Sultana's Dream

Sultana's Dream Life is a journey which has no ends. Life has its own taste. So, let's explore first to seek life's utmost goal.
(1)

মায়ের দোয়ায় লুকিয়ে আছে সন্তানের বরকত: মানবজীবনের সাফল্য, শান্তি ও বরকতের মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে থাকে মা-বাবার সন্তুষ্টি এবং...
04/09/2026

মায়ের দোয়ায় লুকিয়ে আছে সন্তানের বরকত:

মানবজীবনের সাফল্য, শান্তি ও বরকতের মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে থাকে মা-বাবার সন্তুষ্টি এবং তাঁদের আন্তরিক দোয়ার মধ্যে। পবিত্র ইসলাম ধর্মে মহান আল্লাহ তাআলার ইবাদতের পর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পিতা-মাতার খেদমত ও তাঁদের প্রতি শুভকামনাকে। বিশেষ করে, সন্তানের জন্য মায়ের আত্মত্যাগ ও ভালোবাসার স্থান সবার ওপরে।

১. কোরআনের আলোকে মায়ের অবদান ও সম্মান
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে মায়ের গর্ভধারণ ও কষ্টকর প্রতিপালনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সন্তানকে মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে:

"আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে গর্ভে ধারণ করেছে এবং তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে। সুতরাং আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও।"(সূরা লুকমান: ১৪)

অন্যত্র আল্লাহ তাআলা আদেশ করেছেন:

"তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া আর কারো ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করবে। তাদের একজন বা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে 'উফ' বলো না, তাদেরকে ধমক দিও না; বরং তাদের সাথে সম্মানসূচক কথা বলো।"(সূরা বনি ইসরাইল: ২৩)

এই আয়াতগুলো প্রমাণ করে যে, মা-বাবার সেবা করা এবং তাঁদের খুশি রাখা কেবল নৈতিক দায়িত্বই নয়, বরং একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফরজ ইবাদত।

২. হাদিসের আলোকে মায়ের দোয়ার বরকত

মা যখন হাত তুলে সন্তানকে দোয়া করেন, তখন তা আসমানে সরাসরি কবুল হয়ে যায়। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মা-বাবার দোয়ার পাওয়ার সম্পর্কে স্পষ্ট বর্ণনা করেছেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"তিনটি দোয়া নিশ্চিতভাবেই কবুল হয়, এতে কোনো সন্দেহ নেই: নির্যাতিত ব্যক্তির দোয়া, মুসাফিরের দোয়া এবং সন্তানের জন্য পিতা-মাতার দোয়া।"(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩৮৬২)

মায়ের সম্মান পিতার চেয়েও তিন গুণ বেশি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। বিখ্যাত হাদিসে এসেছে:
এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করল, "হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাছে সবচেয়ে ভালো ব্যবহার পাওয়ার হকদার কে?" নবীজী (সা.) বললেন, "তোমার মা।" লোকটিকে আবার জিজ্ঞাসা করলে নবীজী বললেন, "তোমার মা।" তৃতীয়বার একই প্রশ্ন করলে আবারও উত্তর এল, "তোমার মা।" এরপর চতুর্থবার জিজ্ঞাসা করার পর তিনি বললেন, "তোমার বাবা।"(সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, "মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত।" অর্থাৎ, মায়ের সন্তুষ্টি এবং তাঁর দোয়ার মাধ্যমেই জান্নাত অর্জিত হয়।

৩. জীবনে বরকতের উৎস

সন্তানের জীবনে রিজিক, হায়াত, পারিবারিক শান্তি এবং সর্বপ্রকার বরকতের মূল চালিকাশক্তি হলো মায়ের তৃপ্ত মনের দোয়া। পক্ষান্তরে, মা কষ্ট পেলে বা তাঁর অভিশাপ থাকলে জীবনের সমস্ত অর্জন ও সাফল্য মুহূর্তেই অর্থহীন হয়ে পড়ে। হযরত ওয়াইস আল-কারনী (রহ.) আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর যুগে জীবিত থেকেও কেবল বৃদ্ধা মায়ের সেবায় নিয়োজিত থাকার কারণে নবীজীর সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ করতে পারেননি; অথচ মায়ের প্রতি এই অসাধারণ ভক্তির দরুন রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের উপদেশ দিয়েছিলেন ওয়াইসের কাছ থেকে দোয়া চেয়ে নেওয়ার জন্য।

পার্থিব জীবনের সুখ-শান্তি এবং পরকালের নাজাতের জন্য মায়ের হাসিমুখ ও তাঁর মুখের দোয়াই সবচেয়ে বড় সম্বল। তাই জীবিত অবস্থায় মায়ের যথাযথ যত্ন নেওয়া, তাঁদের প্রতি বিনীত হওয়া এবং কোনোভাবেই মনে কষ্ট না দেওয়াই একজন আদর্শ মুমিনের প্রধান পরিচয়। মায়ের মুখে তৃপ্তির হাসি ফোটাতে পারলে এবং তাঁর আন্তরিক দোয়া অর্জন করতে পারলে ইহকাল ও পরকালের সর্বক্ষেত্রে বরকত সুনিশ্চিত।

বি: দ্র:আজ বলতে গেলে মায়ের দোয়ার বরকতে আমার আবার সিলেটে কাম বেক করা, মায়ের দেখা শুনা করা, মায়ের সাথে থাকা, আবার নতুন জীবন শুরু করা। সব কিছু ই আল্লাহর ইচ্ছা। সব ই আমি আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়েছি। হয়তো এতেই মংগল। আল্লাহর তায়ালা পৃথিবীর সকল মায়েদের শান্তিতে রাখুন। আমিন।

শুভ রাত্রি।

24/08/2026

আজ থেকে ঠিক ১০ বছর পর আপনার আজকের অর্জিত সবচেয়ে দামি স্কিলটি যদি একদম অকেজো বা আউটডেটেড হয়ে যায় তখন কী করবেন?

AI আর টেকনোলজির এই অবিশ্বাস্য দ্রুতগতির যুগে এই চিন্তাটা কি আপনার মাথায় কখনো আসে?

