Ikhtear's Thoughts

Ikhtear's Thoughts It's a Page where i share my political views and also i share other peoples ideas.

01/05/2025

ইউক্রেনের খনিজ সম্পদের ৭৫ ভাগ এখন আমেরিকার পকেটে। চুক্তি আজ হয়ে গেলো। এ কারনে কালার রেভুলেশন করে ভাগাইছিল প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচকে। তিনি এখনো রাশিয়ায় নির্বাসনে আছেন। ইউক্রেনিয়ানরা ভেবেছিল ব‍্যাপক গনতন্ত্র আসবে দেশে। এসেছে টনে টনে অত‍্যাধুনিক আর্মস। রাশিয়াকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল যে এই যুদ্ধ তাকে করতে হতোই। আমাদের জেনজিও ইউক্রেনিয়ানদের মত বাংলাদেশে একটা কালার রেভুলেশন করেছে।

যারা এই আন্দোলনে ঘি ঢেলেছে, মেটিকুলাস প্ল‍্যান করেছে, টাকা ঢেলেছে, তারা জানে বাংলাদেশের গণতন্ত্র আটকে গেছে ২১ শে আগষ্টের গ্রেনেড হামলায়। আওয়ামি লীগ বিশ্বাস করে না তারপরে যে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তাদের বাঁচতে দিবে। এই আওয়ামি লীগ তো ১৯৯৬ সালে যখন ক্ষমতা পেলো তারপরে ২০০১ সালে ক্ষমতা ধরে রাখার কোন চেষ্টা করেনি। একেবারে উন্নত গণতন্ত্রের দেশগুলোর মতন সময় মতন ক্ষমতা ছেড়ে নির্বাচন দিয়েছিল। তারপরে ক্ষমতায় এসে বিএনপি কেন ২১শে আগষ্ট ঘটালো। কেন ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে চাইলো। বাংলাদেশের গণতন্ত্র তো আটকা পড়ে গিয়েছিলো ওখানেই।

ঐ বিদেশী শক্তিগুলো যদি সত‍্যি বাংলাদেশে গণতন্ত্র চাইতো, বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণ চাইতো তবে দেশের দুই বৃহত্তম দল বিএনপি এবং আওয়ামি লীগকে যেভাবে হোক আলোচনার টেবিলে বসাতো। এই অবিশ্বাসের অবসান ঘটাতো। তারা সেটা করেনি। উল্টা ঘি ঢেলে ক্ষমতায় বসিয়েছে ইউনুসস্কিকে। তাদের দালাল বুদ্ধিজীবীরাও (এদের সবাই কমবেশি জনপ্রিয় এবং চেনামুখ) কোনদিন আপনাদের বলেনি বাংলাদেশের রাজনীতির মূল সংকট ২১শে আগষ্ট। কারন তারা কোনদিনই আপনাদের স্বার্থের কথা ভাবে নাই।

বাংলাদেশে কালার রেভুলেশনের মূল টার্গেট আমাদের সমুদ্রসীমা এবং সমুদ্র বন্দরগুলো। কারন ওগুলো ভূরাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ এবং ওখানে প্রচুর খনিজ সম্পদ থাকার সম্ভাবনা আছে। তাদের পরিকল্পনা ইতিমধ‍্যে ৭০ ভাগ বাস্তবায়িত হয়েছে। এখন একটা প্রক্সি বা সরাসরি যুদ্ধ শুরু হওয়া বাকি। তারপরে আমাদের কফিনে চূড়ান্ত পেরেক ঠোকা হয়ে যাবে।

Khan

বিনিয়োগ সম্মলনে ইউনুস সরকার "সুরেশ কাপিতি" নামের এই ভদ্রলোককে একজন ভারতীয় বিনিয়োগকারী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে!উনার IGN...
08/04/2025

