ShuSan Foods

ShuSan Foods We are committed & dedicated to build a healthy generation.

👉 চিনির চেয়েও মিষ্টি সুক্কারি💢 সুক্কারুন আরবি শব্দ। এর অর্থ চিনি। 💢 চিনির চেয়েও মিষ্টি হওয়ায় আরবরা এর নাম দিয়েছে সুক্কার...
23/09/2023

👉 চিনির চেয়েও মিষ্টি সুক্কারি

💢 সুক্কারুন আরবি শব্দ। এর অর্থ চিনি।
💢 চিনির চেয়েও মিষ্টি হওয়ায় আরবরা এর নাম দিয়েছে সুক্কারি।
💢 সৌদি আরবের সর্বত্রই এর চাষ হয়। তবে আল-কাসিম অঞ্চলে সুক্কারি’র ফলন বেশি হয়।
💢 সুক্কারি’র রঙ হালকা সোনালী। অসাধারণ স্বাদ। এই খেজুর বাংলাদেশেও বেশ জনপ্রিয়।

👉 সুক্কারি খেজুরের স্বাস্থ্য উপকারিতা অনেক। এখানে তার কয়েকটি:👇

♦️শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
♦️নিয়মিত খেলে গর্ভবতী মায়েদের নরমাল ডেলিভারি হয়, মৃত্যুঝুঁকি কমে।
♦️শরীরে রক্তশূন্যতা হ্রাস পায়।
♦️হার্ট ও মস্তিষ্ক সুস্থ রাখে।
♦️শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
♦️কিডনি ও লিভার সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। ইত্যাদি...

ওজন কমাতে কি শর্করা খাবার বাদ দেওয়া উচিতমো. ইকবাল হোসেনডায়েটের অর্থ কেবল খাদ্য নিয়ন্ত্রণ নয়, এর অর্থ হচ্ছে, খাদ্যাভ্যাস।...
22/09/2023

ওজন কমাতে কি শর্করা খাবার বাদ দেওয়া উচিত

মো. ইকবাল হোসেন

ডায়েটের অর্থ কেবল খাদ্য নিয়ন্ত্রণ নয়, এর অর্থ হচ্ছে, খাদ্যাভ্যাস। একজন মানুষ সারা জীবন কতটা সুস্থ থাকবেন, তার অনেকটাই নির্ভর করে খাদ্যাভ্যাসের ওপর। আমাদের অসংক্রামক ব্যাধিগুলোর প্রায় ৭৫ শতাংশই খারাপ খাদ্যাভ্যাসের কারণে হয়ে থাকে।

বেশির ভাগ মানুষই মনে করেন, ওজন কমাতে হলে ডায়েট করতে হবে। মোটেই তা নয়। সময়মতো পরিমিত সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়াই হচ্ছে ডায়েট। কেবল ওজন কমানো-বাড়ানো নয়, স্বাস্থ্যকর জীবনের অংশ হচ্ছে ডায়েট।

কোনো ব্যক্তির খাদ্যতালিকা তাঁর বয়স, ওজন, উচ্চতা, লিঙ্গ, পেশা, রক্তের কোলেস্টেরল লেভেল, কিডনির কার্যকারিতা, ফ্যাটসহ নানা বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। যেমন ১৫ বছরের এক শিশু আর ৫০ বছর বয়সী একজনের ডায়েট চার্ট নিশ্চয় এক হবে না। আবার একজন সুস্থ মানুষ যে খাবার খাবেন, একজন কিডনি বা হার্টের রোগী সেগুলো খাবেন না।
শর্করা কি বাদ দেওয়া উচিত

শর্করাকে বলা হয় শক্তি সরবরাহকারী খাদ্য উপাদান। আর আমিষ হচ্ছে শরীর গঠনকারী খাদ্য উপাদান। আমাদের সারা দিনে প্রয়োজনীয় শক্তির ৫০ থেকে ৬০ ভাগ আসে শর্করা থেকে। ফ্যাট থেকেও শক্তি পাওয়া যায়, তবে সেটা বেশ জটিল প্রক্রিয়া।

ফলে শরীরের বিভিন্ন কোষীয় চক্রে শক্তির উৎস হিসেবে শর্করাই বেশি ব্যবহার করে শরীর। মস্তিষ্কের জ্বালানি হিসেবেও শর্করা ব্যবহৃত হয়। তাই খাবার থেকে শর্করা বাদ দেওয়া যাবে না। ওজন কমাতে চাইলে শর্করার পরিমাণ ১০ থেকে ২০ শতাংশ কমানো যায়। সাধারণ শর্করার পরিবর্তে জটিল শর্করা খান। জটিল শর্করা ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে। লাল আটা, লাল চাল, ওটস, জবের চিড়া, শাক—এগুলো জটিল শর্করার ভালো উৎস। ওজন কমাতে হলে সাদা আটা, ময়দা, সাদা চাল, চিনি, কর্নফ্লেক্স, পাউরুটি, ময়দা দিয়ে তৈরি খাবার, অতিরিক্ত তেল বা তৈলাক্ত খাবার বর্জন করতে হবে।

ডায়েটের নামে না খেয়ে থাকা যাবে না। চাহিদা অনুযায়ী খাবার না খেলে শরীর কিছু বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। কম খাবার খেলে ভিটামিন, মিনারেলের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। তখন শক্তি উৎপাদনের জন্য কোষীয় চক্রগুলো ঠিকভাবে কাজ করবে না। এতে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।
শর্করাহীন খাবার বা খাদ্য উপাদান বাদ দিলে যা হয়

