13/03/2026
জীবনের কঠিন বাস্তবতার সামনে দাড়িয়ে আজ আমাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় এত সহজে কিভাবে এত বড় সিদ্ধান্ত নিলে !আমি বলবো,আমি সেই মেয়ে যে হাজার বার চেয়েছি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে চেয়েছি ,আমি সেই মেয়ে যে হাজার টা দোষ মেনে নিয়েছি ,আমি সেই মেয়ে যে নিজের ফ্যামিলি কে পর্যন্ত নিজের দুঃখ সহজে বুঝতে দেয়নি যতক্ষণ না তারা নিজে থেকে বুঝেছে। আমি সেই মেয়ে যে স্বামী সন্তানকে পুরো পৃথীবি বানিয়ে নিয়ে ছিলাম। আমি সেই মেয়ে যে কান্না লুকিয়ে সব সময় ভালো থাকার অভিনয় করেছিলাম। আমি সেই মেয়ে যে স্বামী ব্যতীত অন্য কারো দিকে চোখ তুলে কখনো তাকাইনি। আমি সেই মেয়ে যে সমস্ত ভালবাসা শুধু তাকে দিয়ে ছিলাম। বিনিময়ে অবহেলা ছাড়া আর কিছুই পাইনি তারপরও থাকতে চেয়েছিলাম। আমি সেই মেয়ে যে তার সব কমতি ঢেকে রেখে মানুষের কাছে তাকে সম্মানের জায়গায় রেখেছিলাম। আমি সেই মেয়ে যে সকালে নামাজের জন্য ডাকার কারনে প্রতিনিয়ত থাপ্পর খেয়ে দিন শুরু করতাম। আবার আমিই দুপুরে তার জন্য তার পছন্দের খাবার রান্না করে, তার ফেরার অপেক্ষা করতাম। অনুতপ্ত হওয়া কি জিনিস তা কখনোই সে বোঝে নাই। তারপরও ধৈর্য ধরে ছিলাম হয়তো আল্লাহ যেদিন হেদায়েত দিবে সেদিন হয়তো সে নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হবে। আসলে যে প্রতিনিয়ত নিজের চরিত্রকে হেফাজত করে না নিজের দৃষ্টিকে হেফাজত করে না নিজের জবানকে হেফাজত করে না তার হেদায়েত হয়তো হবে কিনা তা আল্লাহ জানে। যার স্ত্রী পুরুষ দেখলে পুরুষের কণ্ঠস্বর শুনলে নিজেকে লুকিয়ে ফেলে আর অন্যদিকে সে কিনা একজন বেগানা নারীর কণ্ঠস্বর শুনলে এক পা সামনে গিয়ে খুব আনন্দ চিত্তে কথা বলে। স্ত্রী কি? স্ত্রীর সম্মান কি? তা কখনো বোঝার চেষ্টাও করেনি। উল্টো গর্বের সাথে সবসময় নিজেকে উপস্থাপন করতো- আমি কি বউ পাগল!
আমি সেই মেয়ে যে হাজারো দুঃখ কষ্ট নিজের মধ্যে দাফন করে বাহিরে হাসিমুখে চলতাম। আমি সেই মেয়ে যে মারাত্মক ভাবে অসুস্থ থাকার পর ও সব দায়িত্ব পালন করেছি। হাজার বার অবহেলিত হওয়ার পর ও থাকতে চেয়েছি ,সম্পর্ক আমার কাছে এতটাই মূল্যবান ছিলো যে নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়েছি বার বার। নিজেই নিজেকে আঘাত করেছি বার বার তারপর ও কাউকে অসম্নান করতে চাইনি ,বেহায়ার মতো সবার ভালোবাসা চেয়েও ,নিজের ফ্যামিলি ছাড়া কোনও সাপোর্ট পাইনি কারোর থেকে ,অসময়ে দুঃসময়ে আকুতি মিনতি করেছি একটু খানি গুরুত্ব পাওয়ার জন্য, শুধু একটু ভালো ব্যাবহার পাওয়ার জন্য। আমি সেই মেয়ে যে হাজার বার বুঝিয়েছি আমাদের একটা সন্তান আছে সন্তানের মুখ চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করো। হ্যাঁ পরিবর্তন করেছে ঠিকই তা সংসার রক্ষার জন্য না সংসার ভাঙার জন্য। আমি সেই মেয়ে যে কিনা মা খাদিজা (রা.) এর মত চেষ্টা করেছিলাম স্বামীর জন্য ঘরটাকে শান্তির নির বানিয়ে রাখতে।
কিন্তু আমার সব যত্ন, ভালোবাসা আর তার প্রতি দেখানো সম্মান এগুলা সবটাকে সে সবসময় আমার দুর্বলতা ভেবেই অবহেলা করেছে। কিন্তু কোনো কিছুই হয়তো আমার ভাগ্যে ছিলো না ,অথবা কোনও কিছুরই যোগ্য না ,আমি সেই মেয়ে যে প্রায় ৫ বছর,২ মাস নিজেকে বিসর্জন দিয়ে শুন্য হাতে ফিরে এসেছি।তার মায়ায়, তার আশক্তিতে এতটাই মগ্ন ছিলাম আসলে আমার নিজ থেকে ফিরে আসার ক্ষমতা ছিল না। আল্লাহ এই রহমতের মাসে রহমত দিয়ে আমাকে ফিরিয়ে এনেছেন আলহামদুলিল্লাহ। যাইহোক একজন একজন করে আমার পক্ষে এই মুহূর্তে জানানো সম্ভব ছিলো না,সবাই দোয়া করবেন । অভিভাবক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। আল্লাহ যা করেন, বান্দার সর্বোত্তম কল্যাণের জন্যই।
হাসবুনাল্লাহ ওয়া নি'মাল ওয়াকিল।