বিনিয়োগ সম্মলনে ইউনুস সরকার "সুরেশ কাপিতি" নামের এই ভদ্রলোককে একজন ভারতীয় বিনিয়োগকারী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে!
উনার IGNITE Entrepreneurs Association (IEA) একটা ওভারসিজ প্রতিষ্ঠান আছে। মাত্র ছয় বছর আগের ওয়েবসাইট। কোনো প্রোডাক্টের বর্ণনা নাই। এবাউটে সব হাইড করা।
লিংকডিনে প্রোফাইল আছে সেখানে আবার রিভিউ দিচ্ছে ৩ জন।
তারপর ঢুকলাম তার এক্স (টুইটার) একাউন্টে যেইটা গত নভেম্বরে খোলা হইছে। ভারতের এতো বড় একজন ব্যবসায়ী বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আসছে অথচ তার একটা ফলোয়ারও নাই, সে সাতজনকে ফলো করে। জন্ম থেইকা আমার মায়া দয়া একটু বেশী তাই তার মতো এতো বড় বিনিয়োগকারীরে সর্বপ্রথম ফলো দিয়া ইতিহাসের অংশ হইলাম! 😎
এখন আমার প্রশ্ন হইল, এই লোকরে গনশত্রু শফিক কোত্থেকে পাইল? আমার ধারনা শফিক আর লামিয়া খালায় ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের বাজেট মাইরা দিয়া এই লোকরে টোকায়া আনসে।

01/04/2025

জুলাই আগস্টে একটা স্লোগানের পক্ষে ব্যাপক জনমত তৈরি করা হয়েছিলো। সেটি হলো, ' বিকল্প কে? তুমি আমি সে!' এখনো নগরের শহরে বিভিন্ন অলিগলি তস্য ও নমস্য গলির দেয়ালে এ স্লোগান বা তার ক্যালিগ্রাফিক রূপ শোভা পাচ্ছে।

শুরু দিকে ন্যায্য থাকা একটা ছাত্র আন্দোলনকে সরকার কর্তৃক মেনে নেওয়া এবং আদালতের মাধ্যমে ন্যায্যতা দেওয়ার পরও ছাত্রদের আস্তিনে লুকনো মূল কুশীলবদের থামানো যায় নি। ধাপে ধাপে বিভিন্ন চমকপ্রদ আইডিয়া ও অভিনব কিন্তু আকর্ষক নাম দিয়ে ছাত্রদের আন্দোলনমুখী স্পিরিট ধরে রাখা হয়েছে। এরপর ভাড়াটে খু নি ও গুপ্ত ঘাতক ঢুকিয়ে পুলিশ ও সরকারি লীগকে অনবরত উস্কানি ও মারণাঘাত করে মারমুখী হতে বাধ্য করেছে। এভাবে স্বেচ্ছায় কিছু আত্মাহুতি বা আত্মঘাতী হয়েছে এবং কিছু অভ্যন্তরীণ ড্যামেজ ঘটতে দেয়া হয়েছে। পরে এসব লাল র ক্ত ও তাজা লা শের উপর জাতীয় পতাকার আবেগ জড়ানো দৃশ্যের ঘনঘটা আমেরিকার ডিপস্টেট পলিসির সহায়ক শক্তি ফেসবুক তার এলগোরিদম নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রত্যেকজন নেটিজেনদের নিজস্ব ওয়ালে ওয়ালে ছড়িয়ে দেয় এবং আন্দোলনের পক্ষে শক্ত জনভিত্তি তৈরি করতে সর্বোচ্চ অর্থ ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে। ততদিনে আন্দোলন চলে গেছে ষড়যন্ত্রের চূড়ান্ত পর্বে, ছাত্রদের হাত থেকে নাটাইও তখন সরাসরি মূল ক্রীতদাসদের করায়ত্তে। বিভিন্ন সেক্টরের প্রথিতযশা ও পরিচিত ষড়যন্ত্রীরা তখন প্রকাশ্যে ষড়যন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকারের নড়বড়ে অবস্থানের পায়া ধরে টান দিতে থাকে। এরপর তো আর্মির একান্ত ইচ্ছায় এবং পাতানো গণরোষের মুখে পড়ে সরকারই উৎখাত হয়। মানে ইউনুসের সেই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি 'ম্যাটিকুলাস ডিজাইন্ড থিং' সফলভাবেই বাস্তবায়িত হয়। তবে তার অগ্রযাত্রা ৫ আগস্টেই ফুল স্টপ হয়ে গেছে ভাবাটা হবে পুরোপুরি বোকামি। ধানমন্ডি বত্রিশে দুই দফা আগুন ও বুলডোজার চালিয়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে সর্বশেষ হাতি গাধা চেরাগের দৈত্যের প্রতিকৃতি নিয়ে ঈদের শোভাযাত্রাসহ সবকিছুই সেই ম্যাটিকুলাস প্ল্যানেরই অংশ! যে প্ল্যান এখনো অগ্রগামী...

