03/04/2026
যারা আল্লাহর দরবারে কাঁদতে পারে, তারা এই চিন্তা করে না—তাদের দু‘আ কবুল হবে কি না। কারণ, আল্লাহর দরবারে কাঁদতে পারার আনন্দের কাছে অন্য সবকিছু তুচ্ছ।
‘‘আল্লাহর ভয়ে কান্না আসা’’ এমন এক নেয়ামত, যার লাভ বলে শেষ করা যাবে না। যে এই নেয়ামত পেয়েছে সে বড়ই ভাগ্যবান! কারণ ঐ ব্যক্তি তার চোখের পানি দিয়ে আল্লাহর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সবকিছু চেয়ে নিতে পারছে।
আপনি এমন কাকে পাবেন, যে আপনাকে কোন বিনিময় ছাড়াই যা চাইবেন তাই দিবেন?
ওয়াল্লাহি! আমাদের রব আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার কাছে যেকোনো বৈধ বিষয়/জিনিস চান তিনি তাই দিবেন, যদি আপনি চাওয়ার মত চাইতে পারেন। হয়ত সেটা সাথে সাথেই পাবেন অথবা এটার বদলে অনাগত কোনো বিপদ দূর করে দেবেন কিংবা দু‘আর বিনিময়টা আখিরাতের জন্য বরাদ্দ থাকবে। হাদিসে এমনটিই এসেছে। বস্তুত কোনো দু‘আই বৃথা যায় না।
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ সাহাবায়ে কিরাম আল্লাহর স্মরণে শিশু বাচ্চার মতো হাউ-মাউ করে কাঁদতেন। কেউ চিৎকার দিয়ে কেঁদে উঠতেন। এমনকি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কাঁদতেন, তখন তাঁর বুকে ফুটন্ত পানির মত শব্দ করতো। (আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসায়ি)
উমর (রা.)-এর মত রাগী মানুষটির কান্না মাসজিদের শেষ কাতার পর্যন্ত শোনা যেত বলে বর্ণনা করেছেন আরেক সম্মানিত সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনু শাদ্দাদ (রা.)।
এই কান্না যার আসে না, তাকে আল্লাহ দুনিয়াতে এক ধরণের শাস্তির মধ্যে ফেলেছেন। কারণ চোখ অশ্রুহীন থাকা অন্তরের কাঠিন্যের পরিচায়ক। সালাফে সালিহিন (পূর্ববর্তী নেককারগণ) আল্লাহর ভয়ে এতই কাঁদতেন যে, কারো কারো চোখে ছানি পড়ে গিয়েছিল, কারো রক্ত-প্রস্রাব বের হতো, কেউ বেঁহুশ হয়ে যেতেন। আমাদের মতো পাপীদের কাছে এগুলো রূপকথার গল্প বলেই মনে হবে। আল্লাহ তাঁদের সবাইকে শান্তিতে রাখুন। আমাদেরকেও তাঁদের পথে পরিচালিত করুন। আমিন।
তাই, আসুন আল্লাহর ভয়ে কাঁদি, তাঁর ভালবাসায় নিজেদের উৎসর্গ করি। তিনি আমাদের মুখে সেদিন হাসি ফুটাবেন, যেদিন সবাই ভয়ে তটস্থ থাকবে।ইং শা আল্লাহ।
তাওফিক দান করো গো ইয়া রব 🤲