বাস্তবতা হলো, খুব দ্রুত অনেক প্রথাগত চাকরি হয়তো হারিয়ে যাবে। কিন্তু আপনি যদি মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকেন এবং কিছু ফিউচার-প্রুফ কোর স্কিল আয়ত্তে রাখেন, তবে যেকোনো পরিস্থিতিতেই আপনি নিজের ফিল্ডে অপরিহার্য হয়ে থাকবেন।

শুধু কী শেখা দরকার তা জেনে লাভ নেই, যদি না জানেন ফ্রিতে কোথা থেকে শিখবেন। আজ শেয়ার করছি এমন ৭টি স্কিল এবং সাথে সম্পূর্ণ অফিশিয়াল, ১ টাকাও খরচ না করে শেখার জায়গা:

➡️১. AI & Tech Adaptability

কেন দরকার: AI আপনার চাকরি কাড়বে না, কিন্তু AI ব্যবহার করতে পারা একজন মানুষ হয়তো আপনার জায়গাটা নিয়ে নেবে!

ফ্রি শেখার জায়গা: Elements of AI (University of Helsinki-র বিশ্বখ্যাত ফ্রি কোর্স)। কোনো কোডিং বা ম্যাথ লাগে না।

AI দিয়ে যা প্র্যাকটিস করবেন: ChatGPT-কে prompt দিন : আমার ফিল্ডে (আপনার সাবজেক্ট/কাজের নাম) AI ব্যবহার করার ৩টি প্র্যাকটিক্যাল উদাহরণ দাও।

➡️ ২. ক্রিটিক্যাল থিংকিং ও প্রবলেম সলভিং

কেন দরকার: ডাটা প্রসেস বা সামারি করা মেশিনের জন্য সেকেন্ডের ব্যাপার। কিন্তু জটিল সংকটে গিয়ে মানবিক সৃজনশীলতায় ক্রিয়েটিভ সল্যুশন বের করা এখনো শুধুই মানুষের ক্ষমতা।

ফ্রি শেখার জায়গা: Introduction to Logic and Critical Thinking (Duke University: Coursera-তে 'Audit' মোডে সম্পূর্ণ ফ্রি)।

AI দিয়ে যা প্র্যাকটিস করবেন: আমাকে একটা রিয়েল-লাইফ ওয়ার্কপ্লেস প্রবলেম দাও এবং আমি কীভাবে স্টেপ-বাই-স্টেপ সমাধান করব তা রিভিউ করো।

➡️ ৩. ডাটা লিটারেসি

কেন দরকার: আন্দাজের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিন শেষ। ডাটা এনালাইসিস করে সঠিক পথ বেছে নেওয়ার ক্ষমতা যেকোনো সেক্টরে আপনাকে ১০ ধাপ এগিয়ে রাখবে।

ফ্রি শেখার জায়গা: Data Fundamentals (IBM SkillsBuild সম্পূর্ণ ফ্রি, সাথে থাকবে অফিশিয়াল IBM Digital Badge)।

AI দিয়ে যা প্র্যাকটিস করবেন: আমাকে একটা স্যাম্পল ডাটাসেট আর ৩টি লজিক্যাল প্রশ্ন দাও, যা সলভ করতে ডাটা লাগবে।

➡️ ৪. ইফেক্টিভ কমিউনিকেশন ও নেগোশিয়েশন

কেন দরকার: আপনার মাথায় হয়তো দারুণ আইডিয়া থাকতে পারে, কিন্তু সেটা অন্যকে বোঝাতে বা কনভিন্স করতে না পারলে সেই আইডিয়ার দাম শূন্য।

ফ্রি শেখার জায়গা: Successful Negotiation: Essential Strategies and Skills (University of Michigan Coursera-তে 'Audit' মোডে ফ্রি)।

AI দিয়ে যা প্র্যাকটিস করবেন: আমার সাথে একটা Salary Negotiation-এর মক রোল-প্লে করো, দেখি আমি কতটা কনভিন্স করতে পারি।

➡️ ৫. ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স ও লিডারশিপ

কেন দরকার: রোবটের মধ্যে ইমোশন নেই। নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা, অন্যের কষ্ট বোঝা আর একটা টিমকে একসাথে ধরে রেখে কাজ করানোর ক্ষমতাই আপনাকে বস না বানিয়ে সত্যিকারের লিডার বানায়।

ফ্রি শেখার জায়গা: Inspiring Leadership through Emotional Intelligence (Case Western Reserve University: Coursera-তে ফ্রি)।

আজই AI দিয়ে যা প্র্যাকটিস করবেন: একটা কঠিন Workplace Conflict-এর সিনারিও দাও, আমি কীভাবে হ্যান্ডেল করব তা ব্যাখ্যা করি।

➡️ ৬. কন্টিনিউয়াস লার্নিং (Unlearning & Re-learning)

কেন দরকার: যা শিখেছেন তা ভুলে নতুন যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নতুন কিছু শেখার মানসিকতাই হলো এই শতকের সেরা স্কিল।

ফ্রি শেখার জায়গা: Learning How to Learn (UC San Diego: Coursera-র অন্যতম জনপ্রিয় ফ্রি কোর্স)।

AI দিয়ে যা প্র্যাকটিস করবেন: আমার পড়ার স্টাইল অনুযায়ী প্রোকাস্টিনেশন (আলসেমি) কমিয়ে দ্রুত শেখার ৩টি প্র্যাকটিক্যাল সাইকোলজিক্যাল টিপস দাও।

➡️ ৭. পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং ও নেটওয়ার্কিং

কেন দরকার: আপনি কাজে কত ভালো তা শুধু আপনার টেবিল জানলে হবে না, ইন্ডাস্ট্রির সঠিক মানুষেরাও সেটা জানা দরকার!

ফ্রি শেখার জায়গা: Social Media Marketing Certification (HubSpot Academy: সম্পূর্ণ ফ্রি ও গ্লোবালি অ্যাকসেপ্টেড)।

AI দিয়ে যা প্র্যাকটিস করবেন: আমার অভিজ্ঞতা ও ফিল্ডের ওপর ভিত্তি করে LinkedIn-এর জন্য একটা পাওয়ারফুল 'About Section' ড্রাফট করে দাও।

সবগুলো একসাথে শুরু করে তালগোল পাকানোর কোনো দরকার নেই। এই ৭টির মধ্যে যে স্কিলটায় আপনার নিজের সবচেয়ে বেশি দুর্বলতা বলে মনে হয় সেটা দিয়ে শুরু করুন।

২০২৬ সালের এই শেষভাগে এসে এই ৭টি স্কিলের মধ্যে আপনার কাছে কোনটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে?

Collected

12/08/2026

জীবনের একটা সময় এসে বুঝতে হয়,
সব কথার উত্তর দিতে নেই, সব ভুল বোঝাবুঝি ঠিক করতে নেই, আর সবাইকে খুশি রাখার দায়িত্বও নিজের নয়।

কারণ জীবন সবসময় একই পথে চলে না,
কখনো পাহাড়ের মতো challenge, কখনো পানির মতো শান্তি।
তাই সবকিছুর মাঝেও নিজের peace, বিশ্বাস আর হাসিটা ধরে রাখাই জীবনের সৌন্দর্য।

Keep moving, keep believing
সব উত্তর না পেলেও, life is still beautiful.

