Jolly Shopping

Jolly Shopping Online based Clothing & accessories shop. We are here to change the texture of your daily life...

01/09/2023
১.আমার বিয়ের জন্য যখন পাত্রী দেখা হতে লাগলো তখন হঠাৎ করে মায়ের আচরণ বদলে যেতে শুরু করলো। শান্ত শিষ্ট মা খিটখিটে মেজাজের ...
20/05/2023

১.
আমার বিয়ের জন্য যখন পাত্রী দেখা হতে লাগলো তখন হঠাৎ করে মায়ের আচরণ বদলে যেতে শুরু করলো। শান্ত শিষ্ট মা খিটখিটে মেজাজের হয়ে যেতে লাগলেন।

সকালে ঘুম থেকে উঠে চেঁচামেচি আরম্ভ করতেন।
চড়া গলায় বলতেন,"আমার মরণ হয় না কেনো? আল্লাহ প্রতিদিন এতো মানুষের মৃত্যু দেন, আমার দেন না কেনো? আমাকে কি তার চোখে পড়ে না? ঘেন্না ধরে গেলো জীবনের প্রতি। ঘেন্না, ঘেন্না..।"
বাবা তখন মাকে বলতেন,"সকাল সকাল কি তোমার মাথায় ভূত চাপে? শুধু শুধু চেঁচামেচি করো কেনো?"
জবাবে মা জ্বলে উঠে বলতেন,"সারাজীবন আমাকে জ্বালিয়ে শেষ করে এখন এসেছো ভালো সাজতে! তোমাকে আমার চেনা আছে। ঘেন্না, ঘেন্না...।"
বাবা আর কিছু বলতেন না। কিন্তু মা গজগজ করতেই থাকতেন।

দুপুরে ছোটো বোন যখন মাকে খেতে ডাকতো, মা তখন রাগী কণ্ঠে বলতেন,"তোর রান্না আমি খেতে পারি না। বমি আসে। ওয়াক থু!"
"আমার রান্না খেতে ভালো না লাগলে, বাহির থেকে খাওয়া নিয়ে আসি?"
"চুপ থাক। মুখে মুখে কথা বলিস। আমি খাবো না। আমার খিদে নেই।"

পরে মা'র মেজাজ কিছুটা কমলে ছোটো বোন মা'র রুমে খাবার দিয়ে আসতো।
মা সামান্য খেয়ে প্লেট সরিয়ে রেখে বিছানায় শুয়ে নাক কুঁচকে বলতেন,"জঘন্য রান্না। ওয়াক থু!"

রাতে হয়তো মাকে বললাম,"মা, আমার বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে যাবেন না?"
মা ক্ষিপ্ত হয়ে তখন বলতেন,"বিয়ে করবি, তাই আনন্দে উড়ছিস, তাই না? শয়তান ছেলে পেটে ধরেছি। যা এখান থেকে।"

মায়ের এই উত্তপ্ত আচরণে আমরা সবাই বিরক্ত হতাম। তাকে থামতে বললে থামতেন না। জোরে কথা বলতে বলতে এক সময় তার ফর্সা মুখ লাল হয়ে যেতো। পুরো শরীর ঘেমে যেতো।

শাড়ির আঁচল দিয়ে ঘাম মুছতে মুছতে মা তখন বলতেন,"সবাই কি অন্ধ হয়ে গেছিস? দেখছিস না ঘামে ভিজে গেলাম। ফ্যানের স্পিড বাড়িতে দিতে পারিস না?"
উত্তরে বলতাম,"ফ্যান ফুল স্পিডেই চলছে।"
"তাহলে এতো গরম লাগে কেনো?"
"সারাদিন চিৎকার করলে গরম তো লাগবেই।"
"চুপ কর। জ্ঞান দিতে এসেছিস! তোর চেয়ে আমি ভালো বুঝি।"
আমি তখন চুপ হয়ে যেতাম।

দিন দিন মায়ের আচরণ রুক্ষ হয়ে উঠতে লাগলো। অবশ্য সব সময় যে তিনি চিৎকার করতেন তা নয়। যে সময় তিনি চুপ থাকতেন, তখন তাকে দেখলে মনে হতো, এক পৃথিবী ক্লান্তি তাকে ঘিরে ধরেছে। কখনো কোনো কারণ ছাড়া কাঁদতেন।

মায়ের এই পরিবর্তনের কারণ আমরা বুঝতে পারতাম না।
কেউ বলতো,"তাবিজ করেছে।"
কেউ বলতো,"জিনে ধরেছে।"
কেউ আবার বলতো,"তাবিজ, জিন এসব কিছু নয়। আসল ব্যাপার হলো, নতুন বউ আসবে বাড়িতে। তখন সংসারের কর্তৃত্ব আর তার হাতে থাকবে না। বউয়ের হাতে চলে যাবে। এই ভেবে তার মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে।"

মায়ের ব্যবহারের কারণে বিয়ে করতে ভয় লাগছিলো। পুত্রবধূর সাথে যদি তিনি এভাবে আচরণ করেন তাহলে তো সংসার করা কঠিন হবে। আমি তাই পাত্রী দেখা বন্ধ রাখলাম।

এদিকে মা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠতে লাগলেন। মায়ের চেঁচামেচিতে এক পর্যায়ে সবাই ত্যক্ত হয়ে গেলাম।

বাবা একদিন রেগে গিয়ে মাকে বললেন,"সুখে থাকতে ভূতে কিলায়, তাই না? সহ্যের একটা সীমা আছে। আমি শেষবারের মতো বলছি, তুমি যদি নিজেকে না শোধরাও, তাহলে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেবো।"

ছোটো বোন একদিন অস্থির হয়ে মাকে বললো,"আপনি আমাকে পাগল বানিয়ে দেবেন। যেভাবেই রান্না করি আপনার পছন্দ হয় না। শুধু ওয়াক থু, ওয়াক থু করেন। অন্য কারো রান্না খেয়ে ওয়াক থু করে দেখবেন, কী হয়? বসে বসে খাচ্ছেন তো তাই টের পাচ্ছেন না।"

আমি একদিন ফুঁসে উঠে মাকে বললাম,"আপনি কিন্তু বাড়াবাড়ি করছেন। আমাদের ভালো ব্যবহারের কোনো মূল্য নেই আপনার কাছে। ঠিক আছে, এখন থেকে আপনার সাথেও আমরা খারাপ আচরণ করবো।"

আমাদের রূঢ় ব্যবহারে মা আরো মরিয়া হয়ে উঠলেন। রাতে ঘুমান না, ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করেন না, বিষন্ন হয়ে থাকেন, নতুবা কাঁদেন, নতুবা খিটখিট করতেই থাকেন।

এভাবে চলতে চলতে মা এক সময় শারীরিক ভাবে খুবই অসুস্থ হয়ে পড়লেন। আমরা মাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। আর সেখানে গিয়ে ডাক্তারের কাছ থেকে জানতে পারলাম মায়ের আসলে কী হয়েছিলো।

ডাক্তার বললেন,"উনি দীর্ঘদিন থেকে মেনোপজ সমস্যায় ভুগছিলেন। মেনোপজ হলো, নারীদের একটা বয়সের পর মাসিক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া। এটা সাধারণত ৪৫ - ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে হয়। পৃথিবীর সকল নারীর জীবনে এটা ঘটে।"

তারপর বললেন,"মেনোপজ নারীর শরীরে মনে প্রচুর পরিবর্তন নিয়ে আসে। যেমন, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, হঠাৎ করে খুব গরম লাগতে থাকে, স্মৃতি শক্তি নষ্ট হয়ে যেতে থাকে, খুব ছোটোখাটো বিষয়ে আবেগ প্রবন হয়ে কেঁদে ফেলা, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় ইত্যাদি। এ সময় সঠিক যত্ন না নিলে অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ওনার ক্ষেত্রে ঠিক তাই হয়েছে।"

অপরাধ বোধে আমরা জর্জরিত হয়ে গেলাম।

আমাদের ভুলের কারণে মায়ের ভয়াবহ শারীরিক ক্ষতি হলো। মেরুদণ্ড বাঁকা হয়ে গেলো। হার্টের রোগে আক্রান্ত হলেন। এরপর মা বেশিদিন বাঁচেন নি।

মায়ের মৃত্যুর পর এই ভেবে কাঁদতাম যে, মায়ের সমস্যাটা বুঝতে না পেরে কতো বাজে আচরণ তার সাথে করেছি। আহারে!

২.
বিয়ের পঁচিশ বছর পর এক মাঝ রাতে আমার স্ত্রী ঘুম ভাঙিয়ে বললো,"আমার এতো গরম লাগে কেনো? ফ্যানের স্পিড বাড়িয়ে দাও।"
বললাম,"ফ্যান ফুল স্পিডে চলছে। আর বাড়ানো যাবে না।"
সে তখন ঘামতে ঘামতে বললো,"তাহলে আমার এতো গরম লাগে কেনো?"

তারপর খিটখিটে স্বরে বললো,"জীবনটা বরবাদ হয়ে গেলো আমার। কেউ আমার কথা শোনে না। অসহ্য অসহ্য! আল্লাহ এতো মানুষের মৃত্যু দেন, আমার মৃত্যু দেন না কেনো?..."

সে বকে যেতে লাগলো।

আমার তখন বুঝতে সমস্যা হলো না, স্ত্রীর মেনোপজ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। এখন অবহেলা নয়, বকাঝকা নয়, এখন তার প্রয়োজন সুষম খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, এবং অকৃত্রিম ভালোবাসা।

মায়ের সাথে যে ভুল করেছি, স্ত্রীর সাথে সেই একই ভুল করতে চাই না।

আমি তাই স্ত্রীর খিটখিটে মেজাজ অগ্রাহ্য করে তাকে জড়িয়ে ধরলাম। পরম মমতায়।

"নারী"
-

আমাদের বাসায় একবার কিসের যেন জরিপকারীরা এলেন। আম্মাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনার ছেলেমেয়ে কয়জন?’ আম্মা উত্তর দিলেন, ‘এই হবে ছ...
17/05/2023

আমাদের বাসায় একবার কিসের যেন জরিপকারীরা এলেন। আম্মাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনার ছেলেমেয়ে কয়জন?’ আম্মা উত্তর দিলেন, ‘এই হবে ছয়-সাতটা।’

জরিপকারী থ। জীবনেও এমন উত্তর তাঁরা শোনেননি। কোনো মা নিজের সন্তানের সংখ্যা বলতে গিয়ে বলছে, ‘এই হবে ছয়-সাতটা!’

জরিপকারীরা তো আর জানতেন না, আম্মার ‘ছেলেমেয়ে’র মধ্যে তিনটা ছেলে, এক মেয়ে; পাঁচটা মুরগি, তিন-চারটা পাতিহাঁস, দু-তিনটা রাজহাঁস, কয়েকটা খরগোশ আছে। হিসাব রাখা আসলেই কঠিন!

