LADY Clothings

LADY Clothings WOMEN AND KIDS ALL TYPES OF GORGEOUS DRESS COLLECTION

LADY Clothings confirm the best quality product to the customer as well as incomparable design from others.

পণ্য ফেরত প্রদানের শর্তসমূহঃ

১। ত্রুটি ছাড়া কোন পণ্য পরিবর্তন যোগ্য নয়। তবে ডেলিভারি বয়ের উপস্থিতিতে প্রোডাক্ট চেক করে নিবেন। কোনো ত্রুটি থাকলে প্রোডাক্ট রিসিভ করবেন না।

২। পণ্য পরিবর্তন করে নতুন পণ্য নিতে হবে। নগদ টাকা ফেরত প্রদান করা হয় না।

সার্ভিসঃ
� কাস্টোমাইজ বেবি ড্রেসঃ ০ থেকে যেকোনো সাইজ
� পেজের শর্ত অনুযায়ী অর্ডার কনফার্ম করতে হবে।
� অর্ডার কনফার্ম করার ৭-১০ দিনের মধ্যে ডেলিভারি করা হবে।
� বেবির মাপ প্রদান করতে পারবেন। মাপ প্রদান করা না হলে বয়স অনুযায়ী তৈরি করে দেয়া হবে।
� পরিস্থিতি ভেদে ড্রেসের মূল্য কম বা বেশি হতে পারে।
� ১০০% অরিজিনাল ও মানসম্মত কাপড় প্রদান করা হবে।
� ঢাকায় হোম ডেলিভারি দেয়া হয়, তবে ২০০ টাকা অগ্রিম প্রদান করে অর্ডার কনফার্ম করতে হবে।
� এছাড়া আপনারা ওয়েবসাইট থেকে অর্ডার করতে পারেন। ওয়েবসাইট ঃ www.ladyclothings.com

পেজের শর্তাবলিঃ
� আমাদের পেজের সব ছবি রিয়াল। কেউ দয়া করে ইনবক্সে রিয়াল ছবির জন্য অনুরোধ করবেন না।
� আমদের কোনো শোরুম নেই, আমরা আমাদের মাধ্যমে ডেলিভারি পরিচালনা করি।
� দেশের যেকোন স্থানে সুন্দর কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ডেলিভারি করা হয়। তবে ঢাকায় হোম ডেলিভারি দেয়া সম্ভব, অন্য কোথাও হোম ডেলিভারি করা হয় না।
� প্রোডাক্ট মুল্যের ৩০% টাকা অ্যাডভান্স দিয়ে অর্ডার কনফার্ম করতে হবে, যা অফেরতযোগ্য।
� যেহেতু কাস্টোমাইজ ড্রেস অর্থাৎ তৈরি করা, তাই অর্ডার ক্যানসেল করার কোন সুযোগ নেই।দয়া করে ১০০% সিউর হয়ে অর্ডার করার অনুরোধ করা হচ্ছে।কারন আমরা কিছু সম্মানিত গ্রাহক পেয়েছি যারা অর্ডার করে এবং পড়ে কান্সেল করে দেয়। তাই এই সুযোগটি রাখা সম্ভব হল না।
� আপনি ভেবে চিন্তে ঠিক করুন, কয়টি ড্রেস অর্ডার করবেন? অর্ডার করার পর অর্ডার কমানোর কোনো সুযোগ নেই।
� অর্ডার কনফার্ম করার সময় অবশ্যই প্রডাক্টের কালার, সাইজ কনফার্ম করবেন। কারন কাজ শুরু করার পর এগুলো পরিবর্তন সম্ভব নয়।
� সকলের উন্নতি ও শান্তি কামনায় Clothings

আসসালামুয়ালাইকুম বেবি ড্রেস
18/08/2026

আসসালামুয়ালাইকুম
বেবি ড্রেস

18/08/2026
আর্জেন্টিনার জার্সি প্রিমিয়াম কোয়ালিটি *সাইজ*S, M, L, XL, 2XLমূল্যঃ রেগুলার ১০৫০ টাকা।৯৫০ টাকা (শুধুমাত্র প্রি-অর্ডার ...
27/06/2026

