09/11/2020
শাড়ি নিয়ে রয়েছে বহু গান, গল্প, কবিতা। বাঙালি নারীর পোশাক শাড়ি। শাড়ির ব্যবহার প্রাচীনকাল থেকেই। ১২ হাত দৈর্ঘ্যরে সেলাইবিহীন এ কাপড় নারীর প্রিয় এক পোশাক। শাড়িশোভন নারী পুরুষেরও যে পছন্দের, তা গান-কবিতায় শাড়িবন্দনা দেখেই অনুমান করা যায়।
‘শাড়ি’ শব্দটি সংস্কৃত ‘শাটী’ থেকে এসেছে। এর অর্থ ‘কাপড়ের টুকরা’। সংস্কৃত ‘শাটী’ শব্দটি এসেছে পালি শব্দ থেকে। শাড়ি শরীরের তিন অংশের একত্রে পরিধেয় এমন একটি পোশাক যা কাঁধ বা মাথার ওপর একটি পর্দা বা উত্তরীয়র মতো পরা যায় এবং বক্ষবন্ধনী হিসেবেও কাজ করে। সংস্কৃত সাহিত্যে এবং বৌদ্ধ সাহিত্যে প্রাচীন ভারতে নারীদের পোশাক বর্ণনার জন্য এই শব্দটির উল্লেখ করা হয়েছে। শাড়ির উৎপত্তির ইতিহাস খুব একটা স্পষ্ট নয়। শাড়ির মতো পোশাকের ইতিহাস পাওয়া যায় সিন্ধু সভ্যতাতেও। যা ভারত উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম অংশে খ্রিস্টপূর্ব ২৮০০-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ সময়কালজুড়ে বিস্তৃত ছিল। এর কাছাকাছি সময়ে ভারতীয় উপমহাদেশে তুলার প্রথম চাষও শুরু হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। রেশম বোনার আনুমানিক সময়কালও খ্রিস্টপূর্ব ২৪৫০ থেকে ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। আজকের একবিংশ শতাব্দীতেই নয় কেবল, শাড়ি যে বাংলার মেয়েদের পরিধেয় ছিল তা চৌদ্দ শতকেও প্রমাণ পাওয়া যায়। এই সময়ে কবি চণ্ডীদাস লিখেছেন- ‘নীল শাড়ি মোহন কারী/উছলিতে দেখি পাশ/কি আর পরানে সঁপিনু চরণে/ দাস করি মনে আশ।’
#শাড়ী