30/03/2023
চলতি রমাযানে জনপ্রতি ছদাক্বাতুল ফিতর সর্বনিম্ন ১০০/= টাকা এবং সর্বোচ্চ ২৩০০/= টাকা।
ছদাকাতুল ফিতরের বিবরণ
عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه يقول: كنا نخرج زكاة الفطر صاعا من طعام أو صاعا من شعير أو صاعا من تمر أو صاعا من أقط
أو صاعا من زبيب وزيد في رواية أخرى أو نصف صاع من قمح على كل حر أو مملوك . অর্থ : : হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে এক সা' পরিমাণ খাদ্য (ভুট্টা), যব বা খেজুর অথবা এক সা' পরিমাণ পনির বা কিসমিস দিয়ে ছদাকাতুল ফিতর আদায় করতাম। এবং অন্য এক রেওয়ায়েতে প্রত্যেক স্বাধীন এবং গোলামের উপর অর্ধ সা' গমের কথা বর্ণিত হয়েছে। (বুখারী, হাদীস নং ১৫০৬, মুসলিম: ১৮৫, আবু দাউদ : ১৬২২ ) হাদীস শরীফে বর্ণিত দ্রব্যের যেকোনো একটি দ্বারা ছদাকাতুল ফিতর আদায়ের সুযোগ রয়েছে। যেন প্রত্যেকে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী আদায় করতে পারে। তবে যে ব্যক্তি খেজুর, কিসমিস ইত্যাদি দিয়ে ছদাকাতুল ফিতর আদায় করার সামর্থ্য রাখে, তার জন্য তা দিয়ে আদায় করা উত্তম
ফিতরার পরিমাণ খেজুর, কিসমিস, ভুট্টা, পনির এবং যবের ক্ষেত্রে এক সা' (৩ কেজি ২৭০ গ্রাম) বা তার সমপরিমাণ টাকা, এবং গম বা আটার ক্ষেত্রে
আধা সা (১ কেজি ৬৩৫ গ্রাম) বা তার সমপরিমাণ টাকা।
নিম্নে টাকার মাধ্যমে ফিতরা আদায়ের সুবিধার্থে প্রচলিত দ্রব্যের পরিমাণ ও তার মূল্য তালিকা দেয়া হলো।
পণ্য পরিমাণ কেজি প্রতি সর্বমোট
( ১ ) আটা,
১ কেজি ৬৩৫ গ্রাম,প্রতি কেজি ৬০/=টাকা,
সর্বমোট ১৯৮.১০/= টাকা[আদায়ের সুবিধার্থে ১০০/= টাকা।
( ২ ) গম,
১ কেজি৬৩৫ গ্রাম, প্রতি কেজি ৬০/=টাকা,
সর্বমোট ১৯৮.১০/= টাক [আদায়ের সুবিধার্থে ১০০/= টাকা।
( ৩ ) যব,
৩ কেজি ২৭০ গ্রাম, প্রতি কেজি ১০০/=টাকা,
সর্বমোট ৩২৭/=টাকা ( আদায়ের সুবিধার্থে ৩৩০/=টাকা।
( ৪ ) ভুট্টা ,
৩ কেজি ২৭০ গ্রাম, প্রতি কেজি ১০০/=টাকা,
সর্বমোট, ৩২৭=টাকা,( আদায়ের সুবিধার্থে ৩৩০/=টাকা ।
( ৫ ) খেজুর,
৩ কেজি ২৭০ গ্রাম,প্রতি কেজি ৩০০/=টাকা
সর্বমোট ৯৮১/=টাকা,( আদায়ের সুবিধার্থে, ৯৮৫/=টাকা ।
( ৬ ) কিসমিস,
৩ কেজি ২৭০ গ্রাম,প্রতি কেজি ৫০০/=টাকা
সর্বমোট ১৬৩৫/=টাকা,( আদায়ের সুবিধার্থে ১৬৪০/=টাকা।
( ৭ ) পনির,
৩ কেজি ২৭০ গ্রাম, প্রতি কেজি ৭০০/=টাকা,
সর্বমোট ২২৮৯=টাকা[আদায়ের সুবিধার্থে ২৩০০/=টাকা
(বিঃ দ্রঃ) উল্লিখিত পরিমাণ কেবল চট্টগ্রাম জেলার জন্য প্রযোজ্য। অন্য জেলার বাজার মূল্য এর চেয়ে কম-বেশি হলে উপরে উল্লিখিত পদ্ধতিতে হিসাব করতে হবে।
ফিতরার নিসাব: ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় যার মালিকানায় মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা কিংবা এর সমমূল্য সম্পদ বা নগদ অর্থ যা বর্তমান বাজার মূল্য হিসেবে (রুপা প্রতি ভরি ১,৬৫০/-×৫২.৫০) ৮৬,৬২৫/-টাকা থাকে, তার ওপর ছদাক্বাতুল ফিত্র ওয়াজিব হবে।
যাকাতের নিসাব: যার মালিকানায় সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপা বা এর সমমূল্যের ব্যাবসার মাল কিংবা প্রয়োজনের অতিরিক্ত নগদ অর্থ থাকে, এবং এর ওপর পূর্ণ
একবছর অতিবাহিত হয়, তাহলে তার উপর যাকাত
ওয়াজিব হবে।
উল্লেখ্য যে, যার কাছে সাড়ে সাত ভরি নিসাব পরিমাণ স্বর্ণ রয়েছে, সে এই নিসাব হিসেবেই যাকাত আদায় করবে।
যার বর্তমান বাজার মূল্য (স্বর্ণ প্রতি ভরি ৯৩,৩০৩/-×৭.৫০= ৬,৯৯, ৭৭২/- টাকা। আর যদি স্বর্ণ সাড়ে সাত ভরির চেয়ে কম থাকে, সাথে রূপা বা ব্যবসার মাল কিংবা প্রয়োজন-অতিরিক্ত নগদ অর্থ থাকে, অথবা স্বর্ণ ছাড়াই শুধু রূপা বা উপরে উল্লেখিত কোনো সম্পদ থাকে, তাহলে সব মিলিয়ে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার মূল্য পরিমাণ হলেই তাকে যাকাত আদায় করতে হবে। (বিন্দ্র এই হিসাবটি বর্তমান বাজার মূল্য হিসাবে পরবর্তীতে যদি বাজার মূল্য কম বেশি হয় তাহলে সে অনুযায়ী হিসাব করতে হবে। )
রোজার ফিদইয়াহ: শরিয়ত মোতাবেক কেউ রোজা রাখার সামর্থ্যহীন হলে তাকে প্রতিটি রোজার জন্য উপরোল্লেখিত যেকোন একটি পণ্য বা তার মূল্য গরিবদেরকে আদায় করতে হবে ।
প্রচারে ফাতওয়া বিভাগ
আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম
হাটহাজারী , চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ
তারিখ: ২৫-০৩-২০২৩ ইং