আর্জেন্টিনার জার্সি
প্রিমিয়াম কোয়ালিটি

*সাইজ*
S, M, L, XL, 2XL

মূল্যঃ রেগুলার ১০৫০ টাকা।

৯৫০ টাকা (শুধুমাত্র প্রি-অর্ডার কারিদের জন্য)

আপনারটি লুফে নিন এখনি‌


আসসালামুয়ালাইকুম কিউট বেবি ড্রেস
18/06/2026

আসসালামুয়ালাইকুম
কিউট বেবি ড্রেস

আরিশ খন্দকার যখন চারকোল কালারের একটা বন্ধগলা সুট পরে হলরুমে ঢুকল, তখনো তার কাঁধে বাইরের বৃষ্টির দু-এক ফোঁটা জল চকচক করছি...
17/06/2026

আরিশ খন্দকার যখন চারকোল কালারের একটা বন্ধগলা সুট পরে হলরুমে ঢুকল, তখনো তার কাঁধে বাইরের বৃষ্টির দু-এক ফোঁটা জল চকচক করছিল।

সে অনুষ্ঠানের হোস্টের দিকে তাকাল না।

বড় বড় ইনভেস্টরদের দিকেও তাকাল না।

এমনকি সেইসব পুরুষদের দিকেও তাকাল না—যারা ইতিমধ্যেই হ্যান্ডশেক করার জন্য নিজেদের কোট ঠিকঠাক করে, মুখে সেরা হাসিটা ফুটিয়ে হিসাব কষছিল কীভাবে এই একটা পরিচয়কে বিজনেসে রূপ দেওয়া যায়।

সে শুধু আমার দিকে তাকাল।

এক সেকেন্ডের জন্য পুরো রুমের মানুষ যেন কিছুই বুঝতে পারল না। তারপর আরিশ হাসল। সেই হাসিটা খবরের কাগজের পাতায় দেখা কোনো আনুষ্ঠানিক হাসি ছিল না। বিজনেস ম্যাগাজিনের কভারে থাকা সেই মাপা হাসিও ওটা ছিল না।

ওটা ছিল একদম আসল হাসি।

যে হাসিটা আমি রোজ সকালে দেখি—যখন ও ব্যালকনিতে এসে দেখে আমি এক কাপ ঠাণ্ডা চা পাশে নিয়ে মগ্ন হয়ে বই পড়ছি। যে হাসিটা এখনো আমাকে অনুভব করায়, দীর্ঘ এতগুলো বছর লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার পর অবশেষে কেউ একজন আমাকে খুঁজে পেয়েছে।

সে আমার দিকে এগিয়ে এল। ধীরপায়ে, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে।
তার প্রতিটি পদক্ষেপের সাথে সাথে রাফসানের মুখ থেকে কিছু একটা হারিয়ে যাচ্ছিল।
প্রথমে গেল আত্মবিশ্বাস।
তারপর গেল বিদ্রূপের ভাব।
সবশেষে মুখের রঙ।

আরিশ যখন আমার পাশে এসে দাঁড়াল, রাফসানকে তখন এমন একজন মানুষের মতো দেখাচ্ছিল যে নিজের আয়নায় হুট করে কোনো অপরিচিত মানুষকে দেখছে।

"সরি, আমার একটু দেরি হয়ে গেল," আরিশ শান্ত গলায় বলল।

আমি ওর দিকে তাকালাম, "তুমি তো বলেছিলে পাঁচ মিনিট।"

"ঢাকার ট্রাফিক তো আর বিলিয়নেয়ার দেখে ভয় পায় না!"

পুরো রুমে একটা মৃদু হাসির রোল বয়ে গেল, কিন্তু সেটা ছিল ভীষণ নার্ভাস এক হাসি। কারণ সবাই তখন আমাদের দিকেই তাকিয়ে।

আরিশ এবার রাফসানের দিকে ঘুরল। রুক্ষভাবে নয়, নাটকীয়ভাবেও নয়—ঠিক যতটুকু দরকার।

"মিস্টার আহমেদ," সে বলল।

রাফসান চোখের পলক ফেলল, "আপনি আমাকে চেনেন?"

