01/01/2024
👶👶নবজাতকের বেড়ে উঠার প্রথম মাস 👶👶
#️⃣ প্রথম মাসে নবজাতকের ওজন ও উচ্চতা:
👉নবজাতকের গড় ওজন ৭.৫ পাউন্ড ( ৩.৪ কেজি )।
যদিও ৫.৮ - ১০ পাউন্ড ( ২.৬ - ৪.৫ কেজি ) পর্যন্ত ওজনকে
আদর্শ ধরা হয়।
👉নবজাতক ওজন যদি উল্লেখিত সীমা রেখার মধ্যে থাকে, তবে তার উচ্চতা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। যদি তার ওজন এর থেকে বেশি বা কম হয়, তবে আপনার চিকিৎসক নিশ্চয়ই তার সুস্থতা নিশ্চিত করার জন্য কিছু পরীক্ষা বা পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিতে পারেন। জন্মের পর প্রথম সপ্তাহে নবজাতকের ওজন- তার জন্ম ওজন বা বার্থ ওয়েটের প্রায় ১০ ভাগ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। নবজাতকের শরীর থেকে অতিরিক্ত তরল বেরিয়ে যাওয়ার কারণেই এমন হয়। তবে পাঁচ দিনের মধ্যে আবার তার ওজন বাড়তে শুরু করবে। ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে নবজাতক পুনরায় তার ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময়ের ওজন ফিরে পাবে। নবজাতকের জন্মকালীন ওজন ফিরে আসার পর, প্রথম ৪ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে ৪ থেকে ৭ আউন্স পর্যন্ত ওজন বাড়ে। মানে -
প্রতিমাসে ১ থেকে ২ পাউন্ড অর্থাৎ আধা কেজি থেকে এক কেজি পর্যন্ত ওজন বাড়া স্বাভাবিক। যদি নবজাতকের বয়স ২ সপ্তাহ হওয়ার পরেও বার্থ ওয়েট ফিরে না আসে বা আশানুরূপ ওজন ফেরত আসার পরেও যদি আবার বেশ অনেকটা কমে যায়, তবে অবশ্যই ডাক্তারকে জানাতে হবে। প্রথম মাসে নবজাতক প্রতি দুই- তিন ঘন্টা অন্তর খেতে চায়। বুকের দুধ খাওয়া অধিকাংশ নবজাতক ২৪ ঘন্টায় কমপক্ষে ৮-১২ বার বা তারও বেশীবার খেতে পারে। নবজাতক যখন খাবার খাওয়ানোর ইঙ্গিত করে, তাকে বুকের দুধ দিন। যতক্ষণ সে খেতে চায়, ততক্ষণ খাওয়ান। সে প্রথম স্তনের দুধ খাওয়া থামিয়ে দিলে তার ঢেকর উঠান এবং দ্বিতীয় স্তনের দুধ খাওয়ান। এতে শিশু বড় হওয়ার সাথে সাথে আপনার বুকের দুধের একটি ভালো সরবরাহ থাকা নিশ্চিত করবে।
#️⃣ The American Academy of Pediatrics ( AAP )
এর পরামর্শ মতে-
👉 নবজাতক যদি ৪ ঘন্টার বেশি ঘুমিয়ে থাকে, তবে জন্মের প্রথম দুই সপ্তাহ পর্যন্ত অথবা জন্মের পর তার হারিয়ে ফেলা ওজন আবার ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত তাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে খাওয়াতে হবে।
এ সময় পর্যাপ্ত দুধ না পেলে শিশুর ওজন বৃদ্ধি স্তিমিত হয়ে যেতে পারে।
👉প্রথম দুই সপ্তাহ নবজাতককে ঘুম থেকে জাগিয়ে খাওয়ানোর আরেকটি কারণ হলো- মায়ের বুকের দুধের সরবরাহ ঠিক রাখা। শিশুকে ঘন ঘন দুধ না খাওয়ালে বুকের দুধ কমে যেতে পারে।
👉 নবজাতক তার জন্মের ওজন ফিরে পাওয়ার পর এবং যদি ওজন স্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে সেক্ষেত্রে তাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে না খাওয়ালে তেমন কোন সমস্যা নেই।
👉 নবজাতকের বৃদ্ধি যদি কম থাকে বা কোন মেডিকেল কন্ডিশনের কারণে যদি অতিরিক্ত পুষ্টির প্রয়োজন পড়ে, তবে তাকে জাগিয়ে খাওয়ানো গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিতে হবে।
👉অনেক মা এটি ভেবে চিন্তিত থাকেন যে, নবজাতক পরিমাণ মতো দুধ পাচ্ছে কিনা !
