29/07/2026
কেউ নতুন চাকরি পেল—আপনার মন খারাপ হয়ে গেল।
কারও বিয়ে ঠিক হলো—আপনার ভেতরে অদ্ভুত কষ্ট লাগলো।
কারও ব্যবসা ভালো চলছে—আপনি ভাবলেন, “ওর এত হচ্ছে, আমার কেন হচ্ছে না?”
কারও সুন্দর সংসার, সন্তান, বাড়ি, পড়াশোনা, জনপ্রিয়তা দেখে নিজের জীবনকে ছোট মনে হতে লাগলো।
এটা খুব বাস্তব অনুভূতি।
কিন্তু এই অনুভূতিটা যদি নিয়ন্ত্রণ না করি, একসময় তা হাসাদে পরিণত হতে পারে।
হাসাদ মানে শুধু কারও জিনিস দেখে মন খারাপ হওয়া না।
হাসাদ হলো—অন্যের নিয়ামত দেখে ভেতরে ভেতরে চাইতে থাকা, “এটা ওর থেকে চলে যাক” বা “ও কেন পেল?”
এটা ভয়ংকর রোগ। কারণ হাসাদ প্রথমে অন্যের ক্ষতি করার আগেই নিজের হৃদয়কে পুড়িয়ে দেয়।
আল্লাহ বলেন—
> “আল্লাহ তোমাদের কাউকে অন্য কারও উপর যে অনুগ্রহ দিয়েছেন, তোমরা তার আকাঙ্ক্ষা করো না। পুরুষদের জন্য আছে তাদের উপার্জনের অংশ, নারীদের জন্য আছে তাদের উপার্জনের অংশ। তোমরা আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করো।”
📖 সূরা আন-নিসা: ৩২
কী সুন্দর শিক্ষা!
অন্যেরটা দেখে বুক জ্বালাবেন না।
আল্লাহর কাছে নিজের জন্য চান।
কারণ যার জীবনে আপনি শুধু হাসিটা দেখছেন, তার ভেতরের পরীক্ষা আপনি দেখেন না।
যার রিজিক দেখছেন, তার কান্না দেখেন না।
যার বিয়ে দেখছেন, তার দায়িত্ব দেখেন না।
যার সফলতা দেখছেন, তার রাত জাগা, দুশ্চিন্তা, ভয়, ত্যাগ—কিছুই দেখেন না।
Social media আমাদের অন্যের জীবনের highlight দেখায়, reality না।
আর আমরা সেই highlight দেখে নিজের entire life বিচার করি।
এখান থেকেই কষ্ট, তুলনা, হিংসা আর অকৃতজ্ঞতা শুরু হয়।
রাসূল ﷺ বলেছেন—
> “তোমরা পরস্পর হিংসা করো না, পরস্পর বিদ্বেষ পোষণ করো না, পরস্পর সম্পর্ক ছিন্ন করো না; বরং আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই হয়ে যাও।”
📚 সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম
ইসলাম আমাদের অন্যের ভালো দেখে কষ্ট পেতে শেখায় না; বরং “বারাকাল্লাহ” বলতে শেখায়।
কেউ ভালো কিছু পেলে বলুন—
“আল্লাহ আপনার রিজিকে বরকত দিন।”
“আল্লাহ আপনার নিয়ামতকে স্থায়ী করুন।”
“ইয়া আল্লাহ, তাকেও দিন, আমাকেও আপনার রহমত থেকে দিন।”
এটাই মুমিনের হৃদয়।
তবে একটা বিষয় বুঝতে হবে—অন্যের ভালো দেখে নিজেও ভালো হতে চাওয়া খারাপ না।
কেউ নিয়মিত কুরআন পড়ে, দেখে আপনারও কুরআন পড়তে ইচ্ছে হলো—এটা ভালো।
কেউ দান করে, দেখে আপনারও দান করতে ইচ্ছে হলো—এটা ভালো।
কেউ ইলম শিখছে, দেখে আপনারও শেখার আগ্রহ হলো—এটা ভালো প্রতিযোগিতা।
সমস্যা তখন, যখন অন্যের নিয়ামত দেখে নিজের আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ামত ভুলে যাই।
আপনারও তো অনেক নিয়ামত আছে।
আপনার ঈমান আছে।
শ্বাস চলছে।
খাবার আছে।
চোখ আছে।
পরিবার আছে।
তাওবার দরজা খোলা আছে।
দোয়া করার সুযোগ আছে।
আমরা যা পাইনি, শুধু সেটার হিসাব করি।
কিন্তু যা পেয়েছি, তার শুকরিয়া করতে ভুলে যাই।
মনে রাখবেন—
আল্লাহ কারও রিজিক আপনাকে দিয়ে ভুল করেননি।
আপনার রিজিকও অন্য কারও কাছে ভুলে দিয়ে দেননি।
যা আপনার জন্য, তা আপনাকে খুঁজে নেবে ইন শা আল্লাহ।
আর যা আপনার জন্য নয়, তা জোর করেও শান্তি দেবে না।
তাই অন্যের সফলতা দেখলে নিজের হৃদয়কে এই তিনটা কথা শেখান—
“আল্লাহ তাকে দিয়েছেন, আল্লাহ আমাকেও দিতে পারেন।”
“ওর নিয়ামত আমার রিজিক কমিয়ে দেয় না।”
“আমি হিংসা নয়, বরকতের দোয়া করবো।”
এই অভ্যাস হৃদয়কে পরিষ্কার করে।
আর পরিষ্কার হৃদয়েই ঈমানের স্বাদ থাকে।
🌿 হাসাদ থেকে বাঁচার বাস্তব উপায়:
১. অন্যের ভালো দেখলে “বারাকাল্লাহ” বলুন।
২. তুলনা কমান, শুকরিয়া বাড়ান।
৩. Social media কম দেখুন, নিজের জীবন বেশি গুছান।
৪. অন্যের নিয়ামত চলে যাওয়ার কামনা করবেন না।
৫. আল্লাহর কাছে নিজের জন্য হালাল ও বরকতময় রিজিক চান।
৬. নিজের ৩টি নিয়ামত প্রতিদিন লিখুন।
৭. দোয়া করুন—আল্লাহ যেন অন্তর পরিষ্কার রাখেন।
Collected