Jahanara's Creation

Jahanara's Creation Clothing ( brand)

আসসালামু আলাইকুম আমি প্রশিক্ষক জাহানারা ইসলাম ।আমি অনলাইনে সেলাই কাজ শিখিয়ে থাকি।২৮ তম সেলাই শিক্ষা ব্যাচের ভর্তি চলছে.....
15/12/2023

আসসালামু আলাইকুম

আমি প্রশিক্ষক জাহানারা ইসলাম ।

আমি অনলাইনে সেলাই কাজ শিখিয়ে থাকি।
২৮ তম সেলাই শিক্ষা ব্যাচের ভর্তি চলছে...

এড ফি ১৭৫০টাকা।

সূ্ত্র সহকারে শিখানো হয়।
১ মাসের ফুল কোর্স
মেয়েদের যাবতীয় আইটেম।
প্রতিদিন রাত ৮ টায় ক্লাস হয় সময় ১ ঘন্টা।
ক্লাস সেভ থাকবে।
প্রতি মাসের ১ তারিখ থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত ক্লাস হয়।
আপনি যদি সূত্র সহকারে সেলাই কাজ শিখতে চান তাহলে এড ফি দিয়ে ভর্তি হতে হবে।
ভর্তি এর সময় চলতি মাসের ৫ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে করে নিতে হবে।

09/06/2023

রবীন্দ্রনাথ-কাদম্বরী দেবীর প্রেম: কতটা জল্পনা আর কতটা সত্যি?



কাদম্বরীর মৃত্যুর পরে ঠাকুরবাড়িতে পুলিশ এলেও মৃতদেহ পাঠানো হয়নি মর্গে। বরং করোনার কোর্ট বসানো হয় বাড়িতেই। আত্মহত্যার খবর যাতে কোনও সংবাদপত্রে প্রকাশিত না হয়, তা সুনিশ্চিৎ করতে ঠাকুরবাড়ির তরফে বিভিন্ন মহলে ঘুষ দেওয়ারও হিসেব পাওয়া যায়

রবীন্দ্রনাথ ও কাদম্বরী দেবীর সম্পর্ক বিষয়ে অতিবিস্তারিত আলোচনার পরিসর আপাতত নেই, কাজেই সরাসরি মূল প্রসঙ্গে প্রবেশ করা যাক। কাদম্বরী দেবী [৫ জুলাই, ১৮৫৯- ২১ এপ্রিল(?)১৮৮৪, প্রকৃত নাম মাতঙ্গিনী গঙ্গোপাধ্যায়] ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সপ্তম সন্তান জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের (৪ মে, ১৮৪৯-৪ মার্চ, ১৯২৫) স্ত্রী। কাদম্বরীর বয়স যখন ৯ বছর, তখন ১৯ বছর বয়সি জ্যোতিরিন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়। কাদম্বরীর পিতা শ্যাম গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন ঠাকুরবাড়ির বাজার সরকার। সামাজিক প্রতিপত্তিতে কাদম্বরীদের পরিবার ঠাকুর পরিবারের সমকক্ষ না হলেও ঠাকুরবাড়ির কিছু ধর্মঘটিত বাধ্যবাধ্যকতা ও দেবেন্দ্রনাথের নির্বন্ধের কারণে এই বিবাহ সম্পন্ন হয়। কাদম্বরী যখন পুত্রবধূ হিসেবে ঠাকুর পরিবারে প্রবেশ করেন, তখন রবীন্দ্রনাথের বয়স ৭। অর্থাৎ কাদম্বরীর চেয়ে ২ ও জ্যোতিরিন্দ্রনাথের চেয়ে ১২ বছরের ছোট ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। ১৬ বছর বৈবাহিক জীবনযাপন করার পরে ১৮৮৪ সালের ১৯ এপ্রিল আফিম খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন কাদম্বরী। তার দু’দিন পরে ২১ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়। তবে সুনির্দিষ্টভাবে ১৯ ও ২১ তারিখেই যথাক্রমে আফিম সেবন ও মৃত্যুর ঘটনা দু’টি ঘটে কি না, তা নিয়ে ঈষৎ সংশয় রয়েছে।

