20/06/2026
♦️আশুরা বা ১০ই মহরমের এত মর্যাদা কেন?
♦️আশুরা কেন সৃষ্টি হল , এর উদ্দেশ্য কি ?
♦️আশুরার মূল ম্যাসেজ কি ?
♦️আশুরা আমাদের কি শিক্ষা দেয়?
♦️আমাদের করনিয় কি ?
👉 আল্লাহ বলেন,
"তোমরা কি ধারণা কর যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না? [সুরা মু’মিনুন ২৩:১১৫]"
সুতরাং মানুষকে আল্লাহ অনর্থক সৃষ্টি করেননি। সবকিছুর মতো মানুষকেও আল্লাহ কোনো না কোনো উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করছেন।
তাই আল্লাহতায়ালা বললেনঃ আমি পৃথিবীতে আমি আমার প্রতিনিধি প্ররন করবো "। [সুরা বাকারা ২:৩০]
কারন এ প্রতিনীধির মাধ্যমে আল্লাহ নিজে প্রকাশিত হবেন।
*আল্লাহ নিজেকে প্রকাশিত হবেন এবং সকলের কাছে প্রকাশিত করবেন বলেই সর্বপ্রথম আপন নূর হতে রাসুল সঃ কে সৃষ্টি করেন, অতপর রাসুল স: এর নূর হতে তামাম জগত সৃষ্টি করেন। তিনার পরিচয় বান্দা পাবে। বান্দার শুকুর গুলার করবে , প্রেম মহব্বত ভালবাসা দিবে তাই আল্লাহ ১০ বেছে নেন।
এক বেছে নেন তিনিই এক ,
তারপর 0 ,তাই এক ও শুন্য দশ হয়।
""জগত শ্রেষ্ট মহামানব সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী রহঃ বলেন""
"অতি গোপনে নূরে জাত ছিল
ধনাগারে,
নূরে মোহাম্মাদী পৃথক
করিয়া নিজেকে প্রকাশ
করে।
নূরে মোহাম্মাদী হতে সমস্ত
নূর করিয়া জুদা,
সৃষ্টির লীলা শুরু করেছেন দয়াময়
খোদা''
--সূফী সম্রাট
অন্যান্য দিনের চেয়ে পবিত্র আশুরা বা ১০ই মহরমের গুরুত্ব ও মাহাত্ম এতবেশী ও মর্যাদাশালী কেন ?
কারন-
♦️১০ই মহরম এ দিনে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন আসমান, জমিন, লৌহ, কলম সৃষ্ঠি করেছেন।
আল্লাহ নিজে সর্বপ্রথম আরশে বসেন , এবং সকল সৃষ্টি কে হাজির করে বলেন , আমি কি তোমাদের প্রভু নই? তখন সমস্ত সৃষ্টি সমস্বরে বলেছিলাম ,নিশ্চয় নিশ্চয়। সে দিনটি ছিল ১০ ই মহররম ।
হাদিস শরিফে মহররমকে ‘শাহরুল্লাহ’ বা ‘আল্লাহর মাস’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
আশুরার দিন রোজা রাখা সুন্নাত।
আশুরার রোজা সব নবীর আমলেই ছিল। প্রত্যেক নবীর অনুসারিরা তা পালন করতেন। নবী করিম (সা.) মক্কায় থাকতেও আশুরার রোজা পালন করতেন। এদিনে মুসা (আ.) সিনাই পাহাড়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওরাত লাভ করেন। এদিনেই তিনি বনি ইসরাইলকে ফেরাউনের কয়েদখানা থেকে উদ্ধার করেন এবং এদিনেই তিনি বনি ইসরাইলদের নিয়ে লোহিত সাগর অতিক্রম করেন। আর ফেরাউন সেই সাগরে ডুবে মারা যায়। তাই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য ইহুদিরাও এই দিন রোজা রাখে।
♦️হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, রমজানের রোজার পর মহররমের রোজা হলো সর্বশ্রেষ্ঠ।
১০ ই মহররম পবিত্র আশুরার দিন ।
আশূরা শুধু মাত্র শিয়াদের অনুষ্ঠান নয়। আশুরা সকল মুসলমানের অনুষ্ঠান । আশুরার দিনটি সকল সৃস্টি জগতের জন্য বিশেষ রহমতের দিন । কারণ, মহান আল্লাহ আসমান ও জমিনের সকল কিছু সৃজন করে পবিত্র আশুরার দিনে আরশে অধিষ্ঠিত হন । আল্লাহ পবিত্র কুরআনে এ সম্পর্কে বলেন -
الذي خلق السموات والارض وما بينهما في ستة ايام ثم استوي علي العرش
অর্থাৎঃ "তিনি ( আল্লাহ) আসমান ও জমিন এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ৬ দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশে সমাসীন হন । " (সূরা -আল ফোরক্বানঃ আয়াত ৫৯)
মহান আল্লাহ্ পবিত্র আশুরার দিনেই সকল সৃষ্টির প্রতিপালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন । তাই তিনি সকল রূহকে প্রশ্ন করেন, " أ لست بربكم "
" আ লাসতু বি রাব্বিকুম " অর্থাৎ আমি কি তোমাদের প্রভু নই ? সেদিন সকল রূহ উত্তর দিয়ে বলেছিল... قالو بلي " হ্যাঁ , আপনিই আমাদের প্রতিপালক । "
♦️♦️আশুরার দিন আল্লাহর প্রতিপালক হিসেবে অভিষেকের দিন বিধায়, সেইদিন পাপী -তাপী মানুষের ক্ষমা, শান্তি ও মুক্তি লাভ করার দিন ।
তাই এই দিনে বেশী বেশী এবাদত বন্দেগী করে নিজের মুক্তির লাভের ব্যবস্থা করা উত্তম ।
পবিত্র কোরআন, হাদীস ও ইতিহাস পর্যালোচনা করেও দেখা যায় পবিত্র আশুরার দিনে অসংখ্য উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি রয়েছে । তাই সংক্ষেপে আশুরার দিনের কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা উল্লেখ করলাম ...