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, দুর্বলতা, দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হওয়া, রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যাওয়া, চুল পড়া, চুল পেকে যাওয়া, চর্মরোগের আধিক্য, স্মরণশক্তি কমে যাওয়া, হাঁটু ও কোমরের হাড়ক্ষয়, রক্তে ও লিভারে চর্বির পরিমাণ বৃদ্ধি, অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ, মাথা ঘোরা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, হজমশক্তি কমে যাওয়া, গ্যাস্ট্রিকের কারণে আলসার ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।

যেকোনো অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে ওজন কমালে সেটা স্থায়ী হবে না। আবার স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে ফিরলে ওজন আগের জায়গায় ফিরবে। ফলে ডায়েট করতে হলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে ব্যালান্স ডায়েট করুন।

মো. ইকবাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল

বেশির ভাগ মানুষই মনে করেন, ওজন কমাতে হলে ডায়েট করতে হবে। মোটেই তা নয়। সময়মতো পরিমিত সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়াই হ.....

দীর্ঘদিন টমেটো সংরক্ষণের উপায়বর্তমানে টমেটো কেনা মানে বিলাসিতা, এর কারণ সবজি বা ফলের বাড়তি দাম। অনেকে দাম একটু কমলেই বেশ...
15/08/2023

দীর্ঘদিন টমেটো সংরক্ষণের উপায়

বর্তমানে টমেটো কেনা মানে বিলাসিতা, এর কারণ সবজি বা ফলের বাড়তি দাম। অনেকে দাম একটু কমলেই বেশি পরিমাণে টমেটো কিনে রাখে। তাই বেশি পরিমাণে টমেটো কেনার পর যেন পচে না যায় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। দীর্ঘ সময়ের জন্য টমেটো সংরক্ষণের কিছু সহজ উপায় নিচে দেওয়া হলো।

১. টমেটো ভালো করে ধুয়ে নিন। হালকা গরম পানিতে ৫ মিনিট রাখুন। এরপর ওপরের পাতলা খোসা ছাড়িয়ে নিন এবং ব্লেনডারে পেস্ট তৈরি করে নিন। তারপর লবণ মিশিয়ে হালকা আচে ২০ থেকে ২৫ মিনিট জ্বাল দিন।
চুলা থেকে নামিয়ে ঠাণ্ডা করে কাঁচের জারে ভরে ফ্রিজে রাখুন। দীর্ঘ দিন ব্যবহার করতে পারবেন। অল্প পরিমাণ তেল মিশিয়ে রাখলে আরো বেশিদিন সতেজ থাকবে।

২. টমেটো সংরক্ষণের আরেকটি উপায় হল, টমেটো ফুটন্ত পানিতে ১০ মিনিট সিদ্ধ করে নিন।
এরপর ঠাণ্ডা করে কাঁচের পাত্রে ভরে ফ্রিজে রাখে রাখুন। বীজ এবং খোসা সরিয়ে ফেললে বেশি দিন ব্যবহার করতে পারবেন।

৩. টমেটো ভালোভাবে ধুয়ে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে বায়ুরোধী পাত্রে ফ্রিজারে রেখে দিন। এভাবে সংরক্ষণ করে রাখা টমেটো ৮ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে। টমেটো ব্যবহার করার আগে ফ্রিজ থেকে বের করে কিছুক্ষণ বাইরে রেখে দিন।
এরপর তরকারি, স্যুপ এবং সস তৈরিতে ব্যবহার করতে পারেন।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

টমেটো ভালো করে ধুয়ে নিন। হালকা গরম পানিতে ৫ মিনিট রাখুন। এরপর ওপরের পাতলা খোসা ছাড়িয়ে নিন এবং ব্লেনডারে পেস্ট তৈর....

15/08/2023
সুষম খাবার কমায় ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি লিনা আকতার, পুষ্টিবিদ, রাইয়ান হেলথ কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুরডিমে...
14/08/2023

সুষম খাবার কমায় ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি

লিনা আকতার, পুষ্টিবিদ, রাইয়ান হেলথ কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর

ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিক্ষয় রোগের নানা কারণের মধ্যে অন্যতম একটি কারণ পুষ্টির ঘাটতি। খুব কম মানুষই এ সম্পর্কে জানেন। পুষ্টিতে দীর্ঘদিন ভারসাম্যহীনতা ও ভারসাম্যহীন ডায়েট ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এ ক্ষেত্রে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার রোগীর জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারে।

ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ চিন্তা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারান, স্মৃতিশক্তি লোপ পায় এবং ভাষা প্রকাশে সমস্যা দেখা দেয়। এই সবই ব্রেনের কার্যকারিতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। মস্তিষ্ক ঠিক রাখতে এমন খাবার খেতে হবে, যা মস্তিষ্কের কোষকে রক্ষা করে, মস্তিষ্ককে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করে এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ও সুরক্ষায় সহায়তা দেয়।

ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত রোগীর খাবারের সমস্যা, মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা এবং মানসিক বিষাদ থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন। ডিমেনশিয়া রোগীর মস্তিষ্ক সংকেত পাঠায় কম। এর ফলে রোগীর খেতে না চাওয়া, খেতে ভুলে যাওয়া, খাবারের তাপমাত্রা না বোঝা কিংবা কোন কাজ কখন করছেন—তার সঠিক দিকনির্দেশনা পান না।

