05/04/2024
আমাদের স্কুলের বাংলার টিচার ছিলেন আনোয়ারা ম্যাডাম। তিনি একটা সুন্দর গল্প বলেছিলেন।
তার বাসায় একটা কিশোরি মেয়েকে আনা হলো কাজের সহযোগী হিসেবে। কিশোরি বয়স এমনিতেই চঞ্চল তার উপর মেয়েটা ছিল একটু ত্যাড়া টাইপও। তবু তাকে সবাই বেশ আদর করতো বাসায়।
ম্যডাম বাসার সবাইকে বললেন - তোমরা সবাই হেল্প করবে একটা ব্যাপারে। আমি ওকে পড়ালেখা শেখাতে চাই।
বাসার সবাই খুশি হয়ে তাকে পড়ায়। পড়ার সময় কাজের ফরমায়েশ দেয় না।
মোটামুটি বর্ণমালা আয়ত্বে আসার পর ম্যাডাম সিদ্ধান্ত নিলেন ওকে কাছের প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি করে দিবেন। তিনি আপ্রাণ চাইতেইন মেয়েটার জীবন সুন্দর হোক। বড় হলে বিয়েও দিবেন ভালো দেখে। ভালো মানুষগুলো এভাবেই পজিটিভলি দেখেন সবকিছু।
তবে ত্যাড়া মেয়েটি তার স্বভাবে সবাইকে বিরক্ত করে মারতো। মুখেমুখে তর্ক করা তার স্বভাব ছিল। একদিন ম্যাডাম কড়া করে বকলেন। তাকে শুধরে দিয়ে ঠিক করাটাই ছিল উদ্দেশ্য।
ওমা! পরদিন সকাল থেকে সে মেয়ে নেই। নেই নেই তো নেই।
থানা পুলিশ পর্যন্ত করতে হলো। সে না বলে তার পরিবারের কাছে চলে গেছে। ম্যাডাম স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। যাক, বড় কোন অঘটন ঘটেনি।
হঠাৎ দেখলেন বেডসাইড টেবিলে ডিকশনারির উপর ওই মেয়ের হাতের লেখার খাতা।
নোট লিখে গেছে - 'আপনি অসভ্য'।
আসলে অজাতকে কখনও জাতে তুলতে নাই। একটু জাতে উঠতে পারলেই হলো! আপনার সাথেই প্রথম অজাতের পরিচয়টা দেবে। স্বীকারই করবে না যে তাকে জাতে তুলতে কারো অবদান আছে।
এটা খুব ক্ষুদ্র একটা এক্সাম্পল মাত্র। এমন অজাত কুজাত অনেক আছে আমাদের মধ্যেই। অকৃতজ্ঞতার শেষ নাই তাদের।
#সংগৃীত