আম্মা অবশ্য এমনিতেই হিসাব রাখায় খুব দক্ষ ছিলেন না, এখনো নেই। একটা ঘটনা বলি। আম্মার সঙ্গে এক দোকানির দরদাম হচ্ছে—
: এই পাতিলটার দাম কত?
: খালা, ২৪০ টাকা। আপনার জন্য একদাম ২৩০ টাকা।
: কী বলেন, এই পাতিলের দাম এত! ২৫০ টাকা দিব। দিলে দেন, না দিলে নাই।

আমার সেই হিসাব রাখতে না পারা সহজ সরল মা, ‘ম্যাট্রিক ফেল’ মা জীবনের সবচেয়ে বড় কঠিন পরীক্ষাগুলোয় অবিশ্বাস্যভাবে পাস করে গেছেন।

আব্বা যখন পুরোপুরি বেকার, একরকম নিরুদ্দেশ, আম্মা একাই রংপুর শহরে আমাদের টিকিয়ে রেখেছিলেন। কিছুতেই আমাদের গ্রামে নিয়ে যেতে দেননি। জানতেন, গ্রামে গেলে আমাদের আর পড়াশোনা হবে না।

প্রতিবার বাড়িভাড়া বাকি পড়ায় প্রতি দুই-তিন মাসে আমাদের একবার করে বাসা পাল্টাতে হতো। নিজেদের মনে হতো কচুরিপানার মতো। আমরা হয়তো ভেসেই যেতাম। আম্মা তা হতে দেননি। আম্মা আমাদের দিঘির সেই শাপলা কিংবা পদ্মফুলটা বানিয়ে রেখেছিলেন।

যত ঢেউ আর ঝড়ঝাপটা হোক, সংসার নামের অতল গহিন পানিতে আমরা স্থির ভেসে ছিলাম। কারণ, সেই শাপলাকে শক্ত করে বেঁধে রেখে জলের আড়ালের ডুবন্ত শিকড় হয়ে ছিলেন আমাদের ‘ম্যাট্রিক ফেল’ মা। আয়হীন একটা সংসারে কীভাবে আমাদের বড় করেছেন ভেবে পাই না।

অর্থনীতিতে নোবেল পাওয়া উচিত মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত সংসারের মায়েদের। সংসার খরচের টাকায় চাহিদা ও জোগানের যে বিশাল পার্থক্য, তা হলুদের গন্ধমাখা শাড়ির আঁচলে ঘাম মোছার মতোই মুছে দেন মা—দিনের পর দিন, বছরের পর বছর। এর চেয়ে বড় অলৌকিক অর্থনৈতিক তত্ত্ব আর কী হয়!

আরেকটা ঘটনা বলি।
এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট হয়েছে। মানবিক বিভাগ থেকে থেকে স্টার মার্কস পেয়েছি। আগের পরীক্ষাপদ্ধতির সঙ্গে যাঁদের পরিচয় আছে, তাঁরা জানেন, আর্টস থেকে ৭৫০+ মার্কস তোলা কতটা কঠিন ছিল।

তো আমি রেজাল্ট নিয়ে বাসায় ফিরতেই দেখি—মা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন। টেনশনে কাঁপছেন। আমি গিয়ে বললাম, ‘স্টার পাইসি, আম্মা।’ আম্মা কেঁদে দিলেন বাচ্চা মেয়ের মতো। আমি ভাবলাম, আবেগে কাঁদছেন। একটু পর ভুল ভাঙল। আম্মা বললেন, ‘বাবা রে, এইটা তুই কী করলি? তোকে নিয়া আমার কত আশা ছিল! ভাবছিলাম, ফার্স্ট ডিভিশনটা অন্তত পাবি...। থাক বাবা, মন খারাপ করিস না।’

আমার মা, আমার বোকাসোকা মা, আমার তেল-নুন-হলুদের গন্ধমাখা আটপৌরে শাড়ি পরে থাকা মা, আমার কারণ-অকারণে বকবক করতে থাকা মা জানতেনই না ফার্স্ট ডিভিশনের চেয়ে স্টার মার্কস আরও বড় কিছু। আমরা ভাইবোনেরা আজীবন চেষ্টা করে গেছি, যেন মায়ের স্বপ্ন পূরণের পরীক্ষায় অন্তত ফার্স্ট ডিভিশন পাই।

দুই.
আমার উপন্যাস ‘আমাদের শহরে বাঘ এসেছিল’ আম্মাকে উৎসর্গ করেছি। অনেকে তাঁর প্রথম বইটা মাকে উৎসর্গ করে। আমি আমার তৃতীয় বই মাকে উৎসর্গ করেছি। তবু দ্বিধায় ছিলাম। এই বই কি আমার মায়ের পায়ে তুলে দেওয়ার যোগ্য হয়েছে? আমার মায়ের জীবনের গল্প লিখব, সেই ভাষা নির্মাণের সাধ্য দুই পয়সার এই লেখককে কেন দিলেন না সৃষ্টিকর্তা!

শেষ মুহূর্তে বইয়ে যুক্ত হওয়া উৎসর্গপত্র:
নিমগাছের ডালে বসে আছে একটা চিল। নিচে ঘুরঘুর করছে একটা মা মুরগি। দানা খুঁটে খুঁটে খাচ্ছে তার চারটে ছানা। মা মুরগি নিজে খায়নি বহুদিন। ডিমে তা দিতে যে হয়েছে একটানা। দানাগুলোয় ঠোকর দিচ্ছে ঠিক, খাচ্ছে না। দেখিয়ে দিচ্ছে, বাছারা, এইভাবে খা।

শাঁ করে উড়ে মাটিতে নামল ভয়ংকর সেই চিল। তীক্ষ্ণ নখের থাবা বাড়িয়ে দিল তুলতুলে ছানাগুলোর দিকে। মা মুরগির শরীরের পাখনাগুলো সব খাড়া হয়ে গেল। গলা উঁচিয়ে তেড়ে গেল চিলটার দিকে। তীব্র চিৎকার করে উঠল...কককক কককক! ভয়ে পালিয়ে গেল চিল।

এই তো মা, আমার মা! আমাদের মা!