বাঙালি সমাজে একজন বিবাহিতা তরুণীর আত্মহত্যা স্বভাবতই কৌতূহলোদ্দীপক। যদিও সেকালের বাঙালি এই বিষয়ে সম্ভবত খুব একটা কৌতূহল দেখানোর সুযোগ পায়নি, কারণ ঠাকুরবাড়ির উদ্যোগে গোটা বিষয়টিই ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল। এখন প্রশ্ন হল, সমকালে বাঙালি যদি এই বিষয়ে কৌতূহল প্রকাশ না করে থাকে, তাহলে পরবর্তীকালে এই নিয়ে হঠাৎ তার আগ্রহ জেগে উঠল কেন? এই প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান করতে গেলে দেখা যাবে, কাদম্বরী বিষয়ক আলোচনার পথ প্রশস্ত হয়েছে রবীন্দ্রনাথের নিজেরই লেখালিখির সূত্র ধরে। নিজের ৫১ বছর বয়সে ‘জীবনস্মৃতি’(১৯১২) লিখতে বসে রবীন্দ্রনাথ জানালেন, তাঁর ‘‘চব্বিশ বছর বয়সের সময় মৃত্যুর সঙ্গে যে পরিচয় হইল তাহা স্থায়ী পরিচয়।’’ যদিও রবীন্দ্রনাথের ২৪ বছর বয়সের সময়ে ঠাকুরবাড়িতে মোট তিনটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে— রবীন্দ্রনাথের ভগ্নীপতি সারদাপ্রসাদ, বউঠাকুরানি কাদম্বরী, ও মেজদাদা হেমেন্দ্রনাথের; তবু মৃত্যুর সঙ্গে কবির স্থায়ী পরিচিতি যে মূলত কাদম্বরী-প্রয়াণের সূত্র ধরে— একথা কালে কালে সর্বব্যাপকভাবেই অনুমিত হয়। অনুমানের সঙ্গত কারণও ছিল। ১৯৪০ সালে যখন রবীন্দ্রনাথ ‘ছেলেবেলা’ লিখলেন, তখন উন্মোচিত হল কাদম্বরীর সঙ্গে তাঁর অন্তরঙ্গ সম্পর্কের নানা দিক। জানা গেল, কীভাবে ‘‘যা-তা তর্ক নিয়ে কথা-কাটাকাটি’’ চলত দু’জনের, কীভাবে ঠাকুরপোর কবিত্বশক্তিকে একেবারে নস্যাৎ করে দিয়ে কাদম্বরী ‘‘কেবলই খোঁটা দিয়ে বলতেন, কোনোকালে বিহারী চক্রবর্তীর মতো’’ লিখতে পারবেন না তিনি। বলা বাহুল্য, ‘তর্ক’ ও ‘খোঁটা’র বাহ্যিক ও ছদ্ম অম্লতার অন্তরালে নিহিত ছিল পারস্পরিক স্নেহ ও শ্রদ্ধার মাধুর্য। জানা গেল, জ্যোতিরিন্দ্রনাথ যখন কাছারিতে যেতেন তখন তেতলার ঘরের দ্বিপ্রাহরিক নির্জনতায় বউদি ও দেওরের সময় কাটত পারস্পরিক সান্নিধ্যে। রবীন্দ্রনাথ ‘বঙ্গদর্শন’ থেকে উপন্যাস পড়ে শোনাতেন বউঠাকরুণকে। ‘‘আপন মনে পড়ার চেয়ে আমার পড়া শুনতে বউঠাকরুণ ভালবাসতেন। তখন বিজলিপাখা ছিল না। পড়তে পড়তে বউঠাকরুনের হাতপাখার একটা ভাগ আমি আদায় করে নিতুম।’’ (১১৫)

রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পরে কাদম্বরী বিষয়ক আরও নানাবিধ তথ্য জনগোচরে আসতে থাকে। ঠাকুরবাড়ির ক্যাশবইয়ের হিসেব থেকে জানা যায়, কাদম্বরীর মৃত্যুর পরে ঠাকুরবাড়িতে পুলিশ এলেও মৃতদেহ পাঠানো হয়নি মর্গে। বরং করোনার কোর্ট বসানো হয় বাড়িতেই। আত্মহত্যার খবর যাতে কোনও সংবাদপত্রে প্রকাশিত না হয়, তা সুনিশ্চিৎ করতে ঠাকুরবাড়ির তরফে বিভিন্ন মহলে ঘুষ দেওয়ারও হিসেব পাওয়া যায় (পাল ২০৬-২০৭)। অমল হোমকে উদ্ধৃত করে কাজী আবদুল ওদুদ ‘কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ’ গ্রন্থে জানান, কাদম্বরী নাকি একটি সুইসাইড নোট পর্যন্ত রেখে গিয়েছিলেন। ঠাকুরবাড়ির পক্ষে কলঙ্কজনক বিবেচনায় দেবেন্দ্রনাথের আদেশে সেই নোট বিনষ্ট করা হয় (পাল ৭৩)। অন্যদিকে ঠাকুরবাড়ির ঘটনাপ্রবাহ অনুসরণ করে দেখা যায়, রবীন্দ্রনাথের বিবাহের মাস চারেক পরেই আত্মহত্যা করেছেন কাদম্বরী। দু’য়ে দু’য়ে চার করার মতো সহজ প্রক্রিয়ায় অনেকের মনেই দানা বাঁধতে থাকে এই সংশয় যে, রবীন্দ্রনাথ আর কাদম্বরীর মাঝে রবীন্দ্র-পত্নী মৃণালিনীর আগমনই কি তবে কাদম্বরীর আত্মহননের কারণ? অনেকের মনে এই সংশয় প্রত্যয়ের আকার ধারণ করে।

রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে রবীন্দ্র-কাদম্বরী সম্পর্ক বিষয়ে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ কিছু কম হয়নি। এমতাবস্থায় এই প্রতিবেদন একটি বিনীত প্রশ্ন তুলে ধরতে চায়, এবং সেটি এই যে, রবীন্দ্র-কাদম্বরীর সম্পর্ক যে নিশ্চিতভাবে বিশুদ্ধ প্রেম সম্পর্কই ছিল— এমন সিদ্ধান্ত করার মতো যথেষ্ট (প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ) প্রমাণ কি আমাদের হাতে এসেছে? এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে, ‘বিশুদ্ধ প্রেম’ বস্তুটি কী? ‘বিশুদ্ধ প্রেম’ বলতে আমরা বোঝাচ্ছি সেই মনোভাবকে যাকে মনস্তত্ত্ববিদ রবার্ট স্টার্নবার্গ তাঁর ত্রিবিধ প্রণয়তত্ত্বে ‘কনজিউমেট লাভ’ বলে চিহ্নিত করেছেন, যার ত্রয়ী উপাদানের একটি হল ‘প্যাশন’ বা পারস্পরিক যৌনাকাঙ্ক্ষা (অন্য দু’টি উপাদান হল ‘ইন্টিমেসি’ ও ‘কমিটমেন্ট’) (258)। প্রশ্ন হল, রবীন্দ্র-কাদম্বরী সম্পর্কে এ হেন পারস্পরিক যৌনাকাঙ্ক্ষার অস্তিত্ব ছিল কী?



‘দেবর ও ভাতৃবধূর যে-সম্পর্ক স্বভাবতই অতি মধুর’, তাকে স্বভাবতই ‘হৃদয়ানুরাগ’ বলে ধরে নিয়েছেন জগদীশবাবু। ফলে গোড়াতেই তাঁর আলোচনা একটি নির্দিষ্ট গতে বাঁধা হয়ে যায়।

রবীন্দ্র-কাদম্বরী সম্পর্ক নিয়ে কোনও সন্দেহাতীত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর পথে অন্যতম প্রধান সীমাবদ্ধতা হল এই যে, এই সম্পর্ক বিষয়ে কাদম্বরীর ভাষ্যটি কোনওদিনও জানা সম্ভব নয়। তিনি নিজে কিছু লিখে যাননি, অন্তত আমাদের হাতে আসেনি তাঁর কোনও লেখা। তাঁকে যেটুকু আমরা চিনেছি তা রবীন্দ্রনাথের সূত্রেই চেনা। রবীন্দ্রনাথ তাঁকে যেভাবে দেখেছিলেন, অনুভব করেছিলেন, সেইভাবেই তুলে ধরেছেন আমাদের সামনে। বলা বাহুল্য, এভাবে জানা পূর্ণাঙ্গ জানা নয়। ফলে কাদম্বরীর নিজের মনোভাব কী ছিল তাঁর এই ঠাকুরপোটির প্রতি, তা কেবল অনুমানগম্য একটি বিষয়। কাজেই এই সম্পর্ক-রহস্য ভেদের প্রক্রিয়াটি প্রায় বাধ্যতামূলকভাবেই একমুখী, কেননা তা কেবল রবীন্দ্রজীবনে কাদম্বরীর অবস্থান বিশ্লেষণের পরিধিতে সীমাবদ্ধ। এই সীমাবদ্ধতা রবীন্দ্র-কাদম্বরী সম্পর্কে বিশুদ্ধ প্রেমের পারস্পরিক আকাঙ্ক্ষার অনিবার্য শর্তটি প্রমাণের পথে বড় বাধা।