বিশ্বাস হচ্ছে না তো? কিছু ডট মেলান। মজাটা এখানেই।

বিকল্প কে? তুমি আমি সে?

মূলত স্রেফ শেখ হাসিনার বিকল্প নয়, বরং বঙ্গবন্ধু থেকে একাত্তর, ছায়ানট থেকে বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা সবকিছুরই বিকল্প ব্যক্তি ও বয়ান বা আখ্যান তারা আগেই রেডি করে রেখেছিলো। বহুবছর ধরে শিখিয়ে পড়িয়ে এসব নবতর ন্যারেটিভের পক্ষে জনমত গঠনের লক্ষ্যে জনশক্তিও রেডি করেছে। কিছু নাম এবং তাদের আলাদা আলাদা ঐতিহাসিক কাউন্টার প্রোপাগান্ডা তৈরির বিষয়টা ধরিয়ে দিলে বুঝতে সহজ হবে।

১.শুরুতে বঙ্গবন্ধুর বিকল্প হিসেবে ভাসানীকে রিপ্লেস করার প্রাণান্ত চেষ্টা হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে।
২.একাত্তরের বিকল্প হিসেবে চব্বিশের আন্দোলন! বলা হচ্ছে এটিই দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ। তারমানে বিশুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধ! বাংলাদেশ ২.০ বা দ্বিতীয় রিপাবলিক।
৩.পাকিস্তানিদের গণহত্যার বিকল্প হিসেবে যুদ্ধকালীন বাঙালি কর্তৃক বিহারি গণহত্যা! বিহারি গণহত্যার বিচার চাওয়া হচ্ছে।
৪.পাকিস্তানের গণহত্যার বিকল্প হিসেবে আরেকটি ন্যারেটিভ দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে যে, মূলত 🦶কিরা নয় ভারতীয় বাহিনী কর্তৃক লাখ লাখ বাঙালি নাকি নিধন করা হয়েছে!
৫. অর্থনৈতিক সামাজিক বা বিভিন্ন সেক্টরে পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তানে কোন বৈষম্য নাকি ছিলো না। উল্টো ন্যায্য হিস্যারও বেশি নাকি পূর্ব পাকিস্তান পেতো। পশ্চিম পাকিস্তানকে নাকি উল্টো শোষণ করা হয়েছে বিভিন্ন খাতে! ৭০ এ আওয়ামী লীগের প্রচার করা 'সোনার বাংলা শ্মশান কেনো ' পোস্টারে নাকি বৈষম্যের বিভিন্ন সূচকে মনগড়া তথ্য দিয়ে পাব্লিক সেন্টিমেন্টকে 🦶কিস্তানের বিরুদ্ধে প্রবাহিত করা হয়েছে। সেলুকাস, আত্মঘাতী বাঙালী বটে!
৬. রমনার বটমূলে রবীন্দ্র সংগীতের বদলে কাওয়ালী ও বিভিন্ন পার্বণ বা কারণ ছাড়াই কাওয়াল ও কাওয়ালির বেহুদা ফলন।
৭. নববর্ষের বরণ উৎসব মঙ্গল শোভাযাত্রার বদলে হাতির পিঠে তলোয়ার হাতে ও আগেপিছে সশস্ত্র পাহারাদারের মাধ্যমে দঙ্গল শোভাযাত্রা এবং ঘোড়া গাধা খচ্চর, চেরাগের দৈত্যের বিদঘুটে জঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হচ্ছে ধর্মীয়ভাবে 'হালাল' ট্যাগলাইনে!

