27/06/2021
অসুস্থতার কারণে বান্দার গুনাহ মাফ হয়
ইসলাম ডেস্ক
আপডেট: ২২৫৭ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯
 ছবি : প্রতীকী

আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন মাধ্যমে বান্দার মান-মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। সে জন্যে বিভিন্ন রোগ-বালাই দিয়ে পরীক্ষাও করেন। আবার কখনো এমন হয় যে, আল্লাত তাআলা বান্দার জন্য জান্নাতে উচ্চ মর্যাদার আসন নির্ধারণ করে রেখেছেন, কিন্তু বান্দা নিজের আমলের মাধ্যমে সেখানে পৌঁছতে সক্ষম নয়। তাই বিভিন্ন ছোট-খাটো পরীক্ষার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে সে মর্তবায় পৌঁছিয়ে দেন।
একদিন রাসুল (সা.) আয়েশার (রা.) কাছে গেলেন। দেখলেন আয়েশা কপালে একটি জলপট্টি দিয়ে আছেন এবং ব্যথার প্রকোপে কাঁপছেন।
রাসুল (সা.) জিজ্ঞেস করেন, ‘কী হয়েছে তোমার আয়েশা?’ বলেন, ‘জ্বর হয়েছে। আল্লাহ দ্রুত আরোগ্য দান করুন।
’ রাসুল (সা.) বলেন, ‘জ্বরকে মন্দ বোলো না। এটি বনি আদমের গুনাহকে এভাবে দূর করে দেয়, যেভাবে আগুন শুকনো লাকড়িকে জ্বালিয়ে শেষ করে দেয়।
’ (মুসলিম, হাদিস: ২৫৭৫
ইবনে হিব্বান রাসুলের একটি হাদিস বর্ণনা করেছে যে, তিনি বলেন, ‘বান্দার জন্য আল্লাহর দরবারে একটা স্থান নির্ধারিত রয়েছে, কিন্তু বান্দা নিজের আমলের মাধ্যমে সে স্থানে পৌঁছতে সক্ষম নয়। এজন্য আল্লাহ তাআলা বান্দার অপছন্দ হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন পরীক্ষা ফেলেন, যাতে নিজের মর্যাদার আসনে পৌঁছুতে পারে। ’ (ইবনে হিব্বান, হাদিস: ১৬৯/৭)
আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘কোনো রোগ আমার কাছে জ্বরের চেয়ে অধিক প্রিয় নয়। কেননা জ্বর শরীরের প্রতিটি অঙ্গ ও জোড়ায় পৌঁছে যায়। আর আল্লাহ তাআলা সে অনুপাতে সওয়াব দিয়ে থাকেন। ’ (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস নং: ৫০৩)
পরকালে দীর্ঘ আজাব আসার আগে আমি দুনিয়ায় সামান্য শাস্তি ভোগ করাই, যাতে লোকজন বদআমল থেকে ফিরে আসে।’ (সূরা: সিজদা, আয়াত: ২১)।
অসুস্থতা দ্বারা মুমিন বান্দার স্তর উন্নত হয়। অসুস্থতাকে অশুভ নিদর্শন হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘মহান আল্লাহ যার মঙ্গল চান তাকে দুঃখ-কষ্টে ফেলেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৬৪৫)