30/12/2025
বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (BNP) বর্তমান চেয়ারপারসন।
নিচে তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরা হলো:
১. জন্ম ও প্রাথমিক জীবন
• জন্ম: খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট (মতভেদে ভিন্নতা আছে) জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক নিবাস ফেনী জেলায়।
• পিতা ও মাতা: তাঁর পিতা এস্কান্দার মজুমদার এবং মাতা তৈয়বা মজুমদার।
• বিবাহ: ১৯৬০ সালে তিনি তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন (পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি) জিয়াউর রহমানের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
২. রাজনীতিতে আগমন
১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার পদার্পণ ঘটে। দলের ঐক্য বজায় রাখতে তিনি ১৯৮২ সালে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদ গ্রহণ করেন এবং ১৯৮৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।
৩. স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন
নব্বইয়ের দশকে জেনারেল এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে তিনি আপসহীন আন্দোলন গড়ে তোলেন। আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে তিনি 'আপসহীন নেত্রী' হিসেবে দেশব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন।
৪. প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন
খালেদা জিয়া তিন মেয়াদে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন:
• প্রথম মেয়াদ (১৯৯১–১৯৯৬): বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ। তাঁর সময়েই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন হয়।
• দ্বিতীয় মেয়াদ (১৯৯৬): সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য তিনি পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হন।
• তৃতীয় মেয়াদ (২০০১–২০০৬): চারদলীয় জোটের নেত্রী হিসেবে ভূমিধস বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠন করেন।
৫. বিশেষ অবদান
তাঁর শাসনামলে উল্লেখযোগ্য কিছু অর্জন হলো:
• প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক ও বিনামূল্যে করা।
• মেয়েদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করা।
• পল্লী বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ ও যমুনা বহুমুখী সেতু উদ্বোধন।
৬. বর্তমান অবস্থা
বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি নানা রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই এবং আইনি জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন। পরবর্তীতে অসুস্থতা এবং মানবিক বিবেচনায় সরকারের বিশেষ আদেশে তাঁর সাজা স্থগিত করে তাঁকে বাসায় থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি বর্তমানে মুক্ত হয়েছিলেন আজকে সকালে তিনি ঢাকা এভারকেয়ার হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।
১৯৪৫-২০২৫