কারণ শিশু হয়তো কিছুক্ষণ পরে পরেই কাঁদছে। এটি খুবই স্বাভাবিক কারণ খাওয়ার ঘন্টা দুয়েকের মধ্যেই তার খাবার হজম হয়ে যায়।
👉কিছু কিছু জিনিস খেয়াল করলেই আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন যে, নবজাতক পরিমাণ মতো দুধ পাচ্ছে।
✅ বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের বুক নরম ও খালি বোধ হওয়া।
✅ শিশুর ত্বক উজ্জ্বল থাকা ।
✅ শরীরের কোনো অংশের চাপ দিলে তা দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরত আসা।
✅ শিশুর ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়া।
✅ দিনে ৬ থেকে ৮ বার মূত্র ত্যাগ করা।
👉জন্মের প্রথম মাসে নবজাতক ১৬ থেকে ২০ ঘন্টা ঘুমিয়ে কাটাতে পারে। তবে বেশির ভাগ নবজাতক সাধারণত একটানা ১ থেকে ৩ ঘন্টার বেশি ঘুমায় না । ঘুম শিশুদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এই সময় তাদের মস্তিষ্ক ও শরীর দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে।
শুধু রাতের ঘুমই যথেষ্ট নয়। নিয়মিত দিনে ভাঙ্গা ভাঙ্গা ঘুম তাদের ঘুমের অনেকটা চাহিদা পূরণ হবে।
👉নবজাতককে চিত করে শোয়ানোটাই সবথেকে নিরাপদ। কারণ এতে শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি SIDS ( সাডেন ইনফ্যান্ট ডেথ সিনড্রোম) এর রিক্স কমে যায়। কিন্তু সে যখন জেগে থাকে, তখন তাকে মাঝে মাঝে কিছুটা সময় উপুড় হয়ে থাকতে দিন। এতে ঘাড়ের মাংশপেশী শক্ত হয়।
👉
নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো কিংবা নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়ানো ইত্যাদি অভ্যাস করানোর জন্য আরও বেশ কয়েকটি মাস অপেক্ষা করুন। এই বয়সে তাকে তার নিজস্ব চাহিদা মত ঘুম, খাওয়ানো এবং মায়ের সান্নিধ্যে রাখুন।
👉দিনের বেলায় যখন সে সজাগ থাকে, তখন তার সাথে যত বেশি সম্ভব গল্প ও খেলাধুলা করুন। শিশুর রুম আলোকিত এবং উজ্জ্বল রাখুন। কিন্তু রাতের বেলা যখন সে জেগে যায়, তখন তার সাথে খেলাধুলা করবেন না, ঘরের আলো ও শব্দ কমিয়ে রাখুন এবং তার সাথে কথা বলা কমিয়ে দিন।
এটি বাচ্চাকে দিন আর রাতের মাঝে পার্থক্য করতে সাহায্য করবে এবং সে বুঝতে পারবে রাত হল ঘুমানোর সময়। শিশুকে নিজ থেকে ঘুমিয়ে পড়ার সুযোগ দিন। তার মধ্যে যখন ঘুম ঘুম ভাব দেখবেন, তখন তার বিছানায় রেখে দিন যাতে করে সে নিজে থেকেই ঘুমিয়ে যায়।
এটি পরবর্তীতে শিশুর স্লীপ ট্রেনিং এ সাহায্য করবে।
👉প্রথম মাসে শিশুর কান্না:
👉সব নবজাতকই কান্না করে। এটাই বাস্তবতা। কান্নায় পৃথিবীতে তাদের জানান দেওয়ার একমাত্র উপায়। শিশু যখন কান্না শুরু করে, তখন তার কারন খুজে বের করুন। যেমন- খিদে লাগা ,ক্লান্ত লাগা, ভেজা ডায়াপরি,গ্যাসের সমস্যা ইত্যাদি।
