12/06/2023
~ গল্পের নাম নেই
সকাল থেকেই নীরার মনটা খুব অস্থির লাগছে। কিছুই ভাল লাগছে না। তারমধ্যে বাসায় আজ একদম একা! সেই সকালে কি একটা আব্বুই বের হয়ে গেল তাকে কিছু না বলেই। এমনটা সাধারণত হয়না। খুব জরুরী কাজ হলে আগেই বলে দেয় নীরাকে। কিন্তু গত দুদিন আব্বুই ঠিকমতো কথা বলছেনা। কি হল কিছুই বুঝছেনা সে, আব্বুই কাল ও অনেক রাত করে ফিরেছিল। ঘুমে ছিল নীরা। অবশ্য তেমন গভীর ঘুম কখনোই তার হয়না। অনবরত কলিংবেল বাজছিল, তখন রাত ২টা দশ। ঘুমের ভেতর ও দরজার কাছে ঘড়িটায় চোখ পড়েছিল নীরার। আব্বুইকে দরজা খুলে দিয়েছিল সে ই। সকালে উঠেই দেখে আব্বুই আবার নাই। হঠাৎ মনে হল আব্বুইয়ের কাছে ঘরের এক্সট্রা চাবি থাকার কথা! তাহলে! গতরাতে তাকে উঠতে হলে কেন?! তাহলে কি! আব্বুই ভুলে চাবি নিয়ে যায়নি? এতোটা আনমনা তো না আব্বুই। এসব ভাবতেই আবার কলিংবেলের শব্দ শুনল নীরা। কে এল এ অসময়ে। দরজা খুলতেই তীব্র জর্দার গন্ধ নাকে এসে লাগল সাথে নাকে অজান্তেই হাত চলে গেল নীরার। আফা এরুম করেন ক্যান! জর্দাখান ই একটু বেশি খাই বলতে যেতেই রমিজা কে থামিয়ে দিল নীরা, এরপর কি বলবে তা নীরার মুখস্থ! কিন্তু কেন জানি জর্দার এই গন্ধটাই সহ্য করতে পারেনা। এই ছুটা বুয়াটা বেশ ভালো। একান্ত সমস্যা না হলে কখনো কাজে গাফিলতি দেয় না সে। মাঝবয়সী এই মহিলাকে গত ৭-৮ বছর ধরেই নীরা চেনে, স্বামী পরিত্যক্তা সন্তানহারা হয়েও জীবনের কঠিন বাস্তবতা নিয়ে সে খুব কষ্টে আছে কখনো তাকে দেখলে মনেই হয়না! সবসময় পান খাওয়া লাল দাঁতের একটা মিষ্টি হাসি ঝুলে আছে ঠোঁটে।
উফ! মাথাটা ভীষণ ধরেছে। একটু কফি খেলে বেশ হতো। রমিজাকে কফির কথা বলেই ছাদে উঠল নীরা। সকাল থেকে আকাশটা কেমন গুমোট! খুব মেঘ ও করেছে। ছাদের রেলিংটা তার খুব পছন্দ, বেশখানি চওড়া। তাদের বাড়িটা পাঁচতলার উপরে। শেষ ফ্লাটটাই তাদের। বাকিগুলো ভাড়া দেওয়া।এমনি নীরার সামান্য উচ্চতাভীতি থাকলেও আজ রেলিং এ বসে নিচের রাস্তা দেখতে খারাপ লাগছিল না তার। আফায়ায়ায়ায়ায়ায়া রমিজা ডাকছে নিশ্চয়ই কফি বানিয়েছে। রমিজা আবার সিঁড়ি ভেঙ্গে ছাদে উঠতে ভয় পায়! তার নাকি কাঁপুনি উঠে। নিচে গিয়ে কফির মগ টা নিয়ে আবার ছাদে উঠল নীরা। আব্বুই কে একটা ফোন দিতে হবে, নাম্বার ডায়াল করতেই একটা চেনা কন্ঠে ভেসে এল "দ্যা নাম্বার ইউ ডায়ালড ইজ ক্যান নট বি রিচ অ্যাট দিস মোমেন্ট - আপনার ডায়ালকৃত নাম্বারটি এইমূহুর্তে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা" বলতে বলতেই টো টো শব্দে কেটে গেল ফোনটা।
ধুর এসবের কোন মানে আছে? ভাল্লাগছেনা কিছু এভাবেই আকাশের দিকে ভাবলেশহীন ভাবে হঠাৎ একটা আসমানি রঙের ছোট্ট পাখি চোখে পড়ল, কি সুন্দর!! ইশ! তার জীবন টা যদি পাখিটার মতো হতো.. তাকে আর কিছুই ভাবতে হতোনা। খালি উড়ে উড়ে বেড়াতো! পেছন থেকে মেহেরুন্নেসা দেখছিল নীরাকে। তিনি নীরার ছোটখালা। নীরার মা মানে তসলিমুন্নেসা মারা যাওয়ার পর ছোট্ট নীরা তার কাছেই বড় হয়েছে, বিয়েশাদী সময়ে হয়নি বলে সন্তানের মুখ তিনি দেখেননি তাই নীরা তার নিজের মেয়ের মতোই। পেছন থেকে ডাক শুনে আম্মির দিকে তাকিয়ে নীরা যেন তৃষ্ণার্ত বুকে পানি পেল, এতোক্ষণে তার সব অভিযোগ শুনার মানুষ এসে গিয়েছে। মেহেরুন্নেসা একটি প্রাইভেট কলেজের সিনিয়র শিক্ষক, কাজের ব্যস্ততায় নীরার কাছে সময় করে আসা হয়না সবসময়। আজ মেয়েটাকে দেখে খুব মায়া লাগছে তার! একদম দিদির মতোন হয়েছে মেয়েটা। অনেক গল্প শেষে নীরার বায়না মতো দুজনে আইসক্রিম খেতে বের হল, ঠিক তখনই নীরার একটা ফোন এল।
হ্যালো বলতেই..
ওপাশ থেকে একজন কর্কশ কন্ঠে বলে উঠল, আপনি কি জামিল সাহেবের পরিচিত কেউ? হ্যাঁ বলতেই না বলতেই, লোকটি আবারো প্রায় চিৎকার যা বলল তার সারাংশ হচ্ছে জামিল সাহেব মানে নীরার আব্বুর খুব নির্মম ভাবে খুন হয়েছে, মৃতদেহের কিছু অংশ পাওয়া গিয়েছে, ডেথস্পট থেকে একটি মোবাইল ও.. খবরটা পুরোটা শুনার আগেই নীরা ওখানেই জ্ঞান হারাল।
প্রায় ২৮ ঘন্টা পর নীরার জ্ঞান ফিরেছে। কিন্তু নীরা আর কথা বলছেনা, তার ব্রেন ডেথ। প্রবল ঝাঁকুনি তে রিকশা থেকে পড়ে গিয়ে তার মাথায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় সেখানে থেকেই ব্রেনে এফেক্ট ফেলে।