25/03/2021
বুলিং বা টিটকিরি কতটা ক্ষতি করছে আপনার বাচ্চার? জেনে নিন ও সতর্ক হোন!
সঞ্চারী ওর পাঁচ বছরের ছেলে রোহনকে ভর্তি করিয়েছে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে। এর আগে ও কিন্ডারগার্টেনে পড়ত। ছোট্ট রোহন বরাবর হাসিখুশি স্বভাবের। কখনও মা রেগে গিয়ে শাস্তি দিলেও ও কাঁদে না। স্কুলে ওর দু’জন নতুন বন্ধু হয়েছে। তাদের সঙ্গে ও টিফিন শেয়ার করে খায়। কিন্তু ইদানীং রোহন যেন চুপচাপ হয়ে যাচ্ছে। সঞ্চারী লক্ষ করেছে, ও স্কুল যাওয়ার সময় হলেই চুপচাপ হয়ে পড়ে। টানা এক সপ্তাহ এমনটা দেখার পর ওর মনে সন্দেহ জাগে।
রোহনকে একদিন ঘুম পাড়ানোর সময় জানতে চাইল, কী হয়েছে? স্কুলে যাবার সময় মুখ গোমড়া করে থাকিস কেন? রোহন মাকে জানাল, ওকে কয়েক দিন ধরে বন্ধুরা ‘মোটা মোটা’ বলে ডাকছে। এতে ওর খারাপ লাগে। তাই ওর স্কুল যেতে ভালোই লাগে না। ওর দাবি, আর স্কুলে যাবে না, এবার থেকে নাকি মায়ের কাছেই পড়াশোনা করবে। সঞ্চারী বুঝতে পারল, ব্যাপারটা গুরুতর। তখনই ঠিক করল এ ব্যাপারে একজন মনোবিদের পরামর্শ নেওয়া দরকার।
মনোবিদের কাছে যেতে তিনি পুরো ঘটনাটা মন দিয়ে শুনলেন। এরপর বললেন, স্কুলে ঢোকার পর দশের ভেতর চার জনই এমন আচরণের শিকার হয়।সোনামণি যত বড় হবে ততই ও এমন নানা সমস্যায় পড়বে। সে বুলিং হোক বা আর কোনও ভাবে হয়রানি! ওর সমস্যায় ওকে সাহায্য করতে হলে অভিভাবকের প্রথমেই কয়েকটি কথা মনে রাখা দরকার. এরপর তিনি সেই কথাগুলোই এক এক করে বললেন।
১) ওকে সময় দিন: প্রতিদিন স্কুলে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা খুদের ছোট্ট মনে নানারকম প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। ওরও এমন একজন প্রয়োজন, যার সঙ্গে ও ওর মনের কথা ভাগ করে নিতে পারে। তাই যতই কাজের চাপ থাক, দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় ওর জন্য রাখুন। স্কুলের কোন কোন ঘটনা ওর ভালো বা খারাপ লেগেছে, ওর থেকে জানতে চান। ছোট্ট সোনা ওর কথাগুলো বলার জন্য কাউকে না-পেলে নিজের সমস্যার কথাও ওকে মনের মধ্যে চেপে রাখতে হয়।
২) ওকে উৎসাহ দিন: কোনও বাধাবিপত্তির সম্মুখীন হলে ছোট্ট সোনা সহজেই ভেঙে পড়ে বা ভয় পায়। সব বাচ্চারই এই দুর্বলতা থাকে। এটি কাটানোর জন্যই ওকে উৎসাহ দেওয়া জরুরি। ও কোনও কাজ করতে ভয় পেলে বলুন একমাত্র ও-ই পারে কাজটি ঠিক মতো করতে। কাজটি করতে গিয়ে ভুল হলে, ওকে বুঝিয়ে দিন ভুলটা কেন হল। এতে ও আরও মনোযোগ সহকারে কাজটি করবে। আপনার উৎসাহ পেলে ও জীবনের অনেক সমস্যার থেকে সহজে বেরিয়ে আসতে পারবে.
৩) প্রশংসা করুন: ছোট্ট খোকা বা খুকু কোনও কাজে সফল হলে মনে মনে তার প্রশংসার জন্য অপেক্ষা করে। মনোবিদের কথায়, এটি শিশুমনের সাধারণ বৈশিষ্ট্য। খুদে তাই কোনও কাজ ভালোভাবে করলে ওকে তার জন্য প্রশংসা করুন। এতে ওর মধ্যে পজিটিভ শক্তি বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে আপনার প্রশংসা পেয়ে ওর মনোবল আরেকটু বেড়ে যাবে।
৪)ওর পাশে থাকুন: শুধু সমস্যার কথা শুনলেই হবে না। ওর সমস্যা যেন আপনারও সমস্যা, আপনার মুখে যেন ও নিজের চিন্তাই দেখতে পায়। এতে ও আপনাকে খুব কাছের মনে করবে। তা ছাড়া সমস্যার সমাধান করতে দু’জনে মিলে হাত লাগান। একা আপনি উপদেশ না-দিয়ে ও কী ভাবছে তাও জেনে নিন। এতে ওর চিন্তায় ভুল থাকলে তা শুধরে দিতে সুবিধা হবে।