আরিশের হাসিটা আগের মতোই শান্ত রইল, "যারা প্রতি সপ্তাহে আমার অফিসে প্রপোজাল পাঠায়, তাদের বেশিরভাগকেই আমি চিনি।"

রাফসান শুকনো ঢোক গিলল, "অবশ্যই। স্যার, আমি আসলে আমাদের লজিস্টিকস এক্সপ্যানশন নিয়ে আপনার সাথে দেখা করার চেষ্টা করছিলাম—"

আরিশ এক হাত তুলে তাকে থামিয়ে দিল, "আজকের রাতটা ওসবের জন্য নয়।"

তারপর সে আমার হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিল। আমাকে প্রদর্শনের জন্য নয়, বা কোনো জেদ দেখানোর জন্যও নয়। শুধু এই কারণে যে, যখনই আশেপাশের পরিবেশটা একটু বেশি রূঢ় হয়ে ওঠে, ও সবসময় এভাবেই আমার হাত ধরে।

তার আঙুলগুলো আমার আঙুলের ফাঁকে আটকে গেল। ঊষ্ণ, স্থির—একটুকরো চেনা আশ্রয়।

অনুষ্ঠানের হোস্ট হঠাৎ করেই তার কর্তব্যের কথা মনে করে মাইক্রোফোনে বলে উঠলেন—

"লেডিস অ্যান্ড জেন্টলমেন, প্লিজ ওয়েলকাম মিস্টার আরিশ খন্দকার এবং ওনার সহধর্মিণী, মিসেস অনন্যা খন্দকার।"

'সহধর্মিণী।'

শব্দটা রেশমি কাপড়ের নিচে লুকিয়ে থাকা বজ্রপাতের মতো পুরো হলে ছড়িয়ে পড়ল।

নাবিলার মুখের হাসিটা সবার আগে মিলিয়ে গেল।

রাফসান আমাদের জোড়া হাতের দিকে তাকিয়ে রইল, তারপর আমার মুখের দিকে, তারপর আরিশের দিকে। তার মুখটা সামান্য হাঁ হয়ে গেল, কিন্তু কোনো শব্দ বের হলো না।

পেছন থেকে কেউ একজন ফিসফিস করে বলল, "ওনার স্ত্রী?"

আরেকটা কণ্ঠ বলল, "অনন্যা আরিশ খন্দকারকে বিয়ে করেছে?!"

তারপর তৃতীয় একটা মৃদু, কিন্তু নিষ্ঠুর কণ্ঠ ভেসে এল—"রাফসান এটা জানত না?"

না, সে জানত না।

কারণ ডিভোর্সের পর রাফসান নিশ্চিত করেছিল যেন সবাই শুধু তার গল্পটাই শোনে। আর আমি নিশ্চিত করেছিলাম যেন কেউ আমার গল্পটা জানতে না পারে।

আমি আমাদের বিয়ের কোনো ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করিনি। কলেজের গ্রুপগুলোতে আমার নতুন জীবনের কোনো ঘোষণা দিইনি। আদালতের প্রমাণের মতো পুরনো সহপাঠীদের কাছে আমার সুখের কোনো প্রমাণ পাঠাইনি।

আমি শুধু বেঁচে ছিলাম।

আর এই নিস্তব্ধতার মধ্যে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকাটাই এমন এক প্রতিশোধ হয়ে উঠেছিল, যা রাফসান কখনো কল্পনাও করতে পারেনি।

আরিশ আমার পিঠে আলতো করে হাত রাখল, "যাবে?"

আমি বুঝলাম ও কী বলতে চাইছে। স্টেজ, এই রুম ভর্তি মানুষ, আর এই মুহূর্তটা।

আমি মাথা নাড়ালাম।

আমরা দুজনে একসাথে রাফসানের পাশ কেটে হেঁটে গেলাম। নাবিলা হাত টেনে ধরার আগ পর্যন্ত ও এক চুলও নড়েনি। ও যখন এক পা পিছিয়ে গেল, আমি শুনলাম ও ফিসফিস করে ডাকল,

"অনন্যা..."