শুভ রাত্রি

10/08/2026

“আমার ছেলে A+ পায়নি, তাতে কী হয়েছে?” ❤️

এসএসসির ফলাফল দেখতে এসে এক মা বললেন—

“আমার ছেলে A+ পায়নি। তাতে ওর কী হয়েছে? ও সামনে অনেক বড় হবে। আমরা কখনোই A+ নিয়ে মাথা ঘামাইনি। ছেলে A+ পায়নি দেখে আমার মন খারাপ হয়নি। বরং ছেলের চেয়েও বেশি উৎসাহ নিয়ে আমি আজ স্কুলে এসেছি।”

কথাগুলো হয়তো খুব সাধারণ। কিন্তু আজকের দিনে দাঁড়িয়ে এগুলোই হতে পারে সবচেয়ে বড় শিক্ষা। 🖤

কারণ একটি সার্টিফিকেটে A+ লেখা নেই বলেই কোনো সন্তানের ভবিষ্যৎ থেকে সম্ভাবনার আলো নিভে যায় না।

কেউ A+ পাবে, কেউ পাবে না। কেউ আজ ভালো করবে, আবার কেউ হয়তো একটু দেরিতে নিজের জায়গা খুঁজে পাবে। জীবনে সবার পথ এক নয়, সাফল্যের সংজ্ঞাটাও এক নয়।

একটা সন্তানের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কী জানেন?

ভরসা, উৎসাহ আর নিঃশর্ত ভালোবাসা। ❤️

আজ যে সন্তান A+ পায়নি, কাল সে হয়তো এমন কিছু করবে—যার জন্য তার মা-বাবা সারাজীবন গর্ব করবেন।

মনে রাখবেন, ফলাফল একটি অধ্যায়ের শেষ মাত্র। জীবন নামের বইটা কিন্তু এখানেই শেষ নয়।

তাই সন্তানকে শুধু এটা বলবেন না—“কত পেয়েছ?”

বরং বলুন—“তুমি চেষ্টা করেছ তো? তুমি ভালো মানুষ হতে পেরেছ তো? তাহলে আমরা তোমাকে নিয়ে গর্বিত।” 🌸

কারণ পরীক্ষার খাতায় পাওয়া নম্বর একজন মানুষের পুরো জীবনকে সংজ্ঞায়িত করে না।

A+ না পেলেও জীবন থেমে যায় না। কখনো কখনো নতুনভাবে শুরু করাটাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় সাফল্য। ❤️

সকল গ্রেড দারী এস,এস,সি পাস শিক্ষার্থীদের জন্য রইলো অনেক শুভকামনা।






12/07/2026

"বিয়ে করার পর যদি নির্লজ্জের মতো স্বার্থপর না হতে পারো, তবে তোমার সংসার টিকবে না।"

আপনার সমস্ত আদর্শকে আমি সম্মান জানাচ্ছি। কিন্তু অনুরোধ একটাই, আমাকে স্বার্থপর, পরিবার-বিদ্বেষী বলে গালি দেওয়ার আগে, লেখাটা শেষ পর্যন্ত পড়ুন। যদি আপনার 'ত্যাগ' এবং 'ভালোবাসা'র সংজ্ঞাকে আমি নতুন করে ভাবতে বাধ্য করতে না পারি, তবে বলবেন।

এছাড়া এই আর্টিকেল আপনাকে মানসিকভাবে আঘাত দিতে পারে। তাই পরবর্তী অংশ নিজ দায়িত্বে পড়বেন

আমরা এমন এক আবেগী সমাজে বড় হয়েছি, যেখানে আমাদের শেখানো হয়, "সংসার মানেই স্যাক্রিফাইস"। আমাদের শেখানো হয়, "বিয়ের পর সবাইকে নিয়ে চলতে হয়"। এই মধুর বিষাক্ত কথাগুলো শুনতে খুব ভালো শোনায়। কিন্তু এই 'সবাইকে নিয়ে চলার' চক্করে যে দুটি মানুষ সবচেয়ে বেশি হারিয়ে যায়, তারা হলো স্বামী এবং স্ত্রী। তারা একে অপরের জন্য নয়, 'সবার জন্য' বাঁচতে গিয়ে নিজেদের ভালোবাসার কবর খুঁড়ে ফেলে।

এই লেখাটি পরিবার ভাঙার উস্কানি নয়। এই লেখাটি বাবা-মা বা আত্মীয়-স্বজনকে অশ্রদ্ধা করার জন্যও নয়। এই লেখাটি হলো সেই নির্মম সত্যটাকে তুলে ধরার চেষ্টা, যা একটি নতুন সংসারকে বটগাছের মতো মজবুত করতে পারে, আবার পরগাছার মতো শুকিয়েও মারতে পারে।

বিয়ের প্রথম রাত থেকেই এক অদৃশ্য যুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধটা কোনো শত্রু দেশের সাথে নয়, এই যুদ্ধটা হলো 'আমাদের' সাথে 'বাকি সবার'।

'আমরা'—মানে নতুন স্বামী আর স্ত্রী। এক নতুন ইউনিট, এক নতুন দল, এক নতুন পৃথিবী।
'বাকি সবাই'—মানে বাবা, মা, ভাই, বোন, বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন। পুরনো পৃথিবী।

সমস্যাটা হয় তখনই, যখন এই নতুন দলটা নিজেদেরকে একটা 'ইউনিট' হিসেবে ভাবতে পারে না। যখন স্বামী ভাবে, "আগে আমি আমার মায়ের ছেলে, তারপর তোর স্বামী।" আর স্ত্রী ভাবে, "আগে আমি আমার বাবার মেয়ে, তারপর তোমার বউ।"

ইসলাম কী বলে? "তারা (স্ত্রীরা) তোমাদের পোশাক এবং তোমরা (স্বামীরা) তাদের পোশাক।" পোশাকের চেয়ে আপন আর কী হতে পারে? পোশাক শরীরের সবচেয়ে কাছে থাকে, সমস্ত লজ্জা ঢাকে, সমস্ত ঝড়-ঝাপ্টা থেকে আগলে রাখে। আল্লাহ কি বলেছেন, 'তোমার মা-বাবা তোমার পোশাক'? বা 'তোমার ভাই-বোন তোমার পোশাক'? না! তিনি বলেছেন, তোমার জীবনসঙ্গীই তোমার পোশাক।

