11/01/2026
আস্তাগফিরুল্লাহ ,, আস্তাগফিরুল্লাহ ,, আস্তাগফিরুল্লাহ
(ব্যভিচারী নারী ও তার কর্মের গজব)
একবার আমরা এক বড় কাফেলার সাথে হজে যাচ্ছিলাম। আমাদের কাফেলায় একজন নারীও ছিল।
সফরের এক জায়গায় যাত্রাবিরতি করে আমরা বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। সেই নারীটি যখন ঘুমিয়ে ছিলেন,
হঠাৎ একটি বিশাল সাপ এসে তাঁর গলায় পেঁচিয়ে বসল।
সাপটি তাকে কামড়াচ্ছিল না,
কেবল পেঁচিয়ে ছিল।
কাফেলার কেউ ভয়ে সেই সাপটিকে সরাতে সাহস পেল না।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, সেই সাপটি টানা কয়েক দিন
তাঁর গলায় ওভাবেই ছিল।
কাফেলা যখন মক্কার পবিত্র সীমানায় (হারাম শরীফে) প্রবেশ করল, সাপটি হঠাৎ আলগা হয়ে নেমে পড়ল এবং
কোথাও মিলিয়ে গেল।
আমরা সবাই আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলাম এবং
হজের কাজ সম্পন্ন করলাম।
মক্কায় এক বুদ্ধিমান ব্যক্তি সাপটির কথা শুনে
ওই মহিলাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, "
ওরে দুর্ভাগা নারী!
তোর সেই সাপের খবর কী?"
মহিলাটি তাচ্ছিল্য করে উত্তর দিলেন, "
ও তো হয়তো দোজখের আগুনে পুড়ে মরেছে।"
সেই জ্ঞানী লোকটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বললেন, "
দোজখে কে থাকবে, সেটা সময়ই তোকে বুঝিয়ে দেবে!"
মহিলাটি লোকটির কথা বুঝতে না পেরে হেসেই উড়িয়ে দিলেন।
হজের কাজ শেষ করে কাফেলা যখন ঠিক সেই জায়গায় পৌঁছাল যেখান থেকে সাপটি এসেছিল,
অমনি পাহাড়ের এক পাশ থেকে
সেই আগের সাপটি ঝড়ের বেগে ধেয়ে এল এবং
পুনরায় মহিলার গলায় কুন্ডলী পাকিয়ে বসল।
মহিলাটি প্রচণ্ড যন্ত্রণায় চিৎকার করতে লাগলেন।
এরপর সেই সাপটি এক অদ্ভুত ধরণের শব্দ (শিস দেওয়া) করল। সেই শব্দের সাথে সাথে চারপাশের পাহাড় ও গর্ত থেকে
শত শত বিষধর সাপ বের হয়ে এল এবং
মহিলাটিকে জীবন্ত অবস্থায় খুবলে খেতে শুরু করল।
কাফেলার লোকজন স্তব্ধ হয়ে গেলেন।
তাঁরা সাথে থাকা এক দাসীকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, "
এই মহিলার আসল পরিচয় কী ছিল?
তিনি কী এমন কাজ করেছিলেন যে আল্লাহর বিচার এভাবে প্রকাশ্যে নেমে এলো,?
দাসীটি কান্নায় ভেঙে পড়ল এবং গোপন সত্যটি ফাঁস করল।
সে বলল,"এই মহিলাটি তিন তিনবার জেনায় লিপ্ত হয়েছিলেন। প্রতিবারই তিনি একটি করে সন্তান প্রসব করেন।
তিনি সমাজ ও পরিবারের হাত থেকে বাঁচার জন্য
প্রতিবারই সন্তান জন্মানোর পর একটি আগুনের চুলা
দাউ দাউ করে জ্বালাতেন এবং জীবন্ত সেই শিশুকে আগুনের চুলায় ছুড়ে ফেলে পুড়িয়ে মারতেন।
কেউ তাঁর এই জঘন্য অপরাধের কথা জানতে পারত না।"
উপস্থিত সবাই অনুধাবন করলেন,
ব্যভিচার ও শিশুদের আগুনের চুলায় ফেলার শাস্তি হিসেবেই আল্লাহ সাপ পাঠিয়েছিলেন এবং মক্কার সেই জ্ঞানী লোকটির সতর্কবার্তা আজই ফলে গেল।
(খুরাইদ বিন আসমা ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন)
ব্যভিচার এবং নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করা
ইসলামে ভয়াবহ এক কবিরা গুনাহ,
যার সাজা দুনিয়াতেও ভোগ করতে হয়।
আল্লাহ সবসময় তওবার সুযোগ দেন, কিন্তু পাপিষ্ঠা সেই নারী যখন হজ সম্পন্ন করার পরও মোটেও অনুতপ্ত ছিলেন না, বরং হাসছিলেন, তখনই আল্লাহর চূড়ান্ত গযব নেমে আসে।
আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুক। আমিন
সূত্র: আখবারুন নিসা-ইমাম ইবনুল জাওযি রহ.