16/12/2025
বিশাল এই পাহাড়টার নাম উহুদ। এই উহুদ কত সাহসী কত বীর সাহাবীকেই না দেখেছে। কত জাদরেল, জযবাওয়ালা সাহাবীর রক্ত এই উহুদের জমিনে মিশে আছে! এক মহিয়সী নারীও সেদিন এই উহুদে ছিলেন।
উহুদে তুমুল যুদ্ধ চলছিলো। যখন যুদ্ধের পরিস্থিতি ভয়ংকর অবস্থায় চলে গেলো, সাহাবায়ে কেরামদের সারি ভেঙ্গে গেলো, চারদিক থেকে আক্রমণ আসতে থাকলো এবং যে সমস্ত সাহাবীরা রাসূল (সাঃ) কে ঘিরে রেখেছিলো তাদেরও সংখ্যা কমে গেলো।
ঠিক সেই কঠিন মুহূর্তেই সামনে এগিয়ে আসেন সেই মহিয়সী নারী, উম্মে আম্মারা নুসাইবা বিনতে কা‘ব (রা.)।
তিনি সেদিন মূলত আহতদের পানি পান করানো ও সেবা করার জন্য এসেছিলেন। কিন্তু যখন দেখলেন শত্রুরা রাসূল (সাঃ) এর দিকে ধেয়ে আসছে, তখন আর পিছিয়ে থাকেননি। হাতে তুলে নিলেন তরবারি আর নিজের শরীরকে রাসূল (সাঃ) এর সামনে ঢাল বানিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন।
যখন সাহাবায়ে কেরামরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছেন, তখন উম্মে আম্মারা (রা.) একের পর এক আঘাত প্রতিহত করছিলেন। দক্ষ তীরন্দাজের মত করে কাফেরদের দিকে তীর ছুড়ছিলেন। যে দিক দিয়েই শত্রু আসছিল, সেদিকেই তিনি নিজেকে এগিয়ে দিচ্ছিলেন।
রাসূল সাঃ নিজে তার ব্যাপারে বলেছেন, উহুদের দিনে আমি যেদিকেই তাকিয়েছি, সেদিকেই উম্মে আম্মারাকে আমাকে রক্ষা করতে দেখেছি।
সেদিন উম্মে আম্মারা (রা.) এর শরীরে দশেরও বেশি গভীর আঘাত লাগে। তবুও তিনি পিছু সরেননি। রক্ত ঝরছিল, হাত কাঁপছিল কিন্তু চোখ ছিল শুধু রাসূল (সাঃ) এর দিকে। কোনো আঘাত যেন তাঁর গায়ে না লাগে।
এই মহিয়সী নারী এরপর আরও অনেক যুদ্ধে এমন বীরের মত লড়েছিলেন। এক যুদ্ধে তার এক হাত কাটা পড়েছিলো।
এক সীরাত আলোচনায় শুনেছিলাম, তাকে যিনি গোসল করিয়েছিলেন, তিনি বর্ণনা করেন, তার শরীরের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে তলোয়ারের আঘাত ছিলোনা।
জান্নাতুল বাকীতে তার কবর আছে। বাকীর সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় এই মহিয়সীকে স্মরণ করবেন কিন্তু!