তিন.
ঘ্যাচর ঘ্যাচ শব্দ তুলে এগিয়ে যাচ্ছে ত্রিচক্রযান। রিকশায় যাত্রীও তিনজন। আমার বয়স তখন কত? ছয় কি সাত। নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনে উত্তাল সারা দেশ। সেই আঁচ এসে লেগেছে এরশাদের দুর্গ রংপুরেও। তখন কি আর অত কিছু বুঝি? আমার ভাবনার ছোট্ট জগতে এসবের কোনো বালাই নেই।

কল্পনার সেই জগৎ তখন অন্য কিছুর দখলে। সেখানে আছে রাজপুত্র-রাজকন্যা। পঙ্খীরাজ ঘোড়া। সোনার কাঠি-রুপার কাঠি। আছে রাক্ষস-খোক্কস। সন্ধ্যা হলেই ভূতের ভয়। আছে শাওনদের পেয়ারাগাছ থেকে পেয়ারা চুরির নির্বোধ সাহস। ভোঁকাট্টা ঘুড়ির পেছনে ছুটে ছুটে হয়রান হওয়া। আর? আর আছে একজোড়া চাকাওয়ালা জুতার জন্য অসম্ভব জিদ।

আমাদের পাড়ায় কয়েকজন ছেলেমেয়ে চাকাওয়ালা জুতা পরে কী সুন্দর ছুটে যায়! আমার খুব হিংসা হয় ওদের দেখে। স্কেটিং-মেসকেটিং তো তখন বুঝি না। শুধু বুঝি, নিচে ছোট ছোট চাকা লাগানো থাকে এমন জুতাও পাওয়া যায়, যে জুতা পরে হাঁটতে হয় না! এমনিতেই গড়গড়িয়ে ছুটে যাওয়া যায়। এই জুতাই আমার চাই।

প্রতিদিন মায়ের কাছে ঘ্যানঘ্যান করি, ‘আম্মা, আমাক চাকাওলা জুতা কিনে দ্যান। দ্যান না।’

সাধারণ লেদারের স্যান্ডেল কেনারই সাধ্য তখন ছিল না। চাকাওয়ালা জুতা মিলবে কোত্থেকে! কিন্তু আমি তো অবুঝ।

মা একদিন নামাজ শেষে আমাকে ডাকলেন। বিড়বিড় করে দোয়া পড়ে ফুঁ দিয়ে দিলেন। বললেন, ‘বাবা রে, তোক যে চাকাওলা জুতা কিনি দিবার পারলাম না…।’ মা হয়তো আরও কিছু বলতে চেয়েছিলেন। সেই না–বলা কথাগুলো চোখের পানি হয়ে ঝরল।

বড় হয়ে এখন বুঝি, মা অলক্ষ্যে আমাদের সবার পায়ে অদৃশ্য চাকাওয়ালা জুতা ফিট করে দিয়েছেন। এ কারণেই তো এখন পথ চলতে পারছি—গড়গড়িয়ে!

Prothom Alo থেকে পাওয়া

ছবির মহিলাটির নাম: সাবরিনা গনজালেয পাস্তারস্কি, পেশায় একজন পদার্থ বিজ্ঞানী। আগামী ৩ জুন তার বয়স হবে ৩০ বছর।আমেরিকান এই ন...
17/05/2023

ছবির মহিলাটির নাম: সাবরিনা গনজালেয পাস্তারস্কি, পেশায় একজন পদার্থ বিজ্ঞানী। আগামী ৩ জুন তার বয়স হবে ৩০ বছর।

আমেরিকান এই নারী মাত্র ১০ বছর বয়সে বিমান চালানো শিখেছেন। ১৩ বছর বয়সে নিজস্ব মেধায় বিমান বানানো শুরু করেন এবং ১৬ বছর বয়সে সেই বিমানে সফল উড্ডয়ন করেন।
২০১৯ সালে তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

আমাদের তরুণরা যখন সামান্য একটি চাকরি পাওয়ার জন্য মরিয়া, তিনি তখন মার্কিন গবেষণা সংস্থা নাসার দেয়া বিশাল চাকরির অফারও ফিরিয়ে দিয়েছেন!

আসুন ব্রেনের উদ্ভাবনী শক্তি এবং কারিগরি ট্রেডে নিজের মেধাকে কাজে লাগাতে চেষ্টা করি।

ছেলেটা শসা বিক্রি করছিল বাসের বাইরে থেকে।  এক যাত্রী শসা নিলেন। টাকাও দিলেন।  তবে বিশ টাকার নোট। ঠিক তখনই বাস ছেড়ে দিল। ...
17/05/2023

ছেলেটা শসা বিক্রি করছিল বাসের বাইরে থেকে। এক যাত্রী শসা নিলেন। টাকাও দিলেন। তবে বিশ টাকার নোট। ঠিক তখনই বাস ছেড়ে দিল। ছেলেটা বাকি দশটাকা যাত্রীকে ফেরত দিতে পারলো না।

এদিকে সে যাত্রীও সিট থেকে উঠে দাঁড়ালো জানালার ফাঁক দিয়ে টাকাটা ফেরত নেয়ার জন্য। কিন্তু বাসের স্পিড অনেক। লোকটা বললও- এই ছেলে, যাহ টাকা ফেরত দেয়া লাগবে না। চকলেট খেয়ে নিস।

কিন্তু শিক্ষার স্থায়িত্ব, মানবিক বিবেক আর ব্যক্তিত্বের স্থায়ীত্ব ছেলেটার এতই বেশি যে- সে তার মাথা থেকে শসার ডালা এক দোকানে রেখেই জানপ্রাণ ছেড়ে দৌড়াতে লাগলো বাসের পেছনে। তাকে কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। শসাক্রেতা সে যাত্রী বার বার বলছে- আহা রে থাম থাম। আসিস না। ফেরত দেয়া লাগবে না টাকা।
কিন্তু কে শোনে কার কথা! ছেলেটা অবিরাম দৌড়িয়েই যাচ্ছে। একে তে প্রচণ্ড গরম। তারওপর সে দৌড়াচ্ছে। বাস কিছু দূরে এর মধ্যে চলে এসেছে। এক পর্যায়ের বাসের যাত্রীরা ড্রাইভারকে বললেন, ড্রাইভার সাব দ্রুত বাস থামান। বাস থামলো। ছেলেটে এক লাফে বাসে উঠে সে যাত্রীর কাছে গিয়ে দশটাকা ফেরত দিল।
সবাই বিস্মিত। কী হলো এটা? সে যাত্রীও একটু বিরক্ত হলেন। বললেন, কতবার বললাম, টাকা ফেরত দেয়া লাগবে না। শুনলি না কেন!

