11/09/2026
'আপনারা নারীরা সন্তান জন্ম দেবার পরে সারাজীবন জুড়ে নিজেদের পেটে যে শত শত stretch mark(ফাটা দাগ) নিয়ে ঘুরে বেড়ান, কেয়ামতের দিন সেগুলোও সাক্ষী দেবে যে আপনারা আল্লাহর রাস্তায় জি*হাদ করেছেন।
দাগগুলোর দিকে তাকানোর সময় এভাবে কি কখনো ভেবে দেখেছেন?
সাহাবারা যুদ্ধে গিয়ে ফিরে এলে তাঁদের শরীরের ক্ষতগুলো ছিল তাঁদের জি*হাদের চিহ্ন।
কেউ বলতেন এটা বদরের যুদ্ধের চিহ্ন, এটা উহুদের যুদ্ধের চিহ্ন।' চোখে মুখে থাকতো একটা অদ্ভূত প্রশান্তি যে এগুলো নিয়ে তারা কেয়ামতের মাঠে আল্লাহর সামনে দাঁড়াবেন!
আপনাদের প্রেগন্যান্সি যে এক ধরনের জি*হাদ আপনারা সেটা কি আসলে জানেন?
আমরা জি* হাদ বলতে খুব সহজেই শুধু যুদ্ধ বুঝি। অথচ জি* হাদ মানে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোনো কঠিন কাজে নিজের সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করা, নিজের আরাম-আয়েশের বিরুদ্ধে গিয়ে দায়িত্ব পালন করা, তাঁর পথে নিজেকে নিয়োজিত করা।
তাই জি*হাদের রূপ একেকজনের জীবনে একেক রকম হতে পারে।একজনের জি*হাদ যুদ্ধক্ষেত্রে, আর একজনের জি*হাদ হয়তো তার নিজের শরীর, সময়, ঘুম, কষ্ট আর দায়িত্বের মধ্য দিয়ে।এদিকে কারো বা জি*হাদ তার নফসের বিরুদ্ধে!
কখনো কি ভেবে দেখেছেন, পৃথিবীতে একটা বাচ্চাকে আনা কত কঠিন?
একটা pregnancy, labour, breastfeeding, রাতের পর রাত না ঘুমানো, নিজের শরীরকে বদলে যেতে দেখা- এই পুরো journey-র physical এবং emotional burden-এর ৫০%ও কোনো husband কখনো নিতে পারে না!
ভেবে দেখেন কি অদ্ভূত এক জার্নি! সৈনিক হিসেবে প্রতিটা দিন একেকটা লড়াই।যে লড়ছে তার শরীরের জোর যেখানে শূন্যের কোটায়, তাও এই শরীরকেই সেই ব্যথাটা সইতে হবে যা ভাষায় বর্ণনা করা সম্ভব না! মানসিকভাবে ভয় আর আশংকা নিয়ে টিকে থাকার স্ট্রেস আর না- ই বা মিলান!
এতো কষ্টের প্রতিদান মানুষের কাছে আশা করেন?
কোনদিন সেটা সম্ভব?
আপনার প্রত্যেকটা কষ্ট Rewarded হবে - এটা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি।
------অনেক বছর আগে একটা ইসলামিক ভিডিওতে এই কথাগুলো শুনেছিলাম।-------
✅শুরুতে এটুকু লিখে এবার কন্টেক্সটা যোগ করছি!
অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয়, অনেক husband-ই এই sacrifice-এর মূল্য না বুঝে প্রেগ্নেন্সি পরবর্তী স্ত্রীর শরীরের পরিবর্তন নিয়েই তাকে bully করেন।
পেটের স্ট্রেচ মার্ক, মুখের মেছতা,ওজন কমতে না চাওয়া,ত্বকের উজ্জলতা হারানো,ঘাড়ের কালো দাগ.....
প্রেগন্যান্সি পরবর্তী এই সব নানা কারনে ট্রিটমেন্ট নিতে আসা নারীদের মুখে এই বুলিং এর গল্পগুলো ডার্মাটোলজিস্ট হিসেবে আমি,আমরা অহরহ শুনি।
আর এসব ক্ষেত্রে বেশিরভাগ মেয়েদের রেসপন্স কেমন হয় আন্দাজ করেন তো?
না!
এবার আর তারা লড়াকু সৈন্য হয়ে থাকতে পারেনা(বেশির ভাগ ই)!
এরকম একটা comment, একটা criticism, একটা "তুমি আর আগের মতো সুন্দর নও" - এসব তাদের নিজের চোখেই নিজেদের মূল্য আগে কমিয়ে দেয়!
সেটা অভিমান ই বলেন কিংবা ইনসিকিওরিটি ই বলেন!