রবীন্দ্রনাথই বা কী দৃষ্টিতে দেখতেন কাদম্বরীকে? যেসব গবেষকের বক্তব্য হল, রবীন্দ্রনাথ প্রণয়িনী হিসেবেই কামনা করেছিলেন কাদম্বরীকে, তাঁদের আলোচনার ধরণটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, তাঁরা তাঁদের আলোচনার শুরুতে প্রায় স্বতঃসিদ্ধ হিসেবেই ধরে নিয়েছেন যে, রবীন্দ্রচিত্ত কাদম্বরীর প্রতি প্রেমে আকণ্ঠ নিমজ্জিত ছিল। এরপর যে প্রক্রিয়ায় রবীন্দ্রনাথের বিভিন্ন লেখা থেকে তাঁরা কাদম্বরী-প্রেমের প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন তা অনেকটা উত্তরমালার উত্তরটি দেখে নিয়ে বিপরীত প্রক্রিয়ায় অঙ্ক কষতে বসার মতো দাঁড়িয়েছে। এই আলোচকদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রণিধানযোগ্য ব্যক্তিত্ব জগদীশ ভট্টাচার্য। প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় রবীন্দ্রজীবনীতে রবীন্দ্রনাথের কাব্যাকাশের ধ্রুবতারা বলে কাদম্বরীকে চিহ্নিত করেছিলেন। আর জগদীশ ভট্টাচার্য কাদম্বরীকে কবির প্রণায়াকাশের ধ্রুবতারা বলে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টায় রত হলেন তাঁর ‘কবিমানসী’ গ্রন্থে, দুটি খণ্ডের বিস্তারে প্রমাণ করার চেষ্টা করলেন যে, রবীন্দ্রজীবনে কাদম্বরীর ভূমিকা প্রণয়িনী ব্যতীত অন্য কিছু হতেই পারে না। আর যে পথটি প্রশস্ত করলেন জগদীশ ভট্টাচার্য, পরবর্তীকালে মূলত সেই পথেই হেঁটে রবীন্দ্র-কাদম্বরীর প্রণয় বিষয়ে জগদীশবাবুর দাবিকে সমর্থন জোগালেন আবদুশ শাকুর (‘রবীন্দ্রনাথের স্থপতি কাদম্বরী দেবী’, রবীন্দ্রজীবনের অনুজ্জ্বল অঞ্চল) কিংবা সুধীর কাকর (ইয়াং টেগোর: দা মেকিংগস অফ আ জিনিয়াস)-রা। প্রত্যেকের লেখা আলাদা করে বিশ্লেষণের পরিবর্তে আমরা, অতএব, বোঝার চেষ্টা করি জগদীশবাবুর সিদ্ধান্তগ্রহণের প্রক্রিয়াটি।

জগদীশবাবু তাঁর গ্রন্থারম্ভেই জানাচ্ছেন, “আমাদের পারিবারিক জীবনে সমবয়স্ক দেবর ও ভাতৃবধূর যে-সম্পর্ক স্বভাবতই অতি মধুর, রবীন্দ্রনাথের জীবনে তা মধুরতম রূপ নিয়েই দেখা দিয়েছিল;... বস্তুত, কাদম্বরী দেবীর প্রতি তরুণ রবীন্দ্রনাথের হৃদয়ানুরাগই তাঁর জীবনের গভীরতম উপলব্ধি এবং কাদম্বরী দেবীর মৃত্যুই রবীন্দ্র-জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা” (কবিমানসী ১:৮)। ‘দেবর ও ভাতৃবধূর যে-সম্পর্ক স্বভাবতই অতি মধুর’, তাকে স্বভাবতই ‘হৃদয়ানুরাগ’ বলে ধরে নিয়েছেন জগদীশবাবু। ফলে গোড়াতেই তাঁর আলোচনা একটি নির্দিষ্ট গতে বাঁধা হয়ে যায়। প্রভাতকুমার রচিত রবীন্দ্রজীবনীর প্রতি তাঁর ক্ষুণ্ণ অভিযোগের সারমর্ম এই— ‘রবীন্দ্রজীবনী’র প্রথম সংস্করণের পর দ্বিতীয় সংস্করণে নিজের বক্তব্যের ঈষৎ বিস্তার ঘটিয়ে প্রভাতকুমার যে লিখেছিলেন, “…সারদা দেবীর দেবীর মৃত্যুর পর তিনিই (কাদম্বরী) মাতৃহীন শিশুদের মাতৃস্থান, বন্ধুস্থান (প্রথম সংস্করণে ছিল কেবল ‘মাতৃস্থান’) গ্রহণ করিয়াছিলেন”, এতে তাঁর ‘দোলাচল-চিত্তবৃত্তি’ প্রকাশ পেয়েছে (কবিমানসী ১:৭-৮)। অর্থাৎ ‘বন্ধুস্থান’-এর পরিবর্তে যদি প্রভাতবাবু সরাসরি ‘প্রেমিকাস্থান’ বলতে পারতেন, তবেই বোধ করি তাঁর সুস্থিরমতিত্বের পরিচয় পেতেন জগদীশবাবু। প্রভাতবাবু আদপে কোনও অনর্থক জল্পনার দিকে যেতে চাননি। রবীন্দ্রনাথ নিজেই ‘জীবনস্মৃতি’-তে লিখেছিলেন, “মায়ের মৃত্যুর পরে বাড়িতে যিনি কনিষ্ঠা বধূ ছিলেন (অর্থাৎ কাদম্বরী) তিনিই মাতৃহীন বালকদের ভার লইলেন। তিনিই আমাদিগকে খাওয়াইয়া পরাইয়া সর্বদা কাছে টানিয়া, আমাদের যে কোনও অভাব ঘটিয়াছে তাহা ভুলাইয়া রাখিবার জন্য দিনরাত্রি চেষ্টা করিলেন”(৮৬)। লক্ষ করার বিষয়, ‘মাতৃহীন বালকদের’ কথাটার উল্লেখের পরেও রবীন্দ্রনাথ উচ্চারণ করছেন ‘আমাদিগকে’, যা ওই মাতৃহীন বালকদের মধ্যে তাঁর নিজের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করছে। জগদীশবাবু রবীন্দ্র-কাদম্বরী প্রণয়তত্ত্বের সপক্ষে গুরুতর প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন রবীন্দ্রনাথের ১১টি বইয়ের উৎসর্গপত্র। তাঁর মতে, এই ১১টি গ্রন্থই কাদম্বরী দেবীকে উৎসর্গিত। তাঁর ‘মতে’ বলা এই কারণেই যে, বইগুলির একটিরও উৎসর্গপত্রে প্রত্যক্ষভাবে কাদম্বরীর নাম উল্লেখ নেই, ফলে উৎসর্গের লক্ষ্যব্যক্তি সর্বদাই অনুমিত। অনুমানগুলি কতদূর যুক্তিসঙ্গত তা আলাদা প্রশ্ন, কিন্তু এটাও লক্ষ্য করবার বিষয় যে, রবীন্দ্রনাথ তাঁর জন্মদাত্রী মা-কে সারা জীবনে একটিও গ্রন্থ উৎসর্গ করেননি। সেই ক্ষতিপূরণই কি তিনি করতে চেয়েছিলেন ‘মাতৃস্থান’ দখল করে বসা কাদম্বরীকে এতগুলি গ্রন্থোৎসর্গ করে? একথাও স্মরণ্য যে, কাদম্বরী নিজেও ছিলেন নিঃসন্তান। ফলে “মাতৃহারা দেবরকে তিনি প্রায় মাতার স্নেহেই যত্ন করেছেন”(পাল ২০৫)। এই বিষয়গুলি অবশ্য জগদীশবাবুকে তেমনভাবে ভাবিত করেনি। তাছাড়া প্রভাতবাবু যে রবীন্দ্রজীবনে কাদম্বরীর ‘মাতৃস্থান’-এর পাশাপাশি ‘বন্ধুস্থান’-এরও কল্পনা করেছিলেন, তা নিতান্ত অমূলক ছিল না। যে কবি ‘শিশু’, ও ‘শিশু ভোলানাথ’-এর মতো দুটি কবিতাবইয়ের রচয়িতা, তিনি যে মাতৃস্থানের সঙ্গে বিশুদ্ধ বন্ধুস্থানকে বিজড়িত করেই সামগ্রিক মাতৃমূর্তির কল্পনা করেন, তা কি বলার অপেক্ষা রাখে?

