11/01/2023
দিনটা ছিল ৯ জুন ২০২১, যখন জানতে পারলাম আল্লাহ আমাকে আমার সবথেকে বড় খুশির কারণ পাঠাচ্ছেন। সময়টা একেবারেই অনূকূলে ছিল না আমাদের, এখন ও খুব একটা অনূকূলে আছে বললে ভুল হবে। তবে যেভাবেই আছি আল্লাহর শুকরিয়া করি। বাধা বিপত্তি আসলো গেলো, সময়ের সাথে সাথে যেন আমিও অভ্যস্ত হয়ে গেলাম। যাদের কাছ থেকে বিন্দু মাত্র সাপোর্ট আশা করিনি তারাই সবথেকে বেশি ভালোবাসা আর সাপোর্ট দিয়েছিল। কথায় আছে মেয়েরা সব কিছু ভুলে গেলেও এই সময় কে তার সাথে কি ধরনের আচরণ করে সব মনে রাখে। আমিও এর বাইরে না। দিন গুণতে গুণতে ডিসেম্বর মাস আসলো। আমাদের ওয়ালিমার প্রোগ্রামের কথা বার্তা আয়োজন শুরু হলো। সাকিবের বহু দিনের বাইকের স্বপ্ন পূরণ হলো। আস্তে আস্তে সব কেমন সুন্দর ভাবে গুছিয়ে নিচ্ছিলাম আমরা। হঠাৎ ঝড়ের মতো পরিবারের সব যেন উলোটপালোট হয়ে গেলো। জানুয়ারি ৬ তারিখ ঘুমের মধ্যে অফিস থেকে ফোন আসলো সাকিবের বাবা, আমার শ্বশুর আব্বা আর নেই। বুঝতে পারছিলাম না হঠাৎ কি থেকে কি হয়ে গেলো আমাদের। বাবাকে কবর দেওয়ার জন্য সবাই বাড়ি গেলো সেদিন রাতেই, কিন্তু আমার শরীর খুব একটা ভালো না থাকার কারণে আমার যাওয়া হলো না। সেদিন থেকে এসব নিয়ে ভাবতে ভাবতে আমার প্রেশার বাড়িয়ে ফেললাম। যেটা আর কোনোভাবে কমানো যাচ্ছিলো না। মনে হলো কেউ এসে পরিবারের মেরুদণ্ডটাই ভেঙে দিয়ে গেছে। অবস্থা আস্তে আস্তে খারাপ হওয়া শুরু করলো আমার। পরের দিন ভোর বেলা আমাকে এলাকার হাস্পাতলে ইমারজেন্সী তে নিয়ে যাওয়া হলো কিন্তু সেখান থেকে ফিরিয়ে দিলে পরে সোহরাওয়ার্দী হাস্পাতালে নিয়ে ভর্তি করা হলো। সেখানে দুই দিন থাকার পর ডাক্তাররা সিদ্ধান্ত নিলো সিজার করতে হবে আর বাচ্চার জন্য এনআইসিউ লাগবে যা তাদের এখানে নেই। পরে সেখান থেকে গেলাম পিজি হাসপাতালে। আমার জীবনে কখনো আমার বাবাকে এভাবে কেউ হাউমাউ করে কাঁদতে দেখেনি। তবে সেদিন আমার করুণ অবস্থা দেখে ভয়ে কেঁদেছিল ডাক্তারদের কাছে আমাকে বাঁচানোর জন্য। পরের দিন ১১ জানুয়ারি, ২০২২ ওটি তে নেওয়ার আগে সাকিব বাড়ি থেকে চলে এসেছিল। যদিও আমি তেমন কোনো ভয়ই পাইনি তবে আশে পাশের সবাইকে দেখে মনে হচ্ছিলো যে সবাই ভয়ে শেষ। যাক তারপর সব বাধা বিপত্তি পার হয়ে ওটি তে গেলাম। জীবনে যত দোয়া দরুদ পারতাম সব পড়ছিলাম তখন। এনেস্থিসিয়া দিল আর ২ মিনিট এর মধ্যে অবশ হয়ে গেলো বুকের নিচ থেকে পা পর্যন্ত। কিছু সময় পর একজন ডাক্তার খুব জোরে বুকের নিচ থেকে পেটে চাপ দিলো আর কিছুক্ষণ পর দেখি একটা বাচ্চা তাদের হাতে এক নিঃশ্বাসে ভ্যা ভ্যা করছে। ডাক্তার বললো তোমার ছেলে হয়েছে আর একদম সুস্ত আছে। ভেবেছিলাম নাটক সিনেমার মতো আমার বুকের উপর হয়তো রাখবে কিছুক্ষণ। কিন্তু সে কি! আমাকে না দেখিয়ে নিয়ে চলে গেলো। পরে জানতে পারলাম ২ ঘন্টা এন আই সি ইউ তে রাখতে হয়েছিল। এতোই তাড়া ছিল আমাদের আফফান মশাই এর যে এক মাস আগেই দুনিয়ায় চলে এসছেন। আসলেই আল্লাহ উত্তম পরিকল্পনাকারী। তিনি যদি আমার কলিজার টুকরো ছেলেটাকে তখন না পাঠাতেন আমরা হয়তো আব্বুর শোক কাটিয়ে উঠতে পারতাম না। আমাদের জীবনে আশার আলো নিয়ে এসেছে। আমার জীবনে আমার মায়ের পর সব থেকে বেশি যাকে ভালোবাসি সেটা হচ্ছে আমার আফফান। যদি মা না হতাম তাহলে হয়তো নিজের মায়ের ত্যাগ কষ্ট কখনো বুঝতে পারতাম না।
তোমার জন্য কখনো আমার দোয়া শেষ হবে না বাবা আমার। তুমি যেখানে যাও যতো বড় হও না কেন সব সময় আমার কাছে আমার ছোট্ট আফফান ই থাকবে। তোমাকে আম্মু সবথেকে বেশি ভালোবাসি।
শুভ জন্মদিন, অনেক বড় হও আর ভালো মানুষ হও❤️
আবেগপ্রবণ হয়ে রচনা লিখে ফেলেছি, কেউ বিরক্ত বোধ করলে দুঃখিত
-আফফানের আম্মু