গবেষণায় দেখা গেছে, শৈশব থেকে সুষম ডায়েট মেনে চললে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি অনেকটা কমানো যায়। পাশাপাশি ইতিবাচক চিন্তাভাবনা, সামাজিক যোগাযোগ, নিয়মিত ব্যায়াম জরুরি। বর্তমানে ডিভাইসের প্রতি আসক্তি মানুষের কর্মতৎপরতা কমিয়ে দিচ্ছে, কম ঘুমাচ্ছে, সকালে নাশতা করছে না, মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ কম হচ্ছে। এলোমেলো জীবনযাপনের কারণে উচ্চ রক্তচাপ, ওজন বৃদ্ধি, স্ট্রোক বাড়ছে। ধূমপান ও মানসিক চাপ বাড়ছে। ডিমেনশিয়ার জন্য বায়ুদূষণ এবং শব্দদূষণও দায়ী।

ডিমেনশিয়া রোগীর পুষ্টি:

● ডিমেনশিয়া রোগীর খাবার খেতে না চাওয়া বা খাবার খেতে ভুলে গেলে পুষ্টির ঘাটতি হতে পারে। এঁরা প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি পান করেন না। কারণ, পিপাসার জন্য তাঁদের সংকেত যতটা শক্তিশালী হওয়া দরকার, তা হয় না। এতে পানিশূন্যতা হতে পারে।

● ডিমেনশিয়া রোগীরা কম বা বেশি খেতে চাইতে পারেন। এতে তাঁদের ওজন কমে বা বেড়ে যাচ্ছে কি না, খেয়াল রাখতে হবে।

● হঠাৎ খাবারের পছন্দে পরিবর্তন আসতে পারে। আগে যেসব খাবার খেতেন, এখন সেগুলো পছন্দ করছেন না।

● অনেক ডিমেনশিয়া রোগীর খাবারের গন্ধ ও স্বাদের অনুভূতি কমে যায়। এ সময় কী ধরনের খাবার দিতে হবে, তা জানা।

● অনেক সময় দাঁতের সমস্যা থাকতে পারে, পাশাপাশি চিবাতে ও গিলতে সমস্যা থাকতে পারে। এ জন্য নরম খাবার দিতে হবে।

● বিভিন্ন ওষুধ খাওয়ায় ডিমেনশিয়া রোগীর কোষ্ঠকাঠিন্য বা বিভিন্ন পার্শপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এর ফলে রোগীর অবস্থা দেখে খাবার নির্বাচন করতে হবে।

● রোগী আগে থেকে কোনো রোগে আক্রান্ত কি না, সেটা জেনে খাবার নির্বাচন করা।

● এমন রোগী অনেক সময় নিজে খেতে পারেন না। কীভাবে খেলে নিজে খেতে পারবেন, সে জন্য পরামর্শ নেওয়া।

● বয়স, লিঙ্গ, উচ্চতা ও শারীরিক সমস্যার ওপর নির্ভর করে খাবারের পরামর্শ নেওয়া।

● পুষ্টিকর খাবারের বিষয়ে একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিক্ষয় রোগের নানা কারণের মধ্যে অন্যতম একটি কারণ পুষ্টির ঘাটতি। খুব কম মানুষই এ সম্পর্কে জানেন। ...

শিশুর জ্বরজনিত খিঁচুনি হলে যা করবেন, যা করবেন নাশিশুদের জ্বর আসাটা অস্বাভাবিক নয়। শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল বলে ...
09/08/2023

শিশুর জ্বরজনিত খিঁচুনি হলে যা করবেন, যা করবেন না

শিশুদের জ্বর আসাটা অস্বাভাবিক নয়। শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল বলে নানা ধরনের ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু আক্রমণ করে বেশি। ফলে জ্বর হয়। কিন্তু জ্বরের সঙ্গে যদি খিঁচুনি হয়, তাহলে অভিভাবকদের মনে যে কী মাত্রায় ভীতি আর দুশ্চিন্তার উদ্রেক করে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

- ডা. ফারাহ দোলা

জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি বিভিন্ন কারণে হতে পারে। সাধারণত যেসব জ্বরে মস্তিষ্কে প্রদাহ হয়, যেমন মেনিনজাইটিস, এনকেফালাইটিস, সেরেব্রাল ম্যালেরিয়ায় জ্বরে সঙ্গে খিঁচুনি থাকে। বেশ কিছু জিনগত সমস্যায় জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হতে পারে। তেমনই আগে থেকেই এপিলেপসি রোগে আক্রান্ত শিশুর জ্বর হলেও আগের নিয়ন্ত্রিত খিঁচুনি বেড়ে যেতে পারে।

তবে জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনির সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ফেব্রাইল কনভালশন বা শিশুর জ্বরজনিত খিঁচুনি। আঞ্চলিক ভাষায় অনেকে ‘জ্বরচুম্বক’ও বলে থাকেন। ২-৫ শতাংশ সুস্থ শিশু ৬-৬০ মাস বয়সের মধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। ১২-১৮ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে এর হার বেশি দেখা যায়। পরিবারে কারও এই রোগ থাকলে সেই পরিবারে শিশুদের ফেব্রাইল কনভালশনে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি দেখা যায়।

লক্ষণ:

১. শিশুর জ্বর ১০০ দশমিক ৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) অথবা এর বেশি হওয়া।

২. জ্বরের প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাধারণত খিঁচুনি হয় এবং ১৫ মিনিটের বেশি থাকে না। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খিঁচুনির পুনরাবৃত্তি হয় না।