যে পুরুষ বিয়ের পরেও প্রতিটি সিদ্ধান্তে তার মায়ের আঁচলের নিচে আশ্রয় খোঁজে, যে তার স্ত্রীর ব্যক্তিগত কথা, দুর্বলতার কথা, এমনকি শোবার ঘরের কথাও তার পরিবারের কাছে গিয়ে বলে, সে তার 'পোশাক'কে সবার সামনে নগ্ন করে দেয়। সে একজন বিশ্বাসঘাতক।

একইভাবে, যে নারী বিয়ের পর তার নতুন সংসারের প্রতিটি খুঁটিনাটি, স্বামীর আয়-রোজগার, শাশুড়ির আচরণ নিয়ে বাপের বাড়িতে রিপোর্ট করে, সে তার স্বামীর সম্মানকে, তার নতুন ঘরের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়।

'স্বার্থপর' হওয়ার মানে হলো, সবার আগে নিজেদের এই 'আমরা' নামক ইউনিটটাকে গুরুত্ব দেওয়া। পৃথিবীর বাকি সবার মতামত, সবার চাহিদা, সবার আবেগের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো তোমার সঙ্গীর অনুভূতি। যদি তোমার কোনো সিদ্ধান্তে তোমার সঙ্গী কষ্ট পায়, কিন্তু 'বাকি সবাই' খুশি হয়, তবে জেনে রাখো, তুমি ভুল পথে আছ। তোমার সংসারের প্রথম ইটে ঘুণ ধরে গেছে।

"আমি তোমার জন্য আমার বন্ধুদের ছেড়ে দিয়েছি।"
"আমি তোমার জন্য আমার চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছি।"
"আমি এই সংসারের জন্য আমার সব স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছি।"

এই কথাগুলো শুনতে খুব মহৎ শোনায়, তাই না? এগুলো আসলে মহৎ নয়, এগুলো হলো একে অপরকে দেওয়া মানসিক অত্যাচারের বিষাক্ত চাকু। আজ যে সঙ্গী 'ত্যাগ' করছে, সে কাল তার প্রতিদান চাইবেই। সে সারাজীবন অন্যজনকে এই ত্যাগের খোঁটা দিয়ে যাবে।

একজন বুদ্ধিমান এবং 'স্বার্থপর' দম্পতি একে অপরের জন্য ত্যাগ করে না, তারা একে অপরের স্বপ্নের জন্য জায়গা তৈরি করে দেয়।

'স্বার্থপর' স্বামী তার স্ত্রীকে বলবে না, "আমার মায়ের সেবা করার জন্য তোমার চাকরি করার দরকার নেই।" বরং সে বলবে, "চলো, আমরা এমন একটা উপায় বের করি, যাতে তুমি তোমার স্বপ্নও পূরণ করতে পারো, আবার আমরা সংসারটাও সামলাতে পারি।"

'স্বার্থপর' স্ত্রী তার স্বামীকে বলবে না, "বন্ধুদের সাথে আড্ডা না দিয়ে আমাকে সময় দাও।" বরং সে বলবে, "তোমার বন্ধুদের জন্যও সময় দরকার। কিন্তু আমাদের দুজনের জন্যও একটা কোয়ালিটি টাইম নির্দিষ্ট থাকতে হবে, যে সময়ে ফোন বা অন্য কোনো কিছুর অস্তিত্ব থাকবে না।"

যখন তুমি তোমার সঙ্গীর স্বপ্নকে, তার ব্যক্তিগত সত্তাকে সম্মান না করে, তাকে শুধু তোমার সংসারের জন্য 'ত্যাগ' করতে বাধ্য করো, তখন তুমি আসলে তাকে তিলে তিলে খুন করছো। একদিন সেই মৃতপ্রায় মানুষটাই তোমার সংসার থেকে পালিয়ে বাঁচার পথ খুঁজবে।

বিয়ের পর টাকা-পয়সা নিয়ে যে দম্পতি পুরোপুরি 'স্বার্থপর' হতে পারে না, তাদের সম্পর্ক নরকে পরিণত হতে বাধ্য।

'স্বার্থপর' হওয়ার মানে কী? এর মানে হলো, বিয়ের পর তোমাদের দুজনের আয় একটাই gemeinsamen (যৌথ) আয়। সেটা আর 'আমার টাকা' বা 'তোমার টাকা' নয়, সেটা 'আমাদের টাকা'।

যে স্বামী তার আয়ের হিসাব স্ত্রীকে দেয় না, খরচের জন্য স্ত্রীর হাতে টাকা তুলে দেওয়ার সময় এমন ভাব করে যেন সে ভিক্ষা দিচ্ছে, সে আসলে তার স্ত্রীকে সম্মান করে না। সে তাকে একজন জীবনসঙ্গী নয়, একজন নির্ভরশীল কর্মচারী মনে করে।

আর যে স্ত্রী নিজের আয় লুকিয়ে রাখে, স্বামীর সংসারের খরচে অংশগ্রহণ না করে নিজের টাকা শুধু বাপের বাড়ির জন্য বা নিজের ব্যক্তিগত শখের জন্য খরচ করে, সেও সেই সংসারের প্রতি সৎ নয়।

তোমাদের 'আমাদের টাকা' থেকে প্রথমে 'আমাদের সংসারের' চাহিদা পূরণ হবে। তারপর 'আমাদের ভবিষ্যতের' জন্য সঞ্চয় হবে। এরপর যদি কিছু বাঁচে, তবেই সেটা দিয়ে নিজ নিজ পরিবারের জন্য কিছু করা যেতে পারে। যে দম্পতি এই নিয়ম মানে না, তাদের মধ্যে টাকার বিষয় নিয়ে যে অবিশ্বাস আর দূরত্বের জন্ম হয়, তা আর কোনোদিনও ঘোচে না।

'স্বার্থপর' হও। আগে নিজেদের আর্থিক ভিত্তিকে মজবুত করো। কারণ তোমার বিপদের দিনে তোমার বাবা-মা বা ভাই-বোন হয়তো সহানুভূতি দেখাবে, কিন্তু তোমার পাশে থেকে লড়াইটা তোমার জীবনসঙ্গীকেই করতে হবে।

কি অসাধারণ বাস্তবতা পূর্ণ লিখা!! না পড়লেই হেরে গেলেনবার্ধক্য বুড়ো বয়সে নয়- শুরু হয় আজ: সাতটি সতর্কবার্তাবার্ধক্যের কষ্ট ...
18/06/2026

কি অসাধারণ বাস্তবতা পূর্ণ লিখা!! না পড়লেই হেরে গেলেন

বার্ধক্য বুড়ো বয়সে নয়- শুরু হয় আজ: সাতটি সতর্কবার্তা

বার্ধক্যের কষ্ট কখন শুরু হয়?
৬০-এ?
৭০-এ?