বুঝা গেলো 'বিকল্প কে? তুমি আমি সে?'
মূলত আপনি আমি কেউই নয়। আমরা আপনারা দাবার ঘুটি, ইউজ হয়েছি এবং এখনো হচ্ছি। চাল এবং চলাচল পথ আগে থেকেই সবকিছু নির্দিষ্ট ও নির্ধারিত। এখন এত মাস পরে ওরা কারা এবং কি কারণে সবকিছুর 'বিকল্প' রিপ্লেস করতে চায় সেটা নিশ্চয়ই বলে দিতে হবে না! সুতরাং খুব খিয়াল কইরা ইউসুফ সরকার ও তার লাল বটর জেয়াফত বাহিনীর সাথে 'সহমত ভাই' হইয়েন।

30/03/2025

ইউনূস বচন- সবজির দাম কম!
লিখেছেন: মনোয়ার হোসেন

১. হাইস্কুলে তিন লাখের উপর শিক্ষকের ঈদে বেতন ও বোনাস আসে নাই.? উত্তর : সবজির দাম কিন্তু কম।

২. শিক্ষকদের তিন মাসের বেতন আসে নাই কেন..? উত্তর : সবজির দাম কিন্তু কম।

৩. গার্মেন্টস শ্রমিক তিন মাসের বেতন পায়নি কেন, উত্তর : সবজির দাম কিন্তু কম।

৪. পেনশনের ৯ হাজার কোটি টাকা উধাও কেন.? উত্তর : সবজির দাম কিন্তু কম।

৫. চাল ৫৫ টাকার এখন ৮৫ টাকা কেন.? উত্তর : সবজির দাম কিন্তু কম।

৬. তেল ৫ লিটার ৭৩০টাকা থেকে এখন ১০৫০ টাকা কেন.? উত্তর : সবজির দাম কিন্তু কম।

৭. গ্যাস ১৩০০ টাকা থেকে ১৭০০+ কেন..? উত্তর : সবজির দাম কিন্তু কম।

৮. সারাদেশে এতো চু'রি ছি'নতাই ডা'কাতি বেড়ে গেছে কেন..? উত্তর : সবজির দাম কিন্তু কম।

৯. সমন্বয়করা হেলিকপ্টার ও ২০০ গাড়ির বহর নিয়ে চলে টাকার উৎস কি..? উত্তর : সবজির দাম কিন্তু কম।

তারপর যদি তাদেরকে জিগ্যেস করনে থাইল্যান্ড মায়ানমার ভূমিকম্প কেনো হয়েছে তারা উত্তর দিবে বাংলাদেশে সবজির দাম কিন্তু কম 😁

28/03/2025

দেশে প্রকাশ্যে কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি কি পালন করছে আওয়ামী লীগ? না। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের কেউ কি প্রকাশ্যে? না। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা কি দেশে আছেন? না। তিনি কবে ফিরবেন কেউ কি জানে? উত্তর এখানেও না-সূচক।

তবু দেখুন, এখানেও প্রাসঙ্গিক আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ নিয়ে চর্চা হচ্ছে দেশে। চর্চা ঠিক নয়, ভয় পাচ্ছে আওয়ামী লীগবিরোধী সকল রাজনৈতিক দল।

দেশে নেই, অথচ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের সবচেয়ে চর্চিত দলের নাম আওয়ামী লীগই। মাঠের রাজনীতিতে এখন আওয়ামী লীগের নামগন্ধ না থাকলেও এই দলটিকে ভয় পাচ্ছে প্রতিপক্ষ।

এখানেই কিন্তু আওয়ামী লীগের সার্থকতা। দেশের রাজনীতিতে না থেকেও রাজনীতির কেন্দ্রে দলটি। এই হিসেবে আওয়ামী লীগকে ‘রাজনীতির অক্সফোর্ড’ বলতে পারেন নির্দ্বিধায়!