৩. খিঁচুনির সময় শিশু হাত-পা শক্ত করে বারবার ঝাঁকুনি দিতে পারে, খিঁচুনির পর শিশুর জিবে কামড় লাগতে পারে, শিশু কিছু সময়ের জন্য অজ্ঞান অথবা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রস্রাব-পায়খানাও করে দিতে পারে।

৪. সাধারণত কিছুক্ষণ পরই শিশু আবার স্বাভাবিকভাবে হাসিখুশি হয়ে যায়।

তবে শিশুর খিঁচুনি হতে দেখলে কোনো অভিভাবকেরই মাথা ঠিক থাকে না। তাই সে সময় আতঙ্কিত হওয়া চলবে না।

যা করা উচিত:

১. শিশুকে নরম কোনো কিছুর ওপর বাঁ পাশে কাত করে রাখুন, যেন মুখ থেকে লালা বেরিয়ে যেতে পারে।

২. শিশু আঘাত পেতে পারে এমন বস্তু বা জায়গা থেকে সরিয়ে রাখুন।

৩. খিঁচুনি কতক্ষণ স্থায়ী থাকে, সেটা লক্ষ করুন। সাধারণত পাঁচ মিনিটের বেশি খিঁচুনি থাকে না। এর বেশি হলে অবশ্যই কাছের হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে এবং ওষুধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

৪. সম্ভব হলে খিঁচুনির ভিডিও করে রাখুন, যা পরে শিশুর চিকিৎসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হবে।

৫. চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জ্বরের চিকিৎসা নিন। ক্ষেত্রবিশেষে জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হলে পিঠ থেকে রস (সেরেব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড) নিয়ে পরীক্ষা করতে হতে পারে।

যা কখনোই করবেন না:

১. শিশুর দুই দাঁতের পাটির মাঝখানে আঙুল, চামচ বা অন্য কোনো বস্তু দেবেন না।

২. খিঁচুনিরত অবস্থায় কোনো কিছু খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন না।

৩. শিশুকে জোর করে চেপে ধরে অথবা মাথায় পানি ঢেলে খিঁচুনি বন্ধ করার চেষ্টা করবেন না।

চিকিৎসা:

১. রোগের নামের সঙ্গেই তার চিকিৎসা দেওয়া আছে, ‘জ্বরজনিত খিঁচুনি’ মানে সবার আগে জ্বরের চিকিৎসা করতে হবে।

২. খিঁচুনি বন্ধের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়াজিপাম গ্রুপের ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়।

৩. চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে জ্বর ও খিঁচুনির কারণ বের করে তার চিকিৎসাও করতে হবে।

প্রতিরোধ:

১. ফেব্রাইল কনভালশন রোগে আক্রান্ত শিশুদের জ্বর হওয়ামাত্রই শিশুর বয়স এবং ওজন অনুযায়ী প্যারাসিটামল খাইয়ে জ্বর কমাতে হবে।

২. যেকোনো সময় শিশুর জ্বর হতে পারে, তাই অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে যেন জ্বর আসামাত্রই তা কমানোর ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

৩. এ রোগে আক্রান্ত শিশুকে নিয়ে কোথাও বেড়াতে গেলে সঙ্গে প্যারাসিটামল সিরাপ এবং খিঁচুনি বন্ধের জন্য চিকিৎসকের দেওয়া ব্যবস্থাপত্র রাখতে হবে।

ভবিষ্যতে মৃগীরোগ হওয়ার ঝুঁকি:

ফেব্রাইল কনভালশন থেকে মস্তিষ্কের সাধারণত ক্ষতি হয় না। পরবর্তী সময়ে এপিলেপসি বা মৃগীরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি একদমই কম। তবে কিছু বিষয় খেয়াল করুন—

১. শিশুর যদি স্নায়ুর বিকাশজনিত সমস্যা থাকে, ২. পরিবারে কারও মৃগী রোগ থাকে, ৩. জ্বরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একাধিকবার অথবা একবারে ১৫ মিনিটের বেশি খিঁচুনি হয়, ৪. হাত-পায়ের বদলে যেকোনো এক পাশে খিঁচুনি হতে থাকে, তাহলে এই শিশুরা পরবর্তী সময়ে এপিলেপসিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুর জ্বর কমিয়ে ফেব্রাইল কনভালশন নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই সম্ভব। তবে ৬ বছরের বেশি বয়সীদের জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হলে অবশ্যই শিশু স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

# ডা. ফারাহ দোলা: বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

শিশুদের জ্বর আসাটা অস্বাভাবিক নয়। শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল বলে নানা ধরনের ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা জীবা.....

Collected.
08/08/2023

Collected.

ভিটামিন ‘ডি’ কেন প্রয়োজন?ডা. মোহাম্মদ আহাদ হোসেনআমরা সূর্যের আলো থেকে ভিটামিন ‘ডি’ পেয়ে থাকি। ক্যালসিয়ামের মাধ্যমে শরীরে...
28/07/2023

ভিটামিন ‘ডি’ কেন প্রয়োজন?
ডা. মোহাম্মদ আহাদ হোসেন

আমরা সূর্যের আলো থেকে ভিটামিন ‘ডি’ পেয়ে থাকি। ক্যালসিয়ামের মাধ্যমে শরীরের হাড় গঠন ও মজবুত শরীর গঠনে এটির ভূমিকার কথা আমরা কমবেশি সবাই জানি। কিন্তু ২০০০ সালের শুরুর দিকে শরীরে ভিটামিন ‘ডি’র অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। সেসব গবেষণালবব্ধ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে পাব মেড জার্নালে (Pub Med journal)।



রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভিটামিন ‘ডি’র ভূমিকা

সম্পূরক ভিটামিন ‘ডি’ রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, শ্বাসতন্ত্রের কোষের ওপর ভিটামিন ‘ডি’র প্রভাব রয়েছে, যা জীবাণু ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে শ্বাসতন্ত্রের ইনফেকশন রোধে ভূমিকা রাখে। যেকোনো জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়া আমাদের শরীরে ঢুকলে রোগ প্রতিরোধের অন্যতম উপাদান ম্যাক্রোফেজ সক্রিয় হয়ে ওঠে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে ভিটামিন ‘ডি’ এই ম্যাক্রোফেজকে আরো সক্রিয় করে দেয়, যাতে এটি দ্রুত সাড়া দেয়।

ভিটামিন ‘ডি’ আমাদের শরীরে ক্যাথেলিসিডিন নামের একটি প্রোটিনের সংখ্যা বৃদ্ধি করে, যা আমাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শ্বাসতন্ত্রকে যক্ষ্মার জীবাণু, বিভিন্ন পজিটিভ, নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ‘ডি’র অভাবে ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং এজাতীয় অন্যান্য রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা পরবর্তী সময়ে অ্যাজমার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, যদি সম্পূরকভাবে ভিটামিন ‘ডি’ দেওয়া হয়, তাহলে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের হার কমে।



বয়স্কদের ওপর ভিটামিন ‘ডি’র প্রভাব

দীর্ঘমেয়াদি ভিটামিন ‘ডি’র অভাব বয়স্কদের যেকোনো ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে থাকে। বিশেষ করে যাঁরা করোনাসহ বিভিন্ন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকেন। হাড়ের জন্য ভিটামিন ‘ডি’ খুবই উপকারী। দীর্ঘমেয়াদি ভিটামিন ‘ডি’র অভাবে হাড়ে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হয় এবং হাড় পাতলা হয়ে যায়। এই অবস্থাকে বলা হয় অস্টিওপোরোসিস।



শিশুদের ওপর ভিটামিন ‘ডি’র প্রভাব

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দুগ্ধপোষ্য শিশু থেকে বাড়ন্ত শিশু—সব পর্যায়ে ভিটামিন ‘ডি’র ঘাটতি রয়েছে। যেসব শিশু মায়ের দুধ খায় তাদের ভিটামিন ‘ডি’র দৈনিক চাহিদা ৪০০ আন্তর্জাতিক ইউনিট (আইইউ)। কিন্তু মায়ের দুধ খাওয়ার পরেও তাদের ঘাটতি থেকেই যায়। এসব শিশুর ভিটামিন ‘ডি’র চাহিদা পূরণের জন্য ছয় মাস পর ভিটামিন ‘ডি’ সমৃদ্ধ ফর্মুলা দুধ দেওয়ার কথাও বলেছে গবেষণাটি। এ ছাড়া বাড়ন্ত শিশুর দৈনিক চাহিদা ৬০০ আইইউ, যা পূরণ করতে হলে তাদের দৈনিক এক হাজার মিলি দুধ খেতে হবে। এই ঘাটতি দূর করার জন্য তাদেরও ভিটামিন ‘ডি’ সম্পূরক ডোজের দরকার আছে।



গর্ভবতী মহিলাদের ভিটামিন ‘ডি’র প্রভাব

গর্ভবতী মায়েদের ওপর ভিটামিন ‘ডি’র ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই গর্ভবতী মায়েদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকে। এ কারণে বিভিন্ন ধরনের রোগ সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকেন তাঁরা। তাঁদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন ‘ডি’ দরকার। এ ছাড়া তাঁদের প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম দরকার। আর ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণে ভিটামিন ‘ডি’র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব গর্ভবতী মা ভিটামিন ‘ডি’র অভাবে থাকেন, তাঁদের সন্তানদের জন্মের পর শ্বাসতন্ত্রের ইনফেকশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়।



ভিটামিন ‘ডি’ সমৃদ্ধ খাবার

স্যামন বা টুনা মাছ, দুধ, ডিম, চিজ, মাশরুম, অরেঞ্জ জুস, ইয়োগার্ট ইত্যাদি খাবারে ভিটামিন ‘ডি’ পাওয়া যায়।



প্রতিদিন কী পরিমাণ ভিটামিন ‘ডি’ দরকার

নির্ভরযোগ্য তথ্য মতে, প্রতিদিন ৪০০ ওট (ওট বা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট) ভিটামিন ‘ডি’র প্রয়োজন। তবে আপনার কী পরিমাণ ভিটামিন ‘ডি’ দরকার, সেটি নির্ভর করে রক্তে কী পরিমাণ ভিটামিন ‘ডি’ রয়েছে তার ওপর। গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে বেশির ভাগেরই ভিটামিন ‘ডি’র ঘাটতি রয়েছে। এ ছাড়া ভিটামিন ‘ডি’র উৎস সহজলভ্য নয়। এ কারণে ঘাটতি পূরণে আমাদের স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি এক হাজার থেকে চার হাজার আইইউ ভিটামিন ‘ডি’ সম্পূরকভাবে দৈনিক খাওয়ার কথা গবেষণায় প্রস্তাব করা হয়েছে।



সূর্যের আলো থেকে ভিটামিন ‘ডি’