২৪ বছর বয়সে মৃত্যুর যে পরিচয় পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ, তা যথার্থই স্থায়ী পরিচয় হয়েছিল তাঁর জীবনে। মৃত্যুর এই তীব্রতম অভিঘাত যে তাঁকে পেতে হল এই বয়সে, তা কেবল নিকটতম জনের চলে যাওয়ার কারণেই নয়। প্রশান্তকুমার পালের প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যাটি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি লিখছেন, “এতদিন পর্যন্ত মৃত্যু সম্পর্কে তাঁর কোনো প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ছিল না। মায়ের মৃত্যু যখন ঘটেছিল তখন তিনি নিদ্রিত, বড়ো বউঠাকুরানীর সর্বাঙ্গসুন্দরী দেবীর মৃত্যুর সময় তিনি আমেদাবাদে অবস্থান করছেন, জ্যেষ্ঠ ভগ্নীপতি সারদাপ্রসাদের মৃত্যু হয় তাঁর বিবাহের রাত্রে শিলাইদহে। কিন্তু কাদম্বরী দেবীর যন্ত্রণাকাতর মৃত্যু ঘটল তাঁর চোখের সামনে;…” (২০৭)। প্রশান্তবাবুর ব্যাখ্যা নির্ভুল বলেই মনে হয়, কারণ এই মৃত্যু প্রসঙ্গে ‘জীবনস্মৃতি’তে রবীন্দ্রনাথ নিজেই লিখেছেন, “ইতিপূর্বে মৃত্যুকে আমি কোনোদিন প্রত্যক্ষ করি নাই” (৮৬)। ২৪ বছর বয়সে সেই প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাটিও ঘটল এক অতি আপনজনের অকাল এবং অস্বাভাবিক মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। স্বভাবতই সেই মৃত্যু-বেদনাকে কোনওদিন ভুলতে পারেননি রবীন্দ্রনাথ। কাজেই ২৪ বছর বয়সের রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুশোক আদপে তাঁর ‘প্রণয়িনী’ কাদম্বরী-বিয়োগজনিত— জগদীশবাবুর এই সিদ্ধান্ত (কবিমানসী ১: ২৩৫-২৭৯) অখণ্ডনীয় বলে মনে হয় না।



