17/06/2026
আমি ইদানিং আমার প্রিয় কিছু মানুষের আচরণে কষ্ট পাচ্ছি। আমি জানি মানুষগুলো আমাকে ভালোবাসে এবং এও জানি এই মানুষগুলো আমাকে ইচ্ছে করে কষ্ট দিচ্ছে না। কিন্তু তারপরও আমি কষ্ট থেকে মুক্ত হতে পারছি না। এই মানুষগুলো আমার খুব প্রিয় এবং কাছের। অনেকেই আত্মার আত্মীয় । এই মানুষগুলির আচার আচরণ ছিলো অনুকরণীয়। আমি নিজেও তাদের অনেক বিষয় রপ্ত করার চেষ্টা করতাম। তাদের চালচলন, পোশাক পরিচ্ছদ, আচার ব্যবহার, কথা বার্তার ধরন সবকিছুতেই ছিলো শিক্ষিত, মার্জিত এবং পরিশীলিত রীতি এবং নীতি। এই লোকগুলোর নীতি ছিলো আদর্শে পরিপূর্ণ । তবে ইদানিং এই লোকগুলিই যেন একটু অন্যরকম হয়ে যাচ্ছে! এদের চাল চলনে এবং কথা বার্তায় সেই আগের শিক্ষিত মার্জিত রীতি নীতি আর নাই। যখন দেখতে পাই যে এরা নীতি বর্জিত সেই অসভ্য দলের মানুষদের ভিড়ে নাম লেখাচ্ছে, তখন কষ্ট পাই। কষ্ট লাগে। মনে মনে যে মানুষটাকে আপনি ভালোবাসেন, মনের ভিতর অজান্তে তার একটা প্রতিচ্ছবি তৈরি হয়ে যায়। তার বর্তমানে কিংবা অবর্তমানে সেই প্রতিচ্ছবি স্মরণ করেই ভালবাসা প্রকাশ পায়। মানুষের মনে মানুষ রয়ে যায় এভাবেই। কিন্তু যখন দেখেন ভালোবাসার মানুষের আচরণে কিছুটা পক্ষপাতদুষ্টটা রয়েছে, নীতিহীনতা রয়েছে, অথবা যেভাবে তাঁকে ভেবেছিলেন তিনি তার ব্যতিক্রম তখন আপনি কষ্ট পাবেন। আমার ক্ষেত্রেও সেটাই হচ্ছে। আমিও কষ্ট পাচ্ছি এখন।
একটা ছোট উদাহরণ দেই।
কাউকে গালি দিয়ে কেউ বড়লোক বা বিশেষ মর্যাদার অধিকারী হতে পারেনা। গালাগালি করা বা মানুষকে ছোট করে অসম্মান করে কথা বলা, কিংবা গলার জোর বাড়িয়ে উপরে উঠার চেষ্টা তারাই করে যাদের আত্মসম্মানবোধ কম এবং যারা যুক্তি তর্কে হেরে যায়। যখন যুক্তি তর্ক দুর্বল হয়, তখনই মানুষ গলার জোর বাড়িয়ে জিতে আসার চেষ্টা করে। ইদানিং আমার কিছু প্রিয় মানুষ ঠিক এই কাজটিই করে যাচ্ছে। এরা ভিন্নমত প্রকাশকারীর পোস্ট শেয়ার দিয়ে সেখানে গালাগালি করছে, বাপ মা তুলে ব্যঙ্গ করছে, জন্মপরিচয় নিয়ে কথা বলছে। আচ্ছা এইগুলো না করেও তো প্রতিবাদ করা যায়। নাকি যায়না?
জামাতের এক এমপি সংসদে বলেছেন তার বাপ মুক্তিযোদ্ধা এবং তিনি শহীদ হয়েছেন, দাদা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, তার পরিবারের ৪২ জন নাকি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। অথচ এমপির জন্মই হয়েছে ১৭৮১ সালে । এই বক্তব্যের ফটোকার্ড দিয়ে অনেকেই সমালোচনা করেছেন। আমিও করেছি। কিন্তু সমালোচনা করতে তাকে আমার গালাগালি করতে হয়নি। এমনিই বলেছি তার মা দুটো বিয়ে করেছিল কি না ? এটা হতেই পারে। অনেকে সৎ বাবাকেও বাবা ডাকে। এইখানে আমার প্রিয় কিছু মানুষের কমেন্টস দেখে আমি খুব হতাশ! ওদের কমেন্টস দেখে আশ্চর্য হলাম! দিনে দিনে এরা অসভ্যদের দলে চলে যাচ্ছে। কেউ লিখেছে রাজাকারের বীজ আছে, কেউ লিখছে পাকিস্থানের বীজের উৎপাদন স্লো ছিলো, কেউ লিখছে জারজে এমপি, কেউ আবার মায়ের চরিত্র নিয়ে লিখেছে। যারা লিখেছে তারা বই পড়া জেনারেশন। এরা শুধু এই পোস্টে না, এদের বিরদ্ধে গেলেই সেখানে তাদের এরকম বাজে বাজে কমেন্টস দেখা যায়। এরকম আরও অনেক পোস্ট আছে যেখানে তাদের এই আক্রমণাত্মক বাজে কমেন্টসগুলি চোখে পরে। যাদেরকে আমি অন্য চোখে দেখতাম তারা এধরনের কমেন্টস করবে আমি ভাবতে পারিনা।
ওদের কমেন্টস দেখে আমার একবারের জন্যেও মনে হয়না এটা কোনও ভদ্র মানুষের কমেন্টস। বারবার আমার মনে হয় এটা বস্তির টোকাইদের কমেন্টস। আছা আক্রমণাত্মক কমেন্টস না করলে কি উপরে থাকা যায় না? আপনি অবশ্যই আক্রমণাত্মক হবেন, তবে সেটা আত্মরক্ষার্থে। কিন্তু একটা মানুষের চরিত্র হননে আক্রমনাত্মক না হলে আপনার কি এমন ক্ষতি? আমি জ্ঞানত এই ধরনের কমেন্টস করিনি কখনও, এবং করবোও না কোনদিন। কারণ আমি এই ধরনের কমেন্টস করা লোকদের টোকাই ছাড়া অন্য কিছু বলিনা। আমি চাই আমার প্রিয় মানুষগুলো বুঝুক। আমি চাই, ওরাও বুঝে মানুষকে গালাগালি, চরিত্র হনন, অশালীন ট্যাগ লাগানো থেকে বিরত থাকুক। আমি চাইনা আমি যাদের ভালোবাসি, পছন্দ করি , তাদের নিয়ে মানুষজন ভিন্ন ধারণা পোষণ করুক। কিংবা আমিও ভিন্নভাবে তাদের দেখা শুরু করি। আমি চাই মানুষগুলো ভালোবাসার হয়েই থাকুক।
সবাইকে শুভরাত্রি । অনেক বকবক করলাম। হাহাহহা 😁
#জীবনযাপন
#গালাগালি