08/08/2023
বিশ্ব বানিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) এর দৃষ্টিতে গত ২০২২ সালে বৈশ্বিক তৈরি পোশাক রপ্তানি বানিজ্যঃ
গত ২০২২ সালের শুরু থেকেই চলমান ইউক্রেন-রাশিয়া ভয়াবহ যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মহামন্দার মধ্যেও বৈশ্বিক তৈরি পোশাক রপ্তানির বাজারের আকার ও চাহিদা অনেকটাই বৃদ্ধি পায়। বিশ্ব বানিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিভিউ ২০২৩’ এর হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী গত ২০২২ সালে সারা বিশ্বে মোট প্রায় ৫৭৫ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি বা বানিজ্য হয়।
আর শুধুমাত্র শীর্ষে থাকা চীন বাংলাদেশসহ ১০টি দেশ একত্রে মোট প্রায় ৪৯২ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক সারা বিশ্বে রপ্তানি করে। যদিও করোনা মহামারির শুরুর বছর গত ২০২০ সালে বৈশ্বিক তৈরি পোশাক রপ্তানির আকার আশাঙ্খাজনক হারে হ্রাস পেয়ে ৬২.৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল।
তবে বরাবরের মতো তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রথম শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে রেড জায়ান্ট চীন। বিশ্ব বানিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিভিউ ২০২৩’ এর হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্যমতে, গত ২০২২ সালে চীন সারা বিশ্বে ১৮২ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করে সবার উপরে অবস্থান করছে। তার পাশাপাশি চীন নিজেও আবার এখন কিনা সুবিশাল তৈরি পোশাক ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বর্তমানে আমেরিকার তৈরি পোশাকের বাজারের আকার আনুমানিক প্রায় ৩৭০ বিলিয়ন ডলার এবং চীনের বাজারের আকার প্রায় ৩২২ বিলিয়ন ডলার।
এদিকে ভিয়েতনামকে পেছনে ফেলে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বের বুকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। মূলত তাদের দেয়া তথ্যমতে, গত ২০২২ সালে বাংলাদেশ ৪৫ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক সারা বিশ্বে রপ্তানি করে। আর এ খাত থেকে গত ২০২১ সাল অপেক্ষা এয়ার টু এয়ার রেশিও অনুসারে ২৭% বেশি রপ্তানি আয় ছিল বাংলাদেশের। তাছাড়া গত ২০২২ সালে মোট বৈশ্বিক তৈরি পোশাক রপ্তানির বাজারে বাংলাদেশের সার্বিক অবদান ছিল ৭.৯%।
যদিও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো’র দেয়া তথ্যমতে, গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে একক খাত হিসেবে সর্বোচ্চ পরিমাণ ৪৬.৯৯ বিলিয়ন ডলার আসে তৈরি পোশাক রপ্তানি করে। তবে একক কোন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই খাতে সর্বোচ্চ পরিমাণে প্রবৃদ্ধি অর্জন করে গত ২০২২ সালে।
তাছাড়া গত ২০২২ সালের হিসেব অনুযায়ী তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভিয়েতনাম ৩৫ বিলিয়ন ডলার, চতুর্থ অবস্থানে থাকা তুরস্ক ২০ বিলিয়ন ডলার, পঞ্চম স্থানে থাকা ভারত ১৮ বিলিয়ন ডলার আয় করে। আবার ষষ্ঠ স্থানে ইন্দোনেশিয়া ১০ বিলিয়ন ডলার, সপ্তম স্থানে কম্বোডিয়া ৯ বিলিয়ন ডলার, অষ্টম স্থানে পাকিস্তান ৯ বিলিয়ন ডলার এবং নবম স্থানে থেকে আমেরিকা ৭ বিলিয়ন ডলার আয় করে এই খাত থেকে।
তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত দেশগুলো একত্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি করে ১৫৬ বিলিয়ন ডলার। আর তার পাশাপাশি সারা বিশ্বের অন্যান্য সকল দেশগুলো একত্রে মিলে প্রায় ৮২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক রপ্তানি করে। তবে চলতি ২০২৩ সাল শেষে বৈশ্বিক পর্যায়ে তৈরি পোশাক বা রেডি মেড গার্মেন্টসের রপ্তানির বাজারের মূল্য হতে পারে আনুমানিক প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার।
সংগ্রহীত।