আমি থামলাম না।

স্টেজের আলোটা বেশ ঊষ্ণ, কিছুটা তীব্র ছিল। সেখান থেকে হলের প্রতিটি মুখ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল।

পুরনো বন্ধু, পুরনো বিচারক, পুরনো গালগল্পকারী মানুষগুলো। যে মানুষগুলো একসময় আমার পতন দেখেছিল এবং সেটাকে বিনোদন হিসেবে নিয়েছিল। যে মানুষগুলো কখনো জানতে চায়নি আমি কেমন আছি, কারণ আমার কষ্টের চেয়ে রাফসানের বানানো গল্পটা তাদের কাছে বেশি মুখরোচক ছিল।

আরিশ মাইক্রোফোনটা হাতে নিল।

"আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ," সে বলল। "যদিও টেকনিক্যালি, ইভেন্টটা স্পন্সর করার পর আমি নিজেই নিজেকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি।"

মানুষজন হেসে উঠল। এবার হাসিটা ছিল স্বাভাবিক।

সে বলতে থাকল, "আমি আজ রাতে এসেছি কারণ আমার স্ত্রী এখানে পড়াশোনা করেছে। সে এই জায়গার কথা এক ধরণের 'জটিল ভালোবাসা' নিয়ে বলে।"

'জটিল ভালোবাসা'—শব্দটা একদম আরিশের মতোই। ও কখনো ক্ষতগুলোর অনুমতি না নিয়ে সেগুলোকে বক্তৃতায় রূপ দেয় না।

"যখন অনন্যার সাথে আমার প্রথম দেখা হয়," আরিশ বলল, "সে তখন আমাদের একটা এডুকেশন ফান্ডের লিডারশিপ রোলের জন্য ইন্টারভিউ দিচ্ছিল। বোর্ডের বাকি মেম্বাররা গ্রোথ নিয়ে একটা চমৎকার কর্পোরেট উত্তরের আশা করছিল। তার বদলে, সে পনেরো মিনিট ধরে ব্যাখ্যা করেছিল কেন প্রতিভাবান নারীরা এমন সিস্টেম ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়—যা তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সবসময় 'স্বার্থপরতা' বলে আখ্যা দেয়।"

আমার গলাটা বুজে এল। আমার সেই ইন্টারভিউটার কথা মনে পড়ে গেল।

আমার পরনে ছিল একটা সাধারণ নীল রঙের সুতি শাড়ি। আত্মবিশ্বাসটা ছিল ধার করা। আমি পাঁচজন এক্সিকিউটিভের সামনে বসে ভাবছিলাম—যদি আমি ব্যর্থও হই, অন্তত নিজের সত্ত্বা নিয়ে ব্যর্থ হব।

আরিশ আমার দিকে ক্ষণিকের জন্য তাকাল, "সে-ই একমাত্র ক্যান্ডিডেট ছিল যে আমাদের ফাউন্ডেশনের মডেলটাই ভুল ছিল বলে ধরিয়ে দিয়েছিল।"

কয়েকজন মৃদু হাসল।

"চাকরিটা ওই পেয়েছিল," ও বলল। "এই জন্য নয় যে সে আমাদের ইমপ্রেস করেছিল। বরং এই জন্য যে, সে আমাদের বাধ্য করেছিল নিজেদের আরও উন্নত করতে, আমাদের মনে একটা ইতিবাচক ভয় তৈরি করে।"

হলের ভেতরের পরিবেশটা এবার আরও সহজ হয়ে উঠল। আমি রাফসানের দিকে তাকালাম। ও বারের কাছে আড়ষ্ট হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, পাশে নাবিলা নিজের পেটে এক হাত সুরক্ষার মতো চেপে ধরে রেখেছিল।

রাফসানের চোখ এখন আর আরিশের দিকে নেই। ও আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। সেই চোখে ভালোবাসা ছিল না, এমনকি অনুশোচনাও ছিল না। ছিল শুধু হিসাব-নিকাশ।

সেই একই পুরোনো হিসাব-নিকাশ—যা আমি আগে দেখতাম যখন ও ঠিক করত কোন অপমানটা সবার সামনে করা যাবে আর কোনটা গাড়িতে ওঠার জন্য তুলে রাখা দরকার।