ছেলেটা রীতিমতো হাফাচ্ছিল। দম নিয়ে বলল- নাহ স্যার। লাগবে না। আমি বাড়তি নেব না।
অন্য যাত্রীরা তার এই কাজে দারুণ মুগ্ধ হলো, অবাকতো হয়েছেই। এক যাত্রী তার ব্যাগ থেকে জুসের বোতল বের করে ছেলেটাকে দিয়ে বলল- প্লিজ একটু খা। ছেলেটা অল্প একটু মুখে দিল।
তার শরীরে ক্লান্তি, কিন্তু চোখেমুখে প্রশান্তি। যেন সে দীর্ঘদিনের একটা দায় মিটিয়ে ফেলল। বাস তাকে নামিয়ে দিয়ে ধীরে ধীরে আগাতে থাকলো। ছেলেটা ধীর পায়ে তার রেখে আসা শসার ডালার দিকে এগিয়ে যেতে পা বাড়ালো।

আহা সততা!
লেখাটা নেটে কুড়িয়ে পাওয়া এবং লেখকের নাম পায়নি। 😔

এটাই হয় 😁
14/04/2023

এটাই হয় 😁

14/04/2023

ঈদের শপিং এ কিভাবে দরদাম করবেন দেখে নিন 😁
#ঈদ #ঈদশপিং

প্রশ্নঃ রুকু ও সিজদার তাসবীহ এর বাংলা অর্থ কি?রুকুর তাসবীহঃ সুবহা’না রাব্বিয়াল আ’যীম।অর্থঃ আমি আমার প্রভুর পবিত্রতা বর্ণ...
18/02/2023

প্রশ্নঃ রুকু ও সিজদার তাসবীহ এর বাংলা অর্থ কি?
রুকুর তাসবীহঃ সুবহা’না রাব্বিয়াল আ’যীম।
অর্থঃ আমি আমার প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা করছি।
সুবহা’না – পবিত্রতা ঘোষণা করছি
রাব্বি – আমার রব্বের বা আমার প্রতিপালকের
আ’যীম -
সিজদার তাসবীহঃ সুবহা’না রাব্বিয়াল আ’লা
অর্থঃ আমি আমার মহান সুউচ্চ রব্বের পবিত্রতা বর্ণনা করছি।
সুবহা’না – পবিত্রতা ঘোষণা করছি
রাব্বি – আমার রব্ব বা আমার প্রতিপালক
আল-আ’লা – যিনি সুউচ্চ ও মহান
*** এইগুলো পড়ার পরে আরেকটা দুয়া করা যায়, যেটা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) পড়তেন।
আয়েশা (রাঃ) বলেন যেঃ সুরা নাসর নাযিল হওয়ার পর থেকে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে কখনো এই দুয়া পড়া ছাড়া নামায পড়তে দেখিনি।

''সুবহা’নাকা আল্লা-হুম্মা রাব্বানা ওয়া বিহা’মদিকা আল্লা-হুম্মাগফিরলী''
অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমাদের রব্ব। তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করি, তোমার প্রশংসা সহকারে। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।
সুবহা’নাকা – পবিত্রতা ঘোষণা করছি
রাব্বানা – হে আমাদের রব্ব
ওয়া = এবং, বিহা’মদিকা = প্রশংসা সহকারে
আল্লা-হুম্মা = হে আল্লাহ!
আল্লা-হুম্মা + মাগগিরলী = আল্লা-হুম্মাগফিরলী''
আল্লা-হুম্মা = হে আল্লাহ!
মাগফিরলি = তুমি আমাকে ক্ষমা করো
এই দুয়া রুকু এবং সিজদা দুই জায়গাতেই পড়া যায়, ১/৩ করে। এই দুয়া পড়ার আগে তাসবীহগুলো পড়ে নিতে হবে।

দুয়াটার রেফারেন্স হলোঃ সহীহ মুসলিম ৯৬৯।

“Man surprised me most about humanity.Because he sacrifices his health in order tomake money.Then he sacrifices money to...
15/02/2023

“Man surprised me most about humanity.
Because he sacrifices his health in order to
make money.
Then he sacrifices money to recuperate his
health. And then he is so anxious about the
future that he does not enjoy the present; the
result being that he does not live in the present
or the future; he lives as if he is never going to
die, and then dies having never really lived.”
-------
Dalai Lama

৭৫ সেকেন্ডের  ভূমিকম্পের আগে লোকটি ৩ টি বাড়ির মালিক ছিলো।আর সেই লোক ৭৫ সেকেন্ড পর তিনটি  রুটিরও মালিক না। অন্যের দেওয়া ...
10/02/2023

৭৫ সেকেন্ডের ভূমিকম্পের আগে লোকটি ৩ টি বাড়ির মালিক ছিলো।আর সেই লোক ৭৫ সেকেন্ড পর তিনটি রুটিরও মালিক না। অন্যের দেওয়া রুটি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সে। তাই কখনো অহংকার করবেন না কারো সাথে। সময়ের সাথে সব ঘুরে যেতে পারে। আল্লাহ পাক চাইলে ১ সেকেন্ডে সব কিছু পরিবর্তন করে দিতে পারেন।

