04/09/2021
আইবিএস বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম পেটের একটি পরিচিত ও বিরক্তিকর সমস্যা। এই সমস্যা সাধারণত যুবা বয়সেই শুরু হয়ে থাকে। নারীরাই বেশি ভুগে থাকেন। এই রোগের কারণে মূলত দুই ধরনের সমস্যা হয়। একটি হলো পেটে ব্যথা অনুভব করা, অন্যটি হলো মল ত্যাগের অভ্যাস পরিবর্তন। মানবদেহের অন্ত্র ও খাদ্যনালী মাংসপেশী দ্বারা তৈরি টিউব বা নল। এই মাংসপেশী যখন অতিরিক্ত সংকোচন ও প্রসারণ হয় তখন অন্ত্রের মধ্যে থাকা মলের গতি ব্যহত হয়। এরপর পালাক্রমে শুরু হয় কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া।
* যেসব খাবারে পেটের সমস্যা বাড়ে, সেসব এড়িয়ে চলুন। দুধ, দুগ্ধজাত খাবার, শাক, অতিরিক্ত তেলে ভাজা বা ডিপ ফ্রাই খাবার, অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার, বেকারি, কৃত্রিম চিনি, ক্যাফেইন ইত্যাদি এড়িয়ে চলা ভালো।
* নিয়মিত ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটির চেষ্টা করুন। এতে পেটের গ্যাস বা ফাঁপা ভাব কমবে একসঙ্গে অনেক না খেয়ে সারা দিনে অল্প অল্প করে ভাগ করে খান। খাবারের টাইমটেবিল বজায় রাখুন।
* মানসিক চাপ বা স্ট্রেস কমাতে ব্যায়াম, যোগব্যায়াম, মেডিটেশন করতে পারেন। উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তায় রাতে ভালো করে ঘুম হয় না। ঘুম কম হলে খাদ্যনালীর উপরে চাপ পড়ে ফলে খাদ্য হজম হয় না।
* গ্লুটেন জাতীয় খাদ্য যেমন গম যব ভুট্টার তৈরি যে কোন খাবার পরিহার করুন ।
* বানিজ্যিকি ভাবে তৈরি খাবার বাদ দিয়ে অর্গানিক ফুড খাবেন।
* দুধ এবং দুগ্ধ জাতীয় খাদ্য খাবেন না তবে ছাগলের দুধ খেতে পারবেন।
* নিয়মিত টক দই খাবেন।
* যে কোন ধরনের তেল পরিহার করুন ।
* রেড মিট খাবেন না।
* চিনিযুক্ত খাদ্য খাবেন না ।
* দিনে দুই বার খালি পেটে এক ইঞ্চি পরিমান দারচিনি চিবিয়ে ভালো করে গুড়ো করে পানি দিয়ে গিলে খাবেন।
* ঘরে মশার কয়েল বা মশা মারার স্প্রে ব্যবহার করবেন না।
* খাদ্য গ্রহণের সময় খুব ভালো ভাবে চিবিয়ে খাবেন।
* খাদ্য গ্রহণের এক ঘন্টা আগে এবং এক ঘন্টা পর পানি পান করবেন না ।
* পেট খালি রেখে খাবার খাবেন প্রয়োজনে তিন বেলার খাবার ছয় বার খাবেন।
* প্রতি রাতে ৭/৮ ঘন্টা ঘুমাবেন। আপনি জেনে অবাক হবেন প্রতি রাতে আপনার শরীর আইবিএস থেকে মুক্ত হতে চেষ্টা করে তাই আপনার পর্যাপ্ত ঘুম দরকার।
যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য আছে তারা সকালে ঘুম থেকে উঠে এক লিটার কুসুম গরম পানি পান করুন এরপর বঙ্গাসন করবেন । তারপর হাতমুখ ধুয়ে ১০০ গ্রাম কাঁচা পেঁপে জুস করে খাবেন। এর ৩০ মিনিট পর নাস্তা করবেন।