ভিটামিন ‘ডি’র অত্যন্ত সহজলভ্য একটি উৎস হচ্ছে সূর্যের আলো। কিন্তু এটি থেকে কিভাবে ভিটামিন ‘ডি’ পেতে পারি এ বিষয়ে সঠিক তথ্য অনেকেরই জানা নেই। সূর্যালোক থেকে ভিটামিন ‘ডি’ পেতে বেশ কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। আমাদের ত্বকের রং, শরীরের কোন অংশ সূর্যালোকে সংস্পর্শে আসছে, কত সময় সূর্যালোকে অবস্থান করছি—এসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।

গবেষণার তথ্য মতে, সাদা ত্বকের ক্ষেত্রে ১৫ মিনিট ও কালো বা বাদামি ত্বকের ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টা দিনের মধ্যভাগে এবং প্রখর সূর্যালোকে অবস্থান করলে পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘ডি’ পাওয়া যায়। শরীরের পিঠের অংশ উন্মুক্ত থাকলে বেশি ভিটামিন ‘ডি’ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।



লেখক : চিফ কনসালট্যান্ট ও ব্যথা বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ সেন্টার ফর রিহ্যাবিলিটেশন, ঢাকা

আমরা সূর্যের আলো থেকে ভিটামিন ‘ডি’ পেয়ে থাকি। ক্যালসিয়ামের মাধ্যমে শরীরের হাড় গঠন ও মজবুত শরীর গঠনে এটির ভূমিকার...

শিশু খেতে চায় না, কী করবেনআমার বাচ্চা কিছু খায় না—প্রায় প্রত্যেক মায়ের এই অভিযোগ। খাবার না দিলে সারা দিন না খেয়েই থাকে। ...
24/06/2023

শিশু খেতে চায় না, কী করবেন

আমার বাচ্চা কিছু খায় না—প্রায় প্রত্যেক মায়ের এই অভিযোগ। খাবার না দিলে সারা দিন না খেয়েই থাকে। জোর করে খাওয়ালে বমি করে দেয়। বিশেষত ১ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের মা–বাবারা এই সমস্যা নিয়ে শিশুবিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন। শিশু খায় না, এটি আদতেই জটিল সমস্যা, নাকি সাধারণ ব্যাপার?

ডা. লাজিনা শারমিন

১ থেকে ২ বছরের শিশুরা সাধারণত দুরন্ত প্রকৃতির হয়। খাবারের চেয়ে খেলাধুলা ও চঞ্চলতা বেশি করে। তাই বসিয়ে খাবার খাওয়ানো মুশকিল হয়ে যায়। তাছাড়া এ বয়সে শিশুরা যদি চকলেট, চিপস, জুস—এ ধরনের বাইরের খাবারের অভ্যস্ত হয়ে যায়, তাহলে ঘরে তৈরি খাবার খেতে চায় না।

জন্মের পর প্রথম ৬ মাস শিশু শুধু বুকের দুধ খায়। তারপর ধীরে ধীরে বাড়তি খাবার শুরু করা হয়। এ সময় সঠিক নিয়মে খাবার না দিলে খাবারের প্রতি শিশুরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে বা অনীহা প্রকাশ করতে থাকে। যেমন—
বাইরের খাবারের অভ্যস্ত হয়ে যায়, তাহলে ঘরে তৈরি খাবার খেতে চায় না, একই খাবার প্রতিদিন দেওয়া, এতে শিশু একঘেয়েমিতে ভোগে।
খাবারের ঘনত্ব ঠিক না থাকা। খুব বেশি তরল বা একদম ব্লেন্ড করা খাবার দিলে শিশু খাবারের স্বাদ পায় না। আবার বেশি শক্ত বা থকথকে দিলে গিলতে পারে না।
বুকের দুধের পরপর বাড়তি খাবার দেওয়া। শিশুদের পাকস্থলী আকারে বেশ ছোট, দুধই তাদের পেটের অনেকখানি ভরিয়ে ফেলে। তাই এ সময় বাড়তি খাবারটা খেতে পারে না।
ঘন ঘন এক–দুই ঘণ্টা পরপরই খাবার দেওয়া। এতে শিশু খাবারটুকু হজমের সময় পায় না, অনেক সময় বমিও করে দেয়।

কী করবেন

১. শিশুদের খাবারের একটি রুটিন তৈরি করুন

৬ থেকে ৯ মাসের শিশুরা বুকের দুধের পাশাপাশি দিনে দুবার আধা বাটি পরিমাণ বাড়তি খাবার খেলেই যথেষ্ট। বুকের দুধের পাশাপাশি ধীরে ধীরে ১-২ চামচ করে বাড়তি খাবার খাওয়াতে হবে। ১০ মাস থেকে ১ বছরের শিশুকে আধা বাটি করে তিন বেলা, মাঝে ১–২ বার নাশতা দেওয়া যেতে পারে। এক বছর পর এক বাটি করে তিন বেলা খাবারের সঙ্গে নাশতা দিন। ২ বছরের পর থেকে ঘরের অন্য সদস্যদের সঙ্গে একই নিয়মে খাবে।

২. খাবারের ঘনত্ব ঠিক রাখতে হবে

খাবার পুরোপুরি ব্লেন্ড করে বা তরল করে দেওয়া যাবে না। আধা শক্ত খাবার শিশু কিছুটা চিবিয়ে খাবে। এতে খাবারের স্বাদ বুঝবে। চিবিয়ে খাওয়া পরে দ্রুত কথা বলার ক্ষেত্রেও সাহায্য করবে।