আর কাদম্বরী? রবীন্দ্রনাথের প্রতি কী ছিল তাঁর মনোভাব? কেন তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিলেন? জ্যোতিরিন্দ্রনাথের বিপথগমনকে অনেকে দায়ী করেছেন কাদম্বরীর এই পরিণতির জন্য।

পুনরায় ফিরে আসা যাক, রবীন্দ্রনাথের গ্রন্থোৎসর্গ প্রসঙ্গে। এবং এই সূত্রে এই কথার পুনরুক্তি প্রয়োজন যে, যেসব রবীন্দ্র-গবেষক রবীন্দ্র-কাদম্বরীর প্রণয়তত্ত্বের সমর্থক, তাঁরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পূর্বনির্ধারিত পথে এগিয়েছেন। তাঁরা প্রথমেই সিদ্ধান্ত করেছেন যে, কাদম্বরী রবীন্দ্রনাথের প্রেমিকা ছাড়া কিছু হতেই পারেন না, অতএব যে কোনও ভস্মস্তূপ সরিয়ে অমূল্য রত্ন আবিষ্কারে তাঁরা বদ্ধপরিকর হয়েছেন। প্রভাতকুমারের মধ্যেও এই প্রবণতা মাথাচাড়া দিয়েছে মাঝেমধ্যে। রবীন্দ্রজীবনীর প্রথম খণ্ডে তিনি লিখছেন, ‘য়ুরোপপ্রবাসীর পত্র’ গ্রন্থের “উপহার-পৃষ্ঠায় লেখা ছিল ‘ভাই জ্যোতিদাদা, ইংলন্ডে যাঁহাকে সর্বাপেক্ষা অধিক মনে পড়িত তাঁহারই হস্তে এই পুস্তক সমর্পণ করিলাম।’ কাহাকে অধিক মনে পড়িত এবং গ্রন্থখানি কাহার হস্তে সমর্পিত হইল, তাহা উৎসর্গপত্র হইতে স্পষ্ট না হইলেও অনুমান করা কঠিন নহে” (৯২) অর্থাৎ জ্যোতিদাদার হাত দিয়ে কার্যত কাদম্বরীকেই গ্রন্থোৎসর্গ করছেন রবীন্দ্রনাথ। ‘অনুমান করা কঠিন নহে’ বলে এমন এক কষ্ট-অনুমান করার বিশেষ কোনও কারণ রয়েছে কী, বিশেষত ‘য়ুরোপপ্রবাসীর পত্রে’র কয়েকটি পত্র যখন প্রায় স্পষ্টত জ্যোতিরিন্দ্রনাথকে উদ্দেশ করেই লেখা (যেমন ৬ নম্বর চিঠিতে “তোমার মতো সুপুরুষ...” ইত্যাদি পংক্তি)। জগদীশ ভট্টাচার্য নানা দৃষ্টিকোণ থেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন, ‘ভারতী’তে প্রকাশকালে ‘ভগ্নহৃদয়’ কাব্যনাটকের ‘উপহার’ হিসেবে লিখিত কবিতাটিতে (“তোমারেই তো করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা...”) উক্ত ‘ধ্রুবতারা’ আসলে কাদম্বরী (কবিমানসী ২:১৫০-১৫২)। কিন্তু সামান্য অদলবদল করে নিয়ে রবীন্দ্রনাথ এই কবিতাটিকেই ব্রহ্মসংগীতে রূপান্তরিত করেন কবিতাটি রচনার কয়েকদিনের মধ্যেই। অথচ গানটির সেই পরিবর্তিত সংস্করণে ‘ধ্রুবতারা’র উপমানটি কিন্তু অপরিবর্তিত থাকে। এ থেকে প্রেমিকাকে উৎসর্গিত কবিতা দিন কয়েকের ব্যবধানে রবীন্দ্রনাথ ঈশ্বরকে উৎসর্গ করলেন—এমন সিদ্ধান্ত করার চেয়ে সহজ হয় এই সিদ্ধান্ত যে, ‘ধ্রুবতারা’ রবীন্দ্রনাথের কাছে স্বয়ং ঈশ্বরেরই উপমান। রবীন্দ্রসাহিত্য থেকে এই সিদ্ধান্তের সমর্থনও মেলে, “নিবিড় ঘন আঁধারে জ্বলিছে ধ্রুবতারা” কিংবা ‘রাজর্ষি’ উপন্যাসে বালক ধ্রুবর উচ্চারিত শ্লোক “আঁধারেতে জাগে তোমার আঁখিতারা, তোমার ভক্ত কভু হয় না পথহারা, ধ্রুব তোমায় চাহে তুমি ধ্রুবতারা—আর কার পানে চাই হে...” ইত্যাদি স্মরণ্য। ভগ্নহৃদয়ের জন্য নতুন যে উপহার রচনা করেন কবি, তার প্রথম পংক্তি “হৃদয়ের বনে বনে সূর্যমুখী শত শত...”। এই ‘সূর্যমুখী’ রবীন্দ্রসাহিত্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রণয়াস্পদের প্রতি প্রণয়াকাঙ্ক্ষীর উদ্গত হৃদয়ের প্রতীক। স্মরণ্য ‘মদনভস্মের পরে’-র “ঊর্ধ্বমুখে সূর্যমুখী স্মরিছে কোন বল্লভে, নির্ঝরিণী বহিছে কোন পিপাসা!” তবে আকাঙ্ক্ষিতের প্রতি এভাবে নিজেকে মেলে ধরা হৃদয়ের সঙ্গে ভক্ত-হৃদয়ের দূরত্ব যে সামান্যই, তা জানতেন রবীন্দ্রনাথ।

