04/09/2026
মায়ের দোয়ায় লুকিয়ে আছে সন্তানের বরকত:
মানবজীবনের সাফল্য, শান্তি ও বরকতের মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে থাকে মা-বাবার সন্তুষ্টি এবং তাঁদের আন্তরিক দোয়ার মধ্যে। পবিত্র ইসলাম ধর্মে মহান আল্লাহ তাআলার ইবাদতের পর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পিতা-মাতার খেদমত ও তাঁদের প্রতি শুভকামনাকে। বিশেষ করে, সন্তানের জন্য মায়ের আত্মত্যাগ ও ভালোবাসার স্থান সবার ওপরে।
১. কোরআনের আলোকে মায়ের অবদান ও সম্মান
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে মায়ের গর্ভধারণ ও কষ্টকর প্রতিপালনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সন্তানকে মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে:
"আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে গর্ভে ধারণ করেছে এবং তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে। সুতরাং আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও।"(সূরা লুকমান: ১৪)
অন্যত্র আল্লাহ তাআলা আদেশ করেছেন:
"তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া আর কারো ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করবে। তাদের একজন বা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে 'উফ' বলো না, তাদেরকে ধমক দিও না; বরং তাদের সাথে সম্মানসূচক কথা বলো।"(সূরা বনি ইসরাইল: ২৩)
এই আয়াতগুলো প্রমাণ করে যে, মা-বাবার সেবা করা এবং তাঁদের খুশি রাখা কেবল নৈতিক দায়িত্বই নয়, বরং একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফরজ ইবাদত।
২. হাদিসের আলোকে মায়ের দোয়ার বরকত
মা যখন হাত তুলে সন্তানকে দোয়া করেন, তখন তা আসমানে সরাসরি কবুল হয়ে যায়। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মা-বাবার দোয়ার পাওয়ার সম্পর্কে স্পষ্ট বর্ণনা করেছেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"তিনটি দোয়া নিশ্চিতভাবেই কবুল হয়, এতে কোনো সন্দেহ নেই: নির্যাতিত ব্যক্তির দোয়া, মুসাফিরের দোয়া এবং সন্তানের জন্য পিতা-মাতার দোয়া।"(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩৮৬২)
মায়ের সম্মান পিতার চেয়েও তিন গুণ বেশি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। বিখ্যাত হাদিসে এসেছে:
এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করল, "হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাছে সবচেয়ে ভালো ব্যবহার পাওয়ার হকদার কে?" নবীজী (সা.) বললেন, "তোমার মা।" লোকটিকে আবার জিজ্ঞাসা করলে নবীজী বললেন, "তোমার মা।" তৃতীয়বার একই প্রশ্ন করলে আবারও উত্তর এল, "তোমার মা।" এরপর চতুর্থবার জিজ্ঞাসা করার পর তিনি বললেন, "তোমার বাবা।"(সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)
অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, "মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত।" অর্থাৎ, মায়ের সন্তুষ্টি এবং তাঁর দোয়ার মাধ্যমেই জান্নাত অর্জিত হয়।
৩. জীবনে বরকতের উৎস
সন্তানের জীবনে রিজিক, হায়াত, পারিবারিক শান্তি এবং সর্বপ্রকার বরকতের মূল চালিকাশক্তি হলো মায়ের তৃপ্ত মনের দোয়া। পক্ষান্তরে, মা কষ্ট পেলে বা তাঁর অভিশাপ থাকলে জীবনের সমস্ত অর্জন ও সাফল্য মুহূর্তেই অর্থহীন হয়ে পড়ে। হযরত ওয়াইস আল-কারনী (রহ.) আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর যুগে জীবিত থেকেও কেবল বৃদ্ধা মায়ের সেবায় নিয়োজিত থাকার কারণে নবীজীর সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ করতে পারেননি; অথচ মায়ের প্রতি এই অসাধারণ ভক্তির দরুন রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের উপদেশ দিয়েছিলেন ওয়াইসের কাছ থেকে দোয়া চেয়ে নেওয়ার জন্য।
পার্থিব জীবনের সুখ-শান্তি এবং পরকালের নাজাতের জন্য মায়ের হাসিমুখ ও তাঁর মুখের দোয়াই সবচেয়ে বড় সম্বল। তাই জীবিত অবস্থায় মায়ের যথাযথ যত্ন নেওয়া, তাঁদের প্রতি বিনীত হওয়া এবং কোনোভাবেই মনে কষ্ট না দেওয়াই একজন আদর্শ মুমিনের প্রধান পরিচয়। মায়ের মুখে তৃপ্তির হাসি ফোটাতে পারলে এবং তাঁর আন্তরিক দোয়া অর্জন করতে পারলে ইহকাল ও পরকালের সর্বক্ষেত্রে বরকত সুনিশ্চিত।
বি: দ্র:আজ বলতে গেলে মায়ের দোয়ার বরকতে আমার আবার সিলেটে কাম বেক করা, মায়ের দেখা শুনা করা, মায়ের সাথে থাকা, আবার নতুন জীবন শুরু করা। সব কিছু ই আল্লাহর ইচ্ছা। সব ই আমি আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়েছি। হয়তো এতেই মংগল। আল্লাহর তায়ালা পৃথিবীর সকল মায়েদের শান্তিতে রাখুন। আমিন।
শুভ রাত্রি।