জুম্মা মোবারক
10/02/2023

জুম্মা মোবারক

বেশ কয়েকমাস আগে আমি যে হোটেলে কাজ করি, সেই হোটেলে এক জোড়া নবদম্পতি এসেছিলো। যদিও ঐ সময়টাতে অনেক নবদম্পতিই আসে কিন্তু ঐ দ...
07/02/2023

বেশ কয়েকমাস আগে আমি যে হোটেলে কাজ করি, সেই হোটেলে এক জোড়া নবদম্পতি এসেছিলো। যদিও ঐ সময়টাতে অনেক নবদম্পতিই আসে কিন্তু ঐ দম্পতির মধ্যে এমন কিছু ছিলো, যার জন্য এই হোটেলের ঐ তলায় নিয়োজিত কর্মী ছাড়াও বাকিদের মুখে ওই দম্পতির প্রশংসা ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রত্যেকটা কর্মী,ব্যবস্থাপক, অভ্যর্থনা কর্মী সবার মধ্যেই একটা ভালো লাগা কাজ করতো ওদের জন্য। যেদিন যার দায়িত্ব থাকতো ঐ তলায় সবাই চেপে ধরতো তাকে সেই দম্পতির খবর পাওয়ার জন্য।
সেই সৌভাগ্যবানদের মধ্যে আমিও একজন যার বেশিরভাগ দায়িত্বই পড়তো ঐ তলাতে।
গল্পটা তাহলে প্রথমদিন থেকেই শুরু করি।

অন্যান্য সবসময়ের মতোই অনেক অতিথির মতোই হোটেলে আসে একজোড়া নবদম্পতি। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই দেখতে একদম পুতুল পুতুল। এতো অতিথির মধ্যেও ওদের দিকে আলাদাভাবে চোখ দেওয়ার কারণ ছিলো, হেঁটে আসার সময় মেয়েটার শাড়ির সামনের দিকটা একটু কুঁচকে যায়। নিজেই শাড়িটা ঠিক করার আগে ছেলেটাই বসে ঠিক করে দেয়। কতটা যত্নবান হলে এমন টা হয় ঠিক জানা নেই। তবে নবদম্পতিদের ক্ষেত্রে এটা স্বাভাবিক ঘটনা।
রিসেপশনে রুম বুকিং হল ধ্রুব রায় আর মিষ্টি রায় নামে। অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে শাড়ি ঠিক করা থেকে নিচে রাখা ব্যাগ তোলা কোনোটাই স্ত্রী কে করতেই দিচ্ছে না ধ্রুব। এককথায়, কোনোভাবেই মেয়েটাকে নিচু হতে দিচ্ছে না এবং শেষদিন অবদি এটাই দেখেছি। মেয়েটা কিছুই বলতো না কেবল ছোট একটা হাসি দিতো।
পরদিন সকালে যখন জলখাবার নিয়ে রুমে যাই তখন সম্ভবত ভদ্রমহিলা তৈরি হচ্ছিলেন চিরুনি হাতে আয়নার সামনে বসে । চুলে চিরুনি টান লাগার সাথে সাথে অস্ফুট চিৎকার করে উঠল,হাত থেকে পড়ে গেল চিরুনি। ধ্রুব তখন সবে বিছানা থেকে নেমে আমার কাছ থেকে জলখাবারের ট্রে'টা নিয়েছে। স্ত্রীর চিৎকার শুনেই ট্রে ছেড়ে দিয়ে পড়িমড়ি করে ছুটে গেল। আমি শুধু অবাক হয়ে দেখছিলাম। দৌড়ে গিয়ে আগে এক ধমক লাগিয়ে দিলেন,
"কতবার বলেছি তোমায় যেটা পারবেনা সেটা করতে যাবে না। কেনো কথা শোনো না তুমি"
অপরাধীর মতো মাথা নিচু করে রইলেন বেচারী। গলাটা একদম নিচে নামিয়ে বললেন, “আমি ভেবেছিলাম আমিই পারবো। হঠাৎ চুলে টান লেগে যাবে বুঝতেই পারিনি"

স্ত্রীর দিকে একবার তাকিয়ে নিচ থেকে চিরুনিটা তুলে নিলেন। হঠাৎ মনে পড়লো বোধহয় যে, আমি দাঁড়িয়ে। প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিলেন ভদ্রলোক। হাত থেকে ট্রে'টা নিয়ে আমাকে বিদায় দিলেন। স্বামী-স্ত্রীর সৌজন্যবোধই হয়তো সবার মধ্যে অন্যতম করে তুলেছিলো ওদের
খুব ইচ্ছে হচ্ছিলো ভেতরে কি হয় দেখার। যদিও অভ্যাসটা খারাপ, তবুও সামলানো গেলো না নিজেকে। দরজার ফাঁকা দিয়ে চোখ রেখে দেখলাম, ট্রে রেখে স্ত্রীর দিকে এগিয়ে গেলেন। খুব যত্নে চুলে আঙ্গুল দিয়ে জট ছাড়িয়ে আস্তে আস্তে চিরুনি দিয়ে আঁচড়ে দিলেন। এতটা সযত্নে স্ত্রীর চুল আঁচড়ে দিতে এই প্রথমবার দেখলাম হয়তো। হঠাৎ পেছন থেকে আরেক জন সহকর্মী এসে পিঠে হাত রাখাতেই চমকে উঠেছিলাম। পরে ওকেও সব খুলে বলি। কান থেকে কান ছড়াতে ছড়াতে ব্যবস্থাপক পর্যন্ত পৌঁছে গেল কথাটা।
সকলেরই মনে হচ্ছিলো, নতুন বিয়ে তাই ভালোবাসাও বেশি,পুরোনো হতে হতে ভালোবাসাও উড়ে যাবে। মন মানতো না তারপরও।