♦️**১০ই মহররমের দিনে নুরে মোহাম্মাদীকে সৃস্টি করা হয়।
♦️**একই দিনে হযরত আদম(আঃ)কে সৃষ্টি করা হয়েছে ।
♦️**১০ই মহররম আদম(আঃ)কে বেহেশতে প্রবেশ করানো হয়েছে ।
♦️**আশুরাতেই আদম(আ.)কে বেহেশত থেকে দুনিয়ায় প্রেরণ করা হয়েছে।
♦️**আদম(আ.)এর তওবা কবুল করা হয় এই আশুরাতেই।
♦️**মা হাওয়া(আ.)এর সাথে আদম(আ.) পুনরায় সাক্ষাত হয়
এই ১০ই মহররমে।
♦️**আসমান-জমিন সৃষ্টি করা হয়েছে মহররম মাসেই।
♦️**চাঁদ-সূর্য,গ্রহ-নক্ষত্র,পাহাড়-পর্বত,
সাগর-মাহাসাগর সৃষ্টি করা হয় এই মহররম মাসেই।
♦️**আশুরাতেই জন্ম গ্রহণ করেন হযরত ইব্রাহীম (আ.)।
♦️**আশুরাতেই হযরত মূসা (আ.)এবং আল্লাহপাকের মধ্যে কথোপকথোন হয়েছিল।
♦️**হযরত মূসা(আ.)এর উপর তৌরাত কিতাব
নাজিল হয়েছিল এই দিনে।
♦️**এই দিনে হযরত মূসা (আ.)তার সাথীদের
নিয়ে নীল নদ পার হন এবং ফেরাউন
বাহিনী পানিতে ডুবে মরা যায় ।
♦️**এই দিনে হযরত আইয়ুব(আ.)দীর্ঘ ১৮ বছর কঠিন রোগ থেকে সুস্থ হয়ে উঠেন।
♦️** হযরত সোলায়মান(আ.)পুনঃ বাদশাহীত্ব ফিরে পান আশুরার দিনে।
♦️**আশুরাতেই দাউদ(আ.)এর তওবা কবুল করা হয়।
♦️** হযরত ইউছুফ(আ.) তাঁর পিতা হযরত ইয়াকুব
(আ.)এর সাথে মিলিত হন এই আশুরাতেই।
♦️** হযরত ইসা(আ.)জন্ম গ্রহণ করেন আশুরাতেই।
♦️** হযরত ইসা (আ.)কে আল্লাহপাক
সশরীরে আসমানে তুলে নেন এই
আশুরার দিনে।
♦️** এই আশুরার দিনেই আল্লাহপাক হযরত ইদ্রিস(আ.)কে জীবিত করেন
এবং তাকে জান্নাতে উঠিয়ে নেন।
♦️** হযরত নূহ (আ.)এর জাহাজ চল্লিশ দিন পর
যুদু পাহাড়ে অবস্থান নেয় ও সকলে প্লাবন থেকে রক্ষা পান এই পবিত্র আশুরার দিনেই ।
♦️** আশুরার অছিলায় উম্মতে মোহাম্মাদীর গুনাহ মাফ হয়ে যায়।
♦️** আল্লাহপাক দুনিয়াতে প্রথমবার রহমত নাজিল করেন ও রহমতের বৃষ্টি বর্ষণ করেন আশুরাতেই।
♦️** হযরত ইউনুস(আ.)মাছের পেট থেকে বের হয়ে আসেন আশুরার দিবসে।
♦️** আশুরার দিনেই প্রায় ২০০০ (দুই হাজার) নবী রাসুলকে আল্লাহ দুনিয়াতে পাঠান এ দিনেই তিনারা জন্মগ্রহন করেন এই দিনে ।
♦️ ** ১০ই মহরমের এই দিনেই ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাদায়ক নির্মম ঘটনা কারবালায় ঘটেছে! আহলে বায়াতের উজ্জ্বল নক্ষত্র ইমাম হোসাইন (রা:আ) কে কাফের মুনাফেক ইয়াজিদ বাহিনী নির্মমভাবে শহীদ হতে হয় , উনি সহ আরো 70 জন আহলে বায়াতকেও শহীদ করা হয় এ দিনে।
আরো অনেক ঘটনা এই আশূরাতেই ঘটে। তাই এই দিনটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
