26/10/2025
হুদহুদ পাখির নাম অনেকেই শুনেছেন। সে নবি সুলাইমান (আ.)-এর অনুগত থাকতো। আর সুলাইমান (আ.) ছিলেন সেই ব্যক্তি, যাঁকে পশু-পাখি ও জিনের ভাষা বুঝার এবং তাঁকে আনুগত্য করার মহান নিয়ামত প্রদান করা হয়েছিলো। তো, একদিন তিনি হুদহুদকে দেখতে না পেয়ে বলেন—
مَا لِي لاَ أرىٰ الهُدٌهُد
‘‘আমার কী হলো যে, আমি হুদহুদকে দেখছি না যে!’’ [সুরা নামাল, আয়াত: ২০]
তিনি এভাবে বলেননি যে, ‘‘হুদহুদের কী হলো? তাকে দেখছি না কেন?’’ বরং অন্যকে দোষারোপ করার আগে তিনি নিজেকেই সম্বোধন করেছেন যে, ‘‘আমার কী হলো যে, আমি হুদহুদকে দেখছি না!’’
বিশিষ্ট মুফাসসির আলিমগণ বলেন, সুলাইমান (আ.) যখন হুদহুদ পাখির নিয়ামতকে হারিয়ে ফেলেন, তখন তাঁর মনে হয়েছিলো, তিনি হয়তো এই নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে গিয়ে কমতি করে ফেলছেন। তাই তিনি বলেছেন, ‘‘আমার কী হলো?’’ অর্থাৎ, এটা তাঁর উৎকৃষ্ট গুণ ও আত্মসমালোচনার একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত!
নেককার ব্যক্তিরা সবসময় নিজের ভুল নিয়ে তটস্থ থাকতেন এবং যেকোনো কিছুর জন্য নিজেকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতেন। তাঁদের কোনো সমস্যা হলে ভাবতেন, এটি গুনাহের কারণেই হয়েছে।
ইমাম আবু দাউদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, কারয আল-হারিসি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট প্রবেশ করে আমি তাকে কান্নারত অবস্থায় পেলাম। আমি বললাম, ‘আপনি কাঁদছেন কেন?’ তিনি বললেন, ‘কুরআনের নির্ধারিত অংশটুকু গত রাতে আমি পড়তে পারিনি। আমার ধারণা—আমি হয়তো কোনো গুনাহ করেছি, যার ফলে এমনটি ঘটেছে।’ [ইমাম আবু নু‘আইম, হিলয়াতুল আউলিয়া: ৫/৭৯]
‘‘কুরআনের নির্ধারিত অংশ’’ বলতে, তাঁরা প্রতিদিন কুরআনের নির্ধারিত একটা অংশ (যেমন: এক পারা অথবা ৫ রুকু ইত্যাদি) পড়া নিজের জন্য রুটিন বানিয়ে নিতেন। কোনোদিন এই পরিমাণ তিলাওয়াত মিস করতেন না। এটাকে অনেকে ‘ওযিফা’ বলেন, অনেকে ‘হিযব’ বলেন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘মুমিন ব্যক্তি তার গুনাহগুলোকে এমন (ভয়াবহ) মনে করে, যেন সে একটি পাহাড়ের নীচে উপবিষ্ট আছে, আর সে আশঙ্কা করছে—পাহাড়টি (যেকোনো সময়) তার উপর ধ্বসে পড়বে। আর, পাপিষ্ঠ ব্যক্তি তার গুনাহগুলোকে মাছির মত মনে করে, যা তার নাকের উপর দিয়ে চলে যায়।’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৬৩০৮; ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ২৪৯৭]
পূর্বসূরি নেককারগণ নিজেদের ভুলের ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন থাকতেন। তাঁরা জীবনে কোনো বিষয়ে অসংগতি পেলে সেটিকে নিজেদের পাপের ফলাফল সাব্যস্ত করতেন।
মাকহুল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আমি এক ব্যক্তিকে নামাজে কাঁদতে দেখলাম। আমি তাকে অপবাদ দিয়ে বসলাম যে, ‘‘সে লোকদেখানো কাজ করছে’’, আর এই কারণে আমি এক বছর (মুনাজাতে) কান্না করতে পারিনি।’ [ইমাম ইবনু আবিদ দুনিয়া, আল-উকুবাত, পৃষ্ঠা: ৬৩]
সুফিয়ান সাওরি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আমি একটি পাপের কারণে পাঁচ মাস কিয়ামুল লাইল (তাহাজ্জুদ) থেকে বঞ্চিত হয়েছি।’ তাকে বলা হলো, ‘সেই পাপটি কী ছিলো?’ তিনি বলেন, ‘আমি এক লোককে (ইবাদতে) কাঁদতে দেখে ধারণা করেছিলাম যে, এটি লোক দেখানো।’
[তারতিবুল আওরাদ]