উত্তরটি হচ্ছে-

'old age lies in today's actions.'

'বার্ধক্য লুকিয়ে আছে আজকের কাজকর্মে।'

ব্যাপারটি অনেকটা ব্যাংকে ডিপিএসে নিয়মিত কিস্তি জমা দেওয়ার মতো- আপনি অনেকদিন ধরে টাকা ব্যাংকে জমালেন তারপর একসময় তা সুদাসলে ফেরত পেলেন।

আমাদের বর্তমান বিভিন্ন কর্মকাণ্ডও বার্ধক্য নামের ভবিষ্যৎ ব্যাংকে জমা হয় তারপর বৃদ্ধ বয়সে সুদসহ ফিরে এসে নাভির নিচে ঘুষি মারে।

প্রশ্ন হচ্ছে, কোন ব্যাপারগুলো আমাদের খেয়াল রাখা উচিত? যাতে বার্ধক্য নামের ব্যাংকে কষ্ট জমা না হয়?

১ ) আপনি ভাবছেন বুড়ো হলে ছেলেমেয়েরা আপনাকে দেখবে? তাই নিজের জন্য কিছু জমাচ্ছেন না- সব ওদের পেছনে খরচ করছেন। ভুল করছেন। সবসময় ব্যাটে-বলে মিলে না। মনে রাখবেন বাবামায়ের টাকা সন্তানের টাকা- কিন্তু সন্তানের টাকা বাবা-মায়ের টাকা নয়। আপনার বাড়ি সন্তানের বাড়ি- কিন্তু ওদের বাড়ি আপনার বাড়ি নাও হতে পারে।
তাছাড়া, বড় হয়ে ওরা নিজেদের জীবন নিয়েই ব্যস্ত হয়ে যাবে। চাইলেও হয়তো আপনাকে দেখতে পারবে না। অতএব সন্তান আপনাকে বুড়োকালে দেখবে এ ভাবনা বাদ দিন। মনে রাখবেন, সন্তানের উপর নির্ভর করার চিন্তা থেকেই আপনার বার্ধক্যের কষ্ট শুরু হয়।

২) ভাবছেন- বুড়ো বয়সে জীবনসঙ্গী দেখবে। অসুস্থ হলে ডাক্তারের কাছে নেবে। হাসপাতালে রাত জাগবে। এখন আমি ওর দিকে সব মনোযোগ দেই- পরে ও আমাকে দেখে রাখবে। এটি ভুল ধারণা। আপনি যখন বুড়ো হবেন, তখন তিনিও বুড়ো হবেন । তখন হাঁটতে গেলে আপনার পা কনকন করবে আর তিনি কোমর ব্যথায় বিছানা থেকে উঠতে পারবেন না। তাই ইচ্ছে থাকলেও তিনি আপনার যত্ন নিতে পারবেন না। তার উপর অন্ধ নির্ভরতা মানে আপনি কিস্তিতে বার্ধক্য নামের ব্যাংকে কষ্ট জমাচ্ছেন।

৩ ) ভাইবোন দেখবে? সে আশা বাদ দিন। যত বড় হবেন তাদের সাথে দূরত্ব বাড়বে। ঝগড়াঝাঁটি যে এর কারণ তা নয়। নিজের সংসারের বাঘের পিঠে তারা নিজেরাই থাকবে দিশেহারা। সময় কোথায় পাবে আপনাকে দেখার। এর জন্য তাদের দোষারোপ করাও ঠিক না। এটাই বাস্তবতা। আপনি নিজেও কি বয়স্ক ভাইবোনকে সব সময় দেখে রাখতে পারেন?

৪ )আপনি অবশ্যই অন্যদের জন্য করবেন- কিন্তু আশা করবেন না যে, তারা আপনাকে প্রতিদান দেবে। তাই অন্যের জন্য ততটুকু করুন যতটুকু করলে বুড়ো বয়সে আপনার প্রতিদান চাইতে হবে না। মনে রাখবেন, বার্ধক্য পরিকল্পনাহীন আত্মত্যাগকে পুরস্কৃত করে না- এটি আপনার প্রস্তুতিকে পুরস্কৃত করে। (আবার বলছি, এর মানে এই নয় যে, অন্যের জন্য করবেন না। অবশ্যই করবেন- তবে নিজের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নষ্ট করে নয়)

৫ ) আজ যে ব্যাপারগুলো অবহেলা করছেন- বুড়ো হলে সবগুলো প্রতিশোধ নেবে। শরীরের প্রতি অবহেলা? ঘুমকে পাত্তা না দেওয়া? অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া? সবগুলো কিস্তি হিসেবে জমছে- বয়স হোক, সুদাসলে ফেরত আসবে।

৬ )যে অজুহাতে হাঁটছেন না, টাকা জমাচ্ছেন না, ডাক্তার দেখাচ্ছেন না- সেগুলোও জমা হচ্ছে। তারপর যেদিন অশক্ত হবেন সেদিন পাই- পাই করে হিসাব বুঝিয়ে দেবে।

৭ ) নিজের দিকে মনোযোগী হওয়া স্বার্থপরতা নয়। বরং অন্যের উপকার করা। কারণ বুড়ো বয়সে কারো বোঝা হলে তাদেরও বিপদে পড়তে হয়। আপনি ছেলেমেয়ে এমন কি জীবনসঙ্গীর বোঝা হয়ে তাদের ঝামেলায় ফেলবেন কেন?

বার্ধক্য ঠেকান।
আজ থেকেই নিজের যত্ন নিন।
প্রতিদান আশা করা বাদ দিন।
নির্ভরশীল থাকার চিন্তা বাদ দিন।
নিজের শক্তিতে চলার সিদ্ধান্ত নিন।
তাহলে বার্ধক্য কষ্ট দেবে না। আর বিপরীত হলে, কষ্টটা আজই শুরু হয়ে গেছে। এখন টের পাচ্ছেন না- সময়ে পাবেন।

প্রিয় একটি উক্তি দিয়ে শেষ করি-

'Youth is a gift of nature; age is a work of art.'

