14/12/2023
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটির একটা ছেলের মারা যাওয়ার খবর দেখে হুট করেই মনে হলো, মৃত্যু ছাড়া আমাদের আসলে নিজের বলতে আছেটা কী?
এই ছেলেটা গ্র্যাজুয়েশন করেছে। বিয়ে করেছে। দুইটা বাচ্চা আছে। বৌ আছে। ৪১ তম বিসিএসে সুপারিশ পেয়েছে। ৪৩ তমর ভাইবাও দিয়ে ফেলেছে।
এই এতো এতো স্ট্রাগল, এতো এতো পরিশ্রম এক মুহূর্তে শূণ্য হয়ে গেল, ছেলেটার তাহলে নিজের বলে থাকলো কী? আর পরিবারের ব্যাক আপই বা কি??
ভালো ক্যারিয়ার, অসম্ভব পরিশ্রম করে তিলে তিলে গড়ে তোলা ক্যারিয়ার, এই ক্যারিয়ারটাও কি আসলে আমার নিজের? না তো। এই ক্যারিয়ারে মায়ের ভাগ আছে, বাপের ভাগ আছে, ভাইয়ের লেখাপড়া আছে, বোনের বিয়ে আছে, বৌ এর শখ আছে, বাচ্চার দুধ আর খেলনাও আছে।
এবং এই একটা ক্যারিয়ার বানানোর জন্য মানুষরে সবকিছুই ছাড়তে হয়। লিটারালি সবকিছুই। টাকার ব্যাপারটা তো আছেই, সময়ের ব্যাপারটাও খুব ভাইটাল। চাকরির পেছনে ছুটতে ছুটতে বহু ছেলেমেয়ে ট্যুর দেওয়া ছেড়ে দেয়, বই পড়া ছেড়ে দেয়, প্রেম করা ছেড়ে দেয়, রেস্টুরেন্টে খাওয়া ছেড়ে দেয়, এমনকি অনেকে তো ইবাদত পর্যন্ত করতে পারে না।
একবার এক ভাইরে রাতের বেলা অনেক নামাজ পড়ার কারণ জিজ্ঞেস করে জানছিলাম, সারাদিন ল্যাবে কাজের ঠেলায় নামাজটা পর্যন্ত পড়তে পারেন নাই। খাওয়া তো দূরের কথা। মলিন হাসি মুখে নিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমি ধনী হইতে চাই না ভাই, শুধু এতোটুকু অবসর চাই, যতটুকু অবসর পাইলে আমি একটু শান্তিমতো নামাজটা পড়তে পারি।
কেউ সরারাত ফোন নিয়ে রাতে দাঁড়াইয়া থাকে, বাপ অসুস্থ, বাপের কাছে যাইতে পারে না। শুধুমাত্র একটা ক্যারিয়ারের জন্য। একটা ব্রাইট ফিউচারের জন্য।
সমস্যা হলো, ফিউচার প্ল্যানে আমরা সবকিছুই ইনক্লুড করি, শুধু মৃত্যুটা ছাড়া। আমাদের প্ল্যানে পরিবার থাকে, প্রেমিকা থাকে, গাড়ি থাকে, বাড়ি থাকে, বাট মৃত্যুর প্ল্যান থাকে না।
অথচ মৃত্যুটাকে প্ল্যানে রাখতে পারলেই কিন্তু আমার আপনার অনেক প্রায়োরিটি লিস্ট চেঞ্জ হয়ে যাবে। সেন্টমার্টিন ট্যুরটা দিয়ে ফেলা যাবে, ওয়্যার এন্ড পিসটা পড়ে ফেলার সময় হবে, তাহাজ্জুদ পড়ার সময়টাও বের করে ফেলতে পারবেন। কারণ, আপনি জানেন, মৃত্যু ওয়েট করতেসে। সেটা নি:শ্বন্দেহে অনিশ্চিত ও আকশ্মিক। আপনার হাতে খুব বেশি সময় নাই।
না, আমি নিজে বোহেমিয়ান টাইপ মানুষ না, আপনাকেও বাউন্ডুলে হতে বলতেসি না। বরং পরিবারকে আমরা ওউন করবো, ভালোবাসবো, দায়িত্ব পালন করবো, সবটাই করবো।
সাথে সাথে ওউন করে নিবো আমাদের দুর্বলতাকেও, আমাদের মৃত্যুকেও।
তখন দেখবেন, কিছু কাজ যেইটা আপনি একান্তই আপনার বলে অবহেলায় ফেলে রেখেছেন, কাজটা আপনার করা হয়ে যাবে। মৃত্যু আপনার পরিবারের পাশাপাশি আপনাকেও আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে।
জীবন নিয়ে প্ল্যান করার সময় একটা জিনিস মাথায় রাইখেন, জীবনটা আপনার না। এইখানে আপনার ভাগ কম। আপনার জীবন আপনার চোখের সামনেই ভাগ করে নেবে আপনার পরিবার, আপনার বন্ধু বা আপনার আত্মীয়রা।
কিন্তু মৃত্যুটা আপনার একান্তই নিজের। আপনার মৃত্যুর ভাগটা কেউ নেবে না, ঐটা আপনাকেই নিতে হবে। আর মৃত্যুর পর প্রিয় মানুষগুলোর প্রিয়জনেরাও আর প্রিয় থাকে না। তাই, যে কোন প্ল্যানে জীবনের আগে মৃত্যুর কথাটা থাকা চাই। কষ্ট করতে করতে নিজেরে যন্ত্র করে ফেলার আগে মনে থাকা চাই কবি ইমতিয়াজ মাহমুদের লেখা দুইটা লাইন,
"মৃত্যু ছাড়া মানুষের একান্ত নিজের কিছু নেই,
জীবন অন্যরা ভাগ করে নেয় খুব প্রকাশ্যেই।"
এই যে ধরেন, বাসার বিদ্যুৎ চলে যেতে পারে যে কোন টাইমেই, নিভে যেতে পারে ঘড়ের বাতি, ফ্যান, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ। কি করি আমরা একটা আইপিএস রাখি ব্যাক আপ হিসেবে যেন অন্তত বেড রুমের লাইট ফ্যানগুলো চালু থাকে। বিষয়টা খুব সাভাবিক। আপনার লাইফের বাতিটা নিভে গেলে তার ব্যাক আপ কি রেখেছেন?? সেই ব্যাক আপ প্ল্যানটাও আমাদেরই করতে হবে, একটা হেলথ ইনশুরেন্স, এক্সিডেন্টাল ইনশুরেন্স, লাইফ ইনশুরেন্স, বাচ্চার জন্য শিক্ষা বীমা হতে পারে সেই ব্যাক আপ প্ল্যান। যা আপনার পরিবারকে আপনার মতো করে হয়তো সাপোর্ট দিতে পারবে না কখনোই কিন্তু পরিবারের ও সন্তানাদিদের সার্ভাইভ করার জন্য হতে পারে একটা ব্যাপক হাতিয়ার।
গাজী মাহফুজ কাশেম
ম্যানেজার
সোনালী লাইফ ইনশুরেন্স লি: