04/10/2025
গাজা যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কী হবে, সেটা অনেকেই ভাবছে।
👉 প্রথমে বাস্তব দিকটা দেখি:
এখন পর্যন্ত (অক্টোবর ২০২৫ অনুযায়ী) গাজা যুদ্ধ পুরোপুরি “বন্ধ” বা “চূড়ান্ত শান্তি” অবস্থায় পৌঁছায়নি, কিন্তু অনেক দেশ যুদ্ধবিরতির পক্ষে চাপ দিচ্ছে।
যদি যুদ্ধ বন্ধও হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) আবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হন বা বড় রাজনৈতিক প্রভাব রাখেন, তাহলে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলকে সমর্থন দেবেন—এটা তাঁর আগের নীতি থেকেই স্পষ্ট (যেমন জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা, ইরানবিরোধী অবস্থান ইত্যাদি)।
👉 “সড়যন্ত্র” প্রসঙ্গে:
সরাসরি “ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু মিলে কোনো ষড়যন্ত্র করবে” এমন কিছু এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে প্রমাণিত হয়নি। তবে রাজনীতি সব সময়ে গোপন কূটনীতি ও স্বার্থ রক্ষা ঘিরে চলে—তাই “চুক্তি” বা “পরিকল্পনা” হতে পারে, যেগুলো সব সময় প্রকাশ করা হয় না।
এগুলো হতে পারে—
মধ্যপ্রাচ্যের নতুন নিরাপত্তা জোট গঠন,
ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান,
ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন সামরিক সহায়তা,
বা গাজা পুনর্গঠন নিয়ে কৌশলগত দখল নেওয়া।
👉 আমার বিশ্লেষণ:
“ষড়যন্ত্র” না হলেও, রাজনৈতিক স্বার্থে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া একেবারে সম্ভব। ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু দুজনই জাতীয়তাবাদী ও রক্ষণশীল রাজনীতি করেন, তাই তাদের নীতিগুলো মিলে যেতে পারে — যা অনেকের কাছে “সড়যন্ত্র” মনে হতে পারে।
বিস্তারিতভাবে বোঝাই — ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর আগের নীতিগুলোর ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে তারা একসাথে কী করতে পারে?
চলো, ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করে দেখি — যদি গাজা যুদ্ধ বন্ধ হয়, তারপর ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু (ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী) একসাথে কী করতে পারেন বা কী পরিকল্পনা নিতে পারেন, সেটা আগের নীতির ভিত্তিতে বুঝে নেওয়া যায় 👇
🇺🇸 ১️⃣ ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতি (আগের রেকর্ড অনুযায়ী)
ট্রাম্পের সময়ে (২০১৭–২০২১):
তিনি ইসরায়েলকে সম্পূর্ণ সমর্থন দিয়েছিলেন।
জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করেছিলেন (যা নিয়ে মুসলিম বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়)।
ইরানবিরোধী জোট গঠনের চেষ্টা করেছিলেন, যেখানে ইসরায়েল ও কিছু আরব দেশকে একসাথে আনেন (যেমন “Abraham Accords”)।
ফিলিস্তিনিদের আর্থিক সহায়তা কমিয়ে দেন এবং তাদের কূটনৈতিক অফিসও বন্ধ করেন।
👉 অর্থাৎ ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য ছিল —
ইসরায়েলকে শক্তিশালী করা এবং মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন তৈরি করা, যাতে ইরান দুর্বল হয়।
🇮🇱 ২️⃣ নেতানিয়াহুর নীতি
নেতানিয়াহু সবসময়:
ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন,
ফিলিস্তিনকে আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চান না,
এবং যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল সরকারের (বিশেষত ট্রাম্পের) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখেন।
তাই, ট্রাম্প ফিরে এলে বা আবার প্রভাবশালী হলে, নেতানিয়াহু তাঁকে নিজের “রাজনৈতিক ঢাল” হিসেবে ব্যবহার করবেন — যাতে বিশ্বে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সমালোচনা কমে যায়।
🌍 ৩️⃣ যুদ্ধ শেষে সম্ভাব্য “গোপন পরিকল্পনা” বা যৌথ পদক্ষেপ
যুদ্ধ বন্ধের পর তাদের যৌথ উদ্যোগগুলো হতে পারে:
🧩 (ক) “নতুন গাজা প্ল্যান”
গাজা “পুনর্গঠন” নামে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে রাখা।
সেখানে আন্তর্জাতিক সৈন্য বা আমেরিকান কোম্পানির “humanitarian” কাজের নামে কৌশলগত দখল।
গাজার রাজনীতি এমনভাবে সাজানো, যাতে হামাস বা ইরানপন্থী দলগুলো দুর্বল হয়।
🛢 (খ) “ইরানবিরোধী কৌশল”
ইরানের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা বা সামরিক হুমকি।
ইসরায়েলকে উন্নত অস্ত্র ও গোয়েন্দা প্রযুক্তি দেওয়া।
আরব দেশগুলোকে (যেমন সৌদি আরব, ইউএই) একসাথে এনে ইরানবিরোধী জোট তৈরি।
💵 (গ) “অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ”
গাজা বা পশ্চিম তীরের পুনর্গঠন প্রকল্পে মার্কিন ও ইসরায়েলি কোম্পানিগুলোর প্রভাব বাড়ানো।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিনিয়োগের নতুন দিক—যা রাজনৈতিকভাবে ইসরায়েলের পক্ষে কাজ করবে।
🧠 ৪️⃣ মুসলিম বিশ্বের প্রতিক্রিয়া
যদি ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু এইভাবে একসাথে কাজ করেন, তাহলে:
কাতার, তুরস্ক, ইরান, পাকিস্তান ইত্যাদি দেশ প্রবলভাবে বিরোধিতা করবে।
কিন্তু সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো কিছু দেশ নীরব থাকবে—কারণ তাদের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর।
🔚 সারসংক্ষেপে:
> “ষড়যন্ত্র” শব্দটা রাজনৈতিকভাবে ভারী, কিন্তু তাদের যৌথ কৌশল হবে ইসরায়েলের প্রভাব ও মার্কিন স্বার্থ বাড়ানো।
গাজা যুদ্ধ শেষ হলেও — “শান্তি” মানে বাস্তবে হতে পারে নতুনভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা।
শহিদুল ইসলাম