'যৌবণ হচ্ছে প্রকৃতির উপহার আর বার্ধক্য হচ্ছে একটি শিল্পকর্ম।'

দয়া করে এই সুন্দর শিল্পকর্মটি আজকের বেহিসেবি আচরণ দিয়ে নষ্ট করবেন না।

পাদটীকা: আমি সন্তান, জীবনসঙ্গী এবং ভাইবোনদের অবহেলা করতে বলছি না। শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে তাদের পাশে থাকতে হবে। তবে বার্ধক্যের ব্যাপারে তাদের ওপর শতভাগ নির্ভর করা যাবে না।

বাদল সৈয়দের লিখা🌿

বাংলাদেশের সবচেয়ে রহস্যময় আর সবচেয়ে সুন্দর জায়গাগুলোর একটা নিঃসন্দেহে সিলেট।এই শহরটা নিয়ে আমার একটা থিওরি আছে।সিলেট শুধু...
03/06/2026

বাংলাদেশের সবচেয়ে রহস্যময় আর সবচেয়ে সুন্দর জায়গাগুলোর একটা নিঃসন্দেহে সিলেট।

এই শহরটা নিয়ে আমার একটা থিওরি আছে।

সিলেট শুধু একটা জেলা না, এটা একটা মুড।

যে একবার সিলেটে গেছে, সে বুঝবে আমি কী বলতে চাচ্ছি।

চা-বাগানের ভেতর দিয়ে আঁকাবাঁকা রাস্তা, জাফলংয়ের স্বচ্ছ জল, রাতারগুলের বন, লালাখালের নীল-সবুজ রং, বিছানাকান্দির পাথুরে স্রোত আর দূরে মেঘালয়ের পাহাড়—প্রকৃতি যেন এখানে একটু বেশি সময় নিয়ে কাজ করেছে।

এত সুন্দর একটা জায়গায় বড় হওয়া মানুষের কল্পনাশক্তি অন্যরকম হবে না তো কী হবে?

আমি যতবার সিলেট গেছি, মনে হয়েছে এই শহরটার একটা নিজস্ব ব্যক্তিত্ব আছে।

এখানে মানুষ শুধু জীবন কাটায় না, জীবনকে উপভোগও করে।

ঢাকার মানুষ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ট্রাফিক, অফিস, টেনশন আর ডেডলাইনের মধ্যে বেঁচে থাকে।

আর সিলেটের মানুষ বিকেলে চায়ের কাপ হাতে বসে থাকে, পাহাড় দেখে, বৃষ্টি দেখে, আড্ডা দেয়।

ক্রিয়েটিভ হবে না কেমনে?

বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রবাসী নেটওয়ার্ক এসেছে সিলেট থেকে।

বিশ্বের প্রায় সব বড় শহরেই আপনি একজন না একজন সিলেটিকে পাবেন।

লন্ডনের সঙ্গে সিলেটের সম্পর্ক এমন যে অনেক সময় মনে হয় দুই শহর একই পরিবারের সদস্য।

এই আন্তর্জাতিক সংযোগ সিলেটের মানুষকে ছোটবেলা থেকেই একটু বড় করে ভাবতে শিখিয়েছে।

আরেকটা ব্যাপার খেয়াল করেছেন?

সিলেটের মানুষ তাদের সংস্কৃতি, ভাষা আর পরিচয় নিয়ে ভয়ানক গর্বিত।

যে মানুষ নিজের শিকড়কে ভালোবাসতে পারে, সে নতুন কিছু সৃষ্টি করতেও পারে।

হযরত শাহ জালাল (রহ.)-এর আগমন থেকে শুরু করে শত শত বছরের ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর সংস্কৃতির একটা গভীর প্রভাব আছে এই অঞ্চলে।

এই শহরের বাতাসেই যেন এক ধরনের শান্তি মিশে আছে।

ঢাকার বাচ্চারা বড় হয় দালানকোঠা দেখে।

আর সিলেটের ছেলেমেয়েরা বড় হয় পাহাড় দেখে, মেঘ দেখে, চা-বাগানের সবুজ দেখে।

বইয়ের বাইরে তাদের আরেকটা পৃথিবী থাকে।

এই কারণেই সিলেট শুধু পর্যটনের শহর না।

এটা কল্পনার শহর।

প্রতিটা অভিভাবকের উচিত জীবনের কোনো না কোনো সময়ে তাদের সন্তানদের কয়েক সপ্তাহের জন্য সিলেটে পাঠানো।

যাক, একদিন জাফলং দেখে আসুক।

লালাখালের নীল জল দেখুক।

চা-বাগানের রাস্তা ধরে হাঁটুক।

বৃষ্টিতে ভিজুক।

পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকুক।

মাথা খুলে যাবে।

এই কংক্রিটের দেশে আমরা অনেক কিছু বানাচ্ছি, কিন্তু বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতাটা হারিয়ে ফেলছি।

সিলেট এখনো মানুষকে বিস্মিত হতে শেখায়।

আর যে জায়গা মানুষকে বিস্মিত হতে শেখায়, সেখান থেকেই তো নতুন চিন্তা, নতুন স্বপ্ন আর নতুন গল্পের জন্ম হয়।

বি: দ্র: চা খেয়ে আসতে পারেন শখের মালাই ঘর থেকে।

19/05/2026

আপনি যদি শুধু ChatGPT ব্যবহার করেন, আপনি AI এর মাত্র ২৫% শক্তি ব্যবহার করছেন।

বাকি ৭৫% আপনার হাতের কাছে পড়ে আছে, কিন্তু আপনি জানেন না।

পৃথিবীর সেরা AI ব্যবহারকারীরা একসাথে ৪টি model চালান। প্রতিটি একেক কাজে অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

কারণটা সহজ। ২০২৬ সালে এসে আর কোনো একটি AI পৃথিবীর সব কাজে সেরা না।

প্রতিটি model নির্দিষ্ট কাজের জন্য বানানো হয়েছে। ভুল model বেছে নেওয়া মানে কাজের গতি ৫ গুণ কমিয়ে ফেলা।

চলুন চারটি model এর আসল শক্তি দেখি।

প্রথমে ChatGPT। সাপ্তাহিক ৯০ কোটি ব্যবহারকারী। এর সবচেয়ে বড় শক্তি বহুমুখিতা।

Brainstorming, creative writing, ছবি বানানো, voice conversation সবই একসাথে করে। কিন্তু কোনোটাতেই সেরা না।

দ্বিতীয় Claude। Anthropic এর বানানো। এর লেখা সবচেয়ে কম "AI এর মতো" শোনায়। বেশ মানুষের মতো প্রাকৃতিক।

Cursor, Windsurf, Claude Code সব professional ডেভেলপার Claude ব্যবহার করে। কোডিং এ এটা শীর্ষে।

দীর্ঘ document analysis, formal writing, complex reasoning এর জন্য Claude অসাধারণ। কিন্তু free tier-এ ৫ ঘণ্টার মেয়াদে সীমিত message পাবেন।