আমি এসব ক্ষেত্রে যে ম্যাসেজটা দিতে চাই তা হল -
সৌন্দর্য ভালো লাগা স্বাভাবিক। নিজেকে সুন্দর রাখতে চাওয়াও স্বাভাবিক। পার্টনারের জন্যে সাজা, নিজেকে গুছিয়ে রাখা সুন্নাহ।তার গঠনমূলক ক্রিটিসিজম(যেমনি হেলথ ভাল রাখতে ওয়েট লস) - এগুলো কিন্তু সব নরমাল।
কিন্তু যেটা নরমাল না তা হল, ক্রিটিসিজম কে অতিরিক্ত পারসোনালাইজ করে নিজের insecurity তে রূপ দেয়া, inner voice বানানো। এতোটাই Vulnerable হয়ে যাওয়া এগুলো দিয়েই আপনার উপর যে কেউ control নিয়ে নিতে পারে।
এটাই কঠিন সত্য যে, আমাদের vulnerability-গুলোই সবসময় সমাজ, এমনকি আমাদের প্রিয় মানুষরাও, আমাদের manipulate করার সুযোগ হিসেবে নেয়।
এগুলো দিয়েই নিজের অজান্তে আমাদের self-worth নষ্ট হয়, নিজের যত্ন নেওয়ার এবং নিজের জন্য ভালো থাকার উৎসাহ আমরা হারিয়ে ফেলি।
অন্যের Validation এর দাসত্ব করতে শুরু করি। Attention পাওয়ার লোভটাই কবে কিভাবে যে সংসারে আমাদের ট্রমা বন্ডেড করে আমরা নিজেরাও বুঝিনা।
আপনার লড়াইটার ভার মাপবার এমন কোন যন্ত্র পৃথিবীতে আসলে নেই যা দিয়ে ঠিকঠাক মেপে অন্য কোন মানুষ আপনার লড়াইটার উত্তম প্রতিদান দেবে।আপনাকে আপনার মত বুঝবে, ভালোবাসবে।গ্রহণ করবে।
এসব বুলিং যাদের অভ্যাস, এটা তাদের অযোগ্যতা যে, তাদের সত্যিকার অর্থে ভালোবাসবার ক্ষমতা খুব সীমিত। মানসিক সংকীর্ণতা টা তাদের, আপনার না।
আপনি বিশ্বসুন্দরী হয়ে উঠলে ও আপনার পার্টনারের চোখে আপনি চির অসুন্দর ই রয়ে যেতে পারেন, কারন এটা ওনার চোখে সমস্যা. For him, your true worth is only skin-deep.
এজন্যে আপনি নিজেকে Punish করবেন?
নিজেকে প্রতিনিয়ত বলবেন - আপনি অসুন্দর?
Don’t personalize everything. সব কথা নিজের সত্যি বলে গ্রহণ করবেন না। নিজের আত্মসম্মান এবং নিজের 'মূল্য' নিজের কাছেই ধরে রাখুন। আর আপনার পরিস্থিতি অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন নিজের Inner Peace কে সুরক্ষিত করবার - যেটা কেউ কাউকে শেখাতে পারে বলে আমার মনে হয়না। যেখানে, যতটুকু সম্ভব-আপনার bully-কে challenge করুন।
আমরা অহরহ ই জুলুম সহ্য করাকেও সবর বলে চালিয়ে দেই।সেটা ও বড়সড় একটা অন্যায়।
আর সব সময় মনে রাখবেন, কেয়ামতের মাঠের সৌন্দর্যের জন্যে এক্সট্রা মার্কিং নেই।
এতোক্ষণ যা যা বললাম সব কিছুর মধ্যে থেকেও নিজেকে হারিয়ে না ফেলাও একটা জি*হাদ।
আপনি দিনশেষে তার কাছেই ফিরবেন যিনি অনেক যত্নে আপনাকে সৃষ্টি করেছেন।
✅লেখা শেষ।
(জাস্ট ৩ টা জিনিস ক্লিয়ার করি -
১.যারা infertility-র কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন - আপনাদের কষ্ট দিতে এই কথাগুলো লেখা না।এটা সমাজের একটা দিক যা ভীষণ কষ্টের আমি সেটাতে ফোকাস টা রাখতে চেয়েছি। আপনাদের অপেক্ষা, সবর, কান্না, miscarriage, প্রতিটি injection, প্রতিটি দুয়া - এগুলো সবই তো সেই একই জিনিস! আল্লাহর কাছে কোনো কিছুই মূল্যহীন নয়। একদিন সেগুলোও আপনাদের পক্ষে সাক্ষী হবে, ইনশাআল্লাহ।
২.স্ট্রেচ মার্ক বা মেছতার চিকিৎসা নিলে আখিরাতে তো জি*হাদের চিহ্ন থাকবে না, ব্যাখ্যাটাকে এভাবে দেইখেন না আবার! আল্লাহ আপনার শরীর বা মনের অদেখা প্রতিটা ক্ষত যেখানে জানেন, যেগুলো চিকিৎসায় মিলে যাবে এগুলোর খবর ও তাঁর কাছে নিখুঁতভাবে থাকবে!
৩.Also, I believe this post would be completely one-sided if I generalized all men as bullies - which was never my intention. আমার নিজের চেম্বারেই অসংখ্য স্বামী কে দেখি, যারা তাঁদের স্ত্রীকে সবচেয়ে vulnerable সময়গুলোতে সঙ্গে করে নিয়ে আসেন, পুরো ট্রিটমেন্ট জার্নি তে পাশে থাকেন like a true protector.
I truly salute these men!)