কাদম্বরীর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সম্পর্কে প্রত্যক্ষ শারীরিকতার লেশমাত্র ছিল না, একথা প্রায় নিশ্চিতভাবেই বলা চলে। জীবনের একটিমাত্র পর্বেই রবীন্দ্রনাথ ‘স্তন’, ‘চুম্বন’, ‘দেহের মিলন’ বা ‘বিবসনা’র মতো কবিতা লিখেছেন, এবং সেই পর্ব তাঁর বিবাহের অব্যবহিত পরবর্তী কয়েকটি দিনব্যাপী। বোঝা যায়, অনাস্বাদিতপূর্ব দেহসুখ আস্বাদনের পরে যে আলোড়ন অনুভব করেছিলেন কবি, সেই চাঞ্চল্যই তাঁকে দিয়ে এই কবিতাগুলি লিখিয়ে নিয়েছিল। তবে দৈহিকতা সম্ভব না হলেই যে প্রেম অসম্ভব হবে, এমনটা নয়। অতএব জানতে ইচ্ছে করে, কাদম্বরীর প্রতি যদি কোনও প্রণয়াবেগ অনুভব করেও থাকেন কবি, কখনও কি প্রণয়সম্ভাষণ করেছিলেন তাঁকে? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে অন্য একটি প্রশ্নও জাগে মনে, জীবনে আদৌ নিজের স্ত্রী ব্যতীত কোনও নারীর প্রতি কখনও নিজের প্রণয়ভাব স্পষ্টত ব্যক্ত করেছেন কি রবীন্দ্রনাথ? আনা তরখড়, বা বিলেতে মিসেস স্কটের দুই কন্যা, যাঁরা কবির প্রণয়প্রার্থী ছিল বলে কবি নিজেই জানিয়েছিলেন বয়সকালে(মুখোপাধ্যায়: ৯০-৯১), তাঁদের কি কখনও তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, ‘ভালবাসি’? এমনকী রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যজগতের ক’টি চরিত্র স্পষ্টত ব্যক্ত করতে পেরেছে কোনও নারী বা পুরুষের প্রতি নিজেদের প্রণয়াবেগের কথা? আসলে, রবীন্দ্রনাথ ভালবাসার ক্ষেত্রে এক আলোআঁধারি সম্পর্কে বিশ্বাসী ছিলেন বলে মনে হয়। এমন এক ভালবাসায় তাঁর আস্থা ছিল যা নির্দিষ্ট সামাজিক পরিচয়ে বন্দি নয়, সুনির্দিষ্ট অবয়বহীন, এবং সেই কারণেই যে কোনও অবয়ব ধারণে যার বাধা নেই। ফলে কাদম্বরীকে যদি কোনওদিন ভালবেসেও থাকেন রবীন্দ্রনাথ, সে কথা তাঁর কাছে স্পষ্টত ব্যক্ত করা তাঁর স্বভাববিরুদ্ধ ছিল বলেই মনে হয়।

