01/07/2024
বাংলাদেশকে ১০০ বছর এগিয়ে দিয়েছেন ড. আবেদ চৌধুরী
সাধারণত একবার রোপণে ধান গাছে একবার ফলন হয়। কিন্তু ফলন শেষ হওয়ার পর একটি ধান গাছ পুরোপুরি না কেটে একই গাছে বিভিন্ন মৌসুমের উপযোগী আরও চার রকমের ধান কীভাবে উৎপাদন সম্ভব, তা আবিষ্কার করেছেন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী। তিনি তার এ আবিষ্কারের নাম দিয়েছেন ‘পঞ্চব্রীহি’। সিলেটের কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাঠ পর্যায়ে গবেষণা করেছেন। কোনো রাসায়নিক ছাড়াই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে প্রায় তিন হাজার প্রজাতির ধানের মিশ্রণ ঘটিয়ে তিনি পাঁচ রকমের ধান গাছ আবিষ্কার করেছেন।
জমিতে একবার চারা রোপণ করে পাঁচবার ফলন দেয়া পঞ্চব্রীহি ধান উদ্ভাবন করেছেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের জিন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী। খাদ্য সংকটের আগামীর বিশ্বে যা বাংলাদেশকে ১০০ বছর এগিয়ে দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বের সেরা সব বিজ্ঞানীদের সাথে তিনি গবেষণা করেছেন। বাংলাদেশকে ভালোবেসে বাংলাদেশের স্বার্থেই তিনি বাংলাদেশেই তার সেই গবেষণা কাজে লাগিয়েছেন।
আবেদ চৌধুরী আধুনিক জীববিজ্ঞানের প্রথম সারির গবেষকদের একজন। তিনি মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও নটর ডেম কলেজ থেকে ১৯৭৫ সালে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। তিনি উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে, যুক্তরাষ্ট্রের অরিগন স্টেট ইনিস্টিটিউট অফ মলিকুলার বায়োলজি এবং ওয়াশিংটন স্টেটের ফ্রেড হাচিনসন ক্যান্সার রিসার্চ ইনিস্টিটিউটে। ১৯৮৩ সালে পিএইচ.ডি গবেষণাকালে তিনি রেকডি নামক জেনেটিক রিকম্বিনেশনের একটি নতুন জিন আবিষ্কার করেন যা নিয়ে আশির দশকে আমেরিকা ও ইউরোপে ব্যাপক গবেষণা হয়। তিনি অযৌন বীজ উৎপাদন (এফআইএস) সংক্রান্ত তিনটি নতুন জিন আবিষ্কার করেন, যার মাধ্যমে এই জিনবিশিষ্ট মিউটেন্ট নিষেক ছাড়াই আংশিক বীজ উৎপাদনে সক্ষম হয়। তাঁর এই আবিষ্কার এপোমিক্সিসের সূচনা করেছে যার মাধ্যমে পিতৃবিহীন বীজ উৎপাদন সম্ভব হয়।