আরিশ বলতে থাকল, "আজ রাতে আমাকে সাফল্যের ব্যাপারে কথা বলতে বলা হয়েছিল। কিন্তু আমি বরং 'মর্যাদা' নিয়ে কথা বলতে চাই। কারণ মর্যাদা ছাড়া সাফল্য কেবলই একটা পারফরম্যান্স হয়ে দাঁড়ায়। আর অনেকেই খুব ভালো পারফর্ম করতে পারেন।"

রুমের মানুষজন ইঙ্গিতটা বুঝতে পেরে কিছুটা অস্বস্তির সাথে নড়চড়ে বসল। আরিশ রাফসানের দিকে তাকাল না, তার তাকানোর প্রয়োজনও ছিল না।

"আমার স্ত্রী আমাকে শিখিয়েছে যে, অপমানের পর নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলা কোনো কামব্যাক স্টোরি নয়। এটা একটা দৈনন্দিন সাধনা। কখনো কখনো এর মানে হলো—হাত কাঁপতে থাকা সত্ত্বেও একটা নতুন ফ্ল্যাটের লিজে সই করা। কখনো এর মানে হলো—রাতের খাবারে একাকী বসে থাকা, তাও সেই মানুষের কাছে ফিরে না যাওয়া যে তোমাকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিল। কখনো এর মানে হলো—এত নীরবে একটা নতুন জীবন গড়ে তোলা, যাতে যারা তোমাকে জীবন্ত কবর দিয়েছিল তারা যেন তোমার কবরের সাথেই কথা বলতে থাকে।"

নীরবতার প্রতিধ্বনি
পর্ব_ ২
Asim Valobasa

আমাদের ডিভোর্সের আট বছর পর, আমার প্রাক্তন স্বামী আমাদের কলেজের পুনর্মিলনীতে আমাকে দেখে হেসে বলল, “এখনও একা, অনন্যা?” সে ...
16/06/2026