৩. ঘরের পরিবেশ সুস্থ ও শিশুবান্ধব রাখুন

শিশুকে ধৈর্য ধরে যত্ন ও স্নেহ–মমতার সঙ্গে খাওয়ান। সম্ভব হলে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে বসিয়ে খাবার দিন। একটি নির্দিষ্ট স্থানে বসিয়ে বিভিন্ন সুন্দর ও রংবেরঙের পাত্রে পরিবেশন করলে খাবারের প্রতি আগ্রহ বোধ করবে।

৪. খাবারে বৈচিত্র্য আনুন

প্রতিদিন একই উপাদান দিয়ে রান্না করা খিচুড়ি না দিয়ে ভিন্নভাবে দিন। ডিমও প্রতিদিন সেদ্ধ না দিয়ে কখনো ভাজা বা পুডিং হিসেবে দিন।

৫. শিশুকেও খাবার আয়োজনে যুক্ত করুন

খাবার রান্না ও পরিবেশনের সময় শিশুকে সঙ্গে রাখুন। একটু বড় হলে আঙুল দিয়ে ধরে খেতে পারে, এ ধরনের খাবারগুলো নিজের হাতে খেতে উৎসাহ দিন।

যা করবেন না:

১. বাচ্চাদের জোর করে, ভয় দেখিয়ে খাওয়াবেন না।
২. চকলেট, চিপস, জুস দেবেন না। এসব রুচি নষ্ট করে এবং সহজেই পেট ভরিয়ে ফেলে, তখন ঘরে তৈরি পুষ্টিকর খাবার খেতে চায় না।
৩. মোবাইল, টিভি ইত্যাদি যন্ত্রের সামনে বসিয়ে না খাওয়ানোই ভালো। এতে খাবারের প্রতি মনোযোগ না থাকায় কী খাচ্ছে, তা বুঝতে পারে না।

কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন

শিশু খাওয়া-দাওয়া করছে না, সেই সঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়ছে, অপুষ্টির লক্ষণ দেখা দিচ্ছে।
শিশু খেলাধুলার উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে।
শিশু খাবার খাচ্ছে না। অন্যান্য উপসর্গ যেমন গলাব্যথা, বমি, রক্তশূন্যতা ইত্যাদি সমস্যা হচ্ছে। এসব কোনো রোগের লক্ষণ হতে পারে না।
জিহ্বার ওপরে পুরু সাদা স্তর পড়ে গেছে, যা ছত্রাকের কারণে হতে পারে।

খাওয়া-দাওয়া না করার সঙ্গে সঙ্গে শিশুর মানসিক বিকাশ, কথা বলা, অন্যান্য দিক ঠিক আছে কি না, সেটাও লক্ষ করতে হবে। অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের বিশেষ কোনো খাবারের গন্ধ, রং বা স্বাদের প্রতি সংবেদনশীলতা থাকার কারণে কিছু খাবার খেতে চায় না। আবার সেরিব্রাল পলিসি, হাইপোথাইরয়েডিজম ইত্যাদি রোগের কারণে খেতে পারে না। সেই সঙ্গে হাঁটা, বসা ইত্যাদি সময়মতো হয় না। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, শিশু বিভাগ, ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল

১ থেকে ২ বছরের শিশুরা সাধারণত দুরন্ত প্রকৃতির হয়। খাবারের চেয়ে খেলাধুলা ও চঞ্চলতা বেশি করে। তাই বসিয়ে খাবার খাওয়.....

প্লাস্টিকের পাত্র বা বোতলের ক্ষতিকর দিকগুলোডা. নওসাবাহ্ নূরপানির বোতল থেকে শুরু করে ফ্লাস্ক, র‍্যাপিং, নানা ধরনের কনটেইন...
19/06/2023

প্লাস্টিকের পাত্র বা বোতলের ক্ষতিকর দিকগুলো

ডা. নওসাবাহ্ নূর

পানির বোতল থেকে শুরু করে ফ্লাস্ক, র‍্যাপিং, নানা ধরনের কনটেইনার, সর্বত্রই আমরা প্লাস্টিকে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি। কাপড় বা পাটের ব্যাগ, কাচের বোতল, এসবের জায়গা দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিক। কিন্তু প্লাস্টিকের ক্ষতিকর দিকগুলো কি আমরা জানি?

প্লাস্টিকের সমস্যা কী

গবেষণায় দেখা গেছে, প্লাস্টিকের কিছু রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে, যা প্লাস্টিক থেকে বেরিয়ে গিয়ে আমাদের খাবার ও পানীয়তে প্রবেশ করতে পারে। এসব রাসায়নিক দ্রব্য যেমন ফ্যালেটস ও বিসফেনলের সঙ্গে নানা রকম স্বাস্থ্য সমস্যার সম্পর্ক আছে। যেমন শারীরিক স্থূলতা, নিউরোডেভেলপমেন্টাল সমস্যা অথবা গর্ভধারণের ক্ষমতা হ্রাস।

প্লাস্টিক পরিবেশদূষণের অন্যতম কারণ। এ ছাড়া প্লাস্টিক থেকে নির্গত রাসায়নিক ও মাইক্রোপ্লাস্টিক খাদ্যশৃঙ্খল এবং পরিবেশে প্রবেশ করে আরও ক্ষতি করতে পারে।
প্লাস্টিকের বাক্স মাইক্রোওয়েভ ওভেনে দেওয়া কি নিরাপদ?