অন্যান্য আবাসিক হোটেল গুলোর তুলনায় আমাদের হোটেলটাতেই তুলনামূলক কম শব্দ হতো। আর যতবার রায় দম্পতির রুমে গিয়েছি বুঝতে পারলাম ভদ্রলোক বেশি শব্দ একদমই সহ্য করতে পারতেন না। রাতে "ক্যান্ডেল লাইট ডিনার" এর জন্য অন্যান্য দম্পতিদের সাথে রায় দম্পতিও নিচে আসে। খুব জোরে গান না বাজলেও শব্দটা যথেষ্ট কানে লাগছিলো। স্ত্রীকে দূরে দাঁড় করিয়ে নিজেই এসে অনুরোধ করে যদি শব্দটা কমানো যায়। এতে অন্যদের অসুবিধে হলে তারা নিজেদের রুমেই চলে যাবে।
সেদিন বুঝলাম শব্দে সমস্যা হয়তো ওনার স্ত্রী'র হয়। শব্দ কমানোর পরই ভদ্রলোক স্ত্রীকে নিয়ে আসেন। স্ত্রীকে নিজের হাতেই খাইয়ে দিয়েছিলেন আর মেয়েটা কেমন যেন শূন্য দৃষ্টি নিয়ে স্বামীর দিকে তাকিয়েই ছিলো।
এভাবেই তিন-চার দিন পার হয়ে গেল। এর মধ্যেই দু-জনের ব্যবহারে হোটেল কর্মী থেকে শুরু করে অতিথি পর্যন্ত সকলে এতটাই সন্তুষ্ট ছিলো যে সকলের মুখে মুখে ঐ দুজনেরই প্রশংসা।
সেদিন সকালে জলখাবার দিতে গিয়ে যেই দরজায় ঠুকেছি,প্রথম বারেই ভদ্রলোক দৌড়ে এলেন। ইশারায় বুঝিয়ে দিলেন শব্দ না করার জন্য। ওনার স্ত্রী ঘুমোচ্ছিলেন। খুব কৌতুহল ছিলো আমাদের সকলেরই। সেদিন সাহস করে জিজ্ঞেস করেই ফেললাম।

-"বলছি স্যার, একটা কথা জিজ্ঞেস করবো? আসলে প্রশ্নটা এখানকার সকলেরই যারা আপনাদের দেখেছে।"

ধ্রুব রায় আস্তে করে দরজা টা বন্ধ করে বেরিয়ে এলেন। কথার শব্দে যদি স্ত্রীর ঘুম ভেঙ্গে যায়। তারপর বলতে থাকে,
-"আমি বুঝতে পেরেছি আপনাদের প্রশ্ন। আসলে মাথা নোয়ালে বা চুলে টান পড়লে অথবা অতিরিক্ত শব্দে ওর মাথায় প্রচন্ড যন্ত্রণা হয়। আর সেটাও খুব গুরুতর পর্যায়ে। তাই এসব ক্ষেত্রে একটু বেশিই নজর দিতে হয়। মেয়েটাতো নিজের যত্ন নিতে পারে না"।
সেদিন ওনার চোখে স্ত্রীর প্রতি কর্তব্যের সাথে ভালোবাসাটাও স্পষ্ট দেখেছিলাম। দুজন যখনই বের হতো কখনোই একজন আরেকজনের পাশ ছেড়ে যেতো না,অনেকে ভাবতো হয়তো নতুন বিয়ে তাই। কিন্তু ওনার চোখে স্ত্রীর প্রতি যে ভালবাসাটা দেখেছিলাম সেটা একদম গভীর হতে সৃষ্ট অনুভূতি না হলে হয়তো হয় না।
সেই দিনের পর সকাল ১০/১১টা নাগাত হঠাৎই ধ্রুব রায় রিসেপশনে ফোন করেন। উদ্ভ্রান্তের মতো করছিলেন। যত দ্রুত সম্ভব যেন এ্যাম্বুলেন্স খবর দেওয়া হয়। ওনার স্ত্রী প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।নাক দিয়ে অনরবত রক্ত ঝরছিলো। এ্যাম্বুলেন্স আসার পর ওনার স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতাল চলে যান।
ওনারা আর ফিরে আসেন নি। পরদিন শুধু ওনাদের এক আত্মীয় এসে জিনিসপত্র গুলো নিয়ে যায়। ওনার থেকেই জানতে পারি প্রচন্ড মাথা ব্যথার কারণে হাসপাতালে ভর্তি আছেন মিষ্টি। ওনার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হঠাৎ এতো বেড়ে গেছে যে হয়তো ও জীবনের একদম শেষ পর্যায়ে।
এরপর কেটে গেছে অনেকগুলো দিন। প্রায় দু-বছর পর সেদিন ধ্রুব রায় কে রাস্তায় দেখতে পাই। রায় দম্পতি আমাদের সকলের মধ্যে এমনভাবে জায়গা করে নিয়েছিলেন যে হাজার ভীড়ে ওনাদের চিনে নিতে একটুও অসুবিধা হবে না। এতদিন পর ভদ্রলোককে দেখে ওনার স্ত্রীর কথা খুব জানতে ইচ্ছে হলো।
কৌতুহলবশত দাঁড়িয়ে পড়লাম একদম ওনার সামনে। আমি ভেবেছিলাম ভদ্রলোক আমাকে চিনবেনই না হয়তো। সামান্য একটা হোটেলের কর্মীকে ক'জনেই বা মনে রাখে! কিন্তু আমার ভাবনাকে ভুল প্রমাণ করে দিয়ে ভদ্রলোক নিজ থেকেই ডাক দিলেন আমাকে। সৌজন্য সাক্ষাতের পর হুট করেই জানতে চাইলাম ওনার স্ত্রীর কথা। নিমিষেই যেন মুখে আলো জ্বলে উঠলো। কিন্তু গলার স্বরে বুঝলাম ভদ্রলোকের গলা ধরে আসছে। তবুও কোনোমতে ঢোক গিলে বলতে শুরু করলেন,