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার অনেকটাই আওয়ামী লীগের দখলে। গুজব থেকে শুরু করে সরকারের যেকোনো বিষয়ে দলটির সমর্থকেরা প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে যাচ্ছেন। এর প্রভাব পড়ছে জনমনে। আট মাস আগের অনলাইন, আর এখনকার অনলাইনের পার্থক্য বিস্তর। জুলাই-আগস্টে যে অনলাইন থেকে অনেকটাই বিতাড়িত ছিল আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা, এখন তারা এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে।

এরফলে প্রান্তের যে লোক সোশ্যাল মিডিয়াকে খবরের আধার ভাবে, তার কাছেও এই বার্তা জোরাল হচ্ছে ‘আগেই ভালো ছিলাম’। হ্যাঁ, জীবন যাপনের দিক থেকে হয়ত সে উপলব্ধি করছিল, কিন্তু তার কানে যখন এক বাক্য বারবার যাচ্ছে, তখন এটা তার বিশ্বাসের অংশ হয়ে গেছে।

মুহাম্মদ ইউনূসের পৌনে আট মাসের দেশ শাসনে ইতিবাচক কী অগ্রগতি? যে সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী দিয়ে সাবেক সরকার কোটি-কোটি প্রান্তিক হতদরিদ্রদের আর্থ-সামাজিক সুরক্ষা দিয়েছিল, সেগুলো যখন নিজেদের চোখের সামনে ভেঙে পড়তে দেখেছে মানুষ, তখন তাদের কাছে বাস্তবতা কঠিন রূপে দেখা দিচ্ছে। ফলে আট মাস আগে আন্দোলনে কে কাকে কীভাবে মেরেছে সেসব নিয়ে মানুষের ভাবান্তর আছে বলে মনে হচ্ছে না।

এইতো কিছুদিন আগেও আওয়ামী লীগের পক্ষ নিয়ে কথা বলতে মানুষ ভয় পাচ্ছিল, এখন এই অবস্থার অবসান হতে চলেছে। এর কারণ কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন ও কথিত স্টেকহোল্ডারদের কামড়াকামড়ি। আর আছে ক্ষমতাসীন ও সহযোগীদের লুটপাটের নাতিদীর্ঘ খতিয়ান।

এখন এই মুহূর্তে দেশের মানুষ একবাক্যে স্বীকার করে টেলিভিশন আর পত্রপত্রিকা যা বলে তার বেশিরভাগই সঠিক খবর নয়। মানুষের মনে এই বিশ্বাস প্রবল হয়েছে গণমাধ্যমগুলো আসল খবর প্রকাশ করছে না। এটা কেবল সরকারবিরোধী অংশই বিশ্বাস করছে এমন না, খোদ সরকার সমর্থকেরাও এমনটা বিশ্বাস করে। ফলে একটা আস্থার সঙ্কট তৈরি হয়েছে। এবং এই আস্থার সঙ্কটের পরিণাম ভয়াবহ হয়ে থাকে। আওয়ামী লীগের আমলের শেষের দিকেও এই আস্থার সঙ্কট ছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের দেশ শাসনের পৌনে আট মাসেই এটা আগের সরকারের আমলের কাছাকাছি অবস্থায় চলে গেছে।

মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন নিয়ে গড়িমসি করছে। দেশের কেউই নির্বাচন দূরে ঠেলে দেওয়ার পক্ষপাতী নয়। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে সরকারের পরিস্কার কোন পরিকল্পনা অদ্যাবধি দেশবাসী দেখতে পায়নি। সরকারের মূল দল বা কিংস পার্টি, যার নাম ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি-এনসিপি চায় গণপরিষদ নির্বাচন; কিন্তু দেশের সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলো চায় সংসদ নির্বাচন। আর দেশবাসী মনে করছে সরকার সেটাই করতে চায় যা কিংস পার্টি এনসিপি চাইছে। সঙ্গে আবার মানুষ মনে করছে সরকার চাইলেই এটা করতে পারবে না। এখানে সরকারের সক্ষমতা নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে।

যে এনসিপিকে ক্ষমতায় নেওয়ার খায়েশ মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের, তারা আত্মপ্রকাশের এক মাসেও নিজেদের শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তির প্রকাশ করতে পারেনি। উল্টো যেখানে যাচ্ছে তারা, সেখানে নিজেদের মধ্যেই মারামারি করছে। এই এনসিপি আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ চায়, আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল চায়, আওয়ামী লীগকে নির্বাচন করতে দেবে না বলে ঘোষণাও দিয়েছে তারা। অর্থাৎ তাদের রাজনীতিই মূলত আওয়ামী লীগকেন্দ্রিক। আওয়ামী লীগ দেশের মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও এই দলটিকে নিয়েই যত ভয় তাদের।

ঠাট্টাচ্ছলে অনেকেই বলছেন, গত কয়েক মাসে এনসিপির নেতারা যতবার আওয়ামী লীগ-আওয়ামী লীগ জপ করেছে, ততবার আল্লাহ-আল্লাহ জপ করলে এতদিনে তারা ওলি-আউলিয়া হয়ে যেত! বাস্তবে হয়ত ওলি-আউলিয়া হতে পারত না, তবে যে হারে তারা আওয়ামী-চর্চা করছে, তা সত্যি উল্লেখের মতো।

শুরুতে আওয়ামী লীগকে ‘রাজনীতির অক্সফোর্ড’ বলছিলাম, দেখুন মাঠে না থেকেও কীভাবে রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করছে আওয়ামী লীগই। কেবল এনসিপিই নয়, বিএনপি-জামায়াত-গণঅধিকার পরিষদ-এবি পার্টি থেকে শুরু করে আম জনতার দল নামের যত দল আছে, তাদেরও একটাই দুশ্চিন্তা--এই বুঝি ফিরে এল আওয়ামী লীগ! অথচ দেখুন, ফেব্রুয়ারি মাসে পরীক্ষামূলক একটা কর্মসূচি দিয়েছিল আওয়ামী লীগ, এরপর থেকে দলীয় কোন কর্মসূচি নাই।

এই এত যে চর্চা এটা কীভাবে দেখছে আওয়ামী লীগ? যদি বলি উপভোগ করছে, তবে কি ভুল বলা হবে? মনে হয় না। নিয়ম করে প্রায় রাতে যে সব গুজব ছড়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায়--এসব কীভাবে দেখবেন? এসবে কি ভয় পাওয়া হয় না অনেকের? হয়। এই গুজবে অনেকেই আশাবাদী হয়ে ওঠে ঠিক, আবার গুজবগুলো গুজব বলে প্রমাণের পর হয়ত হতাশ হয় অনেকেই, কিন্তু দেখবেন পুনর্বার যখন গুজব ছড়ায় তখন তারা আবার দ্বিগুণ উৎসাহে আশাবাদী হয়ে বসে। অথচ এখানে তাদের হতাশায় নুইয়ে পড়ার কথা ছিল, কিন্তু তারা হতাশ হচ্ছে না। বরং এমন একটা আবহের জন্ম দিচ্ছে যেখানে মনে হয় এই বুঝি ক্ষমতায় ফিরে এল আওয়ামী লীগ!