👉কান্না করলে দূরত্ব সাড়াদিন এবং শান্ত করার চেষ্টা করুন। এতে আপনাদের মধ্যে বন্ধন দৃঢ় হবে। শিশুর কান্না অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ এতে ব্রেনের ওপর চাপ পড়ে যা পরবর্তী জীবনে তার মানসিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
👉প্রায় ১৫ থেকে ২০ ভাগ নবজাতক অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি কান্না করে। বাচ্চা যদি অনেক বেশি কান্না করে, যেমন- সাধারণত ৩ ঘন্টা বা তার চেয়ে বেশি সপ্তাহে তিন বা চার দিনের বেশি এবং কোন ব্যাখ্যা না থাকে- ধরে নিতে পারেন, বাচ্চার হয়তো কলিক সমস্যা আছে। কোন কারণ ছাড়া- একজন সুস্থ বাচ্চার অতিরিক্ত কান্নাকাটিকে সাধারণত কলিক বলে।
👉জন্মের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে কলিকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কলিক কি কারনে হয় তা এখনও পরিপূর্ণভাবে জানা যায়নি। তবে গ্যাসের সমস্যা, হজমের সমস্যা, রিফ্লাক্স বা পরিবেশগত কোনো কারণে কলিক হতে পারে বলে মনে করা হয় । কলিক কোন রাগ নয়, তবে কলিক শিশুদের বাবা-মায়ের প্রয়োজনের অতিরিক্ত মানসিক চাপ নিতে হয়।
👉গ্রোথ স্পার্টের সময় শিশুর বিকাশ অন্য যেকোনো স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি হয়। গ্রোথ স্পার্টের সময় শিশুর ওজন কিছুটা বেড়ে যেতে পারে। খানিকটা লম্বাও হতে পারে। এমনকি মাথার পরিধিও কিছুটা বাড়তে পারে। এতে শিশুর জন্মের প্রথম বছরে বেশ কয়েক বার গ্রোথ স্পার্ট হতে পারে।
👉শুধুমাত্র প্রথম মাসেই কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহ পর পর এটি হতে পারে। তবে এরপর সময়ের এই ব্যবধান বাড়তে থাকে।
👉জন্মের পর দ্বিতীয় এবং তৃতীয় সপ্তাহে আপনি তার গ্রোথ স্পার্ট খেয়াল করতে পারেন।
গ্রোথ স্পার্ট বা দ্রুত বর্ধনের অন্যতম লক্ষণ হল- এই সময় শিশু অনেক বেশি ক্ষুধার্ত থাকে। অন্য সময় প্রতিদিন তিন- চার ঘণ্টা পরপর খেলেও এসময় তারা প্রতিদিন দেড়-দুই ঘন্টা অন্তর অন্তরই ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ে। আবার তার ঘুমের রুটিনেও বেশ কিছু পরিবর্তন আসে। এ সময় শিশু অন্য সময়ের তুলনায় বেশি খিটখিটে আচরণ বা অস্থিরতা প্রদর্শন করতে পারে।
👉গ্রোথ স্পার্ট চলাকালীন সময়ে শিশু ঘন ঘন মায়ের দুধ খেতে চাওয়ার ব্যাপারটি মায়েদের কাছে ক্লান্তিকর। এতে কোন সন্দেহ নাই। তবে এটি ক্ষণস্থায়ী। সাধারণত নবজাতকের ক্ষেত্রে গ্রোথ স্পার্ট কয়েকদিনের মধ্যেই স্বাভাবিক হয়ে আসে। তবে দিন কয়েকের মধেই যদি শিশু পূর্বের রুটিনে ফিরে না আসে-খাওয়া, ঘুম ইত্যাদি নিয়ে যদি তখনও সমস্যা হয়, তখন বিষয়টি চিন্তার কারণ হতে পারে। পাশাপাশি লক্ষ্য রাখতে হবে শিশু জ্বর বমি বা অন্য কোন সমস্যায় ভুগছে কিনা। এগুলো কিন্তু গ্রোথ স্পার্টের সময় হওয়ার কথা নয়। তাই এসব সময়ে ডাক্তারকে জানানো প্রয়োজন।
(ধৈর্য্য ধরে লেখাটা সম্পূর্ণ পড়ার জন্য ধন্যবাদ)