-"সেদিন হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার পর মিষ্টির অবস্থা আরো খারাপ হতে থাকে। যেহেতু আমিও নিজেও ডাক্তার নিজের সমস্ত বিদ্যে প্রয়োগ করতে লাগলাম যদি কোনো নিরাময় বের করতে পারি। পরিচিত যত বড় বড় ডাক্তার ছিলো সবাই বসে মিটিং করলাম। দিনরাত এক করে অনেকটা সুস্থ করে আনলাম ওকে। কয়েকদিনেই মেয়েটা একদম ভেঙ্গে পড়েছিলো। তবে ওর মানসিকতা যে বেশ শক্ত সেদিনই বুঝেছিলাম। ওকে দেখতে আমার এক বন্ধু এসেছিলো তাঁর স্ত্রী আর নবজাতককে নিয়ে

পরদিন যখন ওকে ঘরে নিয়ে আসি, হাত দুটো ধরে চোখে একরাশ আকুতি নিয়ে বলেছিলো,
-“আচ্ছা ধ্রুব এতদিন তো দেখলে। বলছি আমার হাতে কী আর দশটা মাস সময় হবে”!

কথাটা শুনে বুকের ভেতরটা কেমন জানি করে উঠলো। অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে নিয়ে জানতে চাইলাম এ কথার কারণ কী! ও একটা কথাও বলেনি। কেবল টেবিলের ওপর থাকা ছোট পুতুলটার দিকে ইশারা করলো।
আসলে আমি নিজেও জানতাম না ওর হাতে ঠিক কতটুকু সময় ছিলো। ওকে দেখে অবাক হতাম যে, একটা এইটুকু মেয়ে যে জানেই ওর হাতে খুব বেশি সময় নেই কী করে মানসিকভাবে এতটা শক্ত হতে পারে। ও সবসময় আমাকেই সান্ত্বনা দিতো। বিয়ের আগে থেকেই জানতাম ও বাচ্চা খুব ভালবাসতো। মা হতে চেয়েছিলো। এর কিছুদিন পরই সুখবর টা পাই। হঠাৎই কল আসে ওর। মনে হচ্ছে, যেন কাঁদছে মানে হাসছে তাঁর মধ্যেই কাঁদছিলো। শুধু বলেছিলো, “ জানো তুমি, আমি মানে আমরা তিনজন হতে যাচ্ছি”।

এরপরই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। হয়তো কান্নাটা আনন্দের ছিলো।
নিজের থেকে অনাগত সন্তানের যত্ন বেশি নিতো তার সাথে আমারও। দেখতে দেখতে চলে এলো সেইদিন। যদিও সেটা আমাদের জন্য সবথেকে আনন্দের দিন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমি বলবো সেটাই আমার জীবনের সবচেয়ে অভিশপ্ত দিন।

যেদিন ওর ডেলিভারি হয় প্রসব ব্যথা এতটাই তীব্র ছিলো যে ব্যথাটা ওর মাথা পর্যন্ত উঠে যায়। অপারেশন থিয়েটারের বাইরে বসে শুধু ওর চিৎকারটাই শুনছিলাম। প্রত্যেকটা শব্দ বুকে এসে বিঁধছিলো। আমার কল্পনারও বাইরে, ঐ সময়টাতে ঠিক কতটা যন্ত্রনা ও সহ্য করেছিলো। বাচ্চাটার কান্না পর্যন্ত আমার কানে আসে নি। ডাক্তার যখন ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দিলো গিয়ে দেখলাম বাচ্চাটাকে বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে ও। ফুটফুটে মেয়েটা ওর মতই হয়েছে। হাত ধরে যখন কথাগুলো বলছিলো তখনও মেয়েটা কাঁদছিলো। একটু আগেই যে সন্তানের জন্ম দিয়েছে,বুকের দুধ পান করিয়েছে,বুকে জড়িয়ে ধরেইছিলো, আর হয়তো কিছুক্ষণ পরই সব স্মৃতি হয়ে থেকে যাবে। আর কখনো সদ্যজাত কন্যাকে দেখতেই পাবে না। ঠেলে কান্না আসছিলো কিন্তু ওর সামনে কাঁদতে পারলাম না। আমায় ছুঁয়ে বলেছিলো,
"যেভাবে এতদিন আমার যত্ন নিয়েছো, ওকেও দেখে রেখো। তোমার এত যত্ন,এতো ভালোবাসার ঋণ হয়তো শোধ করতে পারলাম না। তবে কথা দিচ্ছি যতদিন আমাকে মনে রাখবে সবসময় তোমাদের পাশেই থাকবো।"

কথাগুলো বলতে বলতেই ওর নাক দিয়ে রক্ত বেরুচ্ছে ক্রমাগত,অথচ দেখা ছাড়া উপায় নেই তখন আর।
ভদ্রলোক হঠাৎই থেমে গেলো। বাকিটা বুঝে নিতে খুব একটা কষ্ট হয়নি।
পৃথিবীতে সত্যি ভালবাসা বেঁচে আছে সেটার প্রত্যক্ষ প্রমাণ পেলাম। সহানুভূতি না বরং কতটা ভালবাসা থাকলে একটা মানুষ এমন একটা মেয়েকে বিয়ে করে যার জীবনের আয়ু হাতে গোনা কয়েকদিন। কতটা ভালোবাসলে দিনের পর দিন এতটা খেয়াল রাখে।।

#সংজ্ঞাহীন_ভালোবাসা
//পিপিন
© Anushka Saha

Address

Jatrabari
Dhaka
1204

Telephone

+8801672700411

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Jolly Shopping posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Jolly Shopping:

Share