এই যে গুজব, এসবকে স্রেফ গুজব ভেবে অগুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখতেও রাজি না সরকার, তারা একদিকে যেমন ভয় পাচ্ছে, অন্যদিকে গুজব যাতে বাস্তব না হয় সে চেষ্টাও করে যাচ্ছে। ফলে রাজনীতির মাঠে অনুপস্থিত থেকেও উপস্থিত আওয়ামী লীগ।

একবার ভেবে দেখেছেন, মাঠে অনুপস্থিত থেকেও যেভাবে চর্চায় উপস্থিত আওয়ামী লীগ; তারা যখন সত্যি সত্যি ফিরবে, তখন কী হবে সরকার ও সরকারঘনিষ্ঠদের? পাতলুন ভিজে যাওয়ার অবস্থা কি হবে না? এখনই তো কাছাকাছি অবস্থায়!

বর্তমানে যে অবস্থায় আওয়ামী লীগ, এটা কি নতুন তাদের? না, নতুন নয়। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর একই অবস্থায় পড়েছিল আওয়ামী লীগ। তখনো আওয়ামী লীগের নাম নেওয়াকে অপরাধ হিসেবে দেখা হতো। শেখ হাসিনা তখনো দেশান্তরী হয়েছিলেন। তখনো আশ্রয় নিয়েছিলেন ভারতে। এখনো তাই। ফেরার রাস্তা কি তবে অজানা শেখ হাসিনার? মনে হয় না। বরং বলা যায়, চেনা রাস্তা এটা তার!

বরং এখন আগের চেয়ে সহজ পথ তার সামনে। আগে যেখানে এখনকার মতো মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছার সুযোগ ছিল না; এখন আছে, এবং সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে। মাত্র পৌনে আট মাসে আওয়ামী লীগ নিয়ে যে পরিবর্তন এটা কি সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব নয়?

এবার ভেবে দেখুন, জুলাই-আগস্ট পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার বিচার নিয়ে যে আওয়াজ ওঠত, এখন কি সেই আওয়াজে জোর আছে? না, একদম নেই! অবস্থা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাতে বসেছে এখন বরং আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার বিচার নিয়ে কথা বললে সেটাকে বরং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে আওয়াজ তোলার যথেষ্ট লোক আছে বাংলাদেশে। এই পরিবর্তন এসেছে সরকার ও সরকারঘনিষ্ঠদের সীমাহীন কর্তৃত্ববাদী আচরণ ও মাৎস্যন্যায়ের কারণে। বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর আগেই যেন শাস্তি নির্ধারিত!

সরকার-সরকারঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক দল ও এনসিপির নেতারা যেভাবে আমাদের গৌরবের স্মারক মহাকাব্যিক মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতায় মেতেছে, তাতে দেশটা ফের ২০০৮ সালের পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। মাত্র সাত-আট মাসে দেশের জনমত পেছনের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থা আর মাত্র বছর-দেড় বছর চলতে থাকলে, এই মুহূর্তের আওয়ামী লীগবিরোধিরাও আওয়ামী লীগের পেছনে দাঁড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কি থাকছে না?

ইঙ্গিত কি পাচ্ছেন না কোথাও? আপনার সোশ্যাল মিডিয়ার বন্ধুদের মাঝে কি পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন? অনেকে হয়ত সরাসরি বলছে না, কিন্তু ভেতরটা সরাসরি সে পথেই!

আওয়ামী লীগ কেবল নিজেদের রাজনীতি করে না, আওয়ামী লীগ প্রতিপক্ষের রাজনীতিও নির্ধারণ করে দেয়। আট মাসের দেশ কি বলছে না সে কথা?

কবির য়াহমদ ভাই

Address

Chittagong

Telephone

+8801818665898

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ikhtear's Thoughts posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Ikhtear's Thoughts:

Share