♦️♦️ # # আশুরার মুল ম্যাসেজ হল,
এ দিনে আল্লাহর দরবারে অধিক রোনাজারি করে নুরে মোহাম্মদীর নুর ধারন করত ও মহান প্রভুর অস্তিত্ব নিজ ক্বলবে নুরের কুরছি মোবারকে দেখা ও তিনার নুরের কদমে লুটিয়ে পড়ে সেজদায় অবনত হয়ে নিজেকে শপে দেওয়া ও শুকরিয়া আদায় করা।"
এই পবিত্র ১০ ই মহররম আশুরার দিনে সুফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী হুজূর কেবলা প্রথম দেওয়ানবাগ দরবার শরিফ "বাবে জান্নাত" প্রতিষ্টা করেন এবং আনুষ্ঠানিক ভাবে কুরছি মোবারকে বসেন তিনি আশেকদের নিয়ে প্রথম অনুষ্ঠান করেন।
এবং দুনিয়াতে সর্ব প্রথম স্লোগান দেন , :আশুরার দিবসে আল্লাহ বসেন আরশে "
, "আশুরার ওছিলায় তাপি তাপি মুক্তি পায়"।
যে আশুরা মানুষ পালন করত না শিয়াদের অনুষ্ঠান ভাবত সেখানে সুফী-সম্রাট হোজুর এদিনের গুরুত্বও তাৎপর্য লিখে সারা দেশে লক্ষ লক্ষ লিফলেট বিতরন করেন। এর গুরুত্ব আনার জন্য তিনি হাজার হাজার মহফিল দেশ বিদেশে করিয়েছেন।
১০ই মহরমের দিনেই "নূরে মুহাম্মাদী - মোহাম্মাদী ইসলাম পূন প্রতিষ্টার কাজ শুরু করেন অতপর অশান্ত দুনিয়াকে শান্ত করে চলছেন।
আজ এই নুরে মোহাম্মদীর ধারক ও বাহক মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্বপ্রদানকারী ইমাম প্রফেসর ডক্টর কুদরত এ খোদা মা আ : হুজুর কেবলা মানুষকে আল্লাহ আল্লাহ ও রাসূলের প্রেমে আকর্ষন করছেন। রাসুল সঃ এর প্রেম বিতরন করছেন। তিনি আল্লাহ নামের জ্বীকির / আল্লাহর কুদরতি নূর আপন ক্বালব হতে মুরীদের ক্বালবে বসিয়ে ঈমানি শক্তি ঈমানী জ্বজবাত সৃষ্টি করছেন। তিনি মানুষকে আশেকে রাসুল হবার আল্লাহ কে পাবার , মোহাম্মদী ইসলামের চরিত্রে চরিত্রবান হবার মোহাম্মদী ইসলামে বায়েত হবার শিক্ষা দিচ্ছেন।
♦️মহান আল্লাহর তিনার অভিষেক দিনকেই আশুরার দিন বলা হয়। ফলে এদিনের বরকতে আল্লাহপাক
অনেক ফায়েজ, বরকত ও রহমত দান করেন। এ দিন বিশেষ মুক্তির দিন গোনাহ মাপের দিন।
এদিনের বিশেষ আমল রহিয়াছে: যেমন:-
# খালেস ভাবে তওবা করা।
# বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া,
# জ্বিকির আসগার করা,
# এ দিনে রোজা রাখা,
# বেশি বেশি মোরাকাবা করা,
# মিলাদ শরিফ পাঠ করা বা মহফিল করা।
# দান যাকাত করা,
# বেশি বেশি তওবা পাঠ করা।
# তরজমা সহ কোরান তেলোয়াত করা, ইত্যাদি।
🤲মহান মালিকের নিকট প্রার্থনা, তিনি যেন দয়া করে পবিত্র আশুরার উসিলায় আমাদের মাপ করে দেন ও তিনার দীদার - ও হাকিকতে আশুরা ভিক্ষা দিন ।আমিন🙏🏻🙏🏻