26/05/2026
জান্নাতি আপার বিদায়
********************
মিনা হতে আরাফাতে রাত এসে পৌঁছিয়েছি।সেই রাত পার করেছি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা হুকুমে (জেসমিন আপা) অসুস্থ তার সেবা করে আলহামদুলিল্লাহ।
সে ছিল আমাদের গ্রুপের ৪ জনের একজন।
বয়স ৫৭/৫৮ হবে।
আজ সেই আরাফাতে সকাল হজ্জ্বের সময়।
সৌদির আনুমানিক সকাল ১১টা।খবর এসেছে এই রুমে আমার সেই জান্নাতি আপা মারা গিয়েছে।
কখন ? ঐ দেশের সকাল ৯.৩০ মি দিকে।
আলহামদুলিল্লাহ ,আল্লাহপাক যা করেন বান্দার ভালো জন্য করে।তারপর এতো সুন্দর দিন আরাফাতের দিন সৌভাগ্যবান জান্নাতি আপা 🤲🤍
কান্না করছি তাবুতে থাকা হাজী মহিলারা এসে সমবেদনা জানালো।জানেন আমার তাদের সমবেদনা মজা লাগে নাই।
আমি ,আয়শা ,আয়শার মা বয়ষ্ক মানুষ
আমরা জানি এই রাতটা তাকে নিয়ে আমাদের কতো ভয় ,টেনশন , দুশ্চিন্তা কাজ করেছিলো।
হঠাৎ এতো অসুস্থ কি ভাবে কি করবো…!
ডেকে বলেছি কেউ কি আছেন এখানে ডাক্তার ? একজন আসলো কাছে দেখে বলো তার মনে হয় পেশার লো হয়ে গেছে গরম কিছু খাওয়ান।
তারপর আর নাই কেউ পাশে।
অভিযোগ করবো না কেউ কে।প্রতিটা মূহুর্ত উপলব্ধি করি।
সেই সুন্দর রাতে এইটা আমার মহান আল্লাহুর তরফ হতে আমাদের উপর একটা নেয়ামত।(বাবা ,মা ) সেবা করতে পারি নাই। জান্নাতি আপা রুগীর হয়ে এসেছে আমার পাশে যতোখানি পেরেছি সেবা করে দিলাম।
তাবুতে তার মৃত্যুর খবর শুনে সবাই বললো রাতে দেখেছি আপারা অনেক সেবা করেছেন।শুনে ভালো লাগে না। চেয়েছিলাম একজন এখানের ডাক্তার অন্তত পাশে থাকবে।
ভালো ও লেগেছে এক হাজী মহিলা বলছিলো হজ্ব কবুল হওয়ার কিছু লক্ষন থাকে আপনারা তার মধ্যে পরেন
ইন শা আল্লাহ 🤲
শুকুর আলহামদুলিল্লাহ।
জান্নাতি আপা স্পষ্ট বলতো ,আমি বিদায় নিয়ে এসেছি সবার কাছ থেকে। এই সাদা কাপড় পরে এসেছি এই সাদা কাপড় পরেই মৃত্যু হবে।আল্লাহপাক তার কথা রেখেছে সে সেই ভাবেই চলে গিয়েছে।
রাতে তার খুব কষ্ট হচ্ছিলো।তারপর ও
কি সুন্দর করে বলেছিলো তুমি ক্ষমা করে দিও। আমার পা দুইটা চেপে দিবা ?
আমি বললাম কি বলেন আপা ?
আপনে আমার বড় ,আমি ক্ষমা চাইবো আমাকে মাফ করে দিয়েন।
পায়ে হাত দিয়ে দেখি বরফের মতো ঠান্ডা সারা শরীর ঘামে ভেজা।তার পর শুরু হলো আমার আর আয়শার সেবা যা যা মাথায় আসে চেষ্টা করেছি।
মনে পরলে ভালো লেগে খেজুর কিনেছিলাম তা ২/৩ টা খেয়েছিলো।
হাটতে পারে না দুই বার ঘাড়ে তুলে এনেছে…টয়লেট হতে
এই সেই সুন্দর আরাফাতের দিন।
বিদায় জান্নাতি আপা।🤍🤍🤍
ইন শা আল্লাহ জান্নাতুল ফেরদৌসে আপনার পাশে আমাদের দেখা হবে।
এই মেঘের ছবিটা তুলেছিলাম তায়েফ থেকে।প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সাঃ) মাথার উপর এক খন্ড মেঘ চলতো ছায়া হয়ে।