১৯ পর্যন্ত।
কি করে নিজেকে মোটিভেইটেড রাখতে হয়, নিজের ফোকাস ঠিক রেখে প্রডাক্টিভিটি বাড়াতে হয়, নিজেকে ট্র্যাকে রাখতে হয়, সে গাইডেন্স দেয়া বাবা মার দায়িত্ব। কাজটা খুব সহজ মনে হয়?
যেসব বাচ্চাকে ১৭/১৮ বছর ধরে সর্বক্ষন গাইড করে ঈমান আর তাক্বওয়া শেখানোর পর পর ধীরে ধীরে ছেড়ে দেয়া হয় বাইরের দুনিয়ায় নিজের রাস্তায় চলতে, সেসব বাচ্চার পথচ্যুত হবার সম্ভাবনা কম, যদি আল্লাহ তা'লার সাহায্য থাকে, রহমত থাকে, তার কদরে হিদায়াহ থাকে। আর যার উপর হিদায়াহ নাই তাকে নিয়ে অন্যদের না ভাবলেও চলবে।
বাচ্চাকে একদিন তার রাস্তায় একাই চলতে হবে।
পাহাড়া দিয়ে ক' দিন? সব কিছুর নির্দিষ্ট সময় আছে।
এই কাজটা ধৈর্যের কাজ, কঠিন কাজ বুঝেই আমরা বাবা মা-রা সহজ রাস্তা বেছে নেই। হাতে বেত নিয়ে হিজাব পরাই বোরকা পরাই, কুরয়ান পড়াই, খবরদার ছেলেদের/মেয়েদের দিকে তাকালে চোখ উপড়ে নেবো বলি।
আর প্রাপ্ত বয়স্ক হলে ছেলে মেয়েরা কেনো ইসলাম থেকে বেরিয়ে গেলো, এত টাকা দিয়ে হুজুর রাখলাম মাদ্রাসায় পড়ালাম, এখন নামাজটাও পড়ে না বলে আফসোস করি।
এর পর এরা যখন বাঁশ বাগানে ধরা পড়ে তখন সূযোগ সন্ধানীরা আঙুল তোলে "এই দেখ উচ্চশিক্ষার ফল কি হয়"
অবস্থা এমন "যা কিছু হারায় গিন্নী বলেন কেষ্টা ব্যাটাই চোর "-- যা কিছু ঘটে দায়টা যেনো পড়াশোনার উপরেই চাপে।
অথচ আল্লাহ কনশাসনেস তৈরি হলে নিজের মুসলিম আইডেন্টিটি তার কাছে পরিষ্কার হতো। সে আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভুগতো না। ভালোবেসেই ইসলামের লাইফ স্টাইল মেইন্টেইন করতো। আল্লাহ তা'লার প্রতি জবাবদিহিতার ভয় নিয়ে পথ চলতো। এমন বাচ্চারা সংখ্যায় খুব কম কিন্তু নেই তা না আলহামদুলিল্লাহ।
আমরা বাবা মা হিসেবে আনফিট আনরেডি। এবং এই সব আনফিট আনরেডি প্যারেন্টদের আনফিট ছেলেমেয়েরাও যেদিন বাবা মা হবে, তাদের সিংহ ভাগ হবে আনফিট আনরেডি। এই সাইকেল কবে ভাঙবে আল্লাহু আ'লাম।