03/07/2026
আমি যদি কখনো দেখি আমার ছেলে আমাকে তার স্ত্রীর ওপর প্রায়োরিটি দিচ্ছে, আমি সেদিন মা হিসেবে নিজেকে একজন failed parent মনে করবো। এখন একদল এসে বলবে, ব্যালেন্স করে চলা কেন শেখাবেন না? ব্যালেন্স একটা বুলশিট আইডিয়া। এটা বহু আগেই প্রমাণিত যে ছেলেরা ব্যালেন্স করতে গিয়ে ওয়াইফের হক নষ্ট করে। এই ব্যালেন্স করতে গিয়ে ছেলেরা বউয়ের জন্য কিছু কিনতে গেলে, বউকে সময় দিতে গেলে, বউকে নিয়ে ঘুরতে গেলে হয় মাকেও প্যাকেট করে নিয়ে যায়, নাহলে অপরাধবোধে ভোগে, এখানে মায়েরও হক আছে মনে করে। ব্যালেন্স করার কিছু নাই। স্ত্রীর পাশে কাউকে রাখাই যাবে না, ব্যালেন্সের প্রশ্ন তো পরে। আপনাকে অনেক ক্ষেত্রে prioritize করতেই হবে। গাড়ির পাশের সিটটায় তার বউই বসবে। খাবার টেবিলে পাশের জায়গা বউয়েরই থাকবে। তার মানিব্যাগে, বেডরুমে তার ওয়াইফের ছবি থাকবে। কোন ইভেন্টে পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার ক্ষেত্রে আগে ওয়াইফ প্রায়োরিটি পাবে। ওয়াইফের ওপর হাজবেন্ড এবং হাজবেন্ডের ওপর ওয়াইফের হক সব দিক থেকে আগে। সন্তানেরও আগে।
এখন দুই লাইন বেশি বোঝাদের জন্য একটা ব্যাপার ক্লিয়ার করি, প্রায়োরিটি দেয়া মানে বাবা মায়ের দায়িত্ব পালন না করা না। আপনার সামর্থ্য থাকলে নিশ্চয়ই পালন করুন। বরং ছেলে মেয়ে সবার করা উচিত বলে আমি মনে করি। প্রয়োজন বুঝে বাবা মাকে অনেক ক্ষেত্রেই প্রায়োরিটি দেয়ারও প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু সেটা প্রয়োজন হলে, নিয়মিত আপনার পার্টনার, সন্তানের অধিকার খর্ব না করে।
আমি মনে করি আমার ছেলের প্রতি আমার দায়িত্ব আর আমার প্রতি তার দায়িত্ব কখনোই সমান না। বাবা মা হিসেবে আমার সন্তানকে মানুষ করা আমার দায়িত্ব, বদলে তার কাছে আমি মানবিকতা, ভালোবাসা, সম্মান ছাড়া কিছুই আশা করি না। আমার ছেলে যদি তার ওয়াইফের জন্য কিছু কিনতে গেলে প্রতিবার তার মায়ের কথা মনে পড়ে, মনে হয় মাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, আমার জন্য সেটা চরম লজ্জার ব্যাপার হবে। আমার ছেলে যদি বউয়ের সাথে ঘুরতে গিয়ে মনে করে "মাকে আনা উচিত ছিল" আমি ভীষণ disappointed হব। আমার ছেলে যদি নিজের ওয়াইফের জন্য দামী কিছু কিনে আমার কাছে লুকানোর প্রয়োজন মনে করে, ভাবে মা জানলে কষ্ট পাবে, আমি সেদিন প্যারেন্ট হিসেবে ফেইল করবো। আমার সন্তানের রোজগারে আমি কখনো নিজের বিন্দুমাত্র অধিকার আছে বলে দাবি করবো না।
এবং আমি এমন ভাবতে পারার সাহস পাই কারণ আমি এমন একজন পুরুষকে বিয়ে করেছি যে আমাকে আমার অধিকার দেয়ার সাহস রাখে। যেসব নারী নিজের হাজবেন্ডের কাছ থেকে প্রাপ্য অধিকার, সম্মান পায় না, তারাই মূলত ছেলেকে প্রক্সি হাজবেন্ড/pseudo husband বানিয়ে রাখতে চায়। ছেলের থেকে সেসব চাহিদা সে পূরণের আশা রাখে যা পূরণের দায়িত্ব মূলত তার হাজবেন্ডের ছিল। নোংরা শোনাচ্ছে না? তাহলে কাজটা কতটা অন্যায় ভেবে দেখুন।
আমার ছেলে আমার সোনার আংটি না। আমার ছেলে আমার সোনার ডিম পাড়া হাঁস না। আমার ছেলে আমার লাইফটাইম ইনভেস্টমেন্ট না। সে তার মতো আলাদা মানুষ। তার নিজের জীবন সে নিজের মতো করে সাজাবে। মেয়ে সন্তানকে বোঝা ভাবা বন্ধ করুন। ছেলে সন্তানের ঘাড়ে বোঝা হওয়ার চিন্তা বাদ দিন। সময় থাকতে নিজেকে প্রায়োরিটি দিন, নিজের যত্ন নিন, নিজের ভবিষ্যতের জন্যও সম্পদ জমান।
C: Fariha Rashid