আমাদের ডিভোর্সের আট বছর পর, আমার প্রাক্তন স্বামী আমাদের কলেজের পুনর্মিলনীতে আমাকে দেখে হেসে বলল, “এখনও একা, অনন্যা?” সে জানত না যে আমি আবার বিয়ে করেছি—আর সেই হলের যে মানুষটাকে সে সবচেয়ে বেশি ভয় পেত, সেই মানুষটিই একটু পর সবার সামনে আমাকে নিজের স্ত্রী বলে পরিচয় দিতে যাচ্ছে।
নিমন্ত্রণপত্রটি আমার ডাইনিং টেবিলে টানা দুই দিন ধরে একটা ফাঁদের মতো পড়ে ছিল।
অফ-হোয়াইট খাম।
সোনালী অক্ষরে লেখা—**২০১০ ব্যাচের পুনর্মিলনী, ঢাকা বিজনেস স্কুল (ডিবিএস)।**
চা ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছিল, আর আমি ওটার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। দীর্ঘ আট বছর। আটটি বছর আমি এই মুখগুলোর মুখোমুখি হইনি। আট বছর আগে আমি এক কাপড়ে, একটা ভাঙা সংসার আর এক বুক ক্ষোভ নিয়ে রাফসান আহমেদের বাড়ি থেকে বের হয়ে এসেছিলাম। আর পেছনে ফেলে এসেছিলাম একদল মানুষের কানাঘুষা—মেয়েটা সংসার ধরে রাখতে পারল না!
অথচ একসময় আমাদের ব্যাচের সবচেয়ে মেধাবী মেয়ে বলা হতো আমাকে।
তারপর রাফসানের সাথে আমার বিয়ে হলো।
আর রাতারাতি আমার পরিচয় হয়ে গেল—"স্বামী পরিত্যক্তা নারী।"
মানুষের ড্রয়িংরুমের মুখরোচক গল্প।
বত্রিশ বছর বয়সে এসে আমি একটা জিনিস খুব ভালো করে বুঝেছি—ডিভোর্স শুধু একটা বিয়েই ভেঙে দেয় না, সমাজকে অধিকার দিয়ে দেয় আপনার নামটা নিয়ে যত্রতত্র চিবিয়ে খাওয়ার। রাফসান এই কাজটা খুব নিখুঁতভাবে করেছিল। সে সবাইকে বলেছিল আমি নাকি বড্ড অহংকারী, ক্যারিয়ার ছাড়া কিছু বুঝি না, ভীষণ কোল্ড আর ঘরকন্ঠার কাজের অযোগ্য।
সে কাউকে বলেনি যে সে কীভাবে আমার অল্প বেতনের চাকরিটা নিয়ে প্রতিনিয়ত খোঁটা দিত। বলেনি কীভাবে তার মা আমার আলমারি চেক করত, যেন আমি চোর! সে এও বলেনি যে একদিন সে আমার এমবিএ-র সার্টিফিকেটটা মেঝেতে ছুড়ে ফেলে দিয়ে বলেছিল, "ডিগ্রি দিয়ে তো আর ভালো বউ হওয়া যায় না!"
এরপর আমি আর কোনো রিইউনিয়নে যাইনি। একটাতেও না।
কিন্তু এবার আমন্ত্রণপত্রের নিচে হাতে লেখা একটা লাইন ছিল:
"প্লিজ এসো, অনন্যা। কিছু মানুষের দেখা দরকার তুমি আজ কোথায় পৌঁছেছ।"
কোনো নাম সই ছিল না। শুধু ওই একটা বাক্য।
তাই আমি গেলাম।
আমি একটা গাঢ় সবুজ রঙের জামদানি শাড়ি পরলাম, কানে ছোট ডায়মন্ডের টপ, আর মুখে সেই শান্ত ভাব—যা কোনো প্রশংসার অপেক্ষায় থাকে না।
উত্তরা’র ফাইভ স্টার হোটেলের বলরুমটা ফেয়ারি লাইট আর বিলাসী আবহাওয়ায় ঝলমল করছিল। পুরনো সহপাঠীরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করছিল। পুরুষরা নিজেদের গাড়ির মডেল নিয়ে বড়াই করছিল, আর নারীরা তুলনা করছিল তাদের সন্তান, বিদেশ ভ্রমণ, স্কিন ট্রিটমেন্ট আর স্বামীদের।
আমি রেজিস্ট্রেশন ডেস্কের কাছে পৌঁছানো মাত্রই কেউ একজন ফিসফিস করে আমার নাম উচ্চারণ করল। তারপর আরেকজন। পুরো রুমের মানুষ যেন হঠাৎ আমাকে মনে করতে পারল।
"অনন্যা রায়হান না?"
"কতদিন পর!"
"ওকে তো বেশ অন্যরকম লাগছে।"
"একাই এসেছে নাকি?"
