25/04/2022
'ঈদের একাল সেকাল'
🌙 ঈদ, সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য অন্যতম ও সব থেকে বড় ধর্মীয় উৎসব। সারা বিশ্বব্যাপী মুসলিম জাতি অনেক আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যে দিয়ে দিনটি উদযাপন করে থাকেন। দিনে দিনে বিশ্ব যতই আধুনিকতার শিখরে উঠছে আর ঈদ উদযাপনেও কিছুটা ভিন্নতা দেখা দিচ্ছে, ফলে ঈদের একালে ও সেকালে বেশ পার্থক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
🌙 খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, দশ থেকে পনেরো বছর আগেও ঈদ উদযাপন থেকে শুরু করে ঈদ নিয়ে চিন্তাভাবনা বা আয়োজন ছিল সম্পূর্ন অন্যরকম। তখনকার ঈদ উদযাপনটা ছিল অনেক বেশি সিম্পল কিন্তু আলাদা একটা আবেগের সঞ্চার ছিল, অপরদিকে বর্তমান আধুনিক যুগের উদযাপন অনেক বেশি জাকজমকপূর্ণ হয়ে থাকে কিন্তু কি যেন একটা নাই এমন পরিলক্ষিত হয়। সত্যি বলতে এখনকার উদযাপনটা অনেক বেশি যান্ত্রিক হয়ে গিয়েছে, আবেগের সঞ্চার নেই বললেই চলে।
🌙 সেকালে শহর, নগর কিংবা গ্রামে ইন্টারনেটের আধিপত্য এখনকার মতো ব্যাপক আকারে বিস্তার হয়নি। ইন্টারনেট এর জনপ্রিয়তার কারণে আমরা আজ আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি, সামাজিক দায়বদ্ধতা অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছি। সেকালে গ্রামে ইন্টারনেট প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগেনি। সাধারণত বলা হয়ে থাকে এই প্রযুক্তির কল্যাণে শহর কেন্দ্রিক মানুষের কাছে দুটো জিনিস অধিকমাত্রায় দেখা যায়। একটি হলো ফ্যাশন কে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখা অপরটি হলো সারাদিন ব্যাপী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে নিজেদের ব্যস্ত রাখা।
🌙 একটা সময় ছিল যখন ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে অন্যরকম আনন্দ চলতো, ঈদ আসলেই সালামি নিয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে যেত, পিঠা পুলির উৎসব হতো, ঈদ এর দিন সকল বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় হতো। আর বর্তমানে ঈদ এর দিন আমরা ব্যস্ত থাকি ফ্যাশন নিয়ে, ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে উপলোডে করা নিয়ে। বর্তমানে কারো বাসায় গিয়ে দেখা করা, দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানো, সবাইকে সাথে নিয়ে সময় পার করা, কোলাকুলি করা কিংবা কুশল বিনিময় প্রভৃতি সৌহার্দ্যপূর্ণ মনোভাব,আন্তরিকতা আগের মতো আর দেখা যায় না।
🌙 অপরদিকে ঈদ উপলক্ষে বিনোদনের জন্য রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে পার্ক, রিসোর্টে গিয়ে প্রচুর সময় এবং অর্থ খরচ হচ্ছে, সেকালে এই সময়টা আত্মীয়স্বজনদের বাসায় ঘুরতে যাওয়া, আতিথিয়তার মধ্যে দিয়ে কাটতো। মানুষের সাথে মানুষের বন্ধুসুলভ ভাবের আদান প্রদান অনেকটাই কমে গিয়েছে। বর্তমানে আমরা সবাই ভার্চুয়াল জগতের রঙিন আকর্ষণকে নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করে থাকি। আমাদের সকলেরই উচিত আবার গোড়ায় ফিরে যাওয়া, সকলকে সাথে নিয়ে এক অন্যরকম ঈদ উদযাপন করা যেইখানে ডিজিটালাইজেশন নেই, আছে শুধু মানবিকতা আর ভালোবাসা।