তৃতীয় Gemini। Google এর। এর সুপারপাওয়ার হলো integration। আপনার Gmail পড়ে। আপনার Google Docs বোঝে।

আপনার Google Sheets এর ডাটা বিশ্লেষণ করে। সাথে video এবং audio file directly analyze করতে পারে।

NotebookLM নামের আরেকটি Google টুল আছে যা PDF বা YouTube link দিলে পুরো topic বুঝিয়ে দেয়।

চতুর্থ Perplexity। এটা creative tool না। এটা research engine।

প্রতিটি উত্তরে real-time web search করে এবং source citation দেয়। মানে তথ্যের সত্যতা যাচাই করা যায়।

সাংবাদিক, গবেষক, ছাত্র, বিনিয়োগকারী এদের জন্য Perplexity অপরিহার্য।

এখন সত্যিকারের secret। এই চারটি model কীভাবে একসাথে ব্যবহার করবেন।

ধরুন আপনি একটি বিজনেস plan লিখছেন। প্রথমে Perplexity দিয়ে competitor research করুন। তথ্য source সহ পাবেন।

সেই data ChatGPT তে দিয়ে দশটা creative angle বানান। তারপর Claude এ পাঠিয়ে final draft তৈরি করুন।

শেষে Gemini এ আপনার আগের sales data মিলিয়ে দেখুন কোন strategy বাস্তবে কাজ করবে।

এই workflow একজন professional এক ঘণ্টায় শেষ করেন। শুধু ChatGPT দিয়ে একই কাজে চার ঘণ্টা লাগে।

খরচের প্রশ্ন আসতে পারে। চারটিরই free tier আছে। শুরু করুন সেখান থেকে।

ChatGPT free tier-এ daily limit-সহ আধুনিক model পাবেন। Claude free-এ Sonnet 4.6 পাবেন। Gemini free-এ 2.5 Flash পাবেন। Perplexity free-এ দিনে ৫টা Pro Search পাবেন।

প্রথমে এক সপ্তাহ চারটাই ব্যবহার করুন। দেখুন কোনটা আপনার কোন কাজে আসে।

তারপর শুধু যেটা থেকে সবচেয়ে বেশি মূল্য পাচ্ছেন সেটার paid version কিনুন।

আপনি এখন কোন AI ব্যবহার করেন? কমেন্টে জানান 💬

16/05/2026

ফরজ ইবাদাতের পর কয়েকটা আমল ছাড়বেন না কখনো। ইনশাআল্লাহ জীবনে বারাকাহ্ আসবে।
১) সবসময় জবানে ইস্তেগফার রাখবেন। এক দুই হাজার যত পারেন ইস্তেগফার করবেন। ইস্তেগফারে রত থাকলে আপনার উপর আযাব, মুসিবত আসবে না ইনশাআল্লাহ। রিজিকে বারাকাহ্ আসবে৷ দু'আ কবুল হবে।

২) ইস্তেগফারের ফাঁকে ফাঁকে দুরুদ পাঠ করবেন। দুরুদ পাঠে আল্লাহর রহমত নাযিল হয়৷ ফেরেশতাদের দু'আ পাওয়া যায়।

৩) ঘরের মানুষজনকে সালাম দিবেন প্রতিদিন। সালামে পরস্পরের মধ্যে মোহাব্বত বাড়ে, ঘর থেকে শয়তান বিতাড়িত হয়।

৪) ছোট কাজ হোক, তবুও তা বাসমালাহ (বিসমিল্লাহ) পাঠ ছাড়া শুরু করবেন না। আল্লাহর নামে বরকত লাভ হয়৷

৫) প্রতিদিন সূরা বাকারাহ তিলওয়াত করার চেষ্টা করবেন। সব দায়িত্ব সামলে পুরোটা তিলওয়াত কঠিন। তাই যতটুকু সম্ভব তিলওয়াত করবেন। এটি বরকতময় সূরা। হায়েজ থাকলে অডিও শুনবেন।

৬) প্রতিদিন এক টাকা হলেও সদকাহ্ করবেন। তা না পারলে কুকুর-বিড়ালদের খাবার, পানি দিবেন। সদকাহ্ বিপদ মুক্তির উসিলা।

৭) সকাল-সন্ধ্যার যিকর ভুলেও বাদ দেওয়া যাবে না। সকাল, সন্ধ্যা, ঘুমানোর আগে তিন কুল পড়ে শরীর বন্ধ করা বাধ্যতামূলক। এই আমলের কারণে আল্লাহ আপনাকে হেফাজতে রাখবেন।

৮) টাকা-পয়সা, সম্পদ, ঘরের আসবাব, জিনিসপত্র, চাল-ডাল বারবার গণনা করবেন না। এতে বারাকাহ্ নষ্ট হয়। লোভ করবেন না। দুনিয়াকে অন্তরে নয়, মস্তিষ্কে ঠাঁই দিবেন। ফলে দুনিয়ার কিছু হারিয়ে গেলেও আফসোস হবে না। আবার হারানোর ভয়ও থাকবে না৷

৯) মাগরিবের আগেই "বিসমিল্লাহ" পড়ে দরজা, জানালা বন্ধ করে দিবেন। মাগরিবের নামাজের পর আবার খুলে দিতে পারেন, সমস্যা নেই। হাদিসে এই ব্যাপারে সতর্কতা আছে।

১০) সব বিষয়ে আল্লাহর কাছে চাইবেন। আল্লাহকে বলবেন৷ যা প্রয়োজন, আল্লাহকে আগে বলবেন; পরে অন্য কাউকে। ঘরের জিনিস ফুরিয়ে গেলে কর্তাকে বলার আগেও আল্লাহকে বলবেন৷ দু'আর মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি আপনার মুখাপেক্ষিতা বাড়বে। মানুষের অমুখাপেক্ষী হতে সাহায্য করবে।

১১) "আমার নাই, আমি পাই নাই, তুমি দাও নাই, কেউ দেয় নাই" টাইপের আফসোস করবেন না৷ হা-হুতাশ করবেন না। হিংসা ঝেড়ে ফেলে দু'আ করবেন অন্যের জন্য। নিজের অবস্থান নিয়ে বেশি বেশি কৃতজ্ঞ হবেন আল্লাহর প্রতি। শুকরিয়া করলে আল্লাহ বাড়িয়ে দেন।

এই ক'টা আমল নিজের জন্য লাযিম করে নিবেন ইনশাআল্লাহ।

#কোরবানি #জিলহজ্জ

14/05/2026

একসময় মনে হতো জীবনের শুরুর দিকের বছরগুলোতে ২০–৩০ এ একটু যদি emotionally strong বা capable হতাম, তাহলে হয়তো পড়াশোনা, personal goal কিংবা যেসব achieve করতে চাইতাম, সেগুলো আরও আগে অর্জন করতে পারতাম। জীবনটা হয়তো একটু সহজ হত। rational thinker হতাম। হয়তো এত ভুগতে হতো না কিছু ব্যাপার নিয়ে।