শেষ প্রশ্নটা রাফসানের গলা থেকে এসেছিল। না তাকিয়েও আমি ওই কণ্ঠ চিনতে পারি। ও বারের কাছে একটা নেভি ব্লু সুট পরে দাঁড়িয়ে ছিল। আগের চেয়ে কিছুটা মুটিয়ে গেছে, কিন্তু ঠোঁটের সেই চেনা হাসিটা একই আছে—এমন একটা হাসি, যেন এই পৃথিবীর সব ডমিনেন্স তারই।
তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল তার দ্বিতীয় স্ত্রী, নাবিলা। লাল শাড়ি আর হাতভর্তি সোনার চুড়ি পরে সে আমার দিকে এমন এক অলস কৌতূহল নিয়ে তাকাল, যেন রাতে ঘুমানোর আগে রাফসান তাকে আমার চরিত্রের সবচেয়ে কুৎসিত গল্পগুলো শুনিয়ে ঘুম পাড়াত।
রাফসান ধীরপায়ে আমার দিকে এগিয়ে এল।
"অনন্যা," সে বলল, "কী সারপ্রাইজ!"
আমি হাসলাম, "রাফসান।"
তার হাসির ধার আরও বেড়ে গেল। "এখনো একাই আসো সব জায়গায়?"
আশেপাশের মানুষজন এমন ভাব করছিল যেন তারা কিছুই শুনছে না, যার মানে হলো—সবাই কান খাড়া করে আছে।
নাবিলা মৃদু হাসল, "রাফসান আমাকে বলেছিল তুমি নাকি ভীষণ ক্যারিয়ার-ওরিয়েন্টেড। কিছু মেয়ে আসলে ফ্যামিলির চেয়ে ফাইলের গুরুত্ব বেশি দেয়।"
আশেপাশের কয়েকজন অস্বস্তিকর হাসি হাসল। আমি আমার ক্লাচ ব্যাগটা শক্ত করে ধরলাম। দুর্বলতার কারণে নয়, বরং পুরনো ক্ষতগুলো তার মালিককে চেনে বলেই।
রাফসান আরও একটু কাছে এগিয়ে এল, "তুমি যে আসবে আগে জানালে পারতে। তোমার সাথে বসার জন্য অন্তত একজন পার্টনারের ব্যবস্থা করে দিতাম।"
"তোমার অনেক দয়া," আমি বললাম।
সে হালকা হাসল, "এটাই তোমার সমস্যা ছিল। অতিরিক্ত ইগো। দেখলে তো, অহংকার তোমাকে কোথায় এনে দাঁড় করালো?"
আমি তার দিকে তাকালাম। এই সেই লোক যার জন্য আমি একসময় রাতে বালিশ ভিজিয়ে কাঁদতাম। এই সেই লোক যার নাম আমার পাসপোর্ট আর আইডি কার্ড থেকে মুছে ফেলতে গিয়ে আমার হাত কাঁপছিল মাসের পর মাস। অথচ সে ভাবছে, সে যেখানে আমাকে ফেলে গিয়েছিল, আমি আজো সেখানেই থমকে আছি।
সে তার গ্লাসটা বাতাসে তুলল, "টু ওল্ড মেমোরিজ! আর আমাদের নতুন জীবনের জন্য। আমরা অন্তত পরিবার তো গড়তে পেরেছি।"
নাবিলা আলতো করে তার পেটে হাত রাখল। সে প্রেগন্যান্ট। অবভিয়াসলি। পুরো রুমের মানুষ সেটা নোটিশ করল, আর রাফসান ঠিক সেটাই চেয়েছিল। কেউ একজন হাততালি দিল, কেউ অভিনন্দন জানাল।
তারপর সে আবার আমার দিকে ঘুরল, "তা অনন্যা, এখনো কি কোনো ছোটখাটো ফার্মে চাকরি করছ?"
আমার হাসি পেয়ে গেল। ছোটখাটো ফার্ম! সে যদি জানত। কিন্তু কিছু জবাব দেরিতে দিলেই বেশি সুস্বাদু লাগে।
"চাকরি করছি," আমি সংক্ষেপে বললাম।
"ভালো," সে উত্তর দিল, "একাকী মানুষদের ব্যস্ত থাকাটাই শ্রেয়।"
কথাগুলো তীরের মতো এসে বিঁধল। ঠিক আগের মতোই নিষ্ঠুর আর চেনা। এক সেকেন্ডের জন্য আমি আবার চব্বিশ বছরের সেই মেয়েটি হয়ে গেলাম, যে রাফসানের মায়ের রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে কাঁদছিল কারণ একটা রুটি পুড়ে গিয়েছিল। আর রাফসান ড্রয়িংরুমে বসে বন্ধুদের বলছিল, "বাদ দাও তো, ওসব ফ্যামিলি মেইনটেইন করা ওর কাজ না।"
ঠিক তখনই আমার ফোনটা ভাইব্রেট করল। একটা মেসেজ—*পিকড আপ। ৫ মিনিটে ঢুকছি।*
রাফসান নামটা দেখার আগেই আমি স্ক্রিন লক করে দিলাম। ও সেটা খেয়াল করল।
"বয়ফ্রেন্ড?" সে হেসে জিজ্ঞেস করল।
"না।"
"আহা, তাহলে কেউ একজন আছে?"
নাবিলা মিষ্টি করে হেসে বলল, "ভালো তো। একটা... 'ব্যর্থতা'র পর সবারই তো একজন সঙ্গী দরকার হয়।"
'ব্যর্থতা' শব্দটা পুরো সার্কেলের মধ্যে সুগন্ধির মতো ছড়িয়ে পড়ল। দামি, কিন্তু পচা সুবাস।
আমি আমার জুসের গ্লাসটা টেবিলে রাখলাম। "নাবিলা," আমি শান্ত গলায় বললাম, "একটা মেয়ের টিকে থাকার লড়াইকে 'ব্যর্থতা' বলো না, শুধু এই কারণে যে একজন পুরুষ তোমাকে তার নিজের সুবিধামতো বানানো গল্প শুনিয়েছে।"
নাবিলার মুখের হাসিটা জমে গেল। রাফসানের চোখ দুটো শক্ত হয়ে উঠল, "মুখ সামলে কথা বলো, অনন্যা।"
সেই পুরোনো হুমকি। আমি একটু স্পষ্ট করে কথা বললেই ও এই টোনে কথা বলত।
আমি উত্তর দেওয়ার আগেই হলের লাইটগুলো নিভে গেল। অনুষ্ঠানের হোস্ট স্টেজে উঠলেন।
"লেডিস অ্যান্ড জেন্টলমেন, ডিনারের আগে আমাদের একটা বিশেষ অ্যানাউন্সমেন্ট আছে। আজ রাতে আমাদের প্রধান অতিথি এমন একজন মানুষ, যাকে আপনারা সবাই নামে চেনেন, যদিও সামনাসামনি দেখার সুযোগ হয়নি।"
পুরো বলরুমে একটা গুঞ্জন শুরু হলো। রাফসান সোজা হয়ে দাঁড়াল। তার চোখে লোভ আর উচ্চাকাঙ্ক্ষা চকচক করে উঠল। সে ফিসফিস করে নাবিলাকে বলল, "ইনি নিশ্চয়ই আরিশ খন্দকার। ওনার সাথে যদি আজ রাতে একটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাকা করতে পারি, আমাদের কোম্পানির নতুন প্রজেক্ট ডান!"
আমি এন্ট্রান্সের দিকে তাকালাম। দরজা এখনো খোলেনি।
হোস্ট হেসে বলতে লাগলেন, "তিনি 'খন্দকার গ্লোবাল ভেঞ্চার্স'-এর ফাউন্ডার, বাংলাদেশের অন্যতম বড় এডুকেশন ফান্ডের পেছনের মানুষ, এবং আমাদের আজকের এই রিইউনিয়নের পুরো স্পন্সর।"
রাফসান তার সুটের কাফলিঙ্ক ঠিক করল। নাবিলা তার শাড়ির আঁচল টেনে নিল। হলের অর্ধেক মানুষ দরজার দিকে ঘুরে তাকাল।
তখনই হোস্ট শেষ লাইনটি বললেন—
"কিন্তু ওনাকে স্টেজে ডাকার আগে, ওনার একটা ব্যক্তিগত অনুরোধ আছে। উনি বলেছেন, উনি আজ রাতে এখানে কোনো চিফ গেস্ট হিসেবে প্রবেশ করতে চান না... বরং এই ২০১০ ব্যাচের সবচেয়ে স্ট্রং এবং সাকসেসফুল মেয়েটির স্বামী হিসেবে প্রবেশ করতে চান।"
রাফসান মনে মনে হেসে ফিসফিস করল, "কার ভাগ্য খুলে গেল রে বাবা!"
ঠিক তখনই বলরুমের বিশাল দরজা দুটো খুলে গেল। আর ভেতরে পা রেখেই, দেশের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়ী আরিশ খন্দকার পুরো হলের ভিড়ের মাঝে সবার প্রথমে যার চোখ খুঁজছিল—সেটি ছিলাম আমি।

নীরবতার_প্রতিধ্বনি
পর্ব_ ০১
Asim_valobasa

আসসালামুয়ালাইকুম শুভ সন্ধ্যা
16/06/2026

আসসালামুয়ালাইকুম
শুভ সন্ধ্যা

আসসালামুয়ালাইকুম শুভ সকাল কাস্টমাইজ বেবি ড্রেস
13/06/2026

আসসালামুয়ালাইকুম
শুভ সকাল
কাস্টমাইজ বেবি ড্রেস

আসসালামুয়ালাইকুম।কাস্টমাইজ বেবি ড্রেস পেজ LADY Clothings
11/06/2026

আসসালামুয়ালাইকুম।
কাস্টমাইজ বেবি ড্রেস
পেজ LADY Clothings

04/06/2026

নতুন ডিজাইন

Address

74/2/B, Balughat Bazar, Pallabi
Dhaka
1206

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when LADY Clothings posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to LADY Clothings:

Shortcuts

Share