18/08/2018
ঈদের আনন্দময় যাত্রায় স্বাস্থ্য ও সতর্কতা নিয়ে কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ
ঈদ নিয়ে আমাদের আগ্রহ এবং প্রস্তুতির যেন শেষ নেই। এই ঈদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ আমরা জানি পশু কোরবানি। আমরা সাধ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি করি এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে ইতিমধ্যেই নাড়ির টানে অনেকেই ছুটে চলা শুরু করেছেন গ্রামের বাড়ির পথে। যাত্রাপথে, বিশেষ করে যারা দূরদূরান্তে যান, তাদের রাস্তাঘাটে পোহাতে হয় হাজারো দুর্ভোগ আর বিড়ম্বনা। তারপরও বাসায় ফেরার আনন্দে মন থাকে মাতোয়ারা। তাই কষ্টগুলো আর বড় হয়ে ওঠে না। এই সময়টাতে অনেককেই ভ্রমণ করতে হয় বাস, ট্রেন অথবা লঞ্চে। রাস্তায় যানজট, ফেরি স্বল্পতা ও পারাপারের সংকট, লঞ্চ-স্টিমারে গাদাগাদি-ঠাসাঠাসি। প্রচণ্ড ভিড় আর ঠেলাঠেলি করে ক্লান্তিকর ও দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে বাড়ি পৌঁছতে হয়, আবার ছুটি শেষে কাজে যোগদান করতে হয়। সবাই চায় নির্বিঘ্নে আর নিরাপদে ঘরে ফিরতে। তবে যাওয়া আসার ঝক্কিতে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। শিশু ও বয়স্কদের পক্ষে লম্বা যাত্রাপথের ধকল সহ্য করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। তাই যাত্রাপথে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।
আসুন জেনে নিই কিছু প্রয়োজনীয় এবং আবশ্যকীয় টিপস :
১) ভ্রমণ যাতে আরামদায়ক হয় এজন্য ভ্রমণের সময় অবশ্যই হালকা, আরামদায়ক ও সহজে বাতাস চলাচল করতে পারে এমন পোশাক পরা দরকার এবং জুতা পরার ক্ষেত্রেও নরম জুতা বা স্যান্ডেল পরা উচিত।
২) বাইরের খাবার কোনোভাবেই গ্রহণ করা ঠিক হবে না। ঘরের তৈরি কিছু শুকনা খাবার ও পানির বোতল সঙ্গে নেওয়া উচিত।
৩) অবশ্যই কিছু জরুরি ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রসহ যেমন জ্বর, মাথা বা শরীর ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল, পেটের পীড়ার জন্য মেট্রোনিডাজল, পেটে গ্যাস, পেটফাঁপা, বুক জ্বলার জন্য এন্টাসিড, রেনিটিডিন বা ওমিপ্রাজল, সাধারণ সর্দি কাশির জন্য এন্টি-হিস্টামিন, ডায়রিয়ার জন্য ওরাল স্যালাইন ইত্যাদি আপনার ফার্স্ট এইড বক্সে রেখে তারপর রওনা দিন। তাছাড়া ছোটখাটো দুর্ঘটনা এড়াতে কিছু তুলা, গজ, ব্যান্ডেজ, স্যাভলন ইত্যাদিও সাথে রাখা দরকার।
৪) অনেকেরই বাসে বা যানবাহনে উঠলে মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব এমনকি বমি হয়, এ সমস্যা প্রতিরোধে স্টিমেটিল বা ভার্গন ট্যাবলেট ভ্রমণের আধা ঘণ্টা আগে খেয়ে নেবেন। এছাড়াও বাস বা ট্রেন চলাকালে বাইরের দিকে তাকিয়ে না থেকে চোখ বন্ধ রাখুন, এতে বমি বমি ভাব কম হবে।
৫) শিশুদের ব্যাপারে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন- ট্রেনে, বাসে কিংবা লঞ্চে ভ্রমণের সময় শিশুরা জানালার ধারের সিটটি পছন্দ করাতে অতিরিক্ত বাতাসের প্রভাবে তাদের হঠাৎ করে সর্দি-জ্বর কিংবা সাধারণ কাশিতে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও বাইরের পানীয় এবং খাবার খেয়ে বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত যেন না হয়, সে ব্যাপারে সজাগ থাকুন।
৬) ভ্রমণে বয়স্কদের জন্যও সতর্কতা অবলম্বন করুন, যাত্রাপথে তারা যেন একই ভঙ্গিতে বেশিক্ষণ বসে না থেকে মাঝেমধ্যে যানবাহনের মধ্যেই যেন কিছুক্ষণ চলাফেরা করেন, সে ব্যাপারে খেয়াল রাখুন। তা না হলে বাতের ব্যথা বাড়তে পারে, এমনকি পায়ে পানি জমে পা ফুলেও যেতে পারে।
৭) অজ্ঞান পার্টি থেকে সাবধান, যাত্রাপথে যানবাহনে অপরিচিত কেউ খাদ্য বা পানীয় দিলে খাবেন না। কারণ প্রায়ই শোনা যায়, এ ধরনের খাবার খেয়ে অনেকেই বড় দুর্ঘটনায় পড়েছেন।
৮) গর্ভাবস্থায় ঈদ ভ্রমণে, দীর্ঘ যাত্রায় অতিরিক্ত ঝাঁকি হয় তাই এমন পথে অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের ভ্রমণ যথাসম্ভব পরিহার করাই উচিত। গর্ভের প্রথম তিন মাস ও সম্ভাব্য ডেলিভারির ২-৩ মাস আগে ভ্রমণ এড়িয়ে চলাই ভালো। আর যদি একান্তই ভ্রমণ করতে হয় তবে কোনো ভাবেই একা একা ভ্রমণ করা উচিত নয়। নিরাপদ মাতৃত্বের স্বার্থে এ ধরনের লম্বা ভ্রমণে কোন বিপদের ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়।
৯) যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশ দিনের ফযিলত অনেক বেশী তাই এ সময় রোজা রেখে কেউ রওনা হলে অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে খাবার এবং পানীয় সঙ্গে রাখুন, যেন ইফতারের সময় বাইরের খাবার খেতে না হয়।
১০) শহর ও গ্রামের পরিবেশ যেহেতু সম্পুর্ণ আলাদা সেজন্য ঈদে গ্রামের বাড়িতে বাড়তি কিছু সতর্কতা অবলম্বন করুন।
ঈদ অবশ্যই খুশি আর আনন্দের, আর যাত্রা নিরাপদ হলেই প্রিয়জনের সান্নিধ্যে ঈদ হয়ে উঠবে আনন্দময়। গ্রামের বাড়িতে আপনজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য সবার যাত্রা, অবস্থান এবং ফিরে আসা সুখের হোক, স্বাস্থ্যকর হোক।
“আমিন”