আমাদের বাংলাদেশি পরিবারে আমরা যেভাবে বেড়ে উঠি আমাদের family dynamics, collective psychology র মধ্যে, আমরা শুধুই সারভাইভ করতে শিখি, মেনে নিতে শিখি, কিন্তু নিজের emotion honestly reflect করতে শিখি না। একটা vulnerable mindset নিয়ে বড় হই।

আগেকার বাংলা সিনেমায় দেখতাম, ভাল ক্যারেক্টর গুলো অতিরিক্ত ভাল, আর খারাপ ক্যারেক্টর গুলো সারাজীবন কূটনামি করেই যাচ্ছে। সেই একই obsessive pattern আমাদের পরিবারগুলোতেও অনেকের মাঝে দেখা যায়।

যদি ভাল হতে চাও, তবে শাবানার মতো চোখের পানির সাগরে জীবনটাকে বিসর্জন দাও। আর যারা ঘসেটি বেগমের মতো অনবরত কূটনামি করে যাচ্ছে, তাদের যাত্রা সারাজীবন চলতেই থাকে। মানে দুটোই এক্সট্রিম। তাও ভাল, মা আমাকে অতিরিক্ত ভাল হওয়া শিখিয়েছিলেন।কিন্তু নিজের ভালটাও যে বুঝতে হয়, সেটা শেখায়নি। তবে সময় ঠিকই অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়েছে।

একসময় আমার মনে হতো যারা খুব সফল বা highly achieved মানুষ, তারা হয়তো ইমোশনালি অনেক বেশি capable। তারা হয়তো কম সাফার করে, বা কঠিন সময়গুলো সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক ভাল হ্যান্ডেল করতে পারে। কিন্তু বয়সের সাথে সাথে অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে শুরু করলাম, ব্যাপারটা এত সিম্পল ও না।

অনেক সফল এবং মেধাবী মানুষ আছেন, যাদের ভিতরে ভিতরে অনেক স্ট্রাগল করতে দেখা যায়। তারা শুধু ভালমতো নিজেকে লুকাতে পারে, তফাত এটাই। অনেক সময় তারা কাজের মধ্যে এত বেশি ডুবে যান, এটা ভেবে যে কিছু achieve করলেই যেন মুক্তি মিলবে। কিন্তু ভেতরের ট্রমা টা থেকেই যায়। খুব অবহেলায় কষ্টটাকে মাটিচাপা দিয়ে রাখেন, কিন্তু ওই জায়গাটা বদ্ধ রাখতে রাখতে একসময় খুব সেনসিটিভ হয়ে যায়।

সম্প্রতি একজন psychologist এর একটা discussion শুনছিলাম। সেখানে তিনি একজন high achiever ব্যক্তির কথা বলছিলেন। তার সমস্যা ছিল, তিনি সবকিছু অনেক বেশি overthink করতেন। কেন তিনি এভাবে overthink করেন, কেন বারবার তার এমন হচ্ছে, অথবা শৈশবের কোন ট্রমা তাকে affect করেছে কিনা এসব তিনি intellectually খুব ভালভাবে ব্যাখ্যা করতে পারতেন। তিনি বুঝতে পারতেন সবকিছু নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করছেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও এটা তাকে বেশ ভোগাচ্ছিল।

এই উদাহরণ থেকে বোঝা যায়, শুধু জ্ঞান থাকলেই যে আপনি emotionally capable হবেন, সেটা সঠিক নয়। আপনি হয়তো বুঝতে পারছেন আপনার ট্রমা কোথা থেকে এসেছে, কেন আপনি certain emotional patterns রিপিট করেন, কিন্তু শুধু বুঝলেই healing হবে না, এটা থেকে বেড়িয়ে আসার জন্য স্টেপ নিতে হবে।

এই যে নিজের problem area খুঁজে বের করতে পারাটাও কিন্তু একটা বড় স্ট্রেন্থ। কারণ আপনি বুঝতে পারছেন আপনার নিজের আচরণগত সমস্যা এবং আপনি চেষ্টা করছেন শুধরাতে।

নিজেকে শুধরাতে একমাত্র বিবেকবান মানুষেরাই চায় আর এটা যদি আপনার মধ্যে কাজ করে, তাহলে ভাববেন আপনি blessed। কারণ আপনি নিজেকে ইম্প্রুভ করতে চাচ্ছেন। এই simple humble attitude আপনাকে জীবনে একটা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক স্থিরতা দেবে। শান্তি দেবে।

ইমোশন চেপে রাখবেন না। বোঝার চেষ্টা করুন, লিখে ফেলুন কী হচ্ছে, কেন হচ্ছে। মন কে constantly train করতে হয়। এজন্য দেখবেন, যত বড় নামিদামি শিক্ষিত মানুষই হোক না কেন, সবাই emotionally strong হন না।

Emotional healing is a beautiful journey।

আমার জীবনের অনেক স্টেজেই খুব কঠিন সময় গেছে, deep trauma র মধ্যে দিয়ে গেছি। এখনও যাই। তবে এখন অন্তত জানি কিভাবে সেই ইমোশন টাকে হ্যান্ডেল করতে হয়। কষ্টটাকে চাপা দিয়ে রাখিনি, বোঝার চেষ্টা করি, সেইফ জায়গায় শেয়ার করি । Psychologist এর কাছে, কিংবা সেইসব মানুষের কাছে, যারা সেইম ট্রমার মধ্যে দিয়ে গেছে।

অনেক কেঁদেছি, ভেঙে পড়েছি, কষ্ট টাকে পুরোপুরি ফিল করেছি । কিন্তু একই সাথে জীবন থামিয়ে রাখিনি। মানুষের সাথে কথা বলেছি, লিখতাম, reflect করতাম, হাইকিং এ যেতাম, ক্যাম্পিং এ যেতাম। Nature truly heals । এটা একটা অনবরত প্রক্রিয়া, কন্টিনিও করে যেতে হবে।

ইমোশনালি স্ট্রং হওয়া মানে আপনি সবসময় শক্ত থাকবেন এমন না। বরং ভেঙে পড়ার পরও ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তুলবেন।

শুভ রাত্রি

Address

102, Indira Road.
Dhaka
1215

Telephone

+8801912884697

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sultana's Dream posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Sultana's Dream:

Shortcuts

Share