প্লাস্টিকের পাত্র তাপের সংস্পর্শে এলে সমস্যাটি আরও প্রকট হয়ে ওঠে; অর্থাৎ প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার মাইক্রোওয়েভ ওভেনে গরম করলে ক্ষতিকর রাসায়নিকের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।

প্লাস্টিক কনটেইনার ব্যবহারের অন্যতম ঝুঁকি হলো বিপিএ। বিসফিনল-এ নামের রাসায়নিকটি ব্যবহৃত হয় শক্ত, স্বচ্ছ প্লাস্টিক তৈরিতে। এছাড়া কিছু ধাতব ক্যান তৈরিতে এটি ব্যবহৃত হয়। প্লাস্টিকের কনটেইনার থেকে খাবারের মধ্যে চলে আসতে পারে বিপিএ। শিশু এবং গর্ভবতী নারীদের মধ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়। গর্ভাবস্থায় বিপিএর দীর্ঘকালীন ব্যবহারে শিশুর ফুসফুসে সমস্যা দেখা দেয়। শিশুকালে বিপিএর সংস্পর্শে বেশি সময় থাকলে পরবর্তী সময়ে দেখা দিতে পারে অ্যাজমা। এ কারণে প্লাস্টিকের কনটেইনার সরাসরি ওভেনে না দেওয়াই নিরাপদ।

প্লাস্টিকের পাত্র বা বোতলের সঙ্গে কি ক্যানসারের সম্পর্ক আছে?

প্লাস্টিকের পাত্র বা বোতলের সঙ্গে ক্যানসারের সরাসরি সম্পর্কের পর্যাপ্ত কোনো প্রমাণ নেই। তবে কিছু প্লাস্টিক পণ্যে ব্যবহৃত কিছু রাসায়নিক ঘটক, যেমন বিসফিনল-এ, ফ্লামিংস এজেন্টের সঙ্গে ক্যানসারের সংযোগ থাকতে পারে। এই রাসায়নিক ঘটকগুলো সম্পর্কে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

সামগ্রিকভাবে প্লাস্টিকের দৈনন্দিন ব্যবহারে শারীরিক জটিলতার ব্যাপারে আমাদের জ্ঞান এখনো সীমিত। তবে প্লাস্টিকের পাত্রে উপস্থিত রাসায়নিকগুলো নিঃসন্দেহে সমস্যার কারণ হতে পারে। এই সমস্যা মোকাবিলা করতে ও খাদ্য প্যাকেজিং উপকরণগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা, স্বচ্ছতা ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

প্লাস্টিকের জটিলতা প্রতিরোধে করণীয়:

১. মাইক্রোওয়েভ ওভেনে প্লাস্টিকের পাত্র ব্যবহার করবেন না। কাচ বা সিরামিকের পাত্র ব্যবহার করতে পারেন।
২. প্লাস্টিকের বোতলের পরিবর্তে কাচ বা স্টেইনলেস স্টিলের পানির বোতল ব্যবহার করুন।
৩. প্লাস্টিকের প্যাকেজিংয়ের সংস্পর্শ কমাতে যেখানে সম্ভব তাজা, প্যাকেজবিহীন খাবার বেছে নিন।
৪. অবশিষ্টাংশ কাচ বা স্টেইনলেস স্টিলের পাত্রে সংরক্ষণ করুন।
৫. খাবার ঢেকে রাখার জন্য প্লাস্টিকের মোড়ক ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। বদলে পুনঃব্যবহারযোগ্য মোমের মোড়ক বা সিলিকন ঢাকনা ব্যবহার করুন।
৬. একবারই ব্যবহার করা যায়, এমন প্লাস্টিকের পাত্র কম ব্যবহার করুন। বাঁশ বা স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি পুনঃব্যবহারযোগ্য বিকল্পগুলো বেছে নিন।
৭. টিনজাত খাবার কেনার সময়, কৌটায় বিপিএমুক্ত আস্তরণ ব্যবহার করে, এমন ব্র্যান্ডগুলো বেছে নিন।
৮. প্লাস্টিকের পরিবর্তে কাগজ বা কার্ডবোর্ডে প্যাকেজ করা পণ্য তুলনামূলক কম ক্ষতিকর।
৯. প্লাস্টিকের পাত্রে গরম বা তৈলাক্ত খাবার রাখবেন না।

# লেখক: মেডিসিনবিশেষজ্ঞ, পপুলার মেডিকেল কলেজ

প্লাস্টিকের পাত্র তাপের সংস্পর্শে এলে সমস্যাটি আরও প্রকট হয়ে ওঠে; অর্থাৎ প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার মাইক্রোওয়ে...

চাঁদ দেখা গেছে, ঈদ ২৯ জুনদেশের আকাশে দেখা গেছে জিলহ্জ মাসের চাঁদ। সে হিসেবে আগামী ২৯ জুন বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আজহা পা...
19/06/2023

চাঁদ দেখা গেছে, ঈদ ২৯ জুন

দেশের আকাশে দেখা গেছে জিলহ্জ মাসের চাঁদ। সে হিসেবে আগামী ২৯ জুন বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হবে।

সোমবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগে ফোন করে ফাউন্ডেশনের পাবনার উপপরিচালক চাঁদ দেখার সংবাদ জানান।

সোমবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান। কিছুক্ষণের মধ্যে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি চাঁদ দেখার সংবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে।

ইসলাম ধর্মের বিধান অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০ তারিখ থেকে তিন দিন ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হয়ে থাকে। এদিন মুসলিমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন।

দেশের আকাশে দেখা গেছে জিলহ্জ মাসের চাঁদ। সে হিসেবে আগামী ২৯ জুন বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হবে। সোমবার (১....

Address

Mirpur 10
Dhaka
1216

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ShuSan Foods posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to ShuSan Foods:

Share