07/10/2026
সামান্য ঘটনায় হেফজ শিশুকে সারা শরীরে বেধড়ক পিটুনি অমানুষিক নির্যাতন, বেত দিয়ে বেধড়ক মারধর, গলা চেপে ধরা, কিল-ঘুষি ও লাথি মারায় চকরিয়ায় পশুতুল্য শিক্ষক গ্রেফতার
কক্সবাজারের চকরিয়ায় শুধুমাত্র ২০ টাকা নেওয়ার সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১০ বছরের এক হেফজখানার শিক্ষার্থীকে অমানুষিক নির্যাতনের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হেফজখানা শিক্ষক আরিফ উল্লাহকে (২৩) গ্রেফতার করেছে চকরিয়া থানা পুলিশ।
পুলিশ ও ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, চকরিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চিরিংগা মাস্টার পাড়াস্থিত ‘চকরিয়া তানযীমুল কুরআন হিফজ মাদ্রাসা’য় এই নির্মম ঘটনা ঘটে। সেখানে ১০ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলে অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তার ওপর চলে শিক্ষক আরিফ উল্লাহর অমানুষিক নির্যাতন। বেত দিয়ে বেধড়ক মারধর, গলা চেপে ধরা, কিল-ঘুষি ও লাথি মারার পাশাপাশি শিশুটির মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়।
নির্যাতনের পর শিশুটিকে অবরুদ্ধ করে রাখা হলে স্বজনরা গিয়ে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিশুটির পিতা বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মহোদয়ের দিকনির্দেশনা, চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আব্দুল আজিজের তত্ত্বাবধান এবং চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিম দ্রুত অভিযান চালায়। অভিযানে এজাহারনামীয় আসামি আরিফ উল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আরিফ উল্লাহ কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জুম্মা পাড়ার শহিদুল্লার ছেলে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চকরিয়া থানা পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। কোমলমতি শিশুদের সুরক্ষায় চকরিয়া থানা পুলিশ সবসময় তৎপর থাকবে।
এদিকে, পবিত্র দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোমলমতি শিশুদের ওপর এমন নৃশংস নির্যাতনের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো চকরিয়া জুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা ও সচেতন মহল ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্ত নরাধম শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।