আর কাদম্বরী? রবীন্দ্রনাথের প্রতি কী ছিল তাঁর মনোভাব? কেন তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিলেন? জ্যোতিরিন্দ্রনাথের বিপথগমনকে অনেকে দায়ী করেছেন কাদম্বরীর এই পরিণতির জন্য। কিন্তু সর্বাধিক তথ্যবহুল রবীন্দ্রজীবনীর রচয়িতা প্রশান্তকুমার পাল লিখেছেন, “মনে হয় এক ধরনের একাকীত্বের বোধ তাঁকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল” (২০৫)। কিন্তু এই একাকীত্বের জন্য জ্যোতিরিন্দ্রনাথকে দায়ী করতে তিনি রাজি নন। তিনি লিখছেন, “...মহর্ষির পুত্রদের মধ্যে নৈতিকতার এমন একটি উচ্চ আদর্শের পরিচয় পাওয়া যায় যে, সেখানে জ্যোতিরিন্দ্রনাথের চারিত্রিক দুর্বলতার সম্ভাবনা কোনো সুনিশ্চিত প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের কাছে অবাস্তব বলে মনে হয়” (২১৫)। তরুণী গৃহবধূর আত্মহত্যা যে স্বভাবতই সমাজে কেচ্ছার জন্ম দিতে পারে ও পরিণামে দুর্নাম রটতে পারে ঠাকুরবাড়ির, তা নির্ভুলভাবে অনুমান করতে পেরেছিলেন বলেই হয়তো দেবেন্দ্রনাথ এই খবর পাঁচকান হতে দেননি। এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে, রবীন্দ্রনাথের বিবাহ কি কোনও অস্থিরতার জন্ম দিয়েছিল কাদম্বরীর জীবনে? সে প্রশ্নের উত্তর অজানা, কিন্তু নিজের বিবাহের পরে রবীন্দ্রনাথের জীবনে সেরকম কোনও অস্থিরতার প্রমাণ অন্তত মেলে না। ‘জীবনস্মৃতি’-তে নিজের সেই ২৪ বছর বয়সের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি লিখছেন, “জীবনের মধ্যে কোথাও যে কিছুমাত্র ফাঁক আছে, তাহা তখন জানিতাম না; সমস্তই হাসিকান্নায় একেবারে নিরেট করিয়া যেন বোনা” (৮৬)। এই নিরেটত্ব রবীন্দ্রজীবনে মৃণালিনী ও কাদম্বরীর নির্দ্বন্দ্ব সহাবস্থানের প্রতীক। সেইসঙ্গে ওই দ্বন্দ্বহীনতা হয়তো রবীন্দ্রজীবনে এই দুই নারীর সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই মেরুতে অবস্থানেরও দ্যোতক।

তাহলে শেষ সিদ্ধান্ত কী দাঁড়াল? রবীন্দ্র-কাদম্বরী সম্পর্ক কি প্রণয়সম্পর্কই ছিল? এই প্রশ্নের সদুত্তর দেওয়ার মতো তথ্যপ্রমাণ এই ক্ষুদ্র প্রতিবেদন কেন, কোনও গবেষকের হাতেই এখনও পর্যন্ত নেই। আর তা নেই বলেই কাদম্বরীকে অভ্রান্তভাবে রবীন্দ্রনাথের প্রণয়িনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে বিনীত আপত্তি জানায় এই প্রতিবেদন। রবীন্দ্রনাথের পক্ষে তাঁর বউদির প্রতি আসক্ত হওয়া অসম্ভব মোটেই নয়, কিন্তু সম্ভব এবং সম্ভাবিতের পার্থক্যটুকু মনে রাখা জরুরি। উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে সেই পার্থক্য যতদিন না ঘুচছে, ততদিন কল্পনাকে জল্পনার স্তরে অবনমিত করে রবীন্দ্র-কাদম্বরী সম্পর্ক নিয়ে উপন্যাস লেখাই যায়, কিন্তু এটাও ভাবা জরুরি যে, রবীন্দ্রনাথকে বাঙালি যুবকের চিরন্তন বউদি-প্রীতির এপিটোম বানিয়ে, তাঁকে স্ক্যান্ডালের নায়ক সাজিয়ে একালের বাঙালি বই-পড়ুয়াদের কাছে কোন রবীন্দ্রনাথকে পৌঁছে দিচ্ছেন এই স্ক্যান্ডাল রচয়িতারা? রবীন্দ্রনাথ বোধহয় এখনও এতটা মৃত নন যে, স্ক্যান্ডালের যজ্ঞে ঘি ঢেলে তাঁর জীবনের পাবলিকভোগ্য এডিশন প্রকাশ করতে হবে।

গ্রন্থপঞ্জি :-

ঠাকুর রবীন্দ্রনাথ, রচনাবলী: একাদশ খণ্ড, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, ১৯৮৯

পাল প্রশান্তকুমার, রবিজীবনী: দ্বিতীয় খণ্ড, কলকাতা, আনন্দ, ২০১৩

ভট্টাচার্য জগদীশ, কবিমানসী ১, কলকাতা, ভারবি, ২০১৫

কবিমানসী ২, কলকাতা, ভারবি, ২০১৪

মুখোপাধ্যায় প্রভাতকুমার, রবীন্দ্রজীবনী ও রবীন্দ্রসাহিত্য-প্রবেশক: প্রথম খণ্ড, কলকাতা, বিশ্বভারতী প্রেস, ১৩৬৭

16/02/2023
Cute 💖💖
05/01/2023

Cute 💖💖

Just wow
11/05/2022

Just wow

05/04/2022

Address

Dhaka

Telephone

+8801758882518

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Jahanara's Creation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Jahanara's Creation:

Share