23/10/2024
চাকরির সুবাদে আমার শাশুড়ীর পোস্টিং ঠাকুরগাঁও এ,আর শশুড় এর ইউনিভার্সিটি ও ঢাকায়,তাই গত ছয় বছর যাবত আমার শাশুড়ীমাকে ঢাকা টু ঠাকুরগাঁও আসা যাওয়ার উপর থাকতে হয়।
তো যেদিন আমার শাশুড়ীর আসার দিন থাকে তার ২/৩ দিন আগ থেকেই আমার শশুড়ের মেজাজ একদম ফুরফুরে থাকে,মায়ের পছন্দের এটা সেটা কিনতেই থাকে,আর আমাদের সাথেও কারনে অকারনে হেসেহেসে কথা বলে।
একবার শাশুড়ীমা ফোনে বললেন বাজারে তো লিচু আসছে,এখানে তো তেমন দেখিনা,আমার ঢাকায় যেতেযেতে লিচু আর থাকবে কিনা।
কথাটা মা অতোটাও গুরুত্ব দিয়ে বলেন নাই,কিন্তু আমার শশুড় আব্বার মনে ভিষণ দাগ কেটে গেছে।
উনার গলা দিয়ে আর লিচু নামবেনা এমন অবস্থা,আমাদেরকে কয়েকবার বললেন তোমাদের আম্মু তো লিচু খেতে পারতেছেনা।
এর একদিন পর হুট করে কলেজ থেকে বাসায় এসে সিদ্ধান্ত নিলো ঠাকুরগাঁও যাবে,তিনদিনের ছুটি নিলো,কি যে মহা আনন্দে প্যাকিং করলো রাত ভরে ,তাড়াহুড়ো করে ট্রেনের টিকেট কাটলো,আমাদের তিনজনকে(আমি,আমার বর,ননদ) বিদায় দিয়ে চলে গেলো,৫ মিনিট পর ফিরে এসে বললো এই তোমরা কিন্তু তোমার আম্মুকে বলে দিয়ো না,আমি সারাপ্রাইজ দিবো,কথাটা বলার সময় বাবার মুখ লজ্জালজ্জা হয়ে ছিলো।আমরা হেসে ফেলেছিলাম তিনজন ই।
এছাড়া যখন ই বাবা সুযোগ পায়,১৫/১৬ ঘন্টা জার্নি করে ছুটে যায়। ভ্যালেন্টাইন ডে তে, জন্মদিনে মাকে ফুল গিফট করে,চায়নিজ খাওয়াতে নিয়ে যায়,এতো টেক কেয়ার করে মাশাআল্লাহ।
আমার মনে হয় একটা মেয়ে সংসারে শুধুই একটা পুরুষের যত্ন আর এটেনশান পেয়েই সারাজীবন হাসিমুখে কাটিয়ে দিতে পারে।
তাদের ভার্সিটি লাইফের অসংখ্যা ভালোবাসার সৃতি এলবাম বন্দি হয়ে থাকলেও এখন চোখের সামনে যতটুকুই দেখি,দেখতে খুব ভাল্লাগে,বিয়ের ৩৪ বছর পরও টিনএজ কাপলদের মতো কেয়ারগুলো আমার কাছে খুব ভালোলাগে।
আজকে লিখতে ইচ্ছে হলো খুব,আজকে আমার শাশুড়ীর পুজোর ছুটি শেষে ঠাকুরগাঁও যাচ্ছে,তো বাবার আজকে কলেজে অনেক ব্যাস্ততা ছিলো,কথা ছিলো আমার বর মাকে এয়ারপোর্টে পর্যন্ত পৌছে দিবে,দুপুর তিনটায় বের হওয়ার কথা,আমার শশুড় হন্তদন্ত হয়ে ৩ টা বাজার ঠিক ৫ মিনিট আগে এসে হাজির,,যেনো মাকে এয়ারপোর্টে পর্যন্ত দিয়ে আসতে পারে।আমি খুব ভালো করে জানি মাও খুব আশা করে বসেছিলো যে বাবা আসবেই।একটু পর পর ঘড়ি দেখতেছিলো রেডি হয়ে বসে।
এই যে অল্প সময়ের জন্য হলেও তাদের একসাথে থাকার তীব্র আকাঙ্খা এটা টাকা দিয়ে কেনা যায় না।
এটা শুধুই মনের তীব্র অনুভূতি। এই অনুভূতি অনেক মূল্যবান।প্রতিবার ই এয়ারপোর্ট থেকে বাবাই রিসিভ করে শত ব্যাস্ততায়ও,বরের যাওয়ার সুযোগ থাকলেও উনিই যাবে।
আমার শাশুড়ীর পোস্টিং এ বাবা এতো কষ্ট পেয়েছেন মোটামুটি ছয়মাস বাবার ফোনে কলার টিউন সেভ ছিলো”তুমি আজ কত দূরে”
আমি আগে ভাবতাম আমার বর এতো কেয়ারিং কোথা থেকে শিখলো,এখন আর এই প্রশ্ন মনে জাগেনা।
আমি জানি আমার শশুড় শাশুড়ি ভাবে তারা দুনিয়ার বেস্ট কাপল।দুনিয়ার বেস্ট কাপল গুলো ভালোবাসায় জড়